দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ
গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ একটি পাঁচ তারকা মানের রিসোর্ট। সিলেট বিভাগের প্রথম পাঁচ তারকা মানের বিলাসবহুল এই রিসোর্টে বিনোদনের জন্য আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে। ২০১৩ সালের ২৫ শে ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে প্রথম বছরেই ওয়ার্ল্ড লাক্সারি হোটেল এওয়ার্ড ২০১৪ অর্জন করে নেয় গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ।

হাইল হাওর
সিলেট বিভাগের মৌলভিবাজার জেলা সদর, শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত একটি বৃহদাকার জলাভূমির নাম হাইল হাওর (Hail Haor)। ১৪ টি বিল ঘেরা হাইল হাওরের সর্বমোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার হেক্টর। প্রচুর লতা ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ থাকার কারণে স্থানীয়দের কাছে এটি লতাপাতার হাওর নামেও পরিচিত।

হাঁসাইগাড়ী বিল
হাঁসাইগাড়ী বিল (Hansaigari Beel) নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ও শিকারপুর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি অপরূপ প্রাকৃতিক জলাভূমি। সূর্য যখন পশ্চিমে হেলে পড়ে, তখন হাঁসাইগাড়ী বিলের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে ছড়িয়ে পড়ে রক্তিম আভা। ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে বিলের বুক চিরে চলে যাওয়া আঁকাবাঁকা পিচঢালা সড়কে, বাতাসে ভেসে আসে হালকা মাছের গন্ধ আর দূরের গ্রামীণ জনপদ থেকে ভেসে আসা মানুষের কোলাহল। গোধূলিলগ্নে বাতাসের তোড়ে বিলের পানিতে যখন ছোট ছোট ঢেউ তৈরি হয় এবং তা রাস্তার কিনারায় আছড়ে পড়ে, তখন এক মায়াবী আবহ তৈরি হয়। এই দৃশ্য বাস্তবে একবার দেখলে যে কেউ সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন কেন স্থানীয়রা ভালোবেসে একে ডাকেন “নওগাঁর মিনি কক্সবাজার”।

হরিপুর জমিদার বাড়ি
হরিপুর জমিদার বাড়ি ( Haripur Zamidar Bari ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিণবেড় গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। প্রায় ৫ একর জমির ওপর লাল ইট সুরকির গাঁথুনি দিয়ে তৈরি তিন তলা দৃষ্টিনন্দন এই জমিদার বাড়িতে রয়েছে মোট ৬০ টি কক্ষ, দরবার হল, রংমহল, ধানের গোলা, গোয়ালঘর, নাচ ঘর, মল পুকুর, রন্ধনশালা, খেলার মাঠ এবং মন্দির। এছাড়া হরিপুর বড় বাড়ি খ্যাত জমিদার বাড়ির পশ্চিম দিকে তিতাস নদীর পাড়ে রয়েছে একটি শান বাঁধানো ঘাট। আর ঘাটের উত্তর দিকে আছে হরিপুর জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী এবং গৌরী প্রসাদ রায় চৌধুরীর সমাধি মঠ।

হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ
রাজশাহী বিভাগের জয়পুরহাট জেলায় অবস্থিত হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ ( Hinda – Kasba Shahi Mosque ) বাংলাদেশের ইসলামী স্থাপত্য শিল্পের একটি অন্যতম নিদর্শন। জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে ক্ষেতলালের হিন্দা গ্রামে মসজিদটির অবস্থান। কাচ, চিনামাটি এবং মোজাইকের মাধ্যমে মসজিদের দেয়ালে মোগল স্থাপত্য শিল্পের অনুকরনে বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা আগত দর্শনার্থীদের কাছে মসজিদটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বাগমারী পীর হিসাবে সুপরিচিত হযরত আবদুল গফুর চিশতি (রঃ) চিরকুমার ছিলেন। তিনি জয়পুরহাট জেলায় বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরী করে গেছেন। হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ হযরত আবদুল গফুর চিশতি (রঃ)-এর নকশায় খলিফা আবদুল খালেক চিশতির তত্বাবধানে বাংলা ১৩৬৫ সালে নির্মাণ করা হয়।

জামাই পাগলের মাজার
রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের ০৩ নং ওয়ার্ডভুক্ত আলাদিপুর গ্রামে জামাই পাগলের মাজার (Murshid Jamai Pagol Mazar Sharif) অবস্থিত। ধারণা করা হয় ১৯৬০ সালের দিকে নেংটি পরিহিত এক ব্যক্তি বর্তমান মাজার প্রাঙ্গণের শেওরা গাছের নিচে অবস্থান নেন। তাঁর নামে বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা প্রচলিত আছে। কথিত আছে, পাবনা জেলায় এক ধনী ব্যক্তি তার বোবা মেয়েকে গ্রামের এক পাগলের সাথে বিয়ে দেন। বিয়ের রাত শেষ হতেই বোবা মেয়ে কথা বলতে শুরু করেন। কিন্তু সেই পাগল জামাইকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। অবশেষে তারা রাজবাড়ী জেলার আলাদিপুরে তাঁর সন্ধান পেলেও তিনি আর সংসারে ফিরে যায়নি। এই ঘটনার পর থেকে জামাই পাগল নাম সবার মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

জামালপুর শাহী মসজিদ
গাইবান্ধা জেলা সদর থেকে ১৬ কিলোমিটার পশ্চিমে সাদুল্লাপুর উপজেলার অন্তর্গত বড় জামালপুর গ্রামে জামালপুর শাহী মসজিদের (Jamalpur Shahi Masjid) অবস্থান। জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় ৬০০ বছর পূর্বে ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ইরাক থেকে ৩৬০ জন আউলিয়া বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন। এদের মধ্যে গাইবান্ধা শহরে আগমনকারী সুফি হযরত শাহ জামাল (রঃ) এর তত্ত্বাবধানে এই ঐতিহাসিক শাহী মসজিদটি নির্মিত হয় এবং তাঁর নামানুসারে ইউনিয়ন পরিষদ ও মসজিদের নামকরণ করা হয়। মসজিদের উত্তর পাশে হযরত শাহ জামালের মাজারের অবস্থান।

ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে ঝাউদিয়া গ্রামে অবস্থিত ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ (Jhaudia Shahi Masjid) একটি ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ইট, পাথর, বালি ও চিনামাটি নির্মিত মসজিদের সঠিক নির্মাণকাল জানা না গেলেও মসজিদটি নিয়ে অনেক লোককথা প্রচলিত আছে। জনশ্রুতি আছে, ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ অলৌকিক ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। অনেকের মতে, সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে ইরাকের শাহ সুফি আদারি ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এই অঞ্চলে আস্তানা গড়ে তুলেন। পরবর্তীতে ইবাদত বন্দেগীর জন্য ঝাউদিয়ায় এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। অনিন্দ্য সুন্দর ঝাউদিয়া শাহী মসজিদটি বর্তমানে কুষ্টিয়ার একটি অন্যতম প্রাচীন স্থাপত্য হিসেবে পরিচিত।

যোগীর ভবণ
বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নে প্রায় ৮০ একর জায়গার উপর কয়েকটি প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা সংগঠিত হয়ে যোগীর ভবণ (Jogir Bhaban) গড়ে উঠেছে। আনুমানিক ৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত যোগীর ভবণের পুরো এলাকা প্রাচীর বেষ্টিত এবং একটি দেওয়াল দিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত।

জোহান ড্রীম ভ্যালী পার্ক
জোহান ড্রীম ভ্যালী পার্ক এন্ড রিসোর্ট (Johan Dream Valley Park and Resort) ঝিনাইদহের বিপুল জনপ্রিয় একটি বিনোদন কেন্দ্র। মনোরম ছায়া ঘেরা জোহান ড্রীম ভ্যালী পার্কে বিনোদনের জন্য রয়েছে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা। শিশুদের জন্য আছে কেইভ ট্রেন, জেট কোষ্টার, মেরি গো রাউন্ড, প্যাডেল বোট/ওয়াটার রিক্সা, ফানি এ্যাডভেঞ্চার, সুইং চেয়ার, নাগর দোলা এবং কিডস জোন।

জল ও জঙ্গলের কাব্য
জল ও জঙ্গলের কাব্য (Jol O Jongoler Kabbo) বা পাইলট বাড়ি খ্যাত রিসোর্টটি গাজীপুর জেলাস্থ টংগীর পুবাইলে ৯০ বিঘা জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে। এই রিসোর্টিতে প্রকৃতিকে অবিকৃত রেখে বাঁশ আর পাটখড়ি দিয়ে সুনিপুণ ডিজাইনারের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে। বিলের উপর অপার্থিব জোছনা দেখতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই জল ও জঙ্গলের কাব্য রিসোর্টে আসতে হবে। রাজধানী ঢাকার কাছে অল্প সময় ও স্বল্প খরচে সারাদিন কাটানোর জন্য জল জঙ্গলের কাব্য একটি চমৎকার স্থান।

জলসিড়ি সেন্ট্রাল পার্ক
জলসিঁড়ি সেন্ট্রাল পার্ক (Jolshiri Central Park) নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১৩ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত। প্রায় ১৪.৩৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই পার্ক। ঢাকার কোলাহলপূর্ণ নগর জীবনের মাঝে একটু শান্তি আর প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়া সত্যিই দুর্লভ। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে অবস্থিত জলসিঁড়ি সেন্ট্রাল পার্ক এই অভাব পূরণ করতে পারে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই পার্কটি আধুনিক অবকাঠামো ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।

কবি কাজী কাদের নওয়াজের বাড়ি
কাজী কাদের নওয়াজ ছিলেন বিশিষ্ট কবি, শিক্ষাবিদ এবং সাহিত্যানুরাগী। সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই তাঁর পারদর্শিতা থাকলেও কবিতার প্রতি ছিল বিশেষ আকর্ষণ। রবীন্দ্র ভাব বলয়ের প্রভাব থাকলেও কবির রচনায় স্বকীয়তা ছিল চোখে পড়ার মত। প্রেম, প্রকৃতি, দেশ, সত্য ও সুন্দরের প্রতি আহবান ছিল তাঁর কবিতার মূল্য উপজীব্য। তৎকালীন সময়ে কবির অসংখ্য লেখাই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতো। বর্তমানে ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতাটি বাংলাদেশে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ানো হয়।

কাকিনা জমিদার বাড়ি
মোগলদের দেয়া সনদের উপর ভিত্তি করে ১৬৮৭ খ্রিস্টাব্দে কাকিনার জমিদারী শুরু হয়। বৃহত্তর রংপুর জেলার জমিদারদের মধ্যে এই কাকিনা জমিদারদের বেশ সুনাম ও প্রতিপত্তি ছিল। তৎকালীন সময়ে আওরঙ্গজেব দিল্লীর মোগল সম্রাট ছিলেন। আর আওরঙ্গজেবের মামা শায়েস্তা খাঁ ছিলেন বাংলার সুবেদার। শায়েস্তা খাঁর পুত্র এবাদত খাঁ কাকিনা পরগনার প্রভাবশালী রঘু রামের ছেলে রাম নারায়নকে কাকিনা জমিদারি সনদ প্রদান করেন। এরপর রাজা রায় চৌধুরী, রুদ্র রায়, রসিক রায়, অলকা দেবী, রাম রুদ্র রায় চৌধুরী, শম্ভুচরণ রায় চৌধুরী পর্যায়ক্রমে কাকিনার জমিদারী লাভ করেন।

কানাই বলাই দিঘী
পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী কানাই বলাই দিঘী (Kanai Bolai Dighi) অবস্থিত। স্থানীয়দের বিশুদ্ধ পানির অভাব পূরণের জন্য এই দিঘীটি খনন করা হয়েছিল। কানাই বলাই দীঘির আনুমানিক দৈর্ঘ্য ২০০ মিটার ও প্রস্থ ১৪০ মিটার। প্রায় তিনশত বছরের প্রাচীন দিঘীকে নিয়ে নানা ধরণের লোককথা জড়িয়ে আছে। কথিত আছে, প্রায় শত বছর আগে কাছিপাড়া গ্রামে কানাই-বলাই নামের হিন্দু ধর্মাবলম্বী দুই ভাই থাকতো। একদিন এই দুই ভাই খেজুর গাছের বাঁকল ভেবে বিশাল আকৃতির দুটি গজাল মাছের উপর বসেছিল। পরবর্তীতে মাছগুলো দুই ভাইকে গভীর জলে নিয়ে যায়। এরপর আর কোনদিন দুই ভাইয়ের দেখা মিলেনি। এই ঘটনার পর থেকে দীঘিটি কানাই বলাই দিঘী হিসেবে পরিচিতি পায়। আবার অনেকের মতে, ভালো মন ও সৎ উদ্দেশ্যে এই দীঘির কাছে কিছু চাইলে তা পূরণ হয় এবং কেউ যদি কানাই বলাই দিঘীকে ভক্তি না করে কিংবা কটূক্তি করে তাহলে তার বিপদ আসে।

কাঞ্চনজঙ্ঘা, তেঁতুলিয়া
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার (যার উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার বা ২৮,১৬৯ ফুট) সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। বাংলাদেশ থেকে এত দূরের পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাওয়া খুবই চমৎকৃত হবার মতই দৃশ্য।