দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

কালুরঘাট ব্রিজ
চট্টগ্রাম শহরের দক্ষিণ দিকে বহদ্দারহাট থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কালুরঘাট ব্রিজ(Kalurghat Bridge) একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯১৪ সালে) সৈন্য পরিচালনার জন্য কর্ণফুলী নদীতে ব্রীজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ব্রীজ নির্মাণের অংশ হিসাবে ১৯৩০ সালে ব্রুনিক এন্ড কোম্পানী ব্রীজ বিল্ডার্স হাওড়া নামক একটি প্রতিষ্ঠান ব্রীজ নির্মাণ কাজ শুরু করে। ১৯৩০ সালে শুধুমাত্র ট্রেন চলাচলের জন্য ৭০০ গজ লম্বা কালুরঘাট সেতু উদ্বোধন করা হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে ব্রীজে ডেক বসানো হয়। দেশ বিভাগের পর ১৯৫৮ সালে ব্রীজটিকে সবরকম যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে বর্তমান রূপ দেওয়া হয়। কালুরঘাট সেতুতে দুইটি এব্যাটমেট, ছয়টি ব্রিক পিলার, বারটি স্টীল পিলার ও উনিশটি স্প্যান রয়েছে।

কানাইপুর জমিদার বাড়ি
ফরিদপুর জেলা শাসনকারী জমিদারদের আছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। কানাইপুরের শিকদার বংশ তেমনি ফরিদপুরের বিখ্যাত জমিদারদের মধ্যে অন্যতম। প্রায় ৪০০ বছর আগে শিকদার বংশের জমিদার কুমার নদীর পাড়ে বসবাসের জন্য জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন, যা কানাইপুর জমিদার বাড়ি (Kanaipur Zamindar Bari) হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠে। তবে ফরিদপুর জেলার স্থানীয় বাসিন্দারা একে শিকদার বাড়ি (Shikdar Bari) হিসেবেই চিনেন।

কাঞ্চনজঙ্ঘা, তেঁতুলিয়া
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার (যার উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার বা ২৮,১৬৯ ফুট) সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। বাংলাদেশ থেকে এত দূরের পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাওয়া খুবই চমৎকৃত হবার মতই দৃশ্য।

কানসাট আম বাজার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে বলা হয় আমের রাজধানী। আর সেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে বসে বাংলাদেশের বৃহত্তম আমের বাজার। শুধু দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি আমবাজারই নয়, কানসাট একই সঙ্গে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম আমবাজার হিসেবেও পরিচিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে শিবগঞ্জ উপজেলায় এর অবস্থান। প্রতি আমের মৌসুমে দেশের এই বৃহৎ আম বাজারে প্রায় শত কোটি টাকার উপরে আমের বেচাকেনা হয়। কোনো কোনো দিনে বাজারে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হয়। আমের সময়ে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমে থাকে এই আমবাজার। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনেক আমের বাজার থাকলেও কানসাট আমের বাজার পাইকারি বাজারের জন্যে সবচেয়ে বড় এবং বিখ্যাত। এ যেন এক আমের রাজ্য। আমবাজার ঘুরে দেখার সাথে সাথে আপনি চাইলে কিনে খেতে পারবেন নানা রকম তরতাজা পাকা আম। এছাড়া ঝুড়িভর্তি করে আম কিনে নিতে পারবেন নিজের জন্যে।

কান্তজীর মন্দির
কান্তজীর মন্দির ( Kantajir Temple ) বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এই মন্দিরটি বিভিন্ন নামে পরিচিত, কেউ কেউ একে কান্তজীউ মন্দির ( Kantajew Temple ) বা কান্তনগর মন্দির নামে চিনেন আবার অনেকের কাছে কান্তজীর মন্দিরটি নবরত্ন মন্দির নামেও সুপরিচিত। ১৮ শতকে নির্মিত মন্দিরটি দিনাজপুর (Dinajpur) শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে দিনাজপুর-তেঁতুলিয়া সড়কের প্রায় এক মাইল পশ্চিমে ঢেঁপা নদীর তীরে কান্তনগর গ্রামে অবস্থিত।

করমজল পর্যটন কেন্দ্র
করমজল ( Karamjal ) পর্যটন কেন্দ্রটি সুন্দরবনে পশুর নদীর তীরে অবস্থিত। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ৩০ হেক্টর জমির উপর পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে। যদি একদিনে সুন্দরবন ভ্রমণ স্বাদ নিতে চান তবে করমজল হচ্ছে সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা। প্রকৃতির শোভা বাড়াতে এখানে রয়েছে কুমির, হরিণ, রেসাস বানর সহ নানা প্রজাতির পশুপাখি। এছাড়াও নির্মিত হয়েছে কাঠের ট্রেইল, টাওয়ার এবং জেলেদের মাছ ধরার কর্মজজ্ঞ হচ্ছে অতিরিক্ত প্রাপ্তি। করমজলে বাংলাদেশের একমাত্র কুমিরের প্রাকৃতিক প্রজনন কেন্দ্র অবস্থিত।

করটিয়া জমিদার বাড়ি
করটিয়া জমিদার বাড়ি (Karatia Jomidar Bari) টাঙ্গাইল শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে পুটিয়ার নদীর তীরে অবস্থিত। জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নী মোগল ও চৈনিক স্থাপত্য কৌশলে বাড়িটি নির্মাণ করেন। প্রায় ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ০.৫ কিলোমিটার প্রস্থের করটিয়া জমিদার বাড়ি চারপাশে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। জমিদার বাড়িতে রয়েছে লোহার ঘর, রাণীর পুকুরঘাট, রোকেয়া মহল, ছোট তরফ দাউদ মহল এবং মোগল স্থাপত্যে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। মসজিদটিতে মোট আটটি গম্বুজ ও ১৫ ফুট উঁচু একটি মিনার রয়েছে। করটিয়া জমিদার বাড়ি করটিয়া রাজবাড়ী (Karatia Rajbari) নামেও পরিচিত।

ক্বীন ব্রীজ
বাংলাদেশের বিভাগীয় শহর সিলেটের কেন্দ্রস্থল দিয়ে বয়ে গেছে সুরমা নদী। আর সুরমা নদীর উপর লৌহ নির্মিত সেতুর নাম ক্বীন ব্রীজ (Keane Bridge) । সিলেট শহরের “প্রবেশদ্বার” খ্যাত এই স্থাপনাটি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে সকলের কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত। ১৯৩৬ সালে নির্মিত ক্বীন ব্রিজের দৈর্ঘ্য ৩৫০.৫২ মিটার এবং প্রস্থ ৫.৪ মিটার।

কেওক্রাডং
কেওক্রাডং (Keokradong) পাহাড় বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত। প্রায় ৩১৭২ ফুট উঁচু এ পর্বতকে এক সময় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মনে করা হত কিন্তু আধুনিক পদ্ধতিতে পরিমাপে বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসাবে এর অবস্থান পঞ্চম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর নিখুঁত উচ্চতা এবং চারপাশের পাহাড়ী ল্যান্ডস্কেপ একে ট্র্যাকার ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে একটি স্বর্গরাজ্য বানিয়ে তুলেছে।

হনুমান গ্রাম – কেশবপুর
যশোরের কেশবপুরে রয়েছে ভবঘুরে প্রজাতির প্রায় ৪০০ কালোমুখী হনুমানের আবাস, আর তাই এলাকাটি কেশবপুরের হনুমান গ্রাম (Keshabpur Hanuman Gram) নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। ধারণা করা হয় কয়েকশ বছর ধরে কেশবপুরের ১০-১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলছে বিরল প্রজাতির হনুমানগুলোর বিচরণ।

খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান
সিলেট শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে খাদিমনগর ইউনিয়ন ও গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে রেইনফরেস্ট নামে খ্যাত খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান অবস্থিত। ২০০৬ সালের ১৩ এপ্রিল ৬৭৮.৮০ হেক্টর জমি নিয়ে খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান (Khadimnagar National Park) প্রতিষ্ঠিত হয়।

খালিশপুর নীলকুঠি ভবন
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদীর তীরে অবস্থিত খালিশপুর নীলকুঠি ভবন একটি অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ভারত উপমহাদেশে নীল চাষের শুরুতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি খালিশপুরে ১৪ একর জায়গার উপর একটি দ্বিতল নীলকুঠি ভবন নির্মাণ করে। ১৮১০ থেকে ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত এই নীলকুঠিটি নীল চাষীদের অত্যাচারের জন্য ব্যবহৃত হত। নীলচাষীদের উপর ইংরেজদের অত্যাচারে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা ১৮৬০ সালে উপমহাদেশে নীল বিদ্রোহের সূচনা করে। তবে অন্যান্য নীলকুঠিগুলো ইংরেজরা বিক্রি করে দিলেও খালিশপুরের নীলকুঠি ভবন কৃষকদের বিদ্রোহের কারণে বিক্রি করতে পারেনি। ইংরেজদের ফেলে যাওয়া এই নীলকুঠি পরবর্তীতে জমিদাররা কাচারি ঘর হিসেবে ব্যবহার করেন।

খান জাহান আলী সেতু
খুলনার রূপসা নদীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে কবি জীবনানন্দ দাস লিখেছিলেন “রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেড়া পালে ডিঙা বায়; রাঙ্গা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে”। জীবনানন্দের সেই রূপসা নদীর উপর গড়ে তোলা হয়েছে খানজাহান আলী সেতু (Khan Jahan Ali Bridge) , যা রূপসা সেতু হিসেবেই বেশী জনপ্রিয়। রূপসা সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সকল জেলা ও মোংলা সমুদ্র বন্দরের সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবার কারণে একে খুলনা শহরের প্রবেশ দ্বারও বলা হয়। জাপানি সহায়তায় নির্মিত রূপসা সেতু সকল উৎসব এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে খুলনাবাসীর জন্য চমৎকার এক দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

খেলারাম দাতার বাড়ি
ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের খেলারাম দাতাকে নিয়ে এই অঞ্চলে বেশকিছু লোককথা প্রচলিত আছে। জানা যায়, খেলারাম দাতা ছিলেন ডাকাত সর্দার। পাশাপাশি বিখ্যাত দানশীল হিসাবেও তার সুনাম ছিল সর্বত্র। গরিব মানুষের সমস্যায় তিনি দ্বিধাহীন ভাবে সাহায্য করতেন।

খেরুয়া মসজিদ
বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খেরুয়া মসজিদ (Kherua Mosque) বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার খন্দকার টোলা এলাকায় অবস্থিত। ১৫৮২ সালে জওহর আলী কাকশালের পুত্র মির্জা মুরাদ খান কাকশাল খেরুয়া মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে মসজিদের নামকরণ নিয়ে সঠিক কোন ইতিহাস জানা যায়নি।

খনিয়াদিঘি মসজিদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে অবস্থিত খনিয়াদিঘি মসজিদ (Khoniadighi Mosque) বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর হতে খনিয়াদিঘি মসজিদের দূরত্ব ৩৬ কিলোমিটার। স্থানীয় মানুষের কাছে প্রাচীন এই মসজিদটি রাজবিবি মসজিদ এবং চামচিকা মসজিদ নামে সুপরিচিত। ১৪৫০ থেকে ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে গৌড় রাজধানী থাকাকালীন সময়ে খনিয়াদীঘি মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।