দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

পাঁঁচগাও
নেত্রকোণা জেলার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে অবস্থিত পাঁচগাঁও (Pachgaon) গ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি পাহাড়ি এলাকা। পাঁচগাঁও বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর গ্রাম। এখানকার চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড় স্থানীয়দের কাছে পাঁচগাঁও টিলা বা কলমাকান্দার পাহাড় নামেও পরিচিত।

পদ্মা লাক্সারি রিসোর্ট
ঢাকার কাছেই মুন্সিগঞ্জ জেলার পদ্মা পাড়ের নয়নাভিরাম পদ্মা লাক্সারি রিসোর্ট (Padma Luxury Resort) অবস্থিত।পদ্মা লাক্সারি রিসোর্ট ঢাকার নিকটবর্তী মাওয়া ঘাটের কাছে পদ্মা নদীর তীরে একটি সুন্দর দর্শনীয় স্থান। পদ্মা লাক্সারি রিসোর্ট পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের নিয়ে ঢাকার কাছে স্বল্প সময়ের ভ্রমণের জন্য আদর্শ গন্তব্য। ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় এখানে সহজে পৌঁছানো যায় বলে সবসময়ই পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকে।

পাগলা বড় জামে মসজিদ
সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজার নামক স্থানে মহাসিং নদীর তীরে শতবর্ষ পুরনো স্থাপত্য নিদর্শন পাগলা বড় জামে মসজিদ (Pagla Jame Masjid) অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এটি রায়পুর বড় জামে মসজিদ নামে পরিচিত। ১৯৩১ সালে স্থানীয় ব্যবসায়ী ইয়াসীন মির্জা ভারত থেকে দক্ষ স্থপতি মুমিন আস্তাগারের মধ্যমে পাগলা বড় জামে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৩৩১ বঙ্গাব্দের ৫ই আশ্বিন শুক্রবার মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। টানা দশ বছর কাজ চলার পর মসজিদটি বর্তমান রুপ লাভ করে। দ্বিতল এই মসজিদের মসজিদের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিটার। মসজিদের ছাদের ২৫ ফুট উচ্চতার ৩টি গম্বুজ ও ৬টি সুউচ্চ মিনার রয়েছে।

পাকুল্লা মসজিদ
টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার পালপাড়ায় পাকুল্লা বাজারের কাছে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট পাকুল্লা মসজিদ (Pakulla Jame Masjid) অবস্থিত। আনুমানিক ১৭শ শতকের শুরুর দিকে নির্মিত আয়তাকৃতির পাকুল্লা মসজিদের দৈর্ঘ্য ১৪.৭৭ মিটার, প্রস্থ ৫.৮৫ মিটার এবং মসজিদের দেয়ালগুলো ১.২৫ মিটার পুরু। পাকুল্লা মসজিদের সাথে দিল্লির আওরঙ্গজেবের মতি মসজিদ, বর্ধমানে খাজা আনোয়ার শহীদের সমাধি এবং ঢাকার কাজী খাজা শাহবাজের মসজিদের সাদৃশ্য রয়েছে।

পীরগাছা রাবার বাগান
১৯৮৬ সালে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরের পীরগাছায় অপরূপ প্রকৃতির মেলবন্ধনে গড়ে তোলা হয়েছে পীরগাছা রাবার বাগান (Pirgachha Rubber Garden)। এখানে তিন হাজার একর জায়গা জুড়ে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার রাবার গাছ রয়েছে। অল্প সময়ের অবসরে যেকেউ ঢাকার কাছে পীরগাছা রাবার বাগান ঘুরে দেখে যেতে পারেন।

কবি চন্দ্রাবতী মন্দির
কবি চন্দ্রাবতী বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি হিসাবে স্বীকৃত। চন্দ্রাবতী ১৫৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা দ্বিজবংশী দাশ বিখ্যাত কাব্য ‘মনসা মঙ্গল’ এর রচয়িতা এবং কবির মায়ের নাম সুলোচনা। কিশোরগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে পাতোয়াইর গ্রামের ফুলেশ্বরী নদীর পাশে কারুকার্য মন্ডিত দুটি শিবমন্দির রয়েছে। এই মন্দিরই কবি চন্দ্রাবতী শিব মন্দির বা কবি চন্দ্রাবতী মন্দির হিসাবে খ্যাত। ধারণা করা হয় এই মন্দিরগুলোর সাথে কবির জীবনের বিভিন্ন ঘটনার অনেক সম্পৃক্ততা রয়েছে। মন্দিরের কাছেই দর্শনার্থীদের বসার জন্য ব্যবস্থা করা রয়েছে। প্রতিদিন বিকালবেলা ও বিভিন্ন ছুটির দিনে অনেক মানুষ কবি চন্দ্রাবতী মন্দির দেখতে আসেন। মন্দিরের পাশেই রয়েছে কবি চন্দ্রাবতীর প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি। চন্দ্রাবতী মন্দির নিয়ে ভিডিও চিত্র দেখতে এইখানে ক্লিক করুন।

পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি
শেরপুর জেলা সদরে অবস্থিত জমিদার সতেন্দ্র মোহন চৌধুরী ও জ্ঞানেন্দ্র মোহন চৌধুরীর বাড়িটি পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি (Pone Ten Ani Jamidar Bari) হিসাবে সুপরিচিত। গ্রিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই বাড়িটি অন্যান্য জমিদার বাড়ি থেকে আলাদা। যদিও কালের বিবর্তনে জমিদার বাড়ির অনেক সৌন্দর্যই ম্লান হয়ে গিয়েছে তবে জমিদার বাড়ির চমৎকার নকশাকৃত দৃষ্টিনন্দন স্তম্ভগুলো আজো জমিদারী আমলের ঐতিহ্য বহন করে চলছে। স্তম্ভগুলো চতুষ্কোণ বিশিষ্ট এবং এতে বর্গাকৃতির ফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে।

পোড়াদহ মেলা
বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার ইছামতি নদী তীরবর্তী পোড়াদহ নামক স্থানে প্রতিবছর এক ঐতিহ্যবাহী লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়। প্রায় ৪০০ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে আয়োজিত প্রাচীন এই মেলাটি পোড়াদহ মেলা (Poradaha Mela) নামে পরিচিত। বগুড়া শহর থেকে পোড়াদহ মেলা প্রাঙ্গণের দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার।

রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে রায়পুর উপজেলায় বাংলাদেশের বৃহত্তম ও এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (Raipur Fish Hatchery and Training Centre) অবস্থিত। ১৯৭৯ সালে দেশের প্রধান খালগুলোতে মাছের পোনা ও রেনু চাষ এবং সরবারহের লক্ষ্যে রায়পুরে এই মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে রায়পুর মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রে কৃত্রিম মৎস্য প্রজনন শুরু করা হয় এবং ১৯৯২ সাল থেকে কেন্দ্রটি বানিজ্যকভাবে মাছ উৎপাদন শুরু করে। ১৯৭৯-১৯৯২ সাল পর্যন্ত এই কেন্দ্রটি ড্যানিশ উন্নয়ন সংস্থা ড্যানিডা কর্তৃক নোয়াখালী আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে জেলার বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে মৎস্য বিভাগের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দেশের তিনটি মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের মধ্যে রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অন্যতম।

রাজাঝির দীঘি
ফেনী শহরের জিরো পয়েন্টে ঐতিহাসিক রাজাঝির দীঘি (Rajajhir Dhigi) অবস্থিত। প্রচলিত আছে, প্রায় সাতশত বছর আগে ত্রিপুরা রাজ্যের এক প্রভাবশালী রাজার কন্যার অন্ধত্ব দূরীকরণের উদ্দেশ্যে এই দীঘি খনন করা হয়। ফেনী অঞ্চলের মানুষ কন্যাকে আঞ্চলিক ভাষায় ঝি বলে থাকে। ফলে দীঘিটি খননের পর থেকেই রাজাঝির দীঘি বা রাজনন্দিনীর দীঘি নামে পরিচিত হয়ে উঠে।

রিভেরি হলিডে রিসোর্ট
ঢাকার কাছে নান্দ্যনিক রিসোর্টের জন্য গাজীপুর জেলার রয়েছে বিশেষ সুখ্যাতি। গাজীপুরের ভাওয়াল বনের চারপাশে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে বেশীরভাগ রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। আর এসব রিসোর্টের জনপ্রিয়তা যেকোন দর্শনীয় ভ্রমণ স্থানের চেয়ে কম নয়। গাজীপুরের সালনায় প্রায় ৩ একর জায়গা জুড়ে প্রকৃতি আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় নির্মিত তেমনি এক রিসোর্টের নাম রিভেরি হলিডে রিসোর্ট (Reverie Holiday Resort)। রিভেরি হলিডে রিসোর্টে ডে আউট, হানিমুন, পিকনিক এবং যেকোন কর্পোরেট বা পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সকল সুবিধা রয়েছে।

সাগরদীঘি
টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার পূর্বে ঐতিহাসিক সাগরদীঘি (Sagardighi) অবস্থিত। প্রায় ১৩ একর জায়গা জুড়ে পাল আমলের সাগর রাজার নেতৃত্বে এই বিখ্যাত দীঘিটি খনন করা হয়। সাগরদীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এলাকার পূর্ব নাম “লোহিনি” হলেও বর্তমানে এটি সাগরদীঘি নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

শংকরপাশা শাহী মসজিদ
হবিগঞ্জ জেলার রাজিউড়া ইউনিয়নে পঞ্চাদশ শতাব্দীর প্রাচীন শংকরপাশা শাহী মসজিদ (Sankarpasha Shahi Masjid) অবস্থিত। সুলতানী আমলের অন্যতম নিদর্শন এই মসজিদ তৈরীতে পোড়ামাটির ইট ব্যবহার করা হয়েছে। প্রায় ৬ একর জায়গা জুড়ে একটি টিলার উপর স্থাপিত লাল রঙের শংকরপাশা শাহী মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে লাল টিলা মসজিদ হিসেবেও সুপরিচিত। ১৫১৩ সালে বিখ্যাত সুফি দরবেশ শাহ মজলিস আমিন (রা.) এই মসজিদের নির্মাণ শুরু করেলেও পরবর্তীতে মুসলিম স্বনামধন্য শাসনকর্তা সুলতান আলাউদ্দিন হোসাইন শাহের আমলে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

শালবন বৌদ্ধ বিহার
শালবন বৌদ্ধ বিহার (Shalbon Buddha Bihar) কুমিল্লা জেলার কোটবাড়িতে অবস্থিত, যা বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন হিসাবে সুপরিচিত। তৎকালীন সময় এই অঞ্চলে শাল ও গজারির বন ছিল বলে বিহারটি শালবন বিহার নামে পরিচিতি লাভ করে। শালবন বিহারটি অনেকটা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মতো তবে আকারের দিক দিয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার থেকে কিছুটা ছোট। কোটবাড়ি এলাকায় ১৮৭৫ সালে রাস্তা তৈরির সময় একটি ইমারতের ধ্বংশাবশেষ সকলে প্রত্যক্ষ করেন। তখন এটিকে প্রাচীন দূর্গের অংশ হিসাবে ধারণা করা হচ্ছিল। ১৯১৭ সালে ঢাকা জাদুঘরের অধ্যক্ষ নলিনী কান্ত ভট্টাশালী শালবন বৌদ্ধ বিহারটিকে পর্যবেক্ষন করে পট্টিকেরা নগর বলে মতামত পোষণ করেন। তবে ধারণা করা হয় এই বিহারটি ৭ম শতাব্দীর শেষ সময়ে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব নির্মাণ করেন। বিভিন্ন সময় শালবন বিহারের ছয়টি স্থাপনা নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণের কথা জানা যায়। মনে করা হয়, ৮ম শতাব্দীর মধ্যে ৩য় বারের মত কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণ ও বিহারের সার্বিক সংস্কার হয়। পর্যায়ক্রমে ৮ম ও ৯ম শতাব্দীতে ৪র্থ ও ৫ম বারের মত বিহারটি সংস্কার করা হয়।

শামলাপুর সমুদ্র সৈকত
শামলাপুর সমুদ্র সৈকত দেখতে হলে টেকনাফের কাছে বাহারছড়া ইউনিয়নে যেতে হবে। সবুজ ঝাউবন, মাছ ধরার নৌকা এবং জেলেদের ব্যস্ততা ছাড়া এখানে তেমন মানুষজনের দেখা মিলে না। আর এই নির্জনতাই ভ্রমণপ্রিয় মানুষকে শামলাপুর সমুদ্র সৈকতের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে। দৃষ্টিনন্দন এই সমুদ্র সৈকতটি বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত নামেও পরিচিত।

শমসের গাজীর দিঘী
ফেনী জেলা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে চম্পকনগরে শমসের গাজীর দীঘি (Shamsher Gazi Pond) অবস্থিত। নবাব সিরাজদৌল্লার আমলে “ভাঁটির বাঘ” হিসেবে পরিচিত শমসের গাজী ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা, ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী নেতা ও ত্রিপুরার রোশনাবাদ পরগণার কৃষক বিদ্রোহের নায়ক। তৎকালীন সময়ে অত্র অঞ্চলে বসবাসরত জনগণের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার জন্য তিনি বেশকিছু দীঘি খনন করেন, যার মধ্যে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের শমসের গাজীর দীঘি অন্যতম।