দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

ধুপপানি ঝর্ণা
রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ওড়াছড়িতে গেলে দেখা মিলে অনিন্দ্য সুন্দর ধুপপানি ঝর্ণা (Dhuppani Waterfall) । ২০০০ সালের দিকে এক বৌদ্ধ ধ্যান সন্ন্যাসী এখানে ধ্যান শুরু করেন, পরবর্তীতে স্থানীয় মানুষের মাধ্যমে এই ঝর্ণা সকলের কাছে পরিচিতি পায়।

ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট
ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট (Double Hand View Point) বান্দরবান জেলার বান্দরবান-থানচি রোডে নীলগিরির কাছেই অবস্থিত একটি ভিউ পয়েন্ট। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ, সবুজে মোড়া প্রকৃতি আর মেঘের খেলা মিলিয়ে বান্দরবানের প্রতিটি ভিউ পয়েন্ট ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এক স্বর্গীয় অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরালয়
বিভাগীয় শহর খুলনা থেকে মাত্র ১৯ কিলোমিটার দূরত্বে ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রাম অবস্থিত। দক্ষিণডিহি গ্রামেই রয়েছে একসময়ের জাঁকজমকপূর্ণ রায় বাড়ি তথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরালয়। বর্তমানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরালয় (Father-In-Law’s House of Rabindranath) ‘রবীন্দ্র কমপ্লেক্স’ নামে পরিচিত। এখানে রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কবিপত্নী মৃণালিনী দেবীর আবক্ষ ভাস্কর্য এবং মূল দ্বিতল ভবন। এছাড়াও ঘন সবুজ বাগান, পুকুরঘাট, পান বরজ এবং সুসজ্জিত নার্সারি এই বাড়িটির শোভাবর্ধন করেছে।

ফাতরার চর
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে পশ্চিম দিগন্তে তাকালে যে ঘন সবুজ অরণ্যের রেখা চোখে পড়ে, সেটাই হলো ফাতরার চর (Fatrar Char)। সুন্দরবনের টেংরাগিরি বনাঞ্চলের একটি বর্ধিত অংশ হিসেবে এই ফাতরার বন বা ফাতরার চর কুয়াকাটার পশ্চিমে ৯,৯৭,৫০৭ একর (পুরো সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ অঞ্চলসহ) জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। প্রাকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি পর্যটকদের কাছে ‘দ্বিতীয় সুন্দরবন’ হিসেবে ব্যাপকভাবে খ্যাত। যদি আপনি কুয়াকাটার সমূদ্রবিলাসের পাশাপাশি সুন্দরবনের মতো গহীন ম্যানগ্রোভ বনের শ্বাসমূল, ছমছমে অরণ্য আর বন্যপ্রাণীর স্বাদ একই সাথে নিতে চান, তবে ফাতরার চর আপনার জন্য একটি মাস্ট-ভিজিট প্লেস।

ভাসমান সেতু
যশোরের মণিরামপুরের ঝাঁপা বাওড়ের উপর প্রায় ১৩০০ ফুট দীর্ঘ একটি ভাসমান সেতু (Floating Bridge) নির্মাণ করা হয়েছে। এই ভাসমান সেতু নির্মাণের ফলে কপোতাক্ষ নদ এবং ঝাঁপা বাঁওড়ে ঘেরা মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কিছুটা অবসান ঘটলো। অথচ কিছুদিন আগেও নৌকা ছাড়া এখানকার মানুষের চলাচল করতে প্রায় ১০ কিলোমিটার জায়গা ঘুরে যেতে হত। চলাচলের সমস্যা দূর করতে শুরুতে এখানে ‘ঝাঁপা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন তৈরী করা হয়।

গোলকধাম মন্দির
পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাংগা ইউনিয়নে অবস্থিত অষ্টাদশ শতকের চমৎকার একটি নিদর্শনের নাম গোলকধাম মন্দির (Golokdham Temple)। ১৮৪৬ সালে গোলককৃষ্ণ গোস্বামীর স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত প্রাচীন এই মন্দিরের স্থাপত্য নজরে পড়ার মত। চারপাশে গাছ-গাছালী দিয়ে ঘেরা গ্রীক পদ্ধতিতে নির্মিত ছয়কোণাকৃতির গোলকধাম মন্দির একটু উঁচু প্ল্যাটফর্মের উপর স্থাপিত।

গুরুদুয়ারা নানকশাহী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কলা ভবনের কাছে অবস্থিত শিখ ধর্মের একটি উপাসনালয়ের নাম গুরুদুয়ারা নানকশাহী (Gurdwara Nanak Shahi)। প্রচলিত আছে, বাংলাদেশের বৃহত্তম এই গুরুদুয়ারার স্থানটিতে ষোড়শ শতকে শিখ ধর্মের প্রবর্তক গুরু নানক কিছু সময় অবস্থান করেছিলেন। তখন তিনি একেশ্বরবাদ এবং ভ্রাতৃত্ববোধ এবং শিখ ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানিকতা পালন সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। গুরুদুয়ারা নানকশাহীর নির্মাণ কাল নিয়ে মতভেদ থাকলেও ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে গুরুদুয়ারার নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রংপুর বিভাগে প্রতিষ্ঠিত প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (Hajee Mohammad Danesh Science & Technology University)। তেভাগা আন্দোলনের জনক কৃষকনেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশের নামানুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রাখা হয়। ১৯৭৬ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট হিসেবে এবং তখন এখান থেকে কৃষিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রী প্রদান করা হত। এরপর ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এটি স্নাতক পর্যায়ের কৃষি কলেজে উন্নীত হয়। ১৯৯৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এই কৃষি কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়া হয়। এরই ফলশ্রুতিতে ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে স্থাপিত হয় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ১৩০ একর আয়তনের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮টি অনুষদের অধীনে ২২ টি বিষয়ে সনদ প্রদান করা হয়।

শাহ্ নেয়ামত উল্লাহর মাজার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় ছোট সোনা মসজিদ থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে তাহাখানা কমপ্লেক্সে অবস্থিত হযরত শাহ্ নেয়ামত উল্লাহর মাজার (Hazrat Shah Niyamatullah’s Shrine) মুঘল স্থাপত্যের একটি প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে সুপরিচিত। ষোড়শ শতাব্দীর স্বনামধন্য সাধকদের মধ্যে হযরত শাহ্ সৈয়দ নেয়ামত উল্লাহ (রহঃ) অন্যতম। তিনি বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বংশধর এবং একাধারে পুরুষাক্রমিক ওলী, আলেম ও আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন। সুলতান শাহ্ সুজার রাজত্বকালে তিনি দিল্লির করোনিয়া থেকে বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ করে ফিরোজপুরের রাজমহলে উপস্থিত হন। বঙ্গ সুলতান শাহ্ সুজা তাঁকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে অভ্যর্থনা জানিয়ে বায়াত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ফিরোজপুরের গৌড়ের উপকণ্ঠে স্থায়ীভাবে আস্থানা গড়ে দীর্ঘ ৩৩ বছর সুনামের সাথে ইসলাম প্রচার করেন। ১০৭৫ মতান্তরে ১০৮০ হিজরি সনে মারা যাওয়ার পর তাঁকে এই স্থানে সমাধিস্থ করা হয়।

জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘর
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ছিলেন একাধারে শিক্ষাবিদ, লেখিকা, কথা সাহিত্যিক ও একাত্তরের ঘাতক দালাল বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী। একাত্তরের স্মৃতি কথা নিয়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ “একাত্তরের দিনগুলি” দেশ জুড়ে পাঠক নন্দিত। জাহানারা ইমাম ও তাঁর ছেলে শহীদ রুমির স্মৃতি সংরক্ষণে এলিফ্যান্ট রোডে নিজ বাড়ীতে গড়ে তোলা হয়েছে শহীদ জননী জাহানার ইমাম স্মৃতি জাদুঘর। তরুন প্রজন্মকে মহীয়সী নারী জাহানারা ইমামমের বিভিন্ন সংগ্রাম ও আত্নত্যাগের কথা জানানোর উদ্দ্যেশে জাহানারা ইমামের ছোট ছেলে সাইফ ইমাম জামি ২০০৭ সালে সম্পূর্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে জাদুঘরটি গড়ে তুলেন।

জাম্বুরি পার্ক
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের এস এম মোরশেদ সড়কে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক জাম্বুরি পার্ক (Jamburi Park) । ২০১৮ সালের আগে প্রায় সাড়ে ৮ একর আয়তনের এই জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সোনালু, নাগেশ্বর, চাঁপা, রাধাচূড়া, চাঁপা, বকুল, শিউলি, সাইকাস, টগর, জারুল ইত্যাদি গাছ ছাড়াও জাম্বুরি পার্কে প্রায় ৬৫ প্রজাতির ১০ হাজার গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। আর দর্শনার্থীদের হাঁটার জন্য সবুজ ঘাসে মোড়া এই পার্কে রয়েছে ৮ হাজার ফুট রাস্তা।

কালেক্টরেট পার্ক
যশোর (Jessore) জেলা সদরে অবস্থিত যশোর কালেক্টরেট ভবন চত্বর শহরের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে অধিক জনপ্রিয়। কালেক্টরেট ভবনের পাশে ভৈরব নদীর তীরে গড়ে তোলা হয়েছে যশোর কালেক্টরেট পার্ক (Jessore Collectorate Park), যা আগে নিয়াজ পার্ক হিসাবে পরিচিত ছিল। গৌরবোজ্জ্বল অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের নিরব সাক্ষী এই নিয়াজ পার্ক।

জোড় বাংলা মন্দির
রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নলিয়া গ্রামে পাশাপাশি দুইটি মন্দির অবস্থিত। আর এই মন্দিরকেই জোড় বাংলা মন্দির (Jor Bangla Mandir) নামে ডাকা হয়। একটি মন্দিরের চূড়া থাকলেও অন্য মন্দিরের চূড়া অবশিষ্ট নেই। ১৬৫৫ সালে উড়িষ্যার গৌরীয় রীতিতে রাজা সীতারাম রায় এ জোড় বাংলা মন্দির ও বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে শ্রী কৃষ্ণ রাম চক্রবর্তী রাজা সীতারাম রায়ের অনুরোধে নলিয়া গ্রামে এসে দেব মন্দির এবং বিগ্রহ রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কে পি বসুর বাড়ি
ঝিনাইদহ জেলা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে হরিশংকরপুরে নবগঙ্গা নদীর তীরে জগদ্বিখ্যাত গণিতবিদ কে পি বসুর বাড়ি অবস্থিত। ১৯০৭ সালে কে পি বসু হরিশংকরপুরে ১৭ কক্ষ বিশিষ্ট প্রাসাদাকার দ্বিতল ভবনটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে বাড়িটি অরক্ষিতভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও এক সময়ের দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি দেখতে অনেক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। বিখ্যাত এই গণিত বিদের স্মৃতিতে ঝিনাইদহ জেলায় একটি সড়কও নির্মাণ করা হয়েছে।

খেজুরতলা বীচ
চট্রগ্রামের সাগর সৈকত গুলোর মধ্যে খেজুরতলা বীচ (Khejurtala Sea Beach) সৌন্দর্য্যপ্রেমী মানুষের কাছে ক্রমেই আগ্রহের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। আর খেজুরতলা বীচের রুপের যথার্থতা বুঝতে হলে ভোর কিংবা বিকেল বেলা খেজুরতলা বীচে যেতে হবে। নেভাল পরিবেশ, জেলেদের কর্ম ব্যস্ততা কিংবা সবুজ ঘাসের চাদরে মোড়ানো বাধ ধরে হাটতে হাটতে খেজুরতলা বীচের বৈচিত্রতা দেখে কাটিয়ে দিতে পারবেন একটি অপূর্ব বিকেল।

কোদলা মঠ
বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের অযোধ্যা গ্রামে সপ্তদশ শতাব্দীর এক অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন কোদলা মঠ (Kodla Math) অবস্থিত। স্থানীয় অনেকের কাছে মঠটি অযোধ্যার মঠ হিসেবেও পরিচিত। বাগেরহাটের বিশ্ব ঐতিহ্য ষাট গম্বুজ মসজিদ থেকে এই মঠের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। কোদলা মঠ থেকে প্রাপ্ত খণ্ডলিপি অনুসারে, তারক ব্রহ্মের অনুগ্রহ লাভের আশায় জনৈক ব্রাহ্মণ এই মঠটি নির্মাণ করেছিলেন। অন্য সূত্র মতে, যশোরের বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম রাজা প্রতাপাদিত্যের উদ্যোগে তাঁর গুরু অবিলম্বা সরস্বতীর স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে কোদলা মঠটি নির্মাণ করা হয়। মূলত বাগেরহাটের রাজা প্রতাপাদিত্যের স্মৃতি এবং বাংলার সমৃদ্ধ হিন্দু ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশিল্পের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।