দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

আবদুস সালাম স্মৃতি জাদুঘর
ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সালে ফেনী (Feni) জেলার লক্ষণপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর নামানুসারে লক্ষণপুর গ্রামের বর্তমান নাম সালাম নগর। পিতার চাকুরীর সুবাদে ভাষা আন্দোলনের সময় শহীদ আব্দুস সালাম ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাশে কোয়ার্টারে থাকতেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের সামনের রাস্তায় ১৪৪ ধারা অগ্রাহ্য করে ছাত্র জনতার বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে পুলিশের গুলিতে আব্দুস সালাম আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় প্রায় দেড় মাস পর ১৯৫২ সালের ০৭ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

অচিন গাছ
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় কালের সাক্ষী হিসেবে দাড়িয়ে আছে বিশাল আকৃতির এক অচিন গাছ (Achin Tree)। রহস্যকেন্দ্রিক গাছটির বয়স আনুমানিক ৫শ বছরের অধিক হলেও সবাই নিজেদের বাপ দাদাদের কাছ থেকে গাছ সম্পর্কে বিভিন্ন কাহিনী শুনেছেন। স্থানীয়রা পৌরনিক কাহিনী ছাড়া এই গাছটির জন্ম বৃত্তান্ত বা পরিচয় এসব কিছুই বলতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গাছটি পাকুর প্রজাতির। কথিত আছে, ভারতের আসাম রাজ্যের কামরূপ-কামাখ্যা হতে আগত একদল জাদুঘর চোখের পলকে এই অচিন গাছটি এখানে লাগিয়েছিলেন। আর গাছটির নাম কেউ না জানার কারণে স্থানীয়রা একে “অচিন গাছ” হিসেবে নামকরণ করে। আবার অনেকের মতে, এক পীর সুদূর পশ্চিম দিক থেকে অপরিচিত এই গাছের চারা এনে রোপণ করেছিল। সেই কারণে এটি অচিন গাছ হিসেবেই পরিচয় লাভ করে। এমন রহস্যের কারণে অচিন গাছকে ঘিরে কৌতূহলী মানুষের আগ্রহের কমতি নেই।

আমঝুপি নীলকুঠি
মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত ইংরেজ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত আমঝুপি নীলকুঠি (Amjhupi Neelkuthi) বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। মেহেরপুর (Meherpur) জেলা থেকে আমঝুপি নীলকুঠির দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার। ১৮০০ দশকে প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে এই ভবনটি নীলকুঠি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীতে এখানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অফিস চালু করা হয়।

অপরাজেয় বাংলা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত অপরাজেয় বাংলা (Aparajeyo Bangla) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আবহে নির্মিত বাংলাদেশের সেরা ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশের সর্বস্তরের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণের প্রতীক হিসাবে একজন নারী এবং দুইজন পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাকে ঐক্য, সংগ্রাম ও দৃঢ়তার আলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে এই ঐতিহাসিক স্থাপনায়।

আট কবর
চুয়াডাঙ্গা জেলার জগন্নাথপুরে অবস্থিত আট কবর ( Atkobor/Atkabar ) ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদের স্মৃতি বিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান। চুয়াডাঙ্গা থেকে আট কবর সমাধিস্থলের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। ১৯৭১ সালের ৩ আগস্ট কমান্ডার হাফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দারের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার জয়পুর শেল্টার ক্যাম্পে অবস্থান নেয়। সকালবেলা পাকিস্তান মুসলিম লীগের দালাল কুবাদ খাঁ তার পরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে খবর পাঠায় রাজাকারেরা নাটুদা, জগন্নাথপুর এবং এর আশেপাশের জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে গেছে। এমন খবর শুনে ৫ আগস্ট কমান্ডার হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বাগোয়ান গ্রামে ছুটে যান। সেখানে আগে থেকে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা নাটুদা ক্যাম্পের পাকিস্তানি সৈন্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলে। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকিস্তানি সৈন্যদের সম্মুখ যুদ্ধে আট জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ বরণ করেন। এরপর পাক বাহিনীর নির্দেশের রাজাকারেরা মুক্তিযোদ্ধাদের মৃতদেহগুলো দুইটি গর্তে কবর দিয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের এই সমাধিস্থল স্থানীয় মানুষের কাছে আট কবর হিসেবে পরিচিত।

বজরা শাহী মসজিদ
নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নে নির্মিত ঐতিহাসিক মসজিদের নাম বজরা শাহী মসজিদ। দিল্লির শাহী জামে মসজিদের নকশার অনুকরণে বজরা শাহী মসজিদটি গড়ে তোলা হয়েছে। ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ১৭৪১-৪২ সালে জমিদার আমানুল্লাহ ৩০ একরের ভূমিতে একটি বিশাল দীঘি খনন করেন এবং দীঘির পশ্চিম প্রান্তে একটি আকর্ষণীয় মসজিদ নির্মাণ করেন। সুন্দর প্রবেশ তোরণ বিশিষ্ট বজরা শাহী মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৬ ফুট, প্রস্থ প্রায় ৭৪ ফুট এবং মসজিদটির উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির ভীত মাটির প্রায় ২০ ফুট নিচ থেকে তৈরী করা হয়েছে। তিনিটি গম্বুজই সুদৃশ্য মার্বেল পাথর সুসজ্জিত। মসজিদের অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য ৩ টি ধনুকাকৃতি দরজা এবং কেবলার দিকে ৩ টি কারুকার্য খচিত মিহরাব রয়েছে। মসজিদের প্রবেশ পথের তোরণের উপর আরো কয়েকটি গম্বুজ প্রত্যক্ষ করা যায়। ঐতিহ্যবাহী বজরা শাহী মসজিদটি নির্মাণের প্রায় ১৭৭ বছর পর ১৯০৯ সালে প্রথমবার মসজিদটি সংস্কার করা হয়।

ভরতের দেউল
যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলাস্থ গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ভরত ভায়না গ্রামে ভদ্রা নদীর তীরে ভরতের দেউল (Bharater Deul) অবস্থিত। টিলা আকৃতির দেউলের উচ্চতা ১২.২০ মিটার এবং পরিধি ২৬৬ মিটার। ধারণা করা হয় ভরতের দেউল প্রাচীন গুপ্ত যুগের খ্রিষ্টীয় ২য় শতকে নির্মিত হয়েছে। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে দেউলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯২৩ সালের ১০ জানুয়ারী এই দেউলটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ১৯৮৪ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় খনন কাজের ফলে দেউলের আকার, মঞ্চ, মন্দির এবং প্রায় ৯৪টি কক্ষের সন্ধ্যান পাওয়া যায়। চারপাশে ৪টি উইং ওয়ালে ঘেরা ১২টি কক্ষ ছাড়া বাকি ৮২টি কক্ষগুলো বৌদ্ধ স্তুপাকারে তৈরি। আর স্তুপের চূড়ায় থাকা ৪টি কক্ষের দুইপাশে আরও ৮টি ছোট ছোট কক্ষ দেখতে পাওয়া যায়।

ভিতরগড় দুর্গ নগরী
পঞ্চগড় জেলা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অমরখানা ইউনিয়নে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় মধ্যযুগের অন্যতম এক নিদর্শন ভিতরগড় দুর্গ নগরীর (Bhitorgarh Durg Nogori) অবস্থান। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, ৬ষ্ঠ শতকের দিকে পৃথু রাজা তার রাজধানী হিসেবে ভিতরগড় দুর্গ নির্মাণ করেন। ১২৫৭ সালে পাল বংশীয় সুলতান মুঘিসউদ্দিন কামরূপ রাজ্য আক্রমণ করলে এই দুর্গটি সুলতানী শাসনে চলে আসে। ধারণা করা হয়, ষষ্ঠ শতকের শেষে বা সপ্তম শতকের শুরুতে ভিতরগড় স্বাধীন রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এই ভিতরগড়ে প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস, স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ ও বেশ কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সমাধি
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বাংলাদেশের একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীর শ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি তাদের অন্যতম।

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধি
১৯৪৭ সালে ১৬ ডিসেম্বর ভোলার দৌলতখান উপজেলার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে মোহাম্মদ মোস্তফার কামালের জন্ম। সেনা সদস্য হবার স্বপ্নে বিভোর মোস্তফা কামাল ১৯৬৭ সাল বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধের সময় পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ গোলোযোগ নিয়ন্ত্রণের কথা বলে ৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেটে প্রেরণ করে। পাকিস্থানীদের এই ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে মেজর শাফায়াত জামিল কয়েকজন বাঙ্গালি সৈনিককে সাথে নিয়ে সকল পাকিস্তানি অফিসার ও সেনাদের গ্রেফতার করে মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এন্ডারসন খালের পাশে প্রতিরক্ষা অবস্থান নেন। ১৪ এপ্রিল মুক্তিবাহিনীর ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিরক্ষা অবস্থানের উপর পাকিস্থানি ত্রিমুখী আক্রমণ চালায়। সেসময় গঙ্গাসাগর প্রতিরক্ষা অবস্থানের দরুইন গ্রামে আলফা কোম্পানির ২নং প্লাটুনের একজন সেকশন কমান্ডার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল নিযুক্ত ছিলেন।

বিরুলিয়া জমিদার বাড়ি
‘বিরুলিয়া’ তুরাগ নদীর তীরবর্তী ছোট্ট একটি গ্রামের নাম। ঢাকা শহরের অত্যন্ত কাছের এই বিরুলিয়া গ্রাম দশটিরও অধিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার জন্য সুপরিচিত। বিরুলিয়া গ্রামের শেষ প্রান্তে আছে জমিদার রজনীকান্ত ঘোষের বাড়ি, যা বর্তমানে বিরুলিয়া জমিদার বাড়ি (Birulia Jamidar Bari) নামে পরিচিত। ঢাকার কাছে অবস্থান হওয়ায় ইতিহাসের সাক্ষী প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য বিরুলিয়া জমিদার বাড়ি দেখতে অনেকেই ছুটে যান।

চলন বিল
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় জলাভূমির নাম চলন বিল (Chalan Beel)। নাটোর , সিরাজগঞ্জ এবং পাবনা জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট অনেকগুলো বিলের সমষ্টি এই চলন বিল। বর্ষায় দ্বীপের মতো ভাসমান সবুজ গ্রাম, শীতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অতিথি পাখির কলরব, সুনীল আকাশ এবং শরতে বিলের পাড় ধরে ফুটে থাকা কাশবনের অনন্য সৌন্দর্য আগত দর্শনার্থীদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। তবে শুধুমাত্র ভরা বর্ষায় চলন বিলের প্রকৃত ও প্রলয়ঙ্করী রূপ ধরা পড়ে, যখন প্রায় ৩৬৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জলে একাকার হয়ে সাগরের মতো রূপ নেয়। বর্ষাকাল ছাড়াও প্রায় সারাবছরই চলন বিলের বুকে নৌকায় ভেসে বেড়াতে কিংবা বিলের বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনযাত্রা উপভোগ করতে অসংখ্য পর্যটক এখানে ছুটে আসেন।

চলনবিল জাদুঘর
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর চলনবিল অঞ্চলের কিছু সচেতন সমাজকর্মীদের পরিশ্রমের ফলে গরুদাসপুর থানার খুবজীপুর গ্রামে অস্থায়ীভাবে চলনবিল জাদুঘর (Chalanbil Museum) প্রতিষ্ঠিত হয়। চলনবিলের বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন নিয়ে তৈরী এ জাদুঘরটি ১৯৮৯ সালের ২ জুলাই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত হয়। চলনবিল জাদুঘরে উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে আছে বিষ্ণু ও মাতৃকা মূর্তিসহ নানা গবেষণা গ্রন্থ, কষ্টি পাথরের সূর্যদেব, ডাক টিকিট, ৯০টি দেশের মুদ্রা, ঘট, শিলা এবং বিভিন্ন শাসন আমলের টেরাকোটা।

চর কুকরি মুকরি
চর কুকরি মুকরি (Char Kukri Mukri) এর অবস্থান ভোলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপাসাগরের কোল ঘেষা মেঘনা নদীর মোহনায়। যা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত। এক সময় এই চরে অধিক কুকুর ও ইঁদুর (এখানে মেকুর নামে পরিচিত) পাওয়া যেত, এ কারণেই এটি চর কুকরি মুকরি নামে স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে উঠে। ১৯৮৯ সালের ১৪ মে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার একর জমিতে সংরক্ষিত শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ জাতীয় বৃক্ষের বনায়ন শুরু হয়। চর কুকরি মুকরির বনভূমিতে স্থান পেয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, কেওড়া, নারিকেল, বাঁশ ও বেত। বর্তমানে কুকুরি মুকুরি চরে বনভূমির পরিমাণ ৮৫৬৫ হেক্টর, যার মধ্যে ২১৭ হেক্টর জমি বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম এবং বসতি ও কৃষি আবাদর জন্য প্রায় ৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমি রয়েছে। মাছ ধরা ও কৃষিকাজ চর কুকরি মুকরিতে বসবাসকারী মানুষের প্রধান পেশা।

চেরাগি পাহাড়
চট্টগ্রাম জেলার শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্য চর্চার বিচরণক্ষেত্র হিসেবে চেরাগি পাহাড় (Cheragi Pahar) একটি প্রসিদ্ধ জায়গা। ডিসি হিল (বর্তমান নজরুল স্কয়ার) সংলগ্ন মোমিন রোড ও জামাল খান রোডের সংযোগ স্থলে চেরাগি পাহাড় চত্বরের (Cheragi Square) অবস্থান। চেরাগি মোড় নামে সুপরিচিত এ স্থানটি প্রতিদিন কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সংবাদিক, পাঠক, সংগঠক, রাজনৈতিক কর্মী ইত্যাদি নানান শ্রেণী পেশার সৃজনশীল মানুষের আনাগোনা ও আড্ডায় সরগরম হয়ে ওঠে।

মানিকছড়ি ডিসি পার্ক
খাগড়াছড়ি মানেই পাহাড় আর অরণ্যের হাতছানি। কিন্তু এই পরিচিত ছবির বাইরে এমন কিছু জায়গা আছে, যেগুলো নীরবে নিজেদের বৈশিষ্ট্য তৈরি করছে। মানিকছড়ি উপজেলার ডলু মৌজায় অবস্থিত মানিকছড়ি ডিসি পার্ক (Manikchari DC Park) ঠিক তেমনই এক উদাহরণ। যেখানে প্রকৃতি, পরিকল্পনা আর ভবিষ্যৎ পর্যটনের সম্ভাবনা একসঙ্গে মিলেছে।