দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির
মেহেরপুর জেলা সদরের কাছে বড় বাজারে প্রাচীন আমলের শ্রী শ্রী সিদ্ধেশরী কালী মন্দির (Sree Sree Siddheshwari Kali Mandir) অবস্থিত। স্থানীয় হিন্দুদের কাছে এটি জেলা কেন্দ্রীয় মন্দির হিসেবে পরিচিত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা এই মন্দির আক্রমণ করে মন্দিরের ভিতরের বালা দেবীর বিগ্রহটি গুড়িয়ে দেয়। স্বাধীনতার পর স্থানীয় হিন্দুরা পুনরায় মন্দিরের অভ্যন্তরে মূর্তি স্থাপন করে নিয়মিত পূজা অর্চনা শুরু করেন। প্রতি বছরই এই কালী মন্দিরে কালী পূজা, দূর্গা পূজা ও সরস্বতী পূজাসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। বৈশাখ মাসের শেষ সংক্রান্তিতে শ্রী শ্রী সিদ্ধেশরী কালী মন্দিরকে ঘিরে বৈশাখ সংক্রান্তির মেলা বসে। সেসময় সারাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য আগ্রহী দর্শনার্থীরা মেলা দেখতে আসেন।

জগদীশ চন্দ্র বসু স্মৃতি জাদুঘর
রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৩২ কিলোমিটার দূরে মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলায় জগদীশ চন্দ্র বসুর পৈতৃক বসতবাড়িকে ঘিরে জগদীশ চন্দ্র বসু স্মৃতি জাদুঘর কমপ্লেক্সটিকে সাজানো হয়েছে। প্রায় ৩০ একর আয়তনের এই বাড়িতে অসংখ্য বৃক্ষরাজির ছায়াময় প্রকৃতির মাঝে বিভিন্ন পশুপাখির ম্যুরাল, কৃত্রিম পাহাড়-ঝরনা, শান বাঁধানো পুকুর ঘাট এবং দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য ত্রিকোণাকৃতির ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে মোট ছয়টি বৃহৎ জলাশয়, যা পুরো পরিবেশকে বিশেষভাবে মনোরম করে তুলেছে। ছয় কক্ষবিশিষ্ট পৈতৃক বাড়িটির একটি কক্ষকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে। জগদীশ চন্দ্র বসু স্মৃতি জাদুঘরে জগদীশ চন্দ্র বসুর পোর্ট্রেট, বিভিন্ন গবেষণাপত্র, হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল প্রাপ্তিতে লেখা চিঠি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাঠানো চিঠি এবং ১৭টি দুর্লভ ছবি প্রদর্শনের জন্য রাখা আছে। এছাড়া একটি ফ্ল্যাট স্ক্রিন টেলিভিশনে অডিও-ভিজুয়াল উপস্থাপনার মাধ্যমে তাঁর জীবন, গবেষণা ও অবদান সম্পর্কে দর্শনার্থীদের জানার সুযোগ রয়েছে।

সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক
সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক (Sitakunda Eco Park) চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যা বর্তমানে অসাধারণ এক পর্যটন স্থান হিসাবে বেবেচিত হচ্ছে। এখানে সহস্র ধারা এবং সুপ্তধারা নামে দুইটি অনিন্দ্য সুন্দর ঝর্ণা রয়েছে। এছাড়া সীতাকুণ্ড ইকো পার্কে রয়েছে অসংখ্য দুর্লভ প্রজাতির গাছ যা বৃক্ষ বিষয়ক জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়ক। বোটানিক্যাল গার্ডেনে রয়েছে অর্কিড হাউস, যেখানে প্রায় ৫০ ধরনের দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড সংরক্ষিত রয়েছে।

সোনাদিয়া দ্বীপ
কক্সবাজারের মহেশখালি উপজেলার ৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট সোনাদিয়া দ্বীপ (Sonadia Island) এডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের জন্যে ক্যাম্পিং করার একটি আদর্শ জায়গা।

সোনাইছড়ি ট্রেইল
চট্টগ্রামের বারৈয়াঢালা অভয়ারণ্যের অন্তর্ভুক্ত মীরসরাইয়ের হাদি ফকিরহাট বাজার সংলগ্ন সোনাইছড়ি ট্রেইল (Sonaichhari Trail) ডে ট্রিপের জন্য একটি আদর্শ জায়গা। চট্টগ্রামের সবচেয়ে সুন্দর সোনাইছড়ি ট্রেইলের বৈচিত্র্যময় বুনো পাথুরে সৌন্দর্য অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের অদ্ভুত মায়ায় আকর্ষণ করে।

সোনাইমুড়ি টেক
নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার বাগাঘ ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়ায় লালমাটির শহর সোনাইমুড়ি টেক (Sonaimuri Tek) অবস্থিত । লাল মাটির পাহাড়ি টিলা, সমতল ভূমির বসতবাড়ি, পাখির কল-কাকলী ও অপার সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ সোনাইমুড়ি বিনোদন পার্কে ছুটির দিনগুলোতে থাকে উপচে পড়া ভিড়।

সোনাকান্দা দুর্গ
নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বদিকে অবস্থিত প্রাচীন এক জল দুর্গের নাম সোনাকান্দা দুর্গ (Sonakanda Fort)। ধারণা করা হয়, ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন বাংলা সুবেদার মীর জুমলা বাংলার গুরত্বপূর্ণ শহর গুলোতে জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে রক্ষার উদ্যেশ্যে ঢাকার কাছাকাছি যে তিনটি জল দুর্গ নির্মাণ করেন তাদের মধ্যে সোনাকান্দা কেল্লা অন্যতম। বাংলার বার ভূঁইয়ার অন্যতম বীর ঈশা খাঁ তৎকালীন সময়ে এই দুর্গ ব্যবহার করতেন।

সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্ট
সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্ট (Sonargaon Royal Resort) ঢাকা জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জ এর সোনারগাঁও উপজেলার খাস নগর দিঘীরপাড় এলাকায় অবস্থিত। যারা দূর-দূরান্ত থেকে সোনারগাঁও মিউজিয়াম, পানাম নগর এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় স্থান দেখতে আসেন থাকার জন্য সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্ট অন্যতম সেরা জায়গা। রিসোর্টটি খুব বড় না হলেও সাজানো গোছানো। রিসোর্ট প্রাঙ্গনে একটি ছোট সুইমিং পুল রয়েছে। রিসোর্ট এর ছাদের বারান্দা থেকে একটি বিশাল হ্রদ এবং সবুজ প্রান্তর দেখা যায়। রিসোর্টের আবাসিক ভবনগুলির স্থাপত্যশৈলী আলাদাভাবে সকলের নজর কারে। রিসোর্টটিতে পাঁচ ধরনের রুম এবং স্যুট রয়েছে, পাশাপাশি বিলিয়ার্ড, সকার এবং অন্যান্য ইনডোর গেমের সুবিধা রয়েছে। রিসোর্ট থেকে হেঁটে সোনারগাঁও জাদুঘর, পানাম নগর, হাসনগর দিঘী, গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ মন্দির ও মেঘনা নদীতে যাওয়া যায়। সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে দুটি কনভেনশন হলে ব্যবসায়িক ও সামাজিক অনুষ্ঠান করার ব্যবস্থা আছে।

সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা
সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণার স্থানীয় নাম মায়াবী ঝর্ণা। জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে ভারতের সীমান্তে অবস্থিত মায়াবী ঝর্ণাতে যেতে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। বিএসএফের প্রহরায় বাংলাদেশীরা সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা (Songrampunji Waterfall) দেখতে যেতে পারে। পাহাড়ের গা বেয়ে ঝরনার জল জমে পুকুরের মতো সৃষ্টি হয়েছে। এই ঝর্ণার রয়েছে মোট তিনটি ধাপ। ভ্রমণ পাগল মানুষদের জন্য আদর্শ অ্যাডভেঞ্চারের জায়গা হল সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা। ঝর্ণার তৃতীয় ধাপে রয়েছে একটি সুড়ঙ্গ, আর সুড়ঙ্গ পথের শেষ এখন পর্যন্ত অজানা। পিচ্ছিল পাথুরে পথ পেরিয়ে ঝর্ণার সবগুলো ধাপ দেখতে চাইলে অবশ্যই সাহস এবং বাড়তি সতর্কতা জরুরী।

শ্রীফলতলী জমিদার বাড়ি
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরের শ্রীফলতলী গ্রামে শ্রীফলতলী জমিদার বাড়ি (Shreefaltali Court Of Estate) অবস্থিত। রহিম নেওয়াজ খান চৌধুরীর মাধ্যমে এই জমিদার বাড়ির গোড়াপত্তন ঘটে। রহিম নেওয়াজ খানের পিতা খোদা নেওয়াজ খান শ্রীফলতলী জমিদার এস্টেটের কর্ণধার ছিলেন। শ্রীফলতলী জমিদার বাড়িটি জমিদারী পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হত। রহিম নেওয়াজ খানের প্রচেষ্টার ফলে প্রায় ১০০ বছর আগে কালিয়াকৈর থানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

শ্রীপুর জমিদার বাড়ি
মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে রয়েছে পাল রাজার রাজপ্রাসাদের ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন তথা শ্রীপুর জমিদার বাড়ি (Sreepur Zamindar Bari)। শ্রীপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সারদারঞ্জন পাল চৌধুরী জমিদারী প্রতিষ্ঠা করেন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৫০০ শতাব্দীতে সারদারঞ্জন পাল চৌধুরী নবাব আলীবর্দী খাঁর কাছ থেকে এই জমিদারী কিনে নেন।

কালভৈরব মন্দির
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলায় অবস্থিত কালভৈরব মন্দির (Sri Sri Kal Bhairab Temple) এক ঐতিহাসিক স্থাপনার নাম। তিতাস নদীর কূল ঘেঁষা ব্রাহ্মণবাড়ীয়া শহরের মেড্ডা এলাকায় ৩০০ বছরের পুরনো হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম এই তীর্থক্ষেত্রের অবস্থান। হিন্দু দেবতা শ্রী শ্রী কালভৈরবের মূর্তি এই মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ। ১৯০৫ সালে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ২৮ ফুট উচ্চতার কালভৈরব বা শিব মূর্তি ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বাধিক উচ্চতার মূর্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। বিশালাকার মূর্তির ডান দিকে কালী এবং বাম দিকে দেবী পার্বতীর প্রতিমা রয়েছে। সরাইলের বিখ্যাত জমিদার নূর মোহাম্মদ কালভৈরব মন্দিরের জমি দান করেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
রাজধানী ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (Suhrawardy Udyan) বাংলাদেশের অন্যতম একটি ঐতিহাসিক স্থান। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নিরব সাক্ষী সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অতীতে রমনা রেসকোর্স ময়দান নামে পরিচিত ছিল। এক সময় এখানে ঘোড়দৌড়ের আয়োজন করা হলেও বর্তমানে বিভিন্ন সবুজ বৃক্ষের সুশীতল ছায়াঘেরা স্থান হিসাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সর্বজন স্বীকৃত।

সুজাবাদ কেল্লা
সুজাবাদ কেল্লা (Sujabad Kella) ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দুই নং মগর ইউনিয়ন সুজাবাদ গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। বাংলার সুবেদার মোঘল সম্রাট শাজাহানের পুত্র শাহজাদা সুজা এই কেল্লা নির্মাণ করেন। মোগল শাসনামলের শেষভাগে ঝালকাঠি অঞ্চল মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের লুণ্ঠনের প্রধানক্ষেত্রে পরিণত হয়। জলদস্যুদের শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে বাংলার সুবেদার পুত্র শাহজাদা সুজা ১৬৫৪ সালে সুজাবাদ গ্রামের প্রবর্তন করে এখানে দুইটি কেল্লা নির্মাণ করেন। দুইটি কেল্লার একটি ছিল মাটি এবং অন্যটি ইটের তৈরি। যা তৎকালীন সময়ে অন্দর ও বাহির কেল্লা নামে পরিচিতি লাভ করে।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি
মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে দুই বাংলার প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈত্রিক বাড়ি (Sunil Gangopadhyay Father’s House) অবস্থিত। বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে আবির্ভূত এই বাঙ্গালী সাহিত্যিক একাধারে কবি, ছোট গল্পকার, সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট হিসেবে পরিচিত ছিলেন। লেখকের প্রতি জন্মবার্ষিকীতে তার পৈত্রিকবাড়িতে দুই বাংলার উদ্যোগে বই মেলার পাশাপাশি পাহাড়ি নৃত্য, লালন ও পল্লীগীতির মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমন্বয়ে সুনীল মেলায় আয়োজন করা হয়।

সুপ্তধারা ঝর্ণা
পার্বত্য চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড (Sitakunda) উপজেলায় চন্দ্রনাথ রির্জাভ ফরেস্টের চিরসবুজ বনাঞ্চলের ইকোপার্কে শোভাবর্ধন অনন্য প্রাকৃতিক সুপ্তধারা ঝর্ণা (Suptadhara Waterfall)। সাধারণত বর্ষার মৌসুম ছাড়া সারাবছর এই ঝর্ণায় পানি বেশ কম থাকে। তবে বর্ষাকালে সুপ্তধারা ঝর্ণা নিজেকে পূর্ণরূপে মিলে ধরে। সুপ্তধারা ঝর্ণার কাছেই সহস্রধারা ঝর্ণা নামে আরো একটি জলপ্রপাত রয়েছে। তাই ভরা বর্ষায় ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী সুপ্তধারা ঝর্ণা দেখতে সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক এসে ভীড় করেন।