দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর
দিনাজপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরে কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে অবস্থিত কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর (Kantanagar Archaeological Museum) উত্তরবঙ্গের এক সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা। দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশেই ঢেপা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই জাদুঘরটি মূলত বাংলার প্রাচীন সভ্যতা ও রাজকীয় ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী। কান্তজিউ মন্দিরের ঠিক পাশেই এর অবস্থান হওয়ায় পর্যটকদের জন্য এটি ইতিহাসের কাছাকাছি যাওয়ার এক চমৎকার সুযোগ করে দেয়।

ক্বীন ব্রীজ
বাংলাদেশের বিভাগীয় শহর সিলেটের কেন্দ্রস্থল দিয়ে বয়ে গেছে সুরমা নদী। আর সুরমা নদীর উপর লৌহ নির্মিত সেতুর নাম ক্বীন ব্রীজ (Keane Bridge) । সিলেট শহরের “প্রবেশদ্বার” খ্যাত এই স্থাপনাটি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে সকলের কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত। ১৯৩৬ সালে নির্মিত ক্বীন ব্রিজের দৈর্ঘ্য ৩৫০.৫২ মিটার এবং প্রস্থ ৫.৪ মিটার।

হনুমান গ্রাম – কেশবপুর
যশোরের কেশবপুরে রয়েছে ভবঘুরে প্রজাতির প্রায় ৪০০ কালোমুখী হনুমানের আবাস, আর তাই এলাকাটি কেশবপুরের হনুমান গ্রাম (Keshabpur Hanuman Gram) নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। ধারণা করা হয় কয়েকশ বছর ধরে কেশবপুরের ১০-১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলছে বিরল প্রজাতির হনুমানগুলোর বিচরণ।

খান জাহান আলী সেতু
খুলনার রূপসা নদীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে কবি জীবনানন্দ দাস লিখেছিলেন “রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেড়া পালে ডিঙা বায়; রাঙ্গা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে”। জীবনানন্দের সেই রূপসা নদীর উপর গড়ে তোলা হয়েছে খানজাহান আলী সেতু (Khan Jahan Ali Bridge) , যা রূপসা সেতু হিসেবেই বেশী জনপ্রিয়। রূপসা সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সকল জেলা ও মোংলা সমুদ্র বন্দরের সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবার কারণে একে খুলনা শহরের প্রবেশ দ্বারও বলা হয়। জাপানি সহায়তায় নির্মিত রূপসা সেতু সকল উৎসব এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে খুলনাবাসীর জন্য চমৎকার এক দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর
১৯৯৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর খুলনা জেলার শহরের শিববাড়ী মোড় সংলগ্ন পাবলিক হলের পাশে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর (Khulna Divisional Museum) প্রতিষ্ঠা করা হয়। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন স্থাপনার আলোকচিত্র এই জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ। যশোরের ভরত ভায়ানা, ঝিনাইদহের বারবাজার ও বাগেরহাটের খান জাহান আলী সমাধী সৌধের মতো বিভিন্ন জায়গা খননের ফলে প্রাপ্ত দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরে।

কুল্লাপাথর শহীদ স্মৃতিসৌধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত একটি সমাধিস্থলের নাম কুল্লাপাথর শহীদ স্মৃতিসৌধ (Kullapathar Sohid Smritisoudho)। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর সাথে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে শহীদ হওয়া প্রায় ৫০ জনের সমাধি রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই কুল্লাপাথরে।

কুমারীকুন্ড
চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এক পৌরাণিক অঞ্চলের নাম। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে লুকিয়ে রয়েছে প্রকৃতির অন্যোন্য বিস্ময় ছোট বড় অসংখ্য ছড়া ও ঝর্ণা। পাহাড়ের রহস্যময় আবহে পূর্ণ তেমনি এক ছড়ায় প্রাচীন এক মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়, যা কুমারীকুন্ড (Kumarikundo) নামে পরিচিত। প্রাচীনকালে হিন্দুরা উষ্ণ প্রস্রবণ বা হট স্প্রিং-কে খুবই পবিত্র মনে করতেন। সীতাকুন্ডে অবস্থিত লবণাক্ষকুন্ড ও অগ্নিকুন্ডের মত বুদবুদ আকারে নির্গত গ্যাসে জালানো অগ্নিকুন্ডকে ঘিরে নির্মিত মন্দিরের সাথে কুমারীকুন্ডের মিল রয়েছে। কালের আবহে মূল তীর্থ স্থান প্রায় ১০ কিলোমিটার সরে গেছে। আর মাটি চাপা পড়ে গেছে পুরনো ইটের তৈরী বিভিন্ন কাঠামো।

লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট
রাঙ্গামাটি মানেই পাহাড়, ঝরনা আর বিশাল কাপ্তাই হ্রদের এক মায়াবী হাতছানি। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলরাশি কাপ্তাই হ্রদকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য পর্যটন স্পট। কাপ্তাই উপজেলার বালুখালী ইউনিয়ন সংলগ্ন লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট (Lake Paradise Picnic Spot) বর্তমানে পর্যটকদের কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, সবুজে ঘেরা পাহাড় আর হ্রদের নীল জলের মাঝখানে অবস্থিত এই স্থানটি প্রকৃতির সেরা উপহার।

লামা
বান্দরবান জেলার লামা (Lama) উপজেলা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে স্বর্গ রাজ্য হিসাবে খ্যাত। প্রায় ১১ টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা ও নৈসর্গিক পরিবেশ লামা আসা ভ্রমণ পিপাসু মানুষের হৃদয়কে মোহিত করে। বিশেষ করে চকরিয়া থেকে লামা যাওয়ার রাস্তাটা যেন স্বর্গে প্রবেশের সংযোগ। এছাড়া কোয়ান্টাম শিশু কাননে অসাধারণ সূর্যাস্ত দেখতে পারেন। লামায় যাওয়ার পথে লামা থেকে ৭ কিলোমিটার দূরত্বে প্রায় ৩৩ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স। সমতল ভূমি থেকে প্রায় ২২০০ ফুট উচ্চতায় আবস্থিত এই পর্যটন কমপ্লেক্স থেকে পাহাড় আর মেঘের অপূর্ব লুকোচুরি খেলা দেখা যায়। মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সে জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা।

লোকায়ন জীবন বৈচিত্র্য জাদুঘর
ঠাকুরগাঁও জেলার আকচা গ্রামে অবস্থিত একটি ব্যতিক্রমী দর্শনীয় স্থান লোকায়ন জীবন বৈচিত্র্য জাদুঘর (Lokayan Life Diversity Museum) । শ্রমজীবী মানুষ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনজীবনকে কেন্দ্র করে লোকজ সংস্কৃতি, শ্রমজীবী মানুষের ব্যবহৃত নানা উপকরন ও জীবন বৈচিত্রের নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই জাদুঘরে। হাজার বছরের বাঙ্গালীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে ড. মুহম্মদ শহীদ-উজ-জামান এই লোকায়ন জীবন বৈচিত্র্য জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন।

লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি
রাজধানী ঢাকা থেকে অল্প দূরত্বে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ডাংগা বাজারের কাছে উকিলের বাড়ি বা লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি (Lokkhon Shahar Jomidar Bari) অবস্থিত। নিপুণ কারুকার্যমন্ডিত এই বাড়ির নির্মাতা জমিদার লক্ষণ সাহা মূলত ছিলেন প্রধান জমিদারের অধিনস্থ একজন সাব-জমিদার। লক্ষণ সাহার ৩ ছেলের নাম পেরিমোহন সাহা, নিকুঞ্জ সাহা ও বঙ্কু সাহা। দেশ ভাগের সময় বঙ্কু সাহা ভারতে চলে যান এবং ১৯৭১ সালের পূর্বে নিকুঞ্জ সাহাও ভারতে পাড়ি জমান। একমাত্র পেরিমোহন সাহা এখানে থেকে যান। পেরিমোহন সাহার একমাত্র ছেলে বৌদ্ধ নারায়ন সাহা আহম্মদ আলী নামের একজন উকিলের কাছে বাড়িটি বিক্রি করে দেন। এ কারণে লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়িটি এই অঞ্চলে উকিলের বাড়ি নামে অধিক পরিচিত। জানা যায় বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ শহরে লক্ষণ সাহার বংশধরের একাংশ বসবাস করছেন।

লটকন বাগান
টক-মিষ্টি স্বাদের লটকন (Lotkon) কম-বেশি সবারই পছন্দের একটি ফল। আর লটকনের জন্য নরসিংদী জেলার রয়েছে দেশজোড়া খ্যাতি। নরসিংদীর শিবপুর ও মরজাল উপজেলায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি লটকনের আবাদ হয়ে থাকে। শিবপুর উপজেলার ছোটাবান্দা গ্রামের রাস্তার দুই পাশের অসংখ্য ছোট বড় লটকন বাগান নজরে পড়ে। বাগানের গাছগুলোর গোড়া থেকে শুরু করে শাখা প্রশাখা ও উপশাখা জুড়ে ঝুলতে থাকে থোকা থোকা হাজারো পাকা লটকন। তবে কোন বাগানে ঢোকার আগে অবশ্যই মালিকের অনুমতি নিতে হবে। অধিকাংশ বাগানের মালিক খুবই আন্তরিক এবং দর্শনার্থীদের আগ্রহ নিয়ে নিজেদের বাগান ঘুরে দেখায়। তাই বাগানের মালিকের সাথে কথা বলে নিজ হাতে গাছ থেকে পেড়ে লটকন খেতে পারবেন।

মালনীছড়া চা বাগান
বাংলাদেশের সিলেট জেলায় অবস্থিত মালনীছড়া চা বাগান (Malnicherra Tea Garden) উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় এবং সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত চা বাগান। ১৮৪৯ সালে লর্ড হার্ডসনের হাত ধরে ১৫০০ একর জায়গার উপর এই বাগানটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে চা বাগানটি বেসরকারী তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হলেও সুন্দর সময় কাটানোর জন্য পর্যটকদের কাছে পছন্দের স্থান হিসাবে সুপরিচিতি পেয়েছে।

মালঞ্চ মসজিদ
জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ শিশু ও চক্ষু হাসপাতালের কমপ্লেক্সে কারুকার্য মণ্ডিত দৃষ্টিনন্দন মালঞ্চ মসজিদ (Maloncho Jame Mosque) অবস্থিত। সাবেক সচিব ও ইউনাইটেড ট্রাস্টের সহযোগিতায় মাজার, মসজিদ, কামিল মাদ্রাসা, মহিলা মাদ্রাসা, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও ইসলামিক মিশনের সমন্বয়ে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে দৃষ্টিনন্দন এই মালঞ্চ কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হয়েছে। সবুজ গাছ-গাছালীতে ঘেরা এক গম্বুজ বিশিষ্ট মালঞ্চ মসজিদের সামনে একটি স্বচ্ছ পানির দীঘি রয়েছে। নান্দ্যনিক সৌন্দর্যের জন্য বর্তমানে মালঞ্চ কমপ্লেক্সটি জামালপুর জেলার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র
বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় মহাকাব্যিক উপন্যাস বিষাদ সিন্ধু’র রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ ই নভেম্বর কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া গ্রামে তাঁর মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। মীর মশাররফ হোসেনের পিতা মীর মোয়াজ্জ্বেম হোসেন রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে বাস করতেন। জানা যায় মীর মশাররফ হোসেনের পূর্বপুরুষ সৈয়দ সাদুল্লাহ বাগদাদ থেকে প্রথমে দিল্লী এবং পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলার স্যাকরা গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন।

মিঠাপুর জমিদার বাড়ি
মাদারীপুর সদর উপজেলার মিঠাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশের এক ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের নাম মিঠাপুর জমিদার বাড়ি (Mithapur Zamindar Bari)। শিলালিপি কিংবা কোন নথিপত্র না থাকায় এই জমিদার বাড়ির নির্মাণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা যায়নি। জমিদার গোলাম ছাত্তার চৌধুরী, জমিদার গোলাম মাওলা চৌধুরী এবং প্রফেসর জি.ডাব্লুর চৌধুরীকে এই জমিদার বংশের উত্তরশরী হিসাবে মান্য করা হয়।