দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট
বাংলাদেশের পাহাড়ি জেলা বান্দরবান প্রকৃতি প্রেমীদের স্বর্গ। বান্দরবানের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে অনেক দেখার মত স্থান। জনপ্রিয় পর্যটন স্থান গুলোর অনেক গুলো অবস্থিত বান্দরবান-থানচি রাস্তার পাশে। চিম্বুক পাহাড় ও নীলগিরি দেখার জন্যেই অনেকেই এই রাস্তায় ভ্রমণ করে থাকেন।

হযরত শাহ পরাণ (রাঃ) এর মাজার
হযরত শাহ পরাণ (রঃ) এর মাজার (Hazrat Shah Paran (RA)) সিলেট শহরের অন্যতম একটি আধ্যাতিক স্থাপনা। হযরত শাহ পরাণ (রঃ) ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য হতে বাংলাদেশে আসা ইসলাম প্রচারক শাহ জালাল (রঃ) এর ভাগ্নে এবং প্রধান অনুসারী। হযরত শাহ জালাল (রঃ) এর দরগাহ থেকে শাহ পরাণ (রঃ) এর মাজারের দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার। সিলেট শহরের পূর্ব দিকে খাদিম নগর এলাকায় বড় একটি টিলার উপর হযরত শাহ পরাণ (রঃ) এর মাজারের অবস্থান।

তুষভান্ডার জমিদার বাড়ি
প্রায় চারশত বৎসর আগে জমিদার মুরারিদেব ঘোষাল ভট্টাচার্য লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে তুষভান্ডার জমিদার বাড়ি (Tushbhander Jaminderbari) প্রতিষ্ঠা করেন। কথিত আছে, ১৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে মহারাজা প্রাণ নারায়ণের শাসনামলে মুরারিদেব ঘোষাল ভট্টাচার্য চব্বিশ পরগনা জেলা হতে রসিক রায় বিগ্রহ নামক একটি ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কোচবিহারে আসেন। তৎকালীন সময়ে ধর্মীয় কাজের জন্য ভূমি দান করা হত। মহারাজা প্রাণ নারায়ণ ঘোষাল ভট্টাচার্যকে বিগ্রহ পূজা করার জন্য ৯টি মৌজা দান করেন। কিন্তু ঘোষাল ভট্টাচার্য একজন ব্রাহ্মণ ছিলেন তাই তিনি মহারাজার দান ভোগে আপত্তি জানান এবং তিনি রাজাকে সেই সম্পত্তি ভোগের উপর খাজনা নেওয়ার প্রস্তাব করেন। তবে রাজা খাজনা হিসেবে ধানের তুষ নেওয়ার জন্য দাবী করেন। ফলে কোচবিহারের রাজাকে দেওয়ার জন্য পুরো জমিদারি এলাকা ধানের তুষ সংগ্রহ করে জমিদার বাড়ির পূর্ব পাশে রাখা হত। এই ঘটনা থেকে এই জমিদার বাড়িটি তুষভাণ্ডার জমিদার বাড়ি হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।

উলিপুর মুন্সিবাড়ী
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে উলিপুর মুন্সিবাড়ীর (Ulipur Munshi Bari) অবস্থান। উলিপুর বাজার থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে প্রায় ৩৯ একর জায়গার উপর মুন্সিবাড়ীর বিশাল অট্টালিকাগুলো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আঠারো শতকে বিনোদী লালের পালক পুত্র শ্রী ব্রজেন্দ্র লাল মুন্সির তত্ত্বাবধানে চমৎকার স্থাপত্যের এই মুন্সিবাড়ী নির্মিত হয়। মূল ভবনে আছে শয়ন কক্ষ, ডাইনিং হল, রান্নাঘর, অঙ্কন কক্ষ, বিশ্রাম ঘর এবং অতিথিশালা। মূল বাড়ীর পিছনের দিকে শিব মন্দির, উন্মুক্ত দোল মঞ্চ, তুলসি বেদী, নাট মন্দির, দূর্গা মন্দির ও কূপসহ স্নানাগার রয়েছে। এছাড়া মূল ফটকের পাশে আছে কাঁঠালি চাপা ফুলের গাছ এবং শান বাঁধানো পুকুর ঘাট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১৯২১ সালের ১ জুলাই রাজধানী ঢাকার শাহবাগে প্রায় ৬০০ একর জমির উপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka) যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎকালীন সময়ে ৩ টি ফ্যাকাল্টি, ১২ টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক এবং ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী ছিল। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ টি ফ্যাকাল্টি, ৮৪ টি বিভাগ এবং ১২ টি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৪৬,০০০ শিক্ষার্থী এবং ১,৮০৫ জন শিক্ষক রয়েছে৷ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রগতিশীলতার ধারক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তারুণ্যের উন্মত্ততা বহু ঐতিহাসিক ঘটনাকে জন্ম দিয়েছে। মেধা ও মননে বিকশিত বিদ্যার্থীদের পদচারনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খ্যাত হয়ে উঠে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসাবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (University of Rajshahi) বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, যা ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে মাত্র ১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩৮ হাজারের বেশী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর সবুজে ঘেরা বিশাল ক্যাম্পাস, ঐতিহাসিক নিদর্শন ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য শিক্ষানুরাগী ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হতে পারে।

উত্তরা গণভবন
নাটোরের উত্তরা গণভবন, যা দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি নামেও পরিচিত, একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা যা বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্থানীয় কার্যালয় ও বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি ৪৩ একর আয়তনের একটি প্রাসাদ কমপ্লেক্স, যেখানে ১২টি ভবন, একটি লেক, এবং সুসজ্জিত বাগান রয়েছে।

ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি
ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। এটি আনুমানিক ১৯০০ শতকে জমিদার যদুনাথ সাহা নির্মাণ করেন। ভবনের গ্রীক স্থাপত্যশৈলী এবং ভেতরের দেয়ালে ময়ূর, সাপ ও বিভিন্ন ফুল-পাখির নকশা বিশেষ আকর্ষণীয়।

ভাসু বিহার
ভাসু বিহার বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার গ্রামে অবস্থিত একটি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এটি গুপ্তযুগের বৌদ্ধ বিহার ও মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৩-৭৪ সালে খনন কাজের মাধ্যমে এখানে বিভিন্ন মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে।

জিঞ্জিরা প্রাসাদ
জিঞ্জিরা প্রাসাদ ঢাকার কেরাণীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মোগল স্থাপনা। এটি ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে সুবেদার দ্বিতীয় ইব্রাহিম খাঁ প্রমোদকেন্দ্র হিসাবে নির্মাণ করেন। প্রাসাদটি চারপাশে পানি বেষ্টিত হওয়ায় এর নামকরণ হয়েছিল জিঞ্জিরা বা দ্বীপের প্রাসাদ।

শহীদ বরকত স্মৃতি জাদুঘর
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের আলোকচিত্র, প্রিয়জনকে লেখা চিঠি, ভাষা শহীদদের ছবি সহ নানান ঐতিহাসিক জিনিস নিয়ে ২০১২ সালের ২৫ মার্চ ভাষা শহীদ আবুল বরকত স্মৃতি জাদুঘর ও সংগ্রহশালা চালু (Language Martyr Abul Barakat Memory Museum and Library) করা হয়। সবুজ ঘাসে ঢাকা শহীদ বরকত জাদুঘর (Shaheed Barkat Museum) প্রাঙ্গণে শহীদ আবুল বরকতের একটি প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে।

অচিন গাছ
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় কালের সাক্ষী হিসেবে দাড়িয়ে আছে বিশাল আকৃতির এক অচিন গাছ (Achin Tree)। রহস্যকেন্দ্রিক গাছটির বয়স আনুমানিক ৫শ বছরের অধিক হলেও সবাই নিজেদের বাপ দাদাদের কাছ থেকে গাছ সম্পর্কে বিভিন্ন কাহিনী শুনেছেন। স্থানীয়রা পৌরনিক কাহিনী ছাড়া এই গাছটির জন্ম বৃত্তান্ত বা পরিচয় এসব কিছুই বলতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গাছটি পাকুর প্রজাতির। কথিত আছে, ভারতের আসাম রাজ্যের কামরূপ-কামাখ্যা হতে আগত একদল জাদুঘর চোখের পলকে এই অচিন গাছটি এখানে লাগিয়েছিলেন। আর গাছটির নাম কেউ না জানার কারণে স্থানীয়রা একে “অচিন গাছ” হিসেবে নামকরণ করে। আবার অনেকের মতে, এক পীর সুদূর পশ্চিম দিক থেকে অপরিচিত এই গাছের চারা এনে রোপণ করেছিল। সেই কারণে এটি অচিন গাছ হিসেবেই পরিচয় লাভ করে। এমন রহস্যের কারণে অচিন গাছকে ঘিরে কৌতূহলী মানুষের আগ্রহের কমতি নেই।

অরুনিমা ইকো পার্ক
৫০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব (Arunima Resort Golf Club) স্থানীয় ভাবে অরুনিমা ইকো পার্ক নামেও পরিচিত। নড়াইল জেলার নারাগাতির পানিপাড়া গ্রামে অবস্থিত অরুনিমা ইকো পার্কে (Arunima Eco Park) মোট ১৯ টি ছোট বড় পুকুর ও একটি লেক আছে। আর লেকের মাঝে তৈরি করা হয়েছে একটি কৃত্রিম দ্বীপ, যেখানে রেস্টুরেন্ট, কটেজ এবং কনফারেন্স রুম নির্মাণ করা হয়েছে।

অষ্টগ্রাম হাওর
অষ্টগ্রাম হাওর কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম (Astagram) উপজেলায় অবস্থিত। কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হতে অষ্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। উত্তরে কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন ও ইটনা, দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছির নগর, পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছিরনগর উপজেলা ও হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলা, পশ্চিমে কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর ও নিকলি উপজেলা। অষ্টগ্রামের অবস্থান হাওরের মাধখানে।

আতিয়া মসজিদ
আতিয়া মসজিদ (Atia Mosque) টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার থানার আতিয়া গ্রামে অবস্থিত প্রায় ৪০০ বছর পুরনো একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। টাঙ্গাইল শহর থেকে মসজিদটির দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। বাইজিদ খান পন্নীর পুত্র জমিদার সাইদ খান পন্নী ১৬১০ সালে আতিয়া মসজিদটি নির্মাণ করেন। ১৮ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১২ মিটার প্রস্থের মসজিদটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে লৌহজং নদী। আতিয়া মসজিদে একটি বড় ও তিনটি ছোট গোলাকার গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজের নীচে এবং চারকোণার চারটি পিলারে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চমৎকার নকশা।

আট কবর
চুয়াডাঙ্গা জেলার জগন্নাথপুরে অবস্থিত আট কবর ( Atkobor/Atkabar ) ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদের স্মৃতি বিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান। চুয়াডাঙ্গা থেকে আট কবর সমাধিস্থলের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। ১৯৭১ সালের ৩ আগস্ট কমান্ডার হাফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দারের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার জয়পুর শেল্টার ক্যাম্পে অবস্থান নেয়। সকালবেলা পাকিস্তান মুসলিম লীগের দালাল কুবাদ খাঁ তার পরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে খবর পাঠায় রাজাকারেরা নাটুদা, জগন্নাথপুর এবং এর আশেপাশের জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে গেছে। এমন খবর শুনে ৫ আগস্ট কমান্ডার হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বাগোয়ান গ্রামে ছুটে যান। সেখানে আগে থেকে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা নাটুদা ক্যাম্পের পাকিস্তানি সৈন্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলে। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকিস্তানি সৈন্যদের সম্মুখ যুদ্ধে আট জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ বরণ করেন। এরপর পাক বাহিনীর নির্দেশের রাজাকারেরা মুক্তিযোদ্ধাদের মৃতদেহগুলো দুইটি গর্তে কবর দিয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের এই সমাধিস্থল স্থানীয় মানুষের কাছে আট কবর হিসেবে পরিচিত।