দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

বালিয়াডাঙ্গী সূর্য্যপূরী আমগাছ
ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণ মারি সীমান্তের মন্ডু মালা গ্রামে এমন ব্যতিক্রমী এক প্রাচীন আম গাছ রয়েছে যা দেখার জন্য মানুষের মধ্যে রয়েছে বিশেষ আগ্রহ। বালিয়াডাঙ্গী সূর্য্যপূরী আমগাছ (Surjapuri Mango Tree) নামে পরিচিত প্রায় ২০০ বছরেরও পুরনো এই আম গাছটি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ২.৫ বিঘা জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। ফলে এটি এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় আম গাছের স্বীকৃতি পেয়েছে।

ভাগ্যকুলের মিষ্টি
মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল বাজার সুস্বাদু মিষ্টি ও ঘোলের জন্য সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে সুপরিচিত। আদি ও আসল স্বাদের সন্দেশ, ছানা, চমচমের মত বিভিন্ন মিষ্টান্ন খেতে চাইলে ভাগ্যকুল এক স্বর্গীয় স্থান। রকমারি মিষ্টির বাহার নিয়ে ভাগ্যকুলের বিভিন্ন মিষ্টান্ন ভান্ডারগুলো যেন আপ্যায়নের পসরা সাজিয়ে বসে আছে। এদের মধ্যে গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এবং চিত্তরঞ্জন মিষ্টান্ন ভান্ডার অতুলনীয় স্বাদের মিষ্টি ও ঘোলের জন্য সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। যদিও ভাগ্যকুলের সকল দোকানেরই রয়েছে সমান সুনাম।

টেগর লজ
কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়ায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিমাখা লাল রঙের দোতলা কারুকার্যখচিত ‘টেগর লজ বা ঠাকুর লজ’ অবস্থিত। ১৮৯৫ সালে কবিগুরু টেগর এন্ড কোম্পানির ব্যবসায়িক কাজে কুষ্টিয়ায় এসে বর্তমান কালের সাক্ষী এই টেগর লজ (Tagore Lodge) ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন।

তালুকদার বাড়ী
ভোলা জেলা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নে ঐতিহাসিক তালুকদার জমিদার বাড়ি অবস্থিত। স্থানীয়দের কাছে বাড়ীটি দেউলা জিন্নাতুল্লা তালুকদার বাড়ি (Talukder Bari) হিসেবে সুপরিচিত। প্রায় ১৮০ বছর পূর্বে ভোলার ২৭টি মৌজার অধিকারী জমিদার বোরহানউদ্দিন এই বাড়িটি নির্মাণ করেন।

তামাবিল
সবুজ পাহাড় আর টিলায় ঘেরা সিলেট জেলা প্রকৃতির রূপে অনন্য। সিলেটের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেটকে সুন্দরী শ্রীভূমি আখ্যা দিয়েছিলেন। সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত তেমনি এক স্থানের নাম তামাবিল (Tamabil)। সিলেট-জাফলং রোড ধরে এগিয়ে যেতে থাকলে জাফলংয়ের ৫ কিলোমিটার পুর্বে তামাবিলের দেখা মিলবে। সিলেট জেলা থেকে তামাবিলের দূরত্ব প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। তামাবিল মূলত বাংলাদেশের সিলেট এবং ভারতের শিলং মধ্যকার সীমান্ত সড়কের একটি চৌকি।

তাড়াশ রাজবাড়ী
পাবনা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বনমালী রায় বাহাদুরের তাড়াশ রাজবাড়ী (Tarash Rajbari) এই অঞ্চলের সবচেয়ে পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী হিসাবে সুপরিচিত। বগুড়া জেলার কোদলা গ্রামে তাড়াশের রায় বংশের পূর্বপুরুষ বাসুদেব অর্থাৎ তাড়াশ পরিবার জেলার সবচেয়ে বড় জমিদার ছিলেন। নবাব মুর্শিদকুলি খানের রাজস্ব বিভাগে চাকরি করে বাসুদেব তাড়াশ ভবন প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে বাসুদেব নবাব মুর্শিদকুলি খান কতৃক ‘রায়চৌধুরী’ খেতাবে ভূষিত হন। বাসুদেবের এষ্টেটে মৌজার পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০টি।

চা বাগান
চা-বাগানের জন্য বিখ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলকে বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী বলা যেতে পারে। মৌলভীবাজার জেলায় ৯২ টির মত চা বাগান রয়েছে। ৪৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের শ্রীমঙ্গলের চা বাগানের নজরকাড়া সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন অনেক পর্যটক আসেন। মাইলের পর মাইল পর্যন্ত চা বাগান দেখে পাহাড়ের ঢালে সবুজ গালিচা বলে মনে হয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নত মানের চা শ্রীমঙ্গলেই উৎপন্ন হয়ে।

তিস্তা ব্যারেজ
তিস্তা ব্যারেজ (Teesta Barrage) বা তিস্তা সেচ প্রকল্প বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তম সেচ প্রকল্প। তিস্তা নদীর উপর নির্মিত তিস্তা ব্যারেজের একপাশে আছে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলাধীন গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানী গ্রাম এবং অন্য পাশে আছে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলাধীন খালিসা চাপানী ইউনিয়নের ডালিয়া নামক স্থান। রংপুর, দিনাজপুর, নিলফামারী ও বগুড়া জেলার অনাবাদী জমিতে সেচ সুবিধা প্রদানের জন্য ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন সরকার তিস্তা ব্যারেজ তৈরীর পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে ৬১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪৪ রেডিয়াল গেট বিশিষ্ট ব্যারেজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়, যা ১৯৯০ সালে শেষ হয়।

টেংরাগিরি ইকোপার্ক
বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে সোনাকাটা ইউনিয়নে সুন্দরবনের একাংশের বিশাল বনভূমি নিয়ে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য টেংরাগিরি ইকোপার্ক (Tengra Giri Eco Park) গড়ে তোলা হয়েছে। টেংরাগিরি ইকোপার্কের পাশে আরেকটি পর্যটন আকর্ষণ সোনাকাটা সমুদ্র সৈকত অবস্থিত। ১৯৬০ সালের ১২ জুলাই সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণাকৃত এই বনাঞ্চলটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ফাতরার বন/পাথরঘাটার বন/হরিণঘাটার বন ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত হলেও ১৯৬৭ সালে বনাঞ্চলটিকে টেংরাগিরি বন হিসেবে নামকরণ করা হয়। সুন্দরবনের পর এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল, যা দিনে দুইবার জোয়ার ভাটায় প্লাবিত হয়। লবনাক্ত ও মিষ্টি মাটির অপূর্ব মিশ্রণের কারণে এই বনে রয়েছে বিলুপ্তি প্রজাতির অসংখ্য সারি সারি গাছ, পশু পাখি ও সরীসৃপ প্রাণী। টেংরাগিরির সবুজ ঘন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, সৈকতের তটরেখায় লাল কাঁকড়াদের ছুটোছুটি, পাখির কলকাকলি ও শেষ বিকেলের দিগন্ত রেখায় সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য যেকোনো পর্যটকদের মুগ্ধ করার মতো। আর তাই তো নাগরিক কোলাহল এড়িয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাগরের বিশালতার মাঝে হারিয়ে যেতে অনেকে ভ্রমণ পিপাসুরা দূর দূরান্ত থেকে এখানে ঘুরতে আসে।

তেওতা জমিদার বাড়ি
তেওতা জমিদার বাড়ি (Teota Zamindar Bari) বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী প্রমীলা দেবীর স্মৃতি বিজড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। মানিকগঞ্জের (Manikganj) শিবালয় উপজেলার তেওতা জমিদার বাড়িতে কাজী নজরুল ইসলাম প্রমীলা দেবীর রূপে মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন ‘তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়/সেকি মোর অপরাধ’। কাজী নজরুল ইসলাম ও প্রমীলা দেবীর প্রেমের স্মৃতির সাক্ষী তেওতা জমিদার বাড়ির পাশেই ছিল প্রমীলা দেবীর পিতার বাড়ি। প্রমীলা দেবীর পিতা বসন্ত সেনের ভ্রাতুষপুত্র বীরেন সেনের সঙ্গে কবির সখ্যতার কারণে কবি তাঁদের বাড়িতে অবাধ যাতায়াত করতে পারতেন। লোকমুখে প্রচলিত তেওতা জমিদার বাড়িটির বয়স প্রায় ৩০০ বছর। মানিকগঞ্জ জেলার ইতিহাস থেকে পাওয়া তথ্য মতে, সপ্তদশ শতকের শুরুতে পাচুসেন নামের দরিদ্র কিশোর তামাকের ব্যবসায় বিপুল অর্থ-সম্পদ অর্জন করে দিনাজপুরের জয়গঞ্জে জমিদারী কিনে পঞ্চানন সেন নামে পরিচিতি লাভ করে। সেসময় মানিকগঞ্জের শিবালয়ের তেওতায় এই জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন।

ঠাকুরপুর জামে মসজিদ
ঠাকুরপুর জামে মসজিদ (Thakurpur Jame Mosque) ঐতিহ্য আর নান্দ্যনিকতায় চুয়াডাঙ্গা জেলার একটি অন্যতম প্রাচীন ইসলামিক স্থাপত্য নিদর্শন। চুয়াডাঙ্গা থেকে ২ কিলোমিটার দূরে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের পার্শ্ববর্তী ঠাকুরপুর গ্রামে অবস্থিত ঠাকুরপুর জামে মসজিদটি বর্তমানে পীরগঞ্জ জামে মসজিদ হিসেবে সুপরিচিত। মসজিদের মূল অংশ নির্মাণের ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য পাওয়া না গেলেও স্থানীয় প্রবীণদের মতে, ১৬৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সাধক পুরুষ হযরত আফু শাহ্ ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দ্যেশ্যে ঠাকুরপুরে এসে খানকা স্থাপন করেন। তিনি জীনদের সাহায্যে এক রাতের মধ্যেই মসজিদটি নির্মাণ করেন। একারণে স্থানীয় অনেকে এই মসজিদটি “জিনের মসজিদ” হিসেবে অভিহিত করেন।

থানকোয়াইন ঝর্ণা
থানকোয়াইন ঝর্ণা (Thankowain Waterfall) বান্দরবানের আলিকদম উপজেলায় অবস্থিত একটি মনোমুগ্ধকর ঝর্না। থানকোয়াইন ঝিরি থেকে উৎপন্ন হওয়া এই ঝর্না পাহাড় আর সবুজ প্রকৃতির জন্য পর্যটকদের কাছে অনেক জনপ্রিয় এছারাও ঝর্ণাটি তুলনামূলক ‘সহজ’ ট্রেকিং রুটের কারণে পর্যটকদের কাছে বেশ পরিচিত। আলিকদম বাজার থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে এই ঝর্নার অবস্থান। থানকোয়াইন ঝর্ণার স্বচ্ছ জলের ধারা এবং চারপাশের শান্ত, নিস্তব্ধ পরিবেশ শহুরে ক্লান্তি দূর করে মনকে সতেজ করে তোলে।

তিন নেতার মাজার
রাজধানী ঢাকার দোয়েল চত্বরের উত্তর পাশে অবস্থিত তিন নেতার মাজার (Teen Netar Mazar) বাংলাদেশের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন। বাংলার তিন বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, খাজা নাজিমুদ্দিন এবং শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক-এর স্মরণে এই সমাধিসৌধটি নির্মাণ করা হয়েছে। স্থপতি মাসুদ আহমদ ও এস.এ. জহিরুদ্দিনের নকশায় নির্মিত এই সমাধিসৌধটি ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিন নেতার মাজারের কাছেই রয়েছে হাইকোর্ট, শিশু একাডেমি এবং ঐতিহাসিক ঢাকা গেট।

তিন গম্বুজ মসজিদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের ফিরোজপুরে মোঘল আমলের অন্যতম প্রাচীন স্থাপনা তিন গম্বুজ মসজিদ (Tin Gombuj Masjid) অবস্থিত। মধ্যযুগের প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক শাহ্ সৈয়দ নেয়ামতউল্লাহ্কে উদ্দেশ্য করে বঙ্গ সুলতান শাহ্ সুজা এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত এই ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটি শাহ্ নেয়ামত উল্লাহ্ মসজিদ হিসেবেও সুপরিচিত।

তিন বিঘা করিডোর
তিন বিঘা করিডোর ( Tin Bigha Corridor ) ভারতের মালিকানাধীন তিন বিঘা জায়গা জুড়ে অবস্থিত একটি স্বতন্ত্র ভূমি। বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেঘলীগঞ্জ জেলা সীমান্তে তিনবিঘা করিডোরের অবস্থান। বাংলাদেশের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলে যাতায়াতের সুবিধার্থে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইজারার মাধ্যমে তিনবিঘা করিডোর বাংলাদেশকে দেওয়া হয়।

টিপরাছড়া গলফ মাঠ
টিপরা ছড়া গলফ মাঠ (Tipra Cherra Golf Course) মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। জায়গাটি অনেকের কাছে হরিণছড়া গলফ মাঠ (Harinchara Golf Field) নামেও পরিচিত। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই স্থানের কিছু ভিডিও ও স্থির চিত্র ভাইরাল হবার পর অনেক দর্শনার্থীর মধ্যে জায়গাটি নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়।