দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

স্বাধীনতা জাদুঘর
তরুণ প্রজন্মকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে অবগত করার উদ্দেশ্যে ভোলার বাংলাবাজার এলাকায় তোফায়েল আহমেদ ট্রাস্টি বোর্ডের উদ্যোগে স্বাধীনতা জাদুঘর (Shadhinota Jadughor) গড়ে তোলা হয়েছে। স্বনামধন্য স্থপতি ফেরদৌস আহমেদ প্রায় এক একর জায়গার উপর নির্মিত ভোলার আকর্ষণীয় এই বিনোদন কেন্দ্রটি ডিজাইন করেন। স্বাধীনতা জাদুঘরে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ সালের ছাত্র আন্দোলন, ৬৬ সালের ছয় দফা, ৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ৭০ সালের নির্বাচন এবং ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্পূর্ণ ইতিহাস সংরক্ষিত আছে। এছাড়া এখানে তথ্য ভিত্তিক ভিডিও এবং দুর্লভ ছবির সংগ্রহ দেখে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের সুযোগ রয়েছে।

ইটনা শাহী মসজিদ
ইটনা শাহী মসজিদ (Itna Shahi Masjid) কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলায় অবস্থিত। মোগল স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত ইটনা শাহী মসজিদটি একটি বেদির উপর স্থাপিত। চারপাশে মোটা দেয়াল দ্বারা পরিবেষ্টিত মসজিদের দুইটি তোরণ এবং ছাদে তিনটি সুদৃশ্য গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের মূল কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় ভাবে এটি বেশ কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। কিছুটা অপরিকল্পিত ভাবে মেরামত করায় মসজিদের গায়ে থাকা শিলালিপি সিমেন্টের প্রলেপের নিচে ঢাকা পড়ে গেছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ৪২৫ বছর পুরনো এই ইটনা শাহী মসজিদটি বারো ভূইয়ার প্রধান ঈসা খাঁর সভাসদ মজলিশ দেলোয়ার নির্মাণ করেন।

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের বাড়ি
ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলায় গোবিন্দপুর গ্রামে পল্লী কবি জসীমউদ্দিনের বাড়ি। কুমার নদীর পাশে কবির বাড়িতে রয়েছে পুরাতন ৪টি টিনের ঘর। বসত বাড়ির বিভিন্ন রুমে রয়েছে তার ব্যবহৃত নানান জিনিসপত্র। কবির বিভিন্ন লেখা বাড়ির চত্বরে প্রদর্শন করা আছে। নদীর সামনে বিশাল জায়গায় রয়েছে আগত দর্শনার্থীদের জন্যে বসার স্থা্ন। বাড়ির উত্তরে রাস্তার পাশে কবির কবরস্থান। পল্লীকবি জসীমউদ্দীন ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ থেকে ডালিম গাছের তলে চিরশায়িত রয়েছেন। কবির চারপাশে শায়িত রয়েছেন তার বাবা, মা, কবির পত্নী, বড় ছেলে, বড় ছেলের স্ত্রীসহ তার ভাই, বোন, ভাগিনা ও নাতনিরা।

খাঞ্জেলী দীঘি
বাগেরহাট শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে হযরত খান জাহান (রঃ) এর মাজারের দক্ষিণ দিকে ২০০ বিঘা জায়গা জুড়ে খাঞ্জেলী দীঘি বা খান জাহান আলী দীঘি অবস্থিত। দীঘির নামকরণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রচলিত রয়েছে। অনেকের মতে, বৌদ্ধ ঠাকুরের মূর্তি প্রাপ্তির কারণে এই দীঘির নামকরণ হয় “ঠাকুর দীঘি”। আবার অনেকের মতে, খান জাহানকে স্থানীয় হিন্দুরা ভক্তি করে ঠাকুর বলতো আর তাঁর তত্ত্বাবধানে এই দীঘি খনন করা হয়।

খোয়াসাগর দীঘি
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার এলাকার লক্ষ্মীপুর রায়পুর সড়কের পূর্ব পাশে প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো বিশাল আয়তনের খোয়াসাগর দীঘি (Khoa Sagor Dighi) অবস্থিত। প্রায় ২৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত দীঘির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের দিকে তাকালে কুয়শায় ঢেকে আছে বলে মনে হয়। এ কারণে লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় ভাষায় দীঘিটিকে খোয়া বা কুয়াশাময় দীঘি বলা হয়। স্থানীয়দের মতে, প্রায় দুই শতাধিক বছর পূর্বে দালাল বাজারের জমিদার ব্রজবল্লভ রায় আনুমানিক ১৭৫৫ সালে এই দীঘিটি খনন করেন। পরবর্তীতে জমিদার রাজা গৌড় কিশোর রায় দীঘিটির সংস্কার করেন।

খনিয়াদিঘি মসজিদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে অবস্থিত খনিয়াদিঘি মসজিদ (Khoniadighi Mosque) বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর হতে খনিয়াদিঘি মসজিদের দূরত্ব ৩৬ কিলোমিটার। স্থানীয় মানুষের কাছে প্রাচীন এই মসজিদটি রাজবিবি মসজিদ এবং চামচিকা মসজিদ নামে সুপরিচিত। ১৪৫০ থেকে ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে গৌড় রাজধানী থাকাকালীন সময়ে খনিয়াদীঘি মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈত্রিক বাড়ী
গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে গণজাগরণের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈত্রিক বাড়ি (Kobi Sukanta Bhattacharya’s House) অবস্থিত। বিপ্লবী তরুণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী। কবি সুকান্ত ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার মহিম হালদার স্ট্রিটে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা নিবারণ ভট্টাচার্য মাদারীপুরের ডাক বিভাগে চাকরি করতেন। ১৯৪৬ সালে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের বাবা চাকরি ছেড়ে কলকাতায় চলে যাওয়ার এ বাড়িটি মানব শূন্য হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বংশের সর্বশেষ পুরুষ দেবেন ভট্টাচার্য সুকান্তের পিতৃব্য ও পিতার ফেলে যাওয়া এই বাড়িটি কিছু দিন আগলে রাখার চেষ্টা করলেও তা অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে যায়। এক পর্যায়ে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্দেশে স্থানীয়ভাবে বাড়িটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নেওয়া হয়। ২০১০ সালে প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈত্রিক বাড়ি সংস্কার করে কবি সুকান্ত পাবলিক লাইব্রেরি কাম অডিটোরিয়াম গড়ে তোলা হয়।

কল্যাণ দীঘি
রাজবাড়ী জেলার নবাবপুর ইউনিয়নের রাজধরপুর গ্রামের পাশে কল্যাণ দীঘি ( Kalyan Dhigi ) অবস্থিত। বর্তমানে বিশালাকারের দীঘিটি সমতল বিলে পরিনত হলেও দীঘির আয়তন স্পষ্টই বুঝতে পারা যায়। ১৬ খাদা জমি নিয়ে এমন বিরাট আয়তনের দীঘি এ অঞ্চলে বিরল। অনেকের মতে অষ্টাদশ শতকে রাজা সীতারাম কল্যাণ দীঘিকল্যাণ দীঘি খনন করেন। রাজা সীতারাম রাম সাগর, সুখ সাগর এবং কৃষ্ণ সাগর দীঘিগুলো খনন করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। লোকমুখে প্রচলিত আছে রাজা সীতারামের ২০০ জন সৈন্যের এক বাহিনী ছিল যারা যুদ্ধের সময় ব্যতীত মানুষের পানির কষ্ট দূর করতে জলাশয় খনন করতেন। রাজা সীতারাম প্রতিদিন নতুন খননকৃত জলাশয়ের স্নান করতেন বলেও মানুষের মুখে শুনোতে পাওয়া যায়।

কুতুব শাহ মসজিদ, অষ্টগ্রাম
কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে কুতুব মসজিদ বা কুতুব শাহ মসজিদ অবস্থিত। মসজিদের কোন শিলালিপি বর্তমান না থাকায় এর নির্মানশৈলী দেখে ১৬শ শতকের সুলতানী আমলের নিদর্শন হিসাবে এটিকে মানা হয় তাই কুতুব শাহ মসজিদের রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব। মসজিদের পাশেই একটি কবর রয়েছে আর এই কবরটি কুতুব শাহের কবর বলে প্রচলিত।কুতুব শাহ মসজিদের চারকোনায় চারটি অষ্টভূজাকৃতির বুরুজ রয়েছে আর প্রত্যেক বুরুজের উপর মিনার রয়েছে। এছাড়া মসজিদটিতে সর্বমোট ৫ টি গম্বুজ রয়েছে। পশ্চিম দিক বাদে মসজিদের তিন পাশ থেকেই মসজিদে প্রবেশের পথ রয়েছে। এ মসজিদের কার্নিশ বক্রাকার, মসজিদের দেয়ালে রয়েছে বিভিন্ন করুকাজ। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে সুলতানী আমলের সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপনা হিসাবে এর সুখ্যাতি রয়েছে। ১৯০৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কুতুব শাহ মসজিদটিকে সংরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে নথিভুক্ত করে। কুতুব মসজিদ দেখার সাথে সাথে আপনার অষ্টগ্রাম হাওর ভ্রমণ ও হয়ে যাবে।

লকমা রাজবাড়ি
জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী পশ্চিম কড়িয়া গ্রামে অবস্থিত লকমা রাজবাড়ি (Lakma Palace / Lakma Rajbari) একটি ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। আনুমানিক প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে লকমা চৌধুরীর পরনাতীর পূর্বপুরুষ জৈনিক চৌধুরী হাদি মামুন এই রাজবাড়িটি নির্মাণ করেন। আবার অনেকের মতে, রাজা লক্ষণসেন এই বাড়ির নির্মাতা। লকমা রাজবাড়ির ইংরেজি ইউ (U) আকৃতির দ্বিতল মূল ভবন ছাড়া অন্য দুইটি দালানের একটি ঘোড়াশাল এবং অপরটি হাতীশাল হিসাবে ব্যবহৃত হত। রাজবাড়ির পূর্ব দিকে আছে কর্মচারীদের ঘর ও কবরস্থান।

লালদীঘি
চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে লালদীঘি (Lal Dighi) অন্যতম। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩২ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত জেল রোডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত লালদীঘির আশেপাশে আছে আন্দরকিল্লা, জেলা পরিষদ ভবন এবং স্থানীয় কিছু ব্যাংকের শাখাসমূহ। ১৭৬১ সালে চট্টগ্রামের শাসনভার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উপর অর্পিত হওয়ার পর জমি সংক্রান্ত তহসিল অফিসকে (বর্তমানে মেট্রোপলিটন পুলিশ অফিস) লাল রঙ করা হয়েছিল। সে সময় এটি “লালকুঠি” হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠে। পরবর্তীতে লালকুঠির পুর্ব দিকে অবস্থিত জেলখানাকেও লাল রঙ করা ছিল এবং এটি “লালঘর” নামে পরিচিতি পায়। একই ঘটনাক্রমে লালঘর এবং লালকুঠির পাশে থাকা দীঘিটি লালদীঘি নামে পরিচিতি লাভ করে।

লাল শাপলার বিল
গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অসংখ বিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মুলত বিলগুলোর বেশিরভাগই হচ্ছে এক ফসলি জমি। এই জমিতে শুধুমাত্র বোরো মৌসুমেই ধান চাষ করা হয়। বর্ষাকালে এসব জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। তখন এসব বিলে প্রাকৃতিকভাবে শোভা ছড়ায় অসংখ্য লাল শাপলা। আর এই বিলগুলোকেই লাল শাপলার বিল (Lal Shapla Bill) বলা হয়।

লালাখাল
লালাখাল (Lalakhal) বিভাগীয় শহর সিলেট জৈন্তাপুর উপজেলায় অবস্থিত। সিলেট থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই লালাখাল নদী ভারতের চেরাপুঞ্জি পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদী, পাহাড়ি বন, চা-বাগান এবং নানা প্রজাতির বৃক্ষরাজি লালাখালের ভূপ্রকৃতিকে দিয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য। ভরা পূর্ণিমায় জ্যোৎস্না ধোয়া নদী কিংবা মেঘ পাহাড় আর নদীর মিতালী দেখতে আপনাকে লালাখাল ঘুরে আসতে হবে। বর্ষাকালে লালাখালের পানি খুব ঘোলা থাকে তাই নভেম্বর থেকে মার্চ অর্থাৎ শীতকাল হচ্ছে লালাখাল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

লালদিয়া বন ও সমুদ্র সৈকত
লালদিয়া বন ও সমুদ্র সৈকত (Laldiya Forest And Sea Beach) বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণে অবস্থিত। সুন্দরবনের বরগুনা (Barguna) অংশে অবস্থিতে হরিণঘাটার ভেতর দিয়ে ঘণ্টা দুয়েক পায়ে হেঁটে এগিয়ে গেলে লালদিয়ার বন চোখে পড়ে। লালদিয়া বনের পূর্ব দিকে বিশখালী এবং পশ্চিম দিক দিয়ে বলেশ্বর নদী বয়ে গেছে। দুই নদী এবং সাগরের মোহনায় ঘেরা এ বনের পূর্ব প্রান্তে রয়েছে সমুদ্র সৈকত। আয়তনে ছোট হলেও এ সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য্য কোন অংশেও কম নয়। লালদিয়া বনের পাখির কলরব, সমুদ্রের বুনো সৌন্দর্য্য, গাংচিল আর লাল কাকড়ার ছুটে চলা ভ্রমণ পিয়াসী মনকে প্রকৃতির সাথে একাত্ম করে দেয়।

লালন শাহ সেতু
কুষ্টিয়া জেলা থেকে ৩১ কিলোমিটার দূরে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশেই পদ্মা নদীর উপর কুষ্টিয়া ও পাবনা জেলাকে সংযোগকারী লালন শাহ্ সেতু (Lalon Shah Bridge) অবস্থিত। কুষ্টিয়ার বিখ্যাত বাউল সাধক গুরু ফকির লালন সাঁই-এর নামে লালন শাহ্ সেতুর নামকরণ করা হয়েছে। পাকশী সেতু নামেও সুপরিচিত লালন শাহ সেতু বাংলাদেশের বৃহত্তম সড়ক সেতুগুলোর মধ্যে অন্যতম। ৭.৫ মিটার দুই লেন বিশিষ্ট এই সেতুর ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করা হয় ২০০১ সালের ১৩ জানুয়ারিতে এবং ২০০৮ সালের ১৮ মে পূর্নাঙ্গরূপে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়।

লালন শাহের মাজার
ফকির লালন শাহের মাজার (Mausoleum of Lalon Shah) কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলায় অবস্থিত। লালন শাহ এই কুমারখালি উপজেলার ছেউড়িয়াতে তিনি তাঁর শিষ্যদের নীতি ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা দিতেন। তিনি প্রতি শীতকালে আখড়ায় একটি মহোৎসব আয়োজন করতেন। যেখানে সহস্রাধিক শিষ্য একত্রিত হতেন এবং সেখানে সংগীত ও আলোচনা হত। লালন শাহের মৃত্যুর পর এই স্থানটিতেই সমাহিত করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সমাধি স্থলেই এক মিলন ক্ষেত্র বা আখড়া গড়ে ওঠে। এই সমাধি ঘিরে রয়েছে তাঁর শিষ্যদের সারি সারি কবর। ফকির লালন শাহের শিষ্য এবং দেশ বিদেশের অগনিত বাউলকুল এই আখড়াতেই বিশেষ তিথিতে সমবেত হয়ে উৎসবে মেতে উঠে।