দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

বিনোদিয়া ফ্যামিলি পার্ক
যশোর জেলা শহর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে যশোর ক্যান্টনমেন্টের শানতলা নামক স্থানে বিনোদিয়া ফ্যামিলি পার্ক (Binodia Family Park) নির্মাণ করা হয়েছে। লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ফয়েজ আহমেদ ১৯৯৮ সালে বিনোদিয়া ফ্যামিলি পার্ক তৈরী করেন।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ (Bir Shrestho Hamidur Rahman Monument) অবস্থিত। ঝিনাইদহে জন্ম নেয়া বীর সন্তান হামিদুর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সাহসী সিপাহী ছিলেন। ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে হামিদুর রহমান সিলেটের শ্রীমঙ্গল এলাকায় যুদ্ধ করছিলেন। ২৮ অক্টোবর সকালে দলের অধিনায়কের নির্দেশে হামিদুর রহমান ধলই বিওপি-তে পাকিস্থানীদের ঘাটি দখলের জন্য অগ্রসর হন। হালকা একটি মেশিনগান নিয়ে জীবন বাজি রেখে হামিদুর রহমান একাই দুইটি পাকিস্থানি যুদ্ধ ট্যাঙ্ক ধ্বংস করেন। এতে শত্রুঘাটির অধিনায়ক এবং বেশ কয়েকজন সৈন্য নিহত হয়। একসময় যুদ্ধরত অবস্থায় এই বীর সন্তান শত্রুদের পাল্টা আক্রমনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাঁর আত্নত্যাগের কয়েকদিনের মধ্যেই ধলই সীমান্ত ফাঁড়ি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। সহযোদ্ধারা হামিদুর রহমানের মৃতদেহ সীমান্তের ওপারে নিয়ে ভারতের আমবাসা গ্রামের একটি মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করেন।

বার্ড পার্ক এন্ড ইকোভিলেজ
বার্ড পার্ক এন্ড ইকোভিলেজ (Bird Park & Eco Village) সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার আজমেরু গ্রামে অবস্থিত। শহরের কোলাহল থেকে দূরে আজমেরু গ্রামের সবুজ পরিবেশে গড়ে উঠেছে এই পার্ক। পার্কের ভেতরে পা রাখলেই আপনার মন ভরে যাবে পাখির কিচিরমিচির শব্দে। চারপাশে সবুজের সমারোহ, লতা-পাতা আর অনেক রকম ফুলের বাগানে সমৃদ্ধ এই বার্ড পার্ক। পার্কের ভিতরে চোখে পড়বে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, ময়ূর, টার্কি ও আরও নানা প্রাণী। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পুকুরে রয়েছে লাল-নীল মাছ, ব্ল্যাক সোয়ান, আমেরিকান ঝুঁটি হাঁস, রাজহাঁস ও চীনা হাঁস। পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম ঝরনা।

বিরিশিরি
বিরিশিরি (Birishiri) নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। বিরিশিরির বিজয়পুরে আকর্ষনীয় চীনামাটির পাহাড় ও নীল পানির হ্রদ রয়েছে। বিজয়পুরের এই চীনামাটির পাহাড় এবং সমভূমি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৬ কিলোমিটার ও প্রস্থে ৬০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। হ্রদের নীল জল নিমিশেই সমস্ত ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করে দেয়। হ্রদের অপরুপ নীল জলের প্রধান উৎস হচ্ছে সমেশ্বরী নদী। এই নদী বর্তমানে কয়লা খনি হিসেবে অধিক পরিচিত। নীল জ্বলের হ্রদের মতই সোমেশ্বরী নদী আপন রুপে অনন্যা।

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ কমপ্লেক্স
বীরশ্রেষ্ট নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামে (বর্তমান নূর মোহাম্মদ গ্রাম) জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণের লক্ষ্যে যশোর অঞ্চলের ৮ নং সেক্টরে যোগদান করেন। এই মহান বীরের দেশপ্রেম ও বীরত্বে পরবর্তী প্রজন্মকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে নড়াইলের চণ্ডিবরপুর ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদনগরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়েছে।

বিথাঙ্গল বড় আখড়া
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় বিতঙ্গল গ্রামে বিথাঙ্গল বড় আখড়া (Bithangal Bara Akhara) বা বিতঙ্গল আখড়ার অবস্থান। বৈষ্ণব ধর্মালম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান হিসাবে পরিচিত এই আখড়াটি ষোড়শ শতাব্দীতে রামকৃষ্ণ গোস্বামী নির্মাণ করেন। মধ্যযুগীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বিথাঙ্গল বড় আখড়ায় ১২০ জন বৈষ্ণবের জন্য পৃথক কক্ষ রয়েছে। এখানে যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্য্যের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব আয়োজন করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে আছে আষাড় মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রথযাত্রা, ফাল্গুন মাসে দোল পূর্ণিমার ৫ দিন পর পঞ্চম দোল উৎসব, কার্তিক মাসের শেষ দিনে ভোলা সংক্রান্তিতে কীর্তন, চৈত্রের অষ্টমী তিথিতে পূণ্যস্নান ও বারুনী মেলা ইত্যাদি।

বোয়ালিয়া ট্রেইল
বোয়ালিয়া ট্রেইল (Boalia Trail) চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলায় অবস্থিত। সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা শান্ত ঝিরিপথ, চারপাশের বন্য পরিবেশ আর একের পর এক নান্দনিক জলপ্রপাতের রোমাঞ্চকর মেলবন্ধনের নাম বোয়ালিয়া ট্রেইল। প্রকৃতির এক অপার বিস্ময় আর ট্র্যাকিং অ্যাডভেঞ্চারের স্বর্গরাজ্য হলো চট্টগ্রামের মিরসরাই। এই মিরসরাই উপজেলার অন্যতম একটি আকর্ষণীয় এবং অফবিট রুট হলো বোয়ালিয়া ট্রেইল। খৈয়াছড়া বা নাপিত্তাছড়ার চেয়ে তুলনামূলক কম পরিচিত হওয়ায় এই ট্রেইলের প্রকৃতি এখনো অনেকটা আদিম, শান্ত ও প্লাস্টিক দূষণমুক্ত। বোয়ালিয়া ট্রেইলের মূল বিশেষত্ব হলো, অল্প পরিশ্রমে এখানে মূল বোয়ালিয়া ঝরনা ছাড়াও উত্তরণ, বাঘবিয়ানী এবং অমরমাণিক্য ঝরনার মতো বেশ কয়েকটি দারুণ জলপ্রপাতের দেখা মেলে।

বগালেক
বগাকাইন লেক বা বগালেক (Bogalake) বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে কেওক্রাডং পাহাড়ের কোল ঘেসে সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় ১২০০ ফুট উচ্চতায় ২০০০ বছর আগে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট এক হ্রদ। ভূ-তত্ত্ববিদগনের মতে এটি মৃত কোন আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ অথবা উল্কাপিণ্ডের পতনের ফলে এই লেক তৈরী হয়েছে। বগালেক অনেকের কাছে ড্রাগন লেক বলে পরিচিত।

বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড
খুলনা বিভাগের মোংলা উপজেলার দুবলার চর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে হিরণ পয়েন্ট ও দুবলার চরের মাঝখানে বঙ্গোপসাগরে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড (Bongobondhu Island) বা বঙ্গবন্ধু দ্বীপ (Bongobondhu Dwip) অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই মিটার উচ্চতায় অবস্থিত চরটির আয়তন প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার। আশেপাশের স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড খুঁজে পেলেও চর আবিষ্কারের সুনিদৃষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ১৯৯২ সালে মালেক ফরাজী নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এক ভক্ত দুজন সাথী নিয়ে এই দ্বীপে নামেন এবং পরবর্তীতে তিনি সেখানে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড নামের একটি সাইন বোর্ড লাগিয়ে আসেন।

বনবিলাস চিড়িয়াখানা
খুলনা জেলা শহর থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে গিলাতলা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে অত্যন্ত নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে বনবিলাস চিড়িয়াখানা (Bonobilash Zoo) গড়ে উঠেছে। ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে হওয়ায় এর ভেতরের পরিবেশ এবং গাছপালাগুলো ভীষণ পরিপাটি ও সুন্দরভাবে পরিচর্যা করা হয়।

বনরাণী ফরেষ্ট রিসোর্ট
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গান্ধিগাঁওয়ে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে জঙ্গল ঘেরা অপরুপ প্রাকৃতিক পরিবেশে আধুনিক পর্যটন স্থাপনা বনরাণী ফরেষ্ট রিসোর্ট (Bonorani Forest Resort) নির্মাণ করা হয়েছে। গজনী অবকাশ কেন্দ্র হতে এই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন পিকনিক স্পট বনরাণী ফরেষ্ট রিসোর্ট পায়ে হেঁটে যেতে মাত্র ১০/১২ মিনিট সময় লাগে। পাহাড়ী ছড়া, সবুজ বন আর বন্য হাতির বিচরনের রোমান্চকর এই রিসোর্টে ক্যাম্প ফায়ার, BBQ ডিনার আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া রিসোর্টের ব্যবস্থাপনায় ৩ বেলা স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।

বুধপাড়া কালীমন্দির
নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার বুধপাড়ায় প্রায় ৫৩০ বছরের পুরনো বুধপাড়া কালীমন্দির (Budhapara Sree Sree Kalimata Mondir) অবস্থিত। মন্দির স্থাপনের সময়কালে এই উপমহাদেশে নবাবী আমল চলছিল। আর নবাব আলিবর্দি খানের আমলে বর্গীয় হাঙ্গামা শুরু হয়। বর্গীদের অন্যায় অত্যাচার থেকে বাঁচতে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের খাগড়া থেকে ৬০ ঘর কংস বণিক নাটোরের বুধপাড়ায় এসে বসতি স্থাপন করে। সেসময় তারা কালীপূজায় অর্চনার জন্য খড়ের ঘরের একটি মন্দির তৈরি করেন। যা বর্তমানে বুধপাড়া কালীমন্দির হিসেবে পরিচিত। ফলে সমগ্র দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই মন্দিরের রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব।

কেরু এন্ড কোং
১৯৩৮ সালে প্রায় ৩০০ বিঘা জমির উপর চুয়াডাঙ্গা (Chuadanga) জেলায় এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম চিনির কল ‘কেরু এন্ড কোং’ স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে কেরু এন্ড কোং-কে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে। প্রায় ৮০ বছরের পুরানো কেরু এন্ড কোং-এ চিনি ছাড়াও দেশি এবং বিলেতি মদ উৎপাদন করা হয়। এছাড়া কেরু এন্ড কোং-এর অধীনে একটি ডিস্টিলারি এবং ফার্মাসিউটিকাল ইউনিট পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে অবশিষ্ট চিনিকলগুলোর মধ্যে একমাত্র কেরু এ্যান্ড কোং (Carew & Co Bangladesh Ltd) আজো কোন লোকশানের মুখ দেখেনি। দর্শনায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি দেখতে অনুমতির প্রয়োজন হয়, আর ডিস্টিলারি সেকশনে ঢুকতে গেলে তো সরাসরি এমডি’র কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। বিনোদনের সুবিধার্থে এখানে একটি পিকনিক স্পট এবং গেস্ট হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে।

চলন বিল
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় জলাভূমির নাম চলন বিল (Chalan Beel)। নাটোর , সিরাজগঞ্জ এবং পাবনা জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট অনেকগুলো বিলের সমষ্টি এই চলন বিল। বর্ষায় দ্বীপের মতো ভাসমান সবুজ গ্রাম, শীতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অতিথি পাখির কলরব, সুনীল আকাশ এবং শরতে বিলের পাড় ধরে ফুটে থাকা কাশবনের অনন্য সৌন্দর্য আগত দর্শনার্থীদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। তবে শুধুমাত্র ভরা বর্ষায় চলন বিলের প্রকৃত ও প্রলয়ঙ্করী রূপ ধরা পড়ে, যখন প্রায় ৩৬৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জলে একাকার হয়ে সাগরের মতো রূপ নেয়। বর্ষাকাল ছাড়াও প্রায় সারাবছরই চলন বিলের বুকে নৌকায় ভেসে বেড়াতে কিংবা বিলের বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনযাত্রা উপভোগ করতে অসংখ্য পর্যটক এখানে ছুটে আসেন।

চর হেয়ার
বরিশালের সাগরকন্যা খ্যাত জেলা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বঙ্গোপসাগরের একেবারে কোল ঘেঁষে জেগে ওঠে দ্বীপ চর হেয়ার। স্থানীয়দের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরে কলাগাছিয়ার চর (Kalagachia Char) নামে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে পর্যটকদের কাছে চর হেয়ার (Char Hare) নামেই বেশি পরিচিত হয়ে উঠছে। চারপাশে অবারিত জলরাশি, দূরদিগন্তজোড়া আকাশ, অতিথি পাখির কোলাহল আর সবুজ ম্যানগ্রোভ বন সব মিলিয়ে চর হেয়ার যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক নীরব শিল্পকর্ম। এই চরের পূর্ব পাশে রয়েছে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনভূমি সোনারচর , পশ্চিমে চর তুফানিয়া, উত্তরে টাইগারদ্বীপ আর এর পাশেই চর কাশেম। কুয়াকাটা থেকে সাগরপথে এর দূরত্ব ৩৫.১৯ কিলোমিটার, আর রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার।

চর কুকরি মুকরি
চর কুকরি মুকরি (Char Kukri Mukri) এর অবস্থান ভোলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপাসাগরের কোল ঘেষা মেঘনা নদীর মোহনায়। যা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত। এক সময় এই চরে অধিক কুকুর ও ইঁদুর (এখানে মেকুর নামে পরিচিত) পাওয়া যেত, এ কারণেই এটি চর কুকরি মুকরি নামে স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে উঠে। ১৯৮৯ সালের ১৪ মে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার একর জমিতে সংরক্ষিত শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ জাতীয় বৃক্ষের বনায়ন শুরু হয়। চর কুকরি মুকরির বনভূমিতে স্থান পেয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, কেওড়া, নারিকেল, বাঁশ ও বেত। বর্তমানে কুকুরি মুকুরি চরে বনভূমির পরিমাণ ৮৫৬৫ হেক্টর, যার মধ্যে ২১৭ হেক্টর জমি বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম এবং বসতি ও কৃষি আবাদর জন্য প্রায় ৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমি রয়েছে। মাছ ধরা ও কৃষিকাজ চর কুকরি মুকরিতে বসবাসকারী মানুষের প্রধান পেশা।