দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

চাটমোহর শাহী মসজিদ
পাবনা জেলা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে চাটমোহর উপজেলার কেন্দ্রস্থলে প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের অপূর্ব এক নিদর্শন ঐতিহাসিক চাটমোহর শাহী মসজিদ (Chatmohor Shahi Masjid) অবস্থিত। মসজিদ থেকে প্রাপ্ত শিলালিপির তথ্য মতে, ১৫৮১ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবরের শাসনামলে সৈয়দ নেতা আবুল ফতে মোহাম্মদ মাসুম খাঁর অর্থায়নে তারই সহোদর মুহামদ্দ বিন তুর্কি খান কাকশাল চাটমোহরে মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট চাটমোহর শাহী মসজিদের নির্মাণ কৌশলে প্রাচীন সুলতানী স্থাপত্যের প্রভাব রয়েছে। বগুড়ার খেরুয়া মসজিদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছোট ছোট পাতলা জাফরী ইটের সমন্বয়ে নির্মিত চাটমোহর শাহী মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট, প্রস্থ ২২ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ৪৫ ফুট।

চিকলি ওয়াটার পার্ক –
চিকলি ওয়াটার পার্ক (Chiklee Water Park) রংপুর শহরের হনুমানতলা এলাকায় অবস্থিত একটি জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র। প্রায় ১০০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই পার্কটি দেশের প্রথম ভাসমান ওয়াটার পার্ক হিসেবে পরিচিত। চিকলি ওয়াটার পার্ক পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর জন্য একটি আদর্শ স্থান, যেখানে বিনোদন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একসাথে উপভোগ করা যায়। চিকলি ওয়াটার পার্কে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে বেশকিছু ওয়াটার রাইড, পাশাপাশি বাচ্চাদের জন্য রয়েছে খেলার জায়গা, আছে একটি বিশাল নাগরদোলা।

চিম্বুক
বান্দরবান জেলা শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক (Chimbuk Hill) পাহাড়ের অবস্থান। চম্বুক পাহাড় চূড়াতেই রয়েছে চিম্বুক পর্যটন কেন্দ্র। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২৫০০ ফুট উঁচু চিম্বুক পাহাড়ে যাওয়ার আঁকাবাঁকা রাস্তার দুই পাশের চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং সর্পিল সাঙ্গু নদীর সৌন্দর্য মনকে প্রশান্ত করে।

চিত্রা রিসোর্ট
চিত্রা রিসোর্ট (Chitra Resort) নড়াইল জেলার চিত্রা নদী তীরে শহরের কোলাহল মুক্ত মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে। সৌন্দর্য এবং বৈশিষ্টের স্বকীয়তার জন্য এই পার্কটিতে প্রতিদিন শত শত বিনোদনপ্রেমী দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে।

চর বিজয়
সাগরকন্যা কুয়াকাটার পূর্বে গঙ্গামতী জঙ্গলের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠা মনোমুগ্ধকর এক দ্বীপের নাম চর বিজয় (Chor Bijoy)। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে একদল ভ্রমণ পিপাসু অভিযাত্রিক পটুয়াখালী জেলার এই দ্বীপের সন্ধান লাভ করে। বিজয়ের মাসে আবিষ্কারের কারণে দ্বীপটিকে ‘চর বিজয় বা The Victory Island নাম দেয়া হয়। তবে স্থানীয় জেলেদের কাছে এটি হাইরের চর (মাছ ধরার নির্ধারিত সীমানা) নামেই বেশী পরিচিত। জনবসতিহীন এই দ্বীপের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ও সমুদ্রের বিস্তীর্ণ জলরাশি আগত সকল ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে। আর তাই এডভেঞ্চারপ্রেমী পর্যটকরা ক্যাম্পিং করার চর বিজয়কে স্থান দিয়েছেন পছন্দের তালিকার শীর্ষে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত (Coxsbazar Sea Beach) নিয়ে কথা বলতেই প্রথমে মাথায় আসে এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। ১২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট অখণ্ড এ সাগর সৈকত দেশী বিদেশি পর্যটকদের উত্তাল ঢেউ এবং মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্থের মায়াজালে আবদ্ধ করে রাখে। প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করে থাকেন।

দার্জিলিং টিলা, শ্রীমঙ্গল
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রধানগর এলাকার এম আর খান চা বাগানের ৭ নম্বর সেকশানে ৩০০ ফুট উচ্চতায় দার্জিলিং টিলার অবস্থান। দেখতে অনেকটা দার্জিলিংয়ের চা-বাগানের মতো। তাই স্থানীয়রা টিলাটির নাম দিয়েছেন দার্জিলিং টিলা। তাই পর্যটকদের কাছেও এটি দার্জিলিং টিলা (Darjeeling Tila) নামেই অধিক পরিচিত।

নীলকুঠি ও ডিসি ইকোপার্ক
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়নের ভাটপাড়ায় ঐতিহাসিক ভাটপাড়া নীলকুঠি ( Bhatpara Neelkuthi ) অবস্থিত। ১৮৫৯ সালে নির্মিত ভাটপাড়া নীলকুঠি তৈরীতে ইট, চুন-শুরকি, লোহার বীম এবং ইটের টালি ব্যবহার করা হয়েছে। কাজলা নদীর তীরে অবস্থিত ব্রিটিশ বেনিয়াদের নির্যাতনের সাক্ষী ভাটপাড়া নীলকুঠিরের দৈর্ঘ্য ৮০ ফুট এবং প্রস্থ ৭০ ফুট। কুঠিবাড়ির মূল ভবন ছাড়াও বর্বরতার ইতিহাস মনে করিয়ে দিতে আজো জরাজীর্ণ অবস্থায় টিকে আছে জেলখানা, মৃত্যুকূপ এবং ঘোড়ার আস্তাবল।

ডিসি পার্ক
পিরোজপুর জেলা সদরে অবস্থিত ডিসি পার্ক (DC Park) পিরোজপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। নামাজপুর গ্রামে বলেশ্বর নদীর তীরে গড়ে উঠা এই পার্কের ওয়াচ টাওয়ার থেকে অপরুপ প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ডি. সি. পার্ক স্থানীয় মানুষের কাছে পিরোজপুর রিভার ভিউ ইকো পার্ক (Pirojpur River View Echo Park) নামেও পরিচিত। পিরোজপুর জেলার সাবেক জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ মনছুর রাজা চৌধুরী স্থানীয় মানুষের চিত্তবিনোদনের জন্য ২০০৭ সালে একটি পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তখন থেকেই পার্কের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি ডিসি পার্ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

দেবতাখুম
দেবতাখুম (Debotakhum) বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত এক অপরূপ প্রাকৃতিক বিস্ময়। খুম শব্দের অর্থ হচ্ছে গভীর জলাধার বা জলপ্রপাত-পরবর্তী শান্ত নদী অববাহিকা। দেবতাখুম মূলত বান্দরবানের অন্যতম পাহাড়ি স্রোতস্বিনী তারাছা খালের একটি অংশ, যার দুই পাশে আকাশছোঁয়া পাথুরে পাহাড় এবং মাঝখানে জমে থাকা গভীর নীল পানি। বান্দরবানে ছোট-বড় অনেক খুম আছে, যেমন থানচির বিখ্যাত আমিয়াখুম , ভেলাখুম বা সাতভাইখুম । তবে বান্দরবানে ঘুরে দেখার মতো যতগুলো খুম বা গিরিপথ রয়েছে, তাদের মধ্যে দেবতাখুম সবার কাছেই সবচেয়ে জনপ্রিয়। এর প্রধান কারণ হলো, অন্যান্য দুর্গম খুমগুলোর তুলনায় খুব সহজেই এবং কম ট্র্যাকিং করে এই স্বর্গের মতো জায়গা থেকে ঘুরে আসা যায়। স্থানীয় মারমা, ত্রিপুরা ও তঞ্চঙ্গ্যা অধিবাসীদের মতে, এই খুমের কিছু কিছু জায়গা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট পর্যন্ত গভীর।

দেবী চৌধুরাণীর রাজবাড়ি
রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলা কার্যালয় ও পীরগাছা রেলওয়ে ষ্টেশনের কাছে দেবী চৌধুরাণীর রাজবাড়ি (Devi Chowdhuryan Palace) অবস্থিত। মন্থনা জমিদার দেবী চৌধুরানীর আসল নাম জয়াদুর্গা দেবী চৌধুরানী। পীরগাছা উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই জমিদার বাড়িটি পীরগাছা রাজবাড়ি ও মন্থনা জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত। ১৭০৩-০৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রায় ২৮ একর জায়গা নিয়ে জমিদার অনন্তরামের মাধ্যমে দেবী চৌধুরানীর রাজবাড়ির গোড়াপত্তন হয়। দেবী চৌধুরানীর রাজবাড়িতে আছে জমিদার জ্ঞানেন্দ্র নারায়ন রায় কর্তৃক নির্মিত দেড় শতাধিক বছরের পুরাতন ত্রিবিগ্রহ মন্দিরে অন্নপুর্ণ বিশেশ্বর, শিব ও হরিহর বিগ্রহ পাশাপাশি কক্ষে রাখা হয়েছে।

ধনবাড়ি মসজিদ
ধনবাড়ি নবাব মঞ্জিল বাংলাদেশের অন্যতম জমিদার বাড়ি ও একমাত্র ঐতিহ্যবাহী রিসোর্ট। এই রিসোর্টটির অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে ধনবাড়ি মসজিদ (Dhanbari Masjid) বা নবাব মসজিদ। ধনবাড়ি নবাব মঞ্জিলের রয়েল রিসোর্টের পাশে শোভা বৃদ্ধি করে আছে প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি। মোগল স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত ধনবাড়ি মসজিদের মোজাইক ও মেঝের মার্বেল পাথরে নিপুণ কারুকার্য স্থান পেয়েছে। প্রায় ১০ কাঠা জমির ওপরে নির্মিত এই ধনবাড়ি মসজিদ আগে দেখতে আয়তকার হলেও বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের পর বর্তমানে এটি দেখতে বর্গাকৃতির রুপ লাভ করেছে। মসজিদের পূর্বদিকে খাঁজবিশিষ্ট খিলানযুক্ত ৩ টি এবং উত্তর-দক্ষিণে আরো একটি করে মোট ৫ টি প্রবেশপথ রয়েছে। নবাব মসজিদ এর পাশের কক্ষে নবাব বাহাদুর সৈদয় নওয়াব আলী চৌধুরীর মাজার রয়েছে। ১৯২৯ সালে নবাবের মৃত্যুর পর থেকে এই মাজারে ২৪ ঘণ্টাই পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হচ্ছে হচ্ছে, যা আজ অবধি ১ মিনিটের জন্যও বন্ধ হয়নি। বর্তমানে সাত জন কারি প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর কোরআন তিলাওয়াত করেন।

ধনবাড়ি নবাব মঞ্জিল
ধনবাড়ি নবাব মঞ্জিল (Dhanbari Nawab Manzil) বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রিসোর্ট, যা স্থানীয়ভাবে নবাব বাড়ি বা ধনবাড়ি নবাব প্যালেস নামে পরিচিত। নবাব আলী চৌধুরীর বর্তমান উত্তরসূরিরা টাঙ্গাইল জেলার এই ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ির দেখাশুনা করছেন। পর্যটকদের থাকার জন্য এখানে কয়েকটি কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। নবাব আলী চৌধুরীর পরিবারের উত্তরসূরী নবাব হাসান আলী চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প মন্ত্রী ছিলেন এবং স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ছিলেন। নবাব হাসান আলী চৌধুরীর কন্যা সৈয়দা আশেক আকবর ১৯৮১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ধর্মপালের গড়
নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার দেওনাই নদীর পূর্বতীরে ধর্মপাল ইউনিয়নে গড় ধর্মপাল গ্রামে অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের নাম ধর্মপালের গড় (Dharmapal Gar)। ১৯৯০ সালে এখানে খনন কাজ শুরু করা হলে তা পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পুনঃখনন করলে ধর্মপাল গড় আবিষ্কৃত হয়।

ঢোল সমুদ্র দীঘি
ঝিনাইদহ জেলার পাগলা কানাই ইউনিয়নে রাজা মুকুট রায়ের এক ঐতিহ্যবাহী মহাকীর্তির নাম ঢোল সমুদ্র দীঘি (Dhol Samudra Dighi)। শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ঝিনাইদহের সর্ববৃহৎ এবং শতবর্ষ পুরনো এই দীঘির প্রায় ৫২ বিঘা জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। ঢোল সমুদ্র দীঘির পাড়ে সারি সারি গাছ দীঘির সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। ছুটির দিনে ঢোল সমুদ্র দীঘির পাড়ে ঝিনাইদহ শহরের মানুষেরা পরিবার পরিজনদের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করেন।

ধনিয়াচক মসজিদ
ধনিয়াচক মসজিদ (Dhania Chalk Mosque) বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। এটি ১৫ শতকের শেষের দিকে ইলিয়াস শাহী আমলে নির্মিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। মসজিদটি ইট ও টেরাকোটায় নির্মিত এবং মধ্যযুগীয় মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর একটি চমৎকার নিদর্শন। একসঙ্গে এই মসজিদে শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।