দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

নীলাদ্রি লেক
নীলাদ্রি লেক (Niladri Lake) খ্যাত পর্যটন স্থানটি চুনাপাথরের পরিত্যাক্ত খনির লাইম স্টোন লেক। সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের টেকেরঘাট (Tekerghat) নামক গ্রামে নীলাদ্রি লেকের অবস্থান। এই লেকের প্রকৃত নাম শহীদ সিরাজ লেক। কিন্তু ভ্রমণ কমিউনিটিতে এই লেক নীলাদ্রি নামেই অধিক পরিচিত। অবশ্য স্থানীয় লোকজন একে টেকেরঘাট পাথর কোয়ারি নামে চেনে। লেকের চমৎকার নীল পানি, ছোট বড় টিলা আর পাহাড়ের সমন্বয় নীলাদ্রি লেককে করেছে অপার্থিব সৌন্দর্য্যের অধিকারী। স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের জন্য নিলাদ্রি লেক দেখে অনেক পর্যটক একে বাংলার কাশ্মীর হিসাবে অভিহিত করেন।

নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ
নোয়াখালী জেলার প্রাণকেন্দ্রে শহরের অন্যতম প্রধান মসজিদ নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ (Noakhali Zilla Jame Mosque) অবস্থিত। অনন্য সুন্দর এই স্থাপনাটি স্থানীয়দের কাছে মাইজদী বড় মসজিদ নামে পরিচিত। ১৮৪১ সালে পুরাতন নোয়াখালী শহরে ইমাম উদ্দিন নামের এক সওদাগর নিজ জমিতে নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ স্থাপন করেন। মূল নোয়াখালী শহরের সাথে এই জামে মসজিদটিও মেঘনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে নোয়াখালী জেলার মূল শহর মাইজদীতে স্থানান্তর করার সময় ১৯৫০ সালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তিগত আর্থিক সহায়তায় নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ পুনঃনির্মাণ করা হয়।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার (Paharpur Buddhist Bihar) বা সোমপুর মহাবিহার (Somapura Mahavihara) নামে পরিচিত বৌদ্ধ বিহারটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন স্থাপনা। বিহারটি নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলা থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিখ্যাত পালবংশের ২য় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব ৯ম শতকে এই বৌদ্ধ বিহার তৈরি করেন।

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি
পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি ( Pakutia Zamindar Bari ) টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। জমিদার বাড়ির তিনটি মহলের রয়েছে নিজস্ব বিশিষ্ট ও অপূর্ব লতাপাতার কারুকাজ। বর্তমানে এই জমিদার বাড়িতে বি.সি.আর.জি.ডিগ্রী কলেজ চালু আছে। পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি কাছেই আছে নাটমন্দির, কালীমন্দির এবং একটি বিশাল পুকুর।

রানী ময়নামতির প্রাসাদ
কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পূর্ব পাশে ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে সৌন্দর্যমন্ডিত রানী ময়নামতির প্রাসাদ (Palace of Queen Mainamati) অবস্থিত। দশম শতাব্দীতে চন্দ্র বংশীয় রাজা মানিক চন্দ্রের স্ত্রী ময়নামতির আরাম আয়েশের জন্য এই প্রাসাদ নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয়, ময়নামতি ইউনিয়নের প্রত্নতাত্ত্বিক এই নিদর্শনটি ৮ম থেকে ১২শ শতকের এক প্রাচীন কীর্তি।

পানাম নগর
পানাম নগর বা পানাম সিটি (Panam City) বাংলাদেশীদের কাছে “হারানো নগরী” হিসাবে সুপরিচিত। ঢাকার পার্শবর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানায় ঐতিহাসিক পানাম নগর অবস্থিত। ১৫ শতকে ঈশা খাঁ সোনারগাঁয়ে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। সোনারগাঁয়ের প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠে এই নগরী। ২০০৬ সালে ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ডের তৈরি বিশ্বের ধ্বংসপ্রায় ১০০ টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় পানাম নগর স্থান পায়।

পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুঠির
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শহর খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ির গভীর অরণ্যে প্রায় ৬৫ একর জায়গা জুড়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান শান্তিপুর অরণ্য কুঠির অবস্থিত (Panchari Shantipur Aranya Kutir)। নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে ভিক্ষুদের ধ্যান করার সুবিধার্থে ১৯৯৯ সালে অধ্যক্ষ ভান্তে ভদন্ত শাসনরক্ষিত মহাথেরো এই কুঠির স্থাপন করেন। দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ও বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ মূর্তি শান্তিপুর অরণ্য অরণ্য কুঠিরের প্রধান আকর্ষণ। ৫০ ফুট বিশিষ্ট নান্দনিক এই বৌদ্ধ মূর্তি নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় ৪ বছর। ছোট ছোট টিলা ও পাহাড়ি গাছ-গাছড়া দিয়ে ঘেরা এই কুঠির আছে সুবিশাল মাঠ, দুইটি কৃত্রিম হ্রদ, অনুষ্ঠান মঞ্চ, ছোট্ট বেড়ার ঘর এবং ভক্তদের উপাসনার বাতিঘর।

পরশুরামের প্রাসাদ
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় মহাস্থানগড়ের সীমানায় আবিষ্কৃত প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম এক নিদর্শনের নাম পরশুরামের প্রাসাদ (Parsuram Palace)। মহাকালী কুণ্ড থেকে ২০০ মিটার উত্তরে এই প্রাসাদের অবস্থান। এখানকার শেষ হিন্দু রাজা ও বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের নামানুসারে এই প্রাসাদের নামকরণ করা হয়, স্থানীয়দের কাছে যা হিন্দু নৃপতি পশুরামের প্যালেস নামে পরিচিত।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত (Patenga Sea Beach) বাংলাদেশের সুন্দর ও জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতগুলোর মধ্যে অন্যতম। চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই সমুদ্র সৈকতে সহজেই যাওয়া যায় বলে পর্যটকদের কাছে এর আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে। ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন হাবে রূপান্তর করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে এবং আধুনিক সাজসজ্জা নজর কেড়েছে সবার।

পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এর কথা বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে লাবণী, কলাতলী কিংবা সুগন্ধা বীচের চির চেনা ভিড়। কিন্তু সেই পরিচিত কক্সবাজারের বাইরে গিয়ে যদি প্রকৃতির আরও গভীর, আরও নিভৃত রূপ দেখতে চান, তবে পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত (Patuartek Sea Beach) হতে পারে আপনার জন্য একদম আলাদা অভিজ্ঞতা। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ ধরে গেলে ইনানী সৈকত পার হয়ে উখিয়া উপজেলার যে অংশে এই সৈকতের দেখা মেলে সেখানে প্রকৃতি যেন নিজের সমস্ত বৈচিত্র্য একসাথে মেলে ধরেছে।

প্রান্তিক লেক
বান্দরবান আর চট্টগ্রাম জেলার ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় শান্তভাবে লুকিয়ে আছে এই প্রান্তিক লেক। নামটি শুনলেই বোঝা যায় এটি দু’টি এলাকার প্রান্তে বা সীমারেখায় অবস্থিত, আর সেই থেকেই এর নাম প্রান্তিক লেক। এই লেকের পূর্ব তীর বান্দরবানের দিকে, আর পশ্চিম পাশে পড়ছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া। মজার ব্যাপার হলো, সাতকানিয়ার দিকে একটি ছড়ায় বাঁধ দিয়েই তৈরি করা হয়েছে প্রায় ২৫ একর আয়তনের এই সুন্দর হ্রদটি। প্রান্তিক লেকের চারপাশের দৃশ্যটা আরও মনোরম। প্রায় ৬৫ একরেরও বেশি এলাকা জুড়ে রয়েছে ঘন বনাঞ্চল। চারপাশে পাহাড় আর অরণ্য ঘেরা, মাঝখানে নীলাভ জলাশয়, আর দূর থেকে ভেসে আসা নানা প্রজাতির পাখির কলতান, সব মিলে এখানে সৃষ্টি হয়েছে অপার্থিব এক আবহ।

পুঠিয়া রাজবাড়ী
পুঠিয়া রাজবাড়ী (Puthia Rajbari) বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় অবস্থিত নজরকাড়া ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্যের একটি অনন্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। রাজশাহী বিভাগীয় শহর হতে মাত্র ৩০ কিলোমিটার এবং রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে পুঠিয়া রাজবাড়ীর অবস্থান। বহুকক্ষ বিশিষ্ট এই দৃষ্টিনন্দন দ্বিতল পুঠিয়া রাজবাড়ীতে প্রবেশের জন্য উত্তর দিকে একটি বিশাল ও রাজকীয় সিংহ দরজা রয়েছে। তৎকালীন লস্করপুর পরগনার জমিদার বা রাজারা এখান থেকে তাদের রাজকার্য ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। উনবিংশ শতাব্দীতে নির্মিত পুঠিয়া রাজবাড়িটি বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত রয়েছে, যা একসময় লস্করপুর ডিগ্রী কলেজ হিসেবেও সাময়িকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

পুটনী দ্বীপ
খুলনা জেলার নৈসর্গিক প্রকৃতির শোভা সুন্দরবনে অবস্থিত একটি দ্বীপের নাম পুটনী দ্বীপ বা পুটনী আইল্যান্ড (Putney Island)। স্থানীয় বাসীন্দাদের কাছে এর অন্য নাম দ্বীপচর। একপাশে দিগন্ত জোড়া সমুদ্র আর অন্যপাশে ঘন বনাঞ্চল এরই মাঝ দিয়ে আছে সবুজ ঘাসের প্রান্তর এবং আঁকাবাঁকা খাল। এক কথায় পুটনি আইল্যান্ড অপূর্ব। জোয়ার ভাটার সাথে সাথে পুরো এলাকা একবার ভাসমান থাকে আর আরেকবার দেখা মিলে ধু ধু বালুচর। শেষ বিকেলের সূর্য এখানে অস্ত যায় আড়পাঙ্গাসিয়া নদী এবং বঙ্গোপসাগরের মোহনায়।

রায় বাহাদুর শ্রীনাথ রায়ের বাড়ি
মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার শেখের নগর গ্রামে প্রায় দুইশত বছরের পুরনো রায় বাহাদুর শ্রীনাথ রায়ের বাড়ি (Rai Bahadur Srinath Palace) অবস্থিত। ইছামতি নদীর কুল ঘেঁষা শেখেরনগর রায়বাহাদুর ইনস্টিটিউশনে কাছে ছায়া সুনিবির গ্রামে কালের সাক্ষী হয়ে রায় বাহাদুর শ্রীনাথ রায়ের বাড়িটি যেন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন অজানা কথা জানান দিয়ে যাচ্ছে। বর্গাকৃতির নকশার রায়ের বাড়ির দ্বিতল দালান ঘরের দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ২০ ফুট। দ্বিতল ভবনের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের একতলা বিশিষ্ট আরও ৩টি ভবন রয়েছে। রায় বাহাদুর শ্রীনাথ রায়ের বাড়ির পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে আছে দুইটি শানবাধানো ঘাটের পুকুর।

রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদ
রাজা সীতারামের রাজপ্রাসাদ (Raja Sitaram Rajprasad) মাগুরা শহর হতে ১০ মাইল দূরে মহম্মদপুর উপজেলায় অবস্থিত। তৎকালীন সময়ে মহম্মদপুর উপজেলা রাজা সীতারামের রাজধানী ছিল। ১৬৫৮ খ্রীষ্টাব্দে জন্মগ্রহণকারী সীতারামের আদিনিবাস বীরভূম জেলায় এবং তিনি উত্তর রাঢ়ীয় কায়স্থ ছিলেন। রাজা সীতারামের পিতা উদয় নারায়ণ কর্মদক্ষতায় ভূষণা পরগণায় তহশিলদার পদে নিযুক্ত হন। আর ধীরে ধীরে উদয় নারায়ণ তালুক বৃদ্ধি করে রাজায় পরিণত হন, যার কীর্তি মহম্মদপুরে এখনো বিদ্যমান।

রামগোপালপুর জমিদার বাড়ি
রামগোপালপুরের জমিদার যোগেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর পুত্র শৌরীন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী ১২৯৩ বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। শৌরীন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী গৌরীপুর ও তৎসন্নিহিত এলাকার জমিদারদের ইতিহাস নিয়ে ‘বারেন্দ্রবাহ্মণ জমিদার’ নামক গ্রন্থ রচনা করে সুনাম অর্জন করেন। ধারণা করা হয়, ১৮৫০ শতকে রামগোপালপুর জমিদার বাড়ি (Ramgopalpur Zamidar Bari) নির্মাণ করা হয়েছিল। যদিও রামগোপালপুর জমিদার বংশের মূল প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। গৌরীপুরের জমিদারির বয়স প্রায় দেড়শ বছর হলেও ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাজনের সময় গৌরীপুরের অধিকাংশ জমিদার দেশ ত্যাগ করেন। ফলে কালের বিবর্তণে পরিচর্যার অভাবে রামগোপালপুর জমিদার বাড়ির ঐতিহ্যও বিলুপ্তির পথে।