দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

ঝরঝরি ঝর্ণা, সীতাকুণ্ড
অ্যাডভ্যাঞ্চার প্রিয় ট্রাভেলারদের জন্য সীতাকুণ্ড অঞ্চলে রয়েছে অসাধারণ ঝরঝরি ঝর্ণা ট্রেইল। এই ট্রেইল ধরে প্রায় এক ঘণ্টা হাটলে সর্বপ্রথম যে ঝর্ণা চোখে পড়ে এর নাম ঝরঝরি ঝর্ণা (Jhorjhori Waterfall) । বাম দিক দিয়ে আরো উপরের দিকে যেতে থাকলে দেখা মিলে অনেক দারুন দারুন কিছু খুম এবং ক্যাসকেড। ঝরঝরি ঝর্ণার উপরের দিকে যাওয়া বেশ কঠিন ও কষ্টকর তাই বর্ষার শেষের দিকে যাওয়াই সবচেয়ে ভাল হয়।

জ্বীনের মসজিদ
জ্বীনের মসজিদ (Jiner Mosjid) লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার দেনায়েতপুর নামক স্থানে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। ১৮৮৮ সালে ৫৭ শতাংশ জমির উপর নির্মিত জ্বীনের মসজিদের দৈর্ঘ্য ১১০ ফুট এবং প্রস্থ ৭০ ফুট। দিল্লীর শাহী জামে মসজিদের নকশায় নির্মিত এই মসজিদের ছাদে বড় আকারের ৩ টি গম্বুজ আছে। মসজিদের তলদেশে প্রায় ২৫ ফুট গভীরে একটি গোপন ইবাদতখানা রয়েছে। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল্লাহ এই গোপন ইবাদতখানায় ধ্যান মগ্ন থাকতেন। বর্তমানে এই ইবাদতখানাটি পানি পূর্ণ কূপে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১৫ ফুট ভিত্তির উপর ইটের তৈরি এই মসজিদের মিনার, গম্বুজ ও মূল ভবনের নকশার নান্দনিকতা সকলকে আকর্ষণ করে। মসজিদের সামনে ও পাশে দুইটি পুকুর রয়েছে।

জিতু মিয়ার বাড়ী
সিলেটের শেখঘাটে কাজীরবাজার সেতুর উত্তরে ঐতিহাসিক জিতু মিয়ার বাড়ী (Jitu Miah’r Bari) অবস্থিত। ১ দশমিক ৩৬৫ একর জায়গা জুড়ে খান বাহাদুর আবু নছর মোহাম্মদ এহিয়া ওরফে জিতু মিয়া মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর এই স্থাপনাটি নির্মাণ করেন। খান বাহাদুর আবু নছর মোহাম্মদ এহিয়া ওরফে জিতু মিয়া সাব রেজিস্টার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করলেও ১৮৯৭ থেকে ১৯০৩ সাল পযর্ন্ত সিলেট পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান এবং অনারারী ম্যাজিস্টেট ছিলেন। তৎকালীন সময়ে জিতু মিয়ার পরিবারের জাকঁজমকপূর্ণ বিলাসী জীবনযাপন সিলেটে ব্যাপকভাবে আলোচিত হত। কথিত আছে, সে সময় এই বাড়ীর ড্রয়িংরুমে তুরস্কের পাশা, রুশ তুরস্কের যুদ্ধ, ব্রিটিশ রাজ পরিবারের রাজপুরুষদের বিভিন্ন আলোকচিত্র শোভা পেত। আর প্রতিদিন সিলেটে আগত শত শত লোক জিতু মিয়ার বাড়িতে আতিথেয়তা গ্রহণ করতেন।

জগদল রাজবাড়ি
ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে জগদল নামক স্থানে জগদল রাজবাড়ি (Jogdol Rajbari) অবস্থিত। ধারণা করা হয়, আনুমানিক ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে জগদলের রাজকুমার শ্রী বীরেন্দ্র কুমার নাগর ও তীরনই নদী মোহনায় এই রাজবাড়িটি তৈরী করেন। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি এবং ১০০ মিটার দূরে নাগর নদীর পাড়ে অবস্থিত মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ ছাড়া তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই। আর শিক্ষা অনুরাগী শ্রী বীরেন্দ্র কুমারের ব্যক্তিগত পাঠাগারের গ্রন্থগুলো ১৯৪৮ সালে তৎকালীন সুরেন্দ্রনাথ কলেজে (বর্তমান দিনাজপুর সরকারি কলেজ) দান করা হয়।

যোগীর ভবণ
বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নে প্রায় ৮০ একর জায়গার উপর কয়েকটি প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা সংগঠিত হয়ে যোগীর ভবণ (Jogir Bhaban) গড়ে উঠেছে। আনুমানিক ৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত যোগীর ভবণের পুরো এলাকা প্রাচীর বেষ্টিত এবং একটি দেওয়াল দিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত।

জোহান ড্রীম ভ্যালী পার্ক
জোহান ড্রীম ভ্যালী পার্ক এন্ড রিসোর্ট (Johan Dream Valley Park and Resort) ঝিনাইদহের বিপুল জনপ্রিয় একটি বিনোদন কেন্দ্র। মনোরম ছায়া ঘেরা জোহান ড্রীম ভ্যালী পার্কে বিনোদনের জন্য রয়েছে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা। শিশুদের জন্য আছে কেইভ ট্রেন, জেট কোষ্টার, মেরি গো রাউন্ড, প্যাডেল বোট/ওয়াটার রিক্সা, ফানি এ্যাডভেঞ্চার, সুইং চেয়ার, নাগর দোলা এবং কিডস জোন।

জল ও জঙ্গলের কাব্য
জল ও জঙ্গলের কাব্য (Jol O Jongoler Kabbo) বা পাইলট বাড়ি খ্যাত রিসোর্টটি গাজীপুর জেলাস্থ টংগীর পুবাইলে ৯০ বিঘা জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে। এই রিসোর্টিতে প্রকৃতিকে অবিকৃত রেখে বাঁশ আর পাটখড়ি দিয়ে সুনিপুণ ডিজাইনারের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে। বিলের উপর অপার্থিব জোছনা দেখতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই জল ও জঙ্গলের কাব্য রিসোর্টে আসতে হবে। রাজধানী ঢাকার কাছে অল্প সময় ও স্বল্প খরচে সারাদিন কাটানোর জন্য জল জঙ্গলের কাব্য একটি চমৎকার স্থান।

জলসিড়ি সেন্ট্রাল পার্ক
জলসিঁড়ি সেন্ট্রাল পার্ক (Jolshiri Central Park) নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১৩ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত। প্রায় ১৪.৩৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই পার্ক। ঢাকার কোলাহলপূর্ণ নগর জীবনের মাঝে একটু শান্তি আর প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়া সত্যিই দুর্লভ। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে অবস্থিত জলসিঁড়ি সেন্ট্রাল পার্ক এই অভাব পূরণ করতে পারে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই পার্কটি আধুনিক অবকাঠামো ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।

জোড় বাংলা মন্দির
পাবনা জেলা সদরের রাঘবপুর নামক স্থানে অবস্থিত জোড় বাংলা মন্দির ( Jor Bangla Mandir ) বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। কোন শিলালিপি না থাকায় জোড় বাংলা মন্দিরের নির্মাতা এবং নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। জনশ্রুতি আছে, ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রজমোহন ক্রোড়ী নামের মুর্শিদাবাদের নবাবের এক তহসিলদার এই জোড় বাংলা মন্দিরটি নির্মাণ করেন।

জুগিরকান্দি মায়াবন
জুগিরকান্দি মায়াবন (Jugirkandi Mayabon), যা স্থানীয়ভাবে “মায়াবন” নামে পরিচিত, বাংলাদেশের সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত একটি বিস্ময়কর জলাবন। মায়াবনের চারদিকের অথই পানিতে সারি সারি গাছের বিশাল এক জঙ্গল। উত্তরে রয়েছে সারি ও পিয়াইন নদীর মিলনস্থল। প্রায় এক হাজার একর ভূমি জুড়ে বিস্তৃত এই বনটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জলাবনগুলোর মধ্যে একটি এবং রাতারগুলের চেয়ে আয়তনে প্রায় তিনগুণ বড় এই বন।

জোড়া শিবমন্দির
সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়েনের ছয়ঘরিয়া গ্রামের এক বিশাল দীঘির পাড়ে জোড়া শিবমন্দির দুটি অবস্থিত। বৈচিত্রপূর্ণ টেরাকোটা ইটে নির্মিত জোড়া শিবমন্দির এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ছয়ঘরিয়া জোড়া শিবমন্দির নামে পরিচিত। বাংলা ১২২০ সনের ১ বৈশাখ ফকিরচাঁদ ঘোষ জোড়া শিবমন্দির দুটি নির্মাণ করেন। ১৫ ফুট ৯ ইঞ্চি মাপের বর্গাকৃতির মন্দিরের গায়ের টেরাকোটায় ফুল, লতা-পাতা, বাদক, পরি, দেবদেবী, অশ্বারোহী ইত্যাদির নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে ছয়ঘরিয়া জোড়া শিবমন্দির দুটো পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও আগ্রহী দর্শনার্থীরা টেরাকোটার অপূর্ব কাজ দেখতে ছয়ঘরিয়া ছুটে আসেন।

কবি কাজী কাদের নওয়াজের বাড়ি
কাজী কাদের নওয়াজ ছিলেন বিশিষ্ট কবি, শিক্ষাবিদ এবং সাহিত্যানুরাগী। সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই তাঁর পারদর্শিতা থাকলেও কবিতার প্রতি ছিল বিশেষ আকর্ষণ। রবীন্দ্র ভাব বলয়ের প্রভাব থাকলেও কবির রচনায় স্বকীয়তা ছিল চোখে পড়ার মত। প্রেম, প্রকৃতি, দেশ, সত্য ও সুন্দরের প্রতি আহবান ছিল তাঁর কবিতার মূল্য উপজীব্য। তৎকালীন সময়ে কবির অসংখ্য লেখাই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতো। বর্তমানে ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতাটি বাংলাদেশে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ানো হয়।

নাটোরের কাঁচাগোল্লা
নাটোরের বিখ্যাত বনলতা সেনের মতোই নাটোরের কাঁচাগোল্লা একটি ঐতিহ্যবাহী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন খাবার। ভোজনরসিক বাঙালিরা ভুরিভোজ কিংবা অতিথি আপ্যায়নের পর মিষ্টি মুখ করতে পছন্দ করেন। আর সেই দিক থেকে নাটোরের কাঁচাগোল্লার (Natorer Kachagolla) রয়েছে বিশ্বজোড়া পরিচিতি। ২০২৩ সালে দেশের ১৭তম ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে নাটোরের কাঁচাগোল্লা, যা একে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য মর্যাদায় আসীন করেছে। তবে এই মিষ্টান্নটির নাম কাঁচাগোল্লা হলেও এটি দেখতে মোটেও কাঁচা কিংবা গোলাকার নয়; এটি মূলত ছানার একটি গুঁড়ো গুঁড়ো ও শুকনো রূপ। খাঁটি দুধের ছানা ও চিনি কাঁচাগোল্লা তৈরির প্রধান উপাদান।

কাইকারটেক হাট
শত বছর ধরে সপ্তাহের প্রতি রবিবার নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাইকারটেক এলাকায় কাইকারটেক হাট (Kaikertek Hat) অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য লালনকারী এই হাটটি স্থানীয় মানুষের কাছে রবিবারের হাট নামেও পরিচিত। কাইকারটেক হাটের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। শত বছরের প্রাচীন নির্দশন এবং নদীর তীরের প্রাকৃতিক পরিবেশ কাইকারটেকের হাটে আগত ক্রেতা বিক্রেতা ছাড়াও বিভিন্ন ভ্রমণকারীদের সমানভাবে আকর্ষণ করে। নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ এবং কুমিল্লা সহ দূরদূরান্ত হতে আগ্রহী মানুষ ভিড় করে এই কাইকারটেক হাটে।

কাকিনা জমিদার বাড়ি
মোগলদের দেয়া সনদের উপর ভিত্তি করে ১৬৮৭ খ্রিস্টাব্দে কাকিনার জমিদারী শুরু হয়। বৃহত্তর রংপুর জেলার জমিদারদের মধ্যে এই কাকিনা জমিদারদের বেশ সুনাম ও প্রতিপত্তি ছিল। তৎকালীন সময়ে আওরঙ্গজেব দিল্লীর মোগল সম্রাট ছিলেন। আর আওরঙ্গজেবের মামা শায়েস্তা খাঁ ছিলেন বাংলার সুবেদার। শায়েস্তা খাঁর পুত্র এবাদত খাঁ কাকিনা পরগনার প্রভাবশালী রঘু রামের ছেলে রাম নারায়নকে কাকিনা জমিদারি সনদ প্রদান করেন। এরপর রাজা রায় চৌধুরী, রুদ্র রায়, রসিক রায়, অলকা দেবী, রাম রুদ্র রায় চৌধুরী, শম্ভুচরণ রায় চৌধুরী পর্যায়ক্রমে কাকিনার জমিদারী লাভ করেন।

কে পি বসুর বাড়ি
ঝিনাইদহ জেলা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে হরিশংকরপুরে নবগঙ্গা নদীর তীরে জগদ্বিখ্যাত গণিতবিদ কে পি বসুর বাড়ি অবস্থিত। ১৯০৭ সালে কে পি বসু হরিশংকরপুরে ১৭ কক্ষ বিশিষ্ট প্রাসাদাকার দ্বিতল ভবনটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে বাড়িটি অরক্ষিতভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও এক সময়ের দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি দেখতে অনেক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। বিখ্যাত এই গণিত বিদের স্মৃতিতে ঝিনাইদহ জেলায় একটি সড়কও নির্মাণ করা হয়েছে।