দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

দিব্যক জয়স্তম্ভ
নওগাঁ জেলা থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে পত্নীতলা উপজেলার দিবর দীঘির মাঝখানে বাঙ্গালী আভিজাত্যের প্রতীক দিব্যক জয়স্তম্ভ (Dibar Jayastambha) বা দিবর স্তম্ভ অবস্থিত। গোলাকৃতি দিবর দীঘিতে অবস্থিত আটকোণ বিশিষ্ট গ্রানাইড পাথরের এই জয়স্তম্ভটির মোট উচ্চতা ৩১ ফুট ৮ ইঞ্চি, যার ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি পানির নিচে এবং ২৫ ফুট ৫ ইঞ্চি পানির উপরে দৃশ্যমান। স্তম্ভতির প্রতিটি কোণের পরিধি ১ ফুট সাড়ে ৩ ইঞ্চি। দিব্যক জয়স্তম্ভের উপরের অংশটি খাঁজ কাটা মুকুটাকৃতির নানা কারুকার্যে সুশোভিত। চারপাশের মনোরম পরিবেশে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন এই জয়স্তম্ভটি স্থানীয়দের কাছে একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

ঢাকেশ্বরী মন্দির
ঢাকেশ্বরী মন্দির ( Dhakeshwari Temple ) বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি ঐতিহাসিক পুণ্যস্থান এবং জাতীয় মন্দির। ঢাকেশ্বরী শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘ঢাকার ঈশ্বরী’। আবার অনেকে মনে করেন, এই ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নাম থেকেই ঢাকার নামকরণ করা হয়েছে।

ধনবাড়ি নবাব মঞ্জিল
ধনবাড়ি নবাব মঞ্জিল (Dhanbari Nawab Manzil) বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রিসোর্ট, যা স্থানীয়ভাবে নবাব বাড়ি বা ধনবাড়ি নবাব প্যালেস নামে পরিচিত। নবাব আলী চৌধুরীর বর্তমান উত্তরসূরিরা টাঙ্গাইল জেলার এই ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ির দেখাশুনা করছেন। পর্যটকদের থাকার জন্য এখানে কয়েকটি কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। নবাব আলী চৌধুরীর পরিবারের উত্তরসূরী নবাব হাসান আলী চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প মন্ত্রী ছিলেন এবং স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ছিলেন। নবাব হাসান আলী চৌধুরীর কন্যা সৈয়দা আশেক আকবর ১৯৮১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ধরলা ব্রিজ
বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত নদীর নাম ধরলা। ধরলা নদীর উত্তর-পশ্চিম পাড়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃক একটি পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। আর দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে একটি সবিশাল মাঠ, যা মদনের মাঠ নামে পরিচিত। কুড়িগ্রামের কাছে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদ একত্রে মিলিত হয়েছে। কুড়িগ্রামের সাথে নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ধরলা নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। এই সেতুটিই ধরলা ব্রিজ (Dhorla Bridge) নামে সুপরিচিত। বিকেল বেলা প্রাণবন্ত সময় কাটানো, নৌকা ভ্রমণ কিংবা সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার জন্য ধরলা ব্রিজ এলাকায় অসংখ্য দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।

দীপশিখা স্কুল
দিনাজপুর জেলা থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে বিরল উপজেলার রুদ্রপুরে অবস্থিত দীপশিখা স্কুল (Dipshikha School) মাটির তৈরি একটি ভিন্নধর্মী বিদ্যানিকেতন। স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্য ও পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে এই বিদ্যালয়ে। রুদ্রপুর গ্রামের শিশুদের প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হতো। ফলে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশুনা বাদ দিয়ে কৃষি বা অন্যান্য কাজে জড়িয়ে পড়ত। ২০০২ সালে রুদ্রপুর গ্রামে গবেষণার কাজে অস্ট্রেলিয়ার লিজ ইউনিভার্সিটি থেকে Anna Herigar সহ আরো ১০ জন শিক্ষার্থী আসেন। গবেষণা শেষে অন্যরা ফিরে গেলেও Anna Herigar তাঁর গবেষণা ও স্থাপত্যবিদ্যা কাজে লাগিয়ে রুদ্রপুরের অনুন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসারের লক্ষ্যে একটি স্কুল বানানোর পরিকল্পনা করেন। তাঁর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে জার্মানির উন্নয়ন সংস্থার আধুনিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট এবং বাংলাদেশের বেসরকারি সেবা সংস্থা দীপশিখা। যার ফলশ্রুতিতে ২০০৬ সালে METI Handmade School নির্মাণ করা হয়।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ( Dulahazara Safari Park ) বা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কটি কক্সবাজার জেলা সদর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এটি কক্সবাজার জেলার দক্ষিণ বন বিভাগের ফাসিয়াখালি রেঞ্জের ডুলাহাজারা ব্লকের অন্তর্ভুক্ত ৯০০ হেক্টর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। ১৯৯৯ সালে মূলত হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এই সাফারি পার্কটি স্থাপন করে।

জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর
বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী/আদিবাসী/উপজাতি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৬৫ সালে চট্টগ্রাম জেলার আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার বাদামতলী মোড় সংলগ্ন দেশের একমাত্র জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর (Ethnological Museum) প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১.২৫ একর জমির উপর স্থাপিত চট্টগ্রামের জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত অন্য জাদুঘরের (জাপান) তুলনায় আকার-আয়তন ও সংগ্রহের ব্যাপকতায় বৃহত্তম।

ফয়েজ লেক
ফয়েজ লেক (Foys Lake) একটি কৃত্রিম হ্রদ। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন খুলশি এলাকায় প্রায় ৩৩৬ একর জায়গা জুড়ে ফয়েজ লেকের অবস্থান। চট্টগ্রামের জিরো পয়েন্ট থেকে এই লেকের দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার। ১৯২৪ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কতৃপক্ষ এই লেকটি খনন করেন। তৎকালীন সময়ে লেকটি পাহারতলী লেক নামে পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে ব্রিটিশ প্রকৌশলীর নামানুসারে লেকটির নামকরণ করা হয় ফয়েজ লেক। আর এই ব্রিটিশ প্রকৌশলী ফয়েজ লেকের নকশা তৈরি করেছিলেন।

গাজনার বিল
পাবনা জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে সুজানগর উপজেলায় অবস্থিত গাজনার বিল (Gajnar Bil) একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান। বিলের প্রায় মাঝ দিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত করে একটি সরু পাকা রাস্তা চলে গেছে। রাস্তার দুইপাশে আছে দিগন্ত বিস্তৃত পানির রাজ্য। বর্ষাকালে গাজনার বিলের এই রাস্তায় পানি যেন উপচে যেতে চায়। অপূর্ব এই বিলকে ঘিরে নানান প্রজাতির পাখি ও স্থানীয় জেলেদের জীবন আবর্তীত হয়। বলা যায় এখানকার প্রকৃতি ও অর্থনীতি অনেকটাই এই গাজনার বিল কেন্দ্রিক।

গোয়ালদি মসজিদ
গোয়ালদি মসজিদ (Goaldi Mosque) নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় নির্মিত একটি ঐতিহাসিক সুলতানি স্থাপনা। সোনারগাঁও পৌরসভার গোয়ালদি গ্রামে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহর রাজত্বকালে তৈরি গোয়ালদি মসজিদটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। আলাউদ্দিন হোসেন শাহর সময়ে শিল্প, শিক্ষা এবং সাহিত্যে এই বাংলার অনেক উৎকর্ষ সাধিত হয়। ইতিহাস থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ১৫১৯ সালে মোল্লা হিজাবর আকবর খান ঐতিহ্যবাহী গোয়ালদি মসজিদ নির্মাণ করেন।

গোকুল মেধ
গোকুল মেধ (Gokul Medh) বগুড়া সদরের গোকুল গ্রামে অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। মহাস্থানগড় থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ অবস্থিত এই স্থানটি জনসাধারণের কাছে বেহুলা-লক্ষ্মিন্দরের বাসর ঘর (Lakhindar Behular Basar Ghar) হিসাবেও পরিচিত। অনেকে আবার এটিকে লক্ষ্মিন্দরের মেধ নামেও আখ্যায়িত করেছেন। এন জি মজুমদার কর্তৃক ১৯৩৪-৩৬ সাল পর্যন্ত চালানো খননকার্যের ফলে এখানে একটি মন্দিরের ভিত্তি উন্মোচিত হয়। ১৭২ টি কুঠুরিকে বিভিন্ন তলে মাটি দিয়ে ভরাট করে নিচ থেকে উপরের দিকে ক্রমহ্রাসমান করে মূল ভিত্তিকে স্তরে স্তরে উর্ধগামী কুঠুরি নির্মাণ রীতিতে সাজানো হয়েছিল যেন এগুলিকে সুউচ্চ মন্দির বা স্তূপের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এই মন্দিরে গুপ্তযুগ অর্থাৎ ছয়-সাত শতকের কিছু পোড়ামাটির ফলক পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সেন যুগে গোকুল মেধে একটি মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল। মন্দির থেকে প্রাপ্ত একটি সোনার পাত ধারনা করা হয় এটি একটি শীব মন্দির ছিলো।

হাকালুকি হাওর
হাকালুকি হাওর ( Hakaluki Haor ) সিলেট ও মৌলভীবাজারের ৫টি উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ মিঠা পানির জলাভূমি। হাকালুকি হাওর প্রায় ২৩৮ টি বিল ও ১০ টি নদীর সমন্বয়ে গঠিত এবং বর্ষাকালে এই হাওরের আয়তন দাঁড়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর। মাছের জন্য প্রসিদ্ধ হাকালুকি হাওরে শীতকালে অতিথি পাখিদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে। এছাড়াও এখানে প্রায় ১০০ প্রজাতির স্থানীয় পাখি দেখা মিলে। হাওরের বিস্তির্ন ভূমি, বিল নির্ভর মানুষের জীবনযাত্রা এবং অথিতি পাখির আহ্বানে ভ্রমনপিয়াসীরা হাকালুকি হাওরে ছুটে আসে।

হরিপুর রাজবাড়ি
ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার কেন্দ্রস্থলে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে হরিপুর রাজবাড়ি (Haripur Rajbari)। ঘন শ্যাম কুণ্ডের বংশধর রাঘবেন্দ্র রায় চৌধুরী ১৮৯৩ সালে নির্মিত হরিপুর জমিদার বাড়ির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেও পরবর্তীতে তারই পুত্র জগেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী কতৃক জমিদার বাড়ীর কাজ সম্পন্ন হয়।

রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি
রাজধানী ঢাকার সাভার উপজেলার মজিদপুরে রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি (Raja Harishchandra Dhibi) । রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি স্থানীয় মানুষের কাছে রাজা হরিশচন্দ্রের বাড়ি/রাজা হরিশচন্দ্রের ভিটা/রাজা হরিশচন্দ্রের প্রাসাদ ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। মজিদপুরের রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সপ্তম-অষ্টম শতকে এখানে প্রাচীন বংশাবতী নদীর তীরে পাল বংশীয় রাজা হরিশ্চন্দ্রের শাসনাধীন সর্বেশ্বর রাজ্যের রাজধানী ছিল। ধারণা করা হয় রাজা হরিশ্চন্দ্রের রাজধানী সম্ভার থেকেই পর্যায়ক্রমে সাভার নামের উৎপত্তি হয়।

হরিশ্চন্দ্রের পাঠ
নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রাচীন রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষের নাম হরিশচন্দ্রের পাঠ (Harishchandra Path)। চাড়াল কাটা নদীর দক্ষিণ তীরে প্রায় এক বিঘা জমির উপর ৫টি বড় কালো পাথর খণ্ডে ঘেরা স্থানটিকে দূর থেকে উঁচু মাটির ঢিবি বলে মনে হয়। এক সময় ঢিবির উচ্চতা ৫০-৬০ ফুট থাকলেও সময়ের পালা বদলে উচ্চতা কমে ১০ ফুট হয়ে গেছে। যদিও প্রচলিত আছে, পাথরগুলো এভাবে ঢিবির মাটির নিচে তলিয়ে গিয়ে আবার ভেসে উঠে। দানশীল রাজা হরিশচন্দ্রকে নিয়ে অনেক পালাগান, যাত্রাপালা রচিত হয়েছে। মৃত্যুর আগে রাজা হরিশচন্দ্র এই স্থানে একটি শিব মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করলেও তা সমাপ্ত করে যেতে পারেননি। তাঁর মৃত্যুর পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্যোগে মন্দিরের কাজ সম্পন্ন হয়। প্রাচীনকালে এখানে বেশকিছু মূর্তি ছিল, যা এখন আর নেই।

হিমছড়ি
কক্সবাজার গিয়েছেন কিন্তু হিমছড়িতে যাননি কিংবা হিমছড়ির নাম শুনেন নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কক্সবাজার থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে হিমছড়ি অবস্থিত। হিমছড়ির ছোট বড় ঝর্ণা, পাহাড় আর ফটোগ্রাফিক সমুদ্রতট পর্যটকদের বিমোহিত করে রাখে। শীতল পানির ঝর্ণা, মেরিন ড্রাইভ রোড এবং বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত দেখতে আপনাকে হিমছড়ি আসতেই হবে। সারাবছরই হিমছড়িতে যেতে পারবেন তবে বর্ষায় ঝর্ণাগুলে পূর্নতা পায়।