দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদ
রাজা সীতারামের রাজপ্রাসাদ (Raja Sitaram Rajprasad) মাগুরা শহর হতে ১০ মাইল দূরে মহম্মদপুর উপজেলায় অবস্থিত। তৎকালীন সময়ে মহম্মদপুর উপজেলা রাজা সীতারামের রাজধানী ছিল। ১৬৫৮ খ্রীষ্টাব্দে জন্মগ্রহণকারী সীতারামের আদিনিবাস বীরভূম জেলায় এবং তিনি উত্তর রাঢ়ীয় কায়স্থ ছিলেন। রাজা সীতারামের পিতা উদয় নারায়ণ কর্মদক্ষতায় ভূষণা পরগণায় তহশিলদার পদে নিযুক্ত হন। আর ধীরে ধীরে উদয় নারায়ণ তালুক বৃদ্ধি করে রাজায় পরিণত হন, যার কীর্তি মহম্মদপুরে এখনো বিদ্যমান।

রাজবন বিহার
বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বৃহত্তম বিহার রাজবন বিহার ( Rajban Bihar ) রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত। রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হলো এই রাজবন বিহার। চিন্তাপ্রচারক ও ধর্ম-দার্শনিক বৌদ্ধধর্মীয় নেতা শ্রদ্ধেয় সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে ১৯৭৭ সালে স্থায়ভাবে বসবাসের জন্যে রাঙ্গামাটিতে আসেন। বনভান্ত ও তাঁর শিষ্যদের বসবাসের জন্যে এই বিহারটি নির্মান করা হয়। বৌদ্ধদের জন্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এই বিহার বর্তমানে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান হিসেবে পরিণত হয়েছে। শুধু বৌদ্ধ ধর্মাম্বলীদের জন্যে নয় পার্বত্য অঞ্চলের এই ধর্মজ্ঞানচর্চাকেন্দ্রটি দুনিয়ার সব প্রকৃতিপ্রেমী, সৌন্দর্যঘনিষ্ট ও জ্ঞানসাধক মানুষের জন্যেই। ভ্রমণে এই বিহার ঘুরে দেখার আনন্দের সাথে খুব সহজেই যুক্ত হবে জানার নতুন ভুবন। সাংস্কৃতিক ভাব বিনিময়ের সাথে মিলবে ধর্মচিন্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বোধের সুযোগ।

রামগোপালপুর জমিদার বাড়ি
রামগোপালপুরের জমিদার যোগেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর পুত্র শৌরীন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী ১২৯৩ বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। শৌরীন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী গৌরীপুর ও তৎসন্নিহিত এলাকার জমিদারদের ইতিহাস নিয়ে ‘বারেন্দ্রবাহ্মণ জমিদার’ নামক গ্রন্থ রচনা করে সুনাম অর্জন করেন। ধারণা করা হয়, ১৮৫০ শতকে রামগোপালপুর জমিদার বাড়ি (Ramgopalpur Zamidar Bari) নির্মাণ করা হয়েছিল। যদিও রামগোপালপুর জমিদার বংশের মূল প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। গৌরীপুরের জমিদারির বয়স প্রায় দেড়শ বছর হলেও ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাজনের সময় গৌরীপুরের অধিকাংশ জমিদার দেশ ত্যাগ করেন। ফলে কালের বিবর্তণে পরিচর্যার অভাবে রামগোপালপুর জমিদার বাড়ির ঐতিহ্যও বিলুপ্তির পথে।

রমনা পার্ক
রমনা পার্ক (Ramna Park) বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র রমনা এলাকায় অবস্থিত সুনিবিড় ছায়া ঘেরা পরিবেশের একটি মনোরম উদ্যান। প্রতিষ্ঠার সময় অর্থাৎ ১৬১০ সালে রমনা পার্কটি পুরানো হাইকোর্ট ভবন থেকে বর্তমান সড়ক ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। কালের বিবর্তনে বর্তমানে এর আয়তন দাঁড়িয়েছে ৬৮.৫০ একরে। প্রতি বছর ছায়ানটের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রমনা পার্কের বটমূলে পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যা বাঙালির সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রানা রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক
রানা রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক (Rana Resort & Amusement Park) দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার খুলনা জেলায় অবস্থিত একটি আধুনিক ও নয়নাভিরাম বিনোদন কেন্দ্র। খুলনা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বটিয়াঘাটা উপজেলার বরুণপাড়ায়, পশুর নদীর তীরে ৯.২৫ একর জায়গা জুড়ে এই বিশাল পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। ওয়েস্টার্ন গ্রুপের চেয়ারম্যান এ.এস.এম আলাউদ্দিন ভূঁইয়া তার অকালপ্রয়াত ছেলে ইমরান উদ্দিন রানার স্মৃতি রক্ষার্থে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য এই বিশেষ স্থাপনাটি নির্মাণ করেছেন।

রানী ভবানীর বাপের বাড়ি
বগুড়া জেলার সান্তাহারের ছাতিয়ানগ্রামে রানী ভবানীর জন্মগ্রহণ করেন। সংস্কার এবং সংরক্ষণের অভাবে রানী ভবানীর বাপের বাড়ি (Rani Bhabani’s Father House) আজ ধ্বংসের পথে। প্রচলিত আছে সপ্তদশ শতাব্দীতে ছাতিয়ানগ্রামের জমিদার আতারাম চৌধুরী ছিলেন নিঃসন্তান। আতারাম চৌধুরী সন্তান লাভের আশায় বাড়ীর কাছে নির্জন পুকুর পাড়ে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে পূজা-অর্চনা করেন। পরবর্তীতে তার স্ত্রীর গর্ভে ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হলে তার নাম রাখা হয় ভবানী। জমিদার যেস্থানে সাধনা করে সিদ্ধি লাভ করেন সে জায়গাটি সিদ্ধেশ্বরী নামে পরিচিত হয়ে উঠে।

রাণী ভবানী নাটোর রাজবাড়ী
প্রাচীন জনপদ নাটোর জেলায় সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত রাণী ভবানী রাজবাড়ী (Rani Bhawani Rajbari) কে বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৬ সালে রাণী ভবানী কেন্দ্রীয় পার্ক হিসাবে ঘোষনা করে। রাণী ভবানী কেন্দ্রীয় পার্কে রয়েছে ৬ টি দীঘি এবং শ্যামসুন্দর, তারকেশ্বর শিব এবং আনন্দময়ী কালিবাড়ি নামের ৩ টি মন্দির, যেগুলাতে এককালে রাজকীয় ভাবে পূজা – আর্চনার আয়োজন করা হত। রা্ণী ভবানী রাজবাড়ি নাটোর রাজবাড়ি (Natore Rajbari) নামেই অধিক পরিচিত।

রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি
রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি (Rayerkathi Jomidar Bari) পিরোজপুর জেলার অন্যতম একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। জেলা সদর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত রায়েরকাঠী জমিদার বাড়িটি প্রায় তিনশত পঞ্চাশ বছরের পুরোনো। এখানে স্থান পেয়েছে রাজভবন, অতিথিশালা, নহবৎখানা, নাট্যশালা এবং মন্দির। এই জমিদার বাড়িতে ছোট বড় প্রায় দুইশত অট্টালিকা ছিলো। যার মধ্যে ৪০ থেকে ৫০টি বিশালাকৃতির অট্টালিকা শুধুমাত্র রাজবাড়ির শোভাবর্ধনের জন্য তৈরী করা হয়েছিল।

রিভেরি হলিডে রিসোর্ট
ঢাকার কাছে নান্দ্যনিক রিসোর্টের জন্য গাজীপুর জেলার রয়েছে বিশেষ সুখ্যাতি। গাজীপুরের ভাওয়াল বনের চারপাশে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে বেশীরভাগ রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। আর এসব রিসোর্টের জনপ্রিয়তা যেকোন দর্শনীয় ভ্রমণ স্থানের চেয়ে কম নয়। গাজীপুরের সালনায় প্রায় ৩ একর জায়গা জুড়ে প্রকৃতি আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় নির্মিত তেমনি এক রিসোর্টের নাম রিভেরি হলিডে রিসোর্ট (Reverie Holiday Resort)। রিভেরি হলিডে রিসোর্টে ডে আউট, হানিমুন, পিকনিক এবং যেকোন কর্পোরেট বা পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সকল সুবিধা রয়েছে।

ঋজুক ঝর্ণা
বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৬৬ কিলোমিটার এবং রুমা বাজার থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে সাঙ্গু নদীর পাড়ে ঋজুক ঝর্ণা (Rijuk Waterfall) অবস্থিত। নদীপথে রুমা বাজার থেকে থানছি যাওয়ার সময় এই চির তরুণ ঋজুক ঝর্ণার দর্শন মিলে। মার্মা ভাষায় এই ঝর্ণার নাম রী স্বং স্বং। প্রায় ৩০০ ফুট উচু পাহাড় হতে সারা বছর জলধারা বয়ে চলে। আর বর্ষায় স্রোতের তোড় এত বৃদ্ধি পায় যে তখন জলপ্রপাতের কাছে ঘেঁষতে বড় ইঞ্জিনের নৌকা নিয়েও রীতিমত হিমশিম খেতে হয়। বছরজুড়ে বহমান জলের ধারা আর চারপাশের আদিম বুনো সবুজের সৌন্দর্য ঋজুক ঝর্ণাকে দিয়েছে প্রকৃতির এক অপার্থিব নির্মলতা।

রিসাং ঝর্ণা
খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার সাপমারা গ্রামে অপূর্ব সুন্দর রিসাং ঝর্ণার অবস্থান। স্থানীয়দের কাছে রিসাং ঝর্ণা (Risang Jorna) ‘সাপ মারা রিসাং ঝর্ণা’ নামে পরিচিত। মারমা শব্দ রিছাং-এর অর্থ কোন উঁচু স্থান হতে জলরাশি গড়িয়ে পড়া। রিছাং ঝর্ণার অপর নাম তেরাং তৈকালাই। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র হতে এই ঝর্ণার দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। আর খাগড়াছড়ি-ঢাকা সড়ক ধরে ১ কিলোমিটার এগিয়ে গিলেই রিসাং ঝর্ণা দেখতে পাওয়া যায়।

গোলাপ গ্রাম সাদুল্লাহপুর
ঢাকার কাছে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে সাদুল্লাপুর গ্রাম অবস্থিত। তুরাগ নদীর তীরের সাদুল্লাপুর গ্রামটিই বর্তমানে গোলাপ গ্রাম হিসেবে পরিচিত। যান্ত্রিক জীবনে অল্প সময়ের অবসরে যদি ঢাকার আশেপাশে একদিনের জন্য কোথাও ঘুরতে চান তবে গোলাপ ফুলের রাজ্য থেকে ঘুরে আসতে পারেন। নানা রঙের গোলাপ ফুল দিয়ে ঘেরা সমস্ত সাদুল্লাহপুর গ্রামটিকে একটি বাগান মনে হয়। এখানে সাধারণত মিরান্ডি জাতের গোলাপের চাষ বেশি হয়। গ্রামের বুকের উপর দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তার দুপাশের বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান সারাক্ষণ মোহিত করে রাখবে। সাদুল্লাহপুর পুরো গ্রামে আপনি গোলাপের সৌরভ পাবেন।

রুদ্রকর মঠ
শরীয়তপুর জেলায় অবস্থিত এক ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের নাম রুদ্রকর মঠ (Rudrakar Moth)। শরীয়তপুর জেলার একমাত্র মঠ রুদ্রকর মূলত একটি মন্দির। ধারণা করা হয়, নবাব আলীবর্দী খানের আমল অর্থাৎ ১৩০৫ থেকে ১৩১৫ বঙ্গাব্দে তৎকালীন জমিদার বাবু গুরুচরণ চক্রবর্তী মা রাশমণি দেবীর সমাধিকে অমর করে রাখার জন্য এই মন্দির নির্মাণ করেন। ১৮৯৮ সালে অনুপম স্থাপত্যশৈলীর এই মঠটি পূণনির্মাণ করা হয়।

রূপবান মুড়া
কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে কোটবাড়িতে অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার নাম রূপবান মুড়া (Rupban Mura)। ৯০ দশকে কুমিল্লা-কালিবাজার সড়কের কাছে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের এক অন্যতম এই নিদর্শনটি খনন করা হয়। কথিত আছে, রহিম ও রূপবানের ভালোবাসার এক অন্যতম নিদর্শন এই স্থান। তাদের অসম প্রেমের নানা ঘটনা ও কাহিনী রয়েছে সবুজ প্রকৃতির মাঝে গড়ে উঠা এই ঐতিহাসিক স্থানকে ঘিরে।

সাইরু হিল রিসোর্ট
সাইরু হিল রিসোর্ট ( Sairu Hill Resort ), অবস্থান ও সৌন্দর্যের কথা চিন্তা করলে বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর রিসোর্ট গুলোর একটি। বান্দরবান শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে বান্দরবান-থানচি সড়কের চিম্বুক পাহড়ের আগে এর অবস্থান। প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচু পাহাড় চূড়ায় নান্দনিক ডিজাইন, প্রকৃতির ছায়ায় সাজানো গুছানো পরিবেশ, চারপাশের সবুজ পাহাড় সারি, চোখের সামনে মেঘেদের আনাঘোনা, প্যানোরোমিক ভিউ এই সব কিছু আপনার সময়টুকু উপভোগ্য করে তুলবে। অত্যাধুনিক বিলাশবহুল এই রিসোর্টে আছে সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা। আছে সুন্দর এক সুইমিংপুল। পরিবার, কাপল কিংবা হানিমুনের জন্যে আদর্শ হতে পারে সাইরু হিল রিসোর্ট।

সন্দ্বীপ
সন্দ্বীপ (Sandwip) বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে চট্টগ্রাম জেলার মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত দ্বীপ উপজেলা। প্রায় ৪ লাখ জনসংখ্যার এই দ্বীপ ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৫-১৫ কিলোমিটার প্রশস্ত। অবারিত সবুজ মাঠ, নদীর বুকে জেগে উঠা চর কিংবা সহজ সরল মানুষ এক কথায় এই দ্বীপের সবকিছুই ভালো লাগার মত। এছাড়াও দ্বীপে দেখার মত ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন স্থান রয়েছে। সাগর নদী পরিবেষ্টিত এই দ্বীপে ভ্রমণ সারা জীবন মনে রাখার মত। আর শীতের সময় ক্যাম্পিং করার জন্যে সন্দ্বীপের পশ্চিম দিকে (রহমতপুর) নদী পাড় হচ্ছে আদর্শ জায়গা। এখানকার চারপাশ আপনাকে মুগ্ধ করবেই।