দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

গজনী অবকাশ কেন্দ্র
গজনী অবকাশ কেন্দ্র শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এবং ঢাকা থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার উত্তরে এর অবস্থান। ভারত সীমান্ত সংলগ্ন গারো পাহাড়ের চূড়া ও ঢালে প্রায় ৯০ একর এলাকা জুড়ে এই অবকাশ কেন্দ্রটি বিস্তৃত। প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে গজনীর সারি সারি গজারী, শাল ও সেগুন গাছ প্রশান্তি এনে দেয়। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টি গজনী অবকাশ কেন্দ্র ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এ সময় আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল থাকে এবং গারো পাহাড়ের চারপাশে সবুজ পরিবেশ ও কুয়াশাচ্ছন্ন দৃশ্য বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। পাহাড়ি ঝরণা, লেক, টিলা, ছড়ার স্বচ্ছ জল ও ঘন সবুজ বন এখানকার পরিবেশকে দিয়েছে এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি, হোসেনপুর
জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেক আগেই তবু কালের সাক্ষী হয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলায় গোবিন্দপুর ইউনিয়নে অবস্থিত গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি (Gangatia Jamidar Bari) । স্থানীয়দের কাছে এই বাড়িটি জমিদার বংশের বর্তমান উত্তরাধিকারী মানবেন্দ্র চক্রবর্তী চৌধুরীর নামানুসারে ‘মানব বাবুর বাড়ি’ (Manob Babur Bari) হিসাবে অধিক পরিচিত। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন এই জমিদার বাড়িটি অষ্টাদশ শতকের গ্রীক স্থাপত্যকলা অনুযায়ী নির্মিত। কারুকার্যময় বাড়িটিতে রয়েছে কাচারিঘর, নহবতখানা, দরবারগৃহ ও মন্দির। এছাড়াও চর্তুদিক থেকে সুউচ্চ প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িতে রয়েছে পুকুর ও সবুজে ঢাকা সুবিশাল আঙ্গিনা। কাছারিঘরটি ছাড়া অন্য সমস্ত স্থাপনাই আজ প্রায় ধ্বংস প্রাপ্ত তবুও প্রাচীন স্থাপত্যের নির্মাণ শৈলী দেখতে প্রতি বছর দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এই জমিদার বাড়ি দেখতে আসেন।

গাজী কালু চম্পাবতী মাজার
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক বারোবাজারে গাজী কালু চম্পাবতী মাজার শরীফ (Gazi Kalu Champabati Mazar) অবস্থিত। বারোবাজারে ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে আসা আধ্যাত্মিক সাধকের মধ্যে গাজী, কালু ও চম্পাবতী ছিলেন অন্যতম। গাজী, কালু ও চম্পাবতীর পরিচয় নিয়েও বেশকিছু কিংবন্দন্তি রয়েছে।

গেরদা ফলক
ফরিদপুর সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে গেরদা গ্রামে অবস্থিত গেরদা মসজিদের পশ্চিম দেয়ালে আরবি ভাষায় লেখা পাথরের এক বিশেষ ফলক রয়েছে, এই ফলকটিই গেরদা ফলক (Gerda Folok) হিসেবে পরিচিত। ধারণা করা হয়, ১০১৩ হিজরি বা ১৬০৪ খ্রিষ্টাব্দে লেখা মূলত এই ফলককে কেন্দ্র করে গেরদা মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। আর ফলকটি নির্মাণ করা হয়েছে শাহ্ আলী বাগদাদি নির্মিত প্রাচীন এক মসজিদের ভগ্নাংশের উপর।

ঘোলদাড়ী শাহী মসজিদ
মোহাম্মদ ঘোরী শাসনকালে ওমর শাহ নামে ধর্মপ্রাণ দরবেশ ১০০৬ সালে আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোলদাড়ী গ্রামে ঘোলদাড়ী শাহী মসজিদ (Gholdari Shahi Mosque) নির্মাণ করেন। ঐতিহাসিক এ মসজিদে এখনো নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয়। প্রতিদিন অনেক পর্যটক ঐতিহ্যের সাক্ষী হতে ঘোলদাড়ী শাহী মসজিদ দেখতে এবং নামায আদায় করতে আসেন।

গোয়ালদি মসজিদ
গোয়ালদি মসজিদ (Goaldi Mosque) নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় নির্মিত একটি ঐতিহাসিক সুলতানি স্থাপনা। সোনারগাঁও পৌরসভার গোয়ালদি গ্রামে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহর রাজত্বকালে তৈরি গোয়ালদি মসজিদটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। আলাউদ্দিন হোসেন শাহর সময়ে শিল্প, শিক্ষা এবং সাহিত্যে এই বাংলার অনেক উৎকর্ষ সাধিত হয়। ইতিহাস থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ১৫১৯ সালে মোল্লা হিজাবর আকবর খান ঐতিহ্যবাহী গোয়ালদি মসজিদ নির্মাণ করেন।

গদখালী ফুলের রাজধানী
গদখালী (Godkhali) বাংলাদেশের ফুলের রাজধানী হিসাবে সুপরিচিত। যশোর জেলা শহর থেকে বেনাপোলের দিকে ১৮ কিলোমিটার এগুলেই গদখালী বাজার। গদখালীতে আসা ফুলগুলো যশোর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ঝিকরগাছা ও শার্শা থানার ৯০ টি গ্রামের প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে চাষ করা হয়। ঝিকরগাছা ও শার্শা থানার গ্রামগুলোর রাস্তার দুইপাশে দিগন্তবিস্তৃত জমিতে লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি আর সাদা রঙের ফুলের সমাহার দেখে মন্ত্রমুগ্ধের মত তাকিয়ে থাকতে হয়। এছাড়া ফুলের সুগ্রান, মৌমাছির গুঞ্জন, আর রঙিন প্রজাপতির ডানায় ভর করে এখানে আসে চিরন্তন সুন্দরের বারতা।

গোকুল মেধ
গোকুল মেধ (Gokul Medh) বগুড়া সদরের গোকুল গ্রামে অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। মহাস্থানগড় থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ অবস্থিত এই স্থানটি জনসাধারণের কাছে বেহুলা-লক্ষ্মিন্দরের বাসর ঘর (Lakhindar Behular Basar Ghar) হিসাবেও পরিচিত। অনেকে আবার এটিকে লক্ষ্মিন্দরের মেধ নামেও আখ্যায়িত করেছেন। এন জি মজুমদার কর্তৃক ১৯৩৪-৩৬ সাল পর্যন্ত চালানো খননকার্যের ফলে এখানে একটি মন্দিরের ভিত্তি উন্মোচিত হয়। ১৭২ টি কুঠুরিকে বিভিন্ন তলে মাটি দিয়ে ভরাট করে নিচ থেকে উপরের দিকে ক্রমহ্রাসমান করে মূল ভিত্তিকে স্তরে স্তরে উর্ধগামী কুঠুরি নির্মাণ রীতিতে সাজানো হয়েছিল যেন এগুলিকে সুউচ্চ মন্দির বা স্তূপের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এই মন্দিরে গুপ্তযুগ অর্থাৎ ছয়-সাত শতকের কিছু পোড়ামাটির ফলক পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সেন যুগে গোকুল মেধে একটি মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল। মন্দির থেকে প্রাপ্ত একটি সোনার পাত ধারনা করা হয় এটি একটি শীব মন্দির ছিলো।

গলাকাটা মসজিদ
ঝিনাইদহ জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে বারোবাজার ইউনিয়নে ঐতিহাসিক গলাকাটা মসজিদ (Golakata Mosjid) অবস্থিত। কালিগঞ্জে মাটি খনন করে প্রাপ্ত ১৯টি সুলতানি আমলের মসজিদের মধ্যে এই মসজিদ অন্যতম। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মাটির ঢিবি খনন করে গলাকাটা মসজিদের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার ও সংস্কার করেন। ধারণা করা হয়, ১৬শ শতকে খান জাহান আলীর আমলে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এই মসজিদটি গলাকাটা দীঘি ঢিবি মসজিদ হিসেবেও সুপরিচিত। ৬টি গম্বুজ বিশিষ্ট গলাকাটা মসজিদের দেয়ালগুলো ২৫ ফুট উঁচু এবং ৫ ফুট চওড়া। ৪টি ষষ্ঠকোণাকৃতির পিলারের উপর স্থাপিত বর্গাকৃতি মসজিদে সূচাল খিলান বিশিষ্ট ৩টি পোড়ামাটির প্রবেশদ্বার বিদ্যামান। আর মসজিদের ভিতরে রয়েছে টেরাকোটার অলংকৃত ৩টি অর্ধবৃত্তাকার সুসজ্জিত মেহরাব ও ৮ ফুট উচ্চতার দুইটি কষ্টিপাথরের মিনার।

গ্রীন ভ্যালী পার্ক
নাটোর জেলার লালপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রীন ভ্যালী পার্ক (Green Valley Park) উত্তরবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় একটি বিনোদন কেন্দ্র। প্রায় ১২৩ বিঘা জায়গার ওপর নির্মিত এই পার্কটিতে সকল বয়সী দর্শনার্থীদের চিত্তবিনোদনের জন্য আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আকর্ষণীয় রাইডের মধ্যে রয়েছে মিনি ট্রেন, নাইন ডি মুভি, বুলেট ট্রেন, রোলার কোস্টার, বাম্পার কার, ভূতের বাড়ি, নাগরদোলা, ম্যারিগো রাউন্ড, পাইরেট শীপ, হানি সুইং, স্পীডবোট এবং প্যাডেল বোটসহ বর্তমানে ২০টিরও বেশি রাইড। পার্কের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর বিশাল ওয়াটার পার্ক ও ওয়েভ পুল।

গ্রীনল্যান্ড পার্ক
হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত সবুজে মোড়া দৃষ্টিনন্দন গ্রীনল্যান্ড পার্ক (Greenland Park) একটি জনপ্রিয় পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র। ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠা এই পার্কে বাঁশের তৈরী ঝুলন্ত সাকো, গোল চত্বর, লেক, নান্দ্যনিক রেস্টুরেন্ট ছাড়াও পিকনিক আয়োজনের সকল ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রীনল্যান্ড পার্কের লেকের জলে নৌকা দিয়ে ঘুরতে ও সাতার কাটতে পারবেন।

গুপ্ত বৃন্দাবন
টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পুর্বে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় রাধা কৃষ্ণের ভক্তদের পুণ্যস্থান গুপ্ত বৃন্দাবন (Gupta Brindaban) গ্রাম অবস্থিত। এখানে প্রতিবছর চৈত্র মাসের ১২ তারিখ প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো একটি কালো তমাল গাছকে কেন্দ্র করে জমজমাট বারুনি মেলার আয়োজন করা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাড়াও এই উৎসবে আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে সকল ধর্মের দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে।

গুটিয়া মসজিদ
গুটিয়া মসজিদ ( Guthia Mosque ) এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম জামে মসজিদ, যা বরিশাল বিভাগে উজিরপুর থানার গুটিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে অবস্থিত। বরিশাল শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে ১৪ একর জমির উপর বিশাল এই মসজিদটি গড়ে তোলা হয়েছে। গুটিয়া মসজিদ নামে পরিচিতি পেলেও এর নাম বাইতুল আমান। ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর গুঠিয়া ইউনিয়নের এস. সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু গুঠিয়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ এবং ঈদগাহ্ কমপ্লেক্সের নির্মাণ শুরু করেন। ২০০৬ সালে গুটিয়া মসজিদ ও ঈদগাহ্ কমপ্লেক্সের নির্মাণ শেষ হয়।

শহীদ হাদিস পার্ক
শহীদ হাদিস পার্ক (Shahid Hadis Park) বিভাগীয় শহর খুলনার বাবুখান রোডে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক পার্ক, যা ১৮৮৪ সালে ‘খুলনা মিউনিসিপ্যাল পার্ক’ প্রতিষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শেখ হাদিসুর রহমান বাবুর নামে নামকরণ করা হয়। শহীদ হাদিস পার্কে ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অনুকরণে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। হাদিস পার্কে রয়েছে বিশাল লেক। লেকের উপর শহীদ মিনার ও পানির ফোয়ারা তৈরী করা হয়েছে। এছাড়াও শহীদ হাদিস পার্কে নির্মিত পর্যবেক্ষন টাওয়ার থেকে এক নজরে খুলনা শহরটাকে দেখা যায়।

হাইল হাওর
সিলেট বিভাগের মৌলভিবাজার জেলা সদর, শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত একটি বৃহদাকার জলাভূমির নাম হাইল হাওর (Hail Haor)। ১৪ টি বিল ঘেরা হাইল হাওরের সর্বমোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার হেক্টর। প্রচুর লতা ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ থাকার কারণে স্থানীয়দের কাছে এটি লতাপাতার হাওর নামেও পরিচিত।

হাজীগঞ্জ দুর্গ
নারায়ণগঞ্জ জেলার হাজীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত হাজীগঞ্জ দুর্গ (Hajiganj Fort) মুঘল আমলে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক জল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তৎকালীন সময়ে হাজীগঞ্জ খিজিরপুর নামে পরিচিত ছিল, ফলে অনেকেই একে খিজিরপুর দুর্গ নামে আখ্যায়িত করেছেন। সপ্তদশ শতকের দিকে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান কর্তৃক ঢাকায় মুঘল রাজধানী স্থাপনের পর মগ ও পর্তুগীজ জলদস্যুদের আক্রমণ প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে নির্মিত তিনটি জল দুর্গ বা ট্রায়াঙ্গল অব ওয়াটার ফোর্টগুলোর মধ্যে হাজীগঞ্জ অন্যতম। আর অপর দুই দুর্গের নাম সোনাকান্দা দুর্গ এবং ইদ্রাকপুর দুর্গ। ঢাকা থেকে সড়কপথে হাজীগঞ্জ দুর্গের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার।