দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

রানী ময়নামতির প্রাসাদ
কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পূর্ব পাশে ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে সৌন্দর্যমন্ডিত রানী ময়নামতির প্রাসাদ (Palace of Queen Mainamati) অবস্থিত। দশম শতাব্দীতে চন্দ্র বংশীয় রাজা মানিক চন্দ্রের স্ত্রী ময়নামতির আরাম আয়েশের জন্য এই প্রাসাদ নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয়, ময়নামতি ইউনিয়নের প্রত্নতাত্ত্বিক এই নিদর্শনটি ৮ম থেকে ১২শ শতকের এক প্রাচীন কীর্তি।

পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুঠির
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শহর খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ির গভীর অরণ্যে প্রায় ৬৫ একর জায়গা জুড়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান শান্তিপুর অরণ্য কুঠির অবস্থিত (Panchari Shantipur Aranya Kutir)। নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে ভিক্ষুদের ধ্যান করার সুবিধার্থে ১৯৯৯ সালে অধ্যক্ষ ভান্তে ভদন্ত শাসনরক্ষিত মহাথেরো এই কুঠির স্থাপন করেন। দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ও বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ মূর্তি শান্তিপুর অরণ্য অরণ্য কুঠিরের প্রধান আকর্ষণ। ৫০ ফুট বিশিষ্ট নান্দনিক এই বৌদ্ধ মূর্তি নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় ৪ বছর। ছোট ছোট টিলা ও পাহাড়ি গাছ-গাছড়া দিয়ে ঘেরা এই কুঠির আছে সুবিশাল মাঠ, দুইটি কৃত্রিম হ্রদ, অনুষ্ঠান মঞ্চ, ছোট্ট বেড়ার ঘর এবং ভক্তদের উপাসনার বাতিঘর।

পারকি সমুদ্র সৈকত
বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানের তালিকায় কক্সবাজার বা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত শীর্ষে অবস্থান করলেও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকি সমুদ্র সৈকতের (Parki Sea Beach) সৌন্দর্য কোন অংশেই কম নয়। ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠা এই সাগর সৈকতের সবুজ ঝাউবন, লাল কাঁকড়া ও নীলাভ জলরাশি যেন সর্বদা ভ্রমণকারীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। পারকি সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ স্থানভেদে ৩০০-৩৫০ ফুট। স্থানীয়দের কাছে উপকূলীয় পার্কি সমুদ্র সৈকত ‘পারকির চর’ নামে পরিচিত।

পরশুরামের প্রাসাদ
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় মহাস্থানগড়ের সীমানায় আবিষ্কৃত প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম এক নিদর্শনের নাম পরশুরামের প্রাসাদ (Parsuram Palace)। মহাকালী কুণ্ড থেকে ২০০ মিটার উত্তরে এই প্রাসাদের অবস্থান। এখানকার শেষ হিন্দু রাজা ও বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের নামানুসারে এই প্রাসাদের নামকরণ করা হয়, স্থানীয়দের কাছে যা হিন্দু নৃপতি পশুরামের প্যালেস নামে পরিচিত।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত (Patenga Sea Beach) বাংলাদেশের সুন্দর ও জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতগুলোর মধ্যে অন্যতম। চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই সমুদ্র সৈকতে সহজেই যাওয়া যায় বলে পর্যটকদের কাছে এর আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে। ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন হাবে রূপান্তর করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে এবং আধুনিক সাজসজ্জা নজর কেড়েছে সবার।

পাতরাইল মসজিদ
পাতরাইল মসজিদ ( Patrail Masjid ) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। দূর্লভ ও নান্দ্যনিক কারুকার্যময় প্রাচীন মসজিদটি মজলিশ আউলিয়া মসজিদ নামেও সুপরিচিত। আয়তাকার ও ১০ গম্বুজ বিশিষ্ট পাতরাইল মসজিদের সাথে রাজশাহীর বাঘা মসজিদের স্থাপত্য শৈলীর মিল পাওয়া যায়। মসজিদের পূর্বদিকে রয়েছে ৫ টি খিলানযুক্ত প্রবেশ পথ। দক্ষিণ এবং উত্তর দিকে মসজিদে প্রবেশের জন্য আরো দুটি দরজা রয়েছে। প্রায় দুই মিটার পুরু দেয়ালে গড়া মসজিদের ভেতরের দিকে দৈর্ঘ্য ২১.৭৯ মিটার ও প্রস্থ ৮.৬০ মিটার। পাতরাইল দিঘীড়পার আউলিয়া মসজিদের কাছে বিখ্যাত সুফি সাধক মজলিশ আবদুল্লাহ খান আউলিয়ার মাজার, মাদ্রাসা এবং দুইটি সুবিশাল দীঘি রয়েছে।

পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এর কথা বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে লাবণী, কলাতলী কিংবা সুগন্ধা বীচের চির চেনা ভিড়। কিন্তু সেই পরিচিত কক্সবাজারের বাইরে গিয়ে যদি প্রকৃতির আরও গভীর, আরও নিভৃত রূপ দেখতে চান, তবে পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত (Patuartek Sea Beach) হতে পারে আপনার জন্য একদম আলাদা অভিজ্ঞতা। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ ধরে গেলে ইনানী সৈকত পার হয়ে উখিয়া উপজেলার যে অংশে এই সৈকতের দেখা মেলে সেখানে প্রকৃতি যেন নিজের সমস্ত বৈচিত্র্য একসাথে মেলে ধরেছে।

পলওয়েল পার্ক
রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে কাপ্তাই লেকের কোল ঘেঁসে তৈরি পলওয়েল পার্ক (Polwel Park) সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় রাঙ্গামাটির অন্যতম সেরা বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। বৈচিত্রময় ল্যান্ডস্কেপ, অভিনব নির্মাণশৈলী এবং নান্দ্যনিক বসার স্থান পার্কটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক মাত্রা। নৈসর্গিক প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটাতে ও চিত্তবিনোদনের জন্য প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থীর পদচারণার পলওয়েল পার্ক মুখর হয়ে উঠে।

পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি
শেরপুর জেলা সদরে অবস্থিত জমিদার সতেন্দ্র মোহন চৌধুরী ও জ্ঞানেন্দ্র মোহন চৌধুরীর বাড়িটি পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি (Pone Ten Ani Jamidar Bari) হিসাবে সুপরিচিত। গ্রিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই বাড়িটি অন্যান্য জমিদার বাড়ি থেকে আলাদা। যদিও কালের বিবর্তনে জমিদার বাড়ির অনেক সৌন্দর্যই ম্লান হয়ে গিয়েছে তবে জমিদার বাড়ির চমৎকার নকশাকৃত দৃষ্টিনন্দন স্তম্ভগুলো আজো জমিদারী আমলের ঐতিহ্য বহন করে চলছে। স্তম্ভগুলো চতুষ্কোণ বিশিষ্ট এবং এতে বর্গাকৃতির ফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে।

পোড়াবাড়ির চমচম
টাঙ্গাইলের বিখ্যাত পোড়াবাড়ির চমচমের (Porabari Chomchom) কথা শুনেনি এমন মানুষ হয়তো খুব কমই আছে। প্রায় দুইশ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য বজায় রেখে বানানো পোড়াবাড়ির চমচমের সুনাম রয়েছে বিশ্বজোড়া। সুস্বাদু ও লোভনীয় মিষ্টির রাজা হিসেবে খ্যাত ছানার তৈরি এই চমচমের স্বাদ নিতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ টাঙ্গাইলে ছুটে আসে। আর এই চমচমের গুণে সারাবিশ্বে টাঙ্গাইল জেলার রয়েছে এক অনন্য পরিচিতি।

পোড়াদহ মেলা
বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার ইছামতি নদী তীরবর্তী পোড়াদহ নামক স্থানে প্রতিবছর এক ঐতিহ্যবাহী লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়। প্রায় ৪০০ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে আয়োজিত প্রাচীন এই মেলাটি পোড়াদহ মেলা (Poradaha Mela) নামে পরিচিত। বগুড়া শহর থেকে পোড়াদহ মেলা প্রাঙ্গণের দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার।

প্রান্তিক লেক
বান্দরবান আর চট্টগ্রাম জেলার ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় শান্তভাবে লুকিয়ে আছে এই প্রান্তিক লেক। নামটি শুনলেই বোঝা যায় এটি দু’টি এলাকার প্রান্তে বা সীমারেখায় অবস্থিত, আর সেই থেকেই এর নাম প্রান্তিক লেক। এই লেকের পূর্ব তীর বান্দরবানের দিকে, আর পশ্চিম পাশে পড়ছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া। মজার ব্যাপার হলো, সাতকানিয়ার দিকে একটি ছড়ায় বাঁধ দিয়েই তৈরি করা হয়েছে প্রায় ২৫ একর আয়তনের এই সুন্দর হ্রদটি। প্রান্তিক লেকের চারপাশের দৃশ্যটা আরও মনোরম। প্রায় ৬৫ একরেরও বেশি এলাকা জুড়ে রয়েছে ঘন বনাঞ্চল। চারপাশে পাহাড় আর অরণ্য ঘেরা, মাঝখানে নীলাভ জলাশয়, আর দূর থেকে ভেসে আসা নানা প্রজাতির পাখির কলতান, সব মিলে এখানে সৃষ্টি হয়েছে অপার্থিব এক আবহ।

প্রয়াস সেনা বিনোদন পার্ক
২০১৩ সালে প্রায় ১১০০ একর জায়গা নিয়ে ঘাঘট নদীর দুই পাড়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রয়াস সেনা বিনোদন পার্ক ( Proyash Shena Binodon Park ) গড়ে তোলে। পার্কের বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধি, বনজ এবং ফলজ বৃক্ষের সমাহার। আছে তিস্তা, করতোয়া ও যমুনা নামে গড়ে তোলা তিনটি পিকনিক স্পট।

পুটনী দ্বীপ
খুলনা জেলার নৈসর্গিক প্রকৃতির শোভা সুন্দরবনে অবস্থিত একটি দ্বীপের নাম পুটনী দ্বীপ বা পুটনী আইল্যান্ড (Putney Island)। স্থানীয় বাসীন্দাদের কাছে এর অন্য নাম দ্বীপচর। একপাশে দিগন্ত জোড়া সমুদ্র আর অন্যপাশে ঘন বনাঞ্চল এরই মাঝ দিয়ে আছে সবুজ ঘাসের প্রান্তর এবং আঁকাবাঁকা খাল। এক কথায় পুটনি আইল্যান্ড অপূর্ব। জোয়ার ভাটার সাথে সাথে পুরো এলাকা একবার ভাসমান থাকে আর আরেকবার দেখা মিলে ধু ধু বালুচর। শেষ বিকেলের সূর্য এখানে অস্ত যায় আড়পাঙ্গাসিয়া নদী এবং বঙ্গোপসাগরের মোহনায়।

রায় বাহাদুর শ্রীনাথ রায়ের বাড়ি
মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার শেখের নগর গ্রামে প্রায় দুইশত বছরের পুরনো রায় বাহাদুর শ্রীনাথ রায়ের বাড়ি (Rai Bahadur Srinath Palace) অবস্থিত। ইছামতি নদীর কুল ঘেঁষা শেখেরনগর রায়বাহাদুর ইনস্টিটিউশনে কাছে ছায়া সুনিবির গ্রামে কালের সাক্ষী হয়ে রায় বাহাদুর শ্রীনাথ রায়ের বাড়িটি যেন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন অজানা কথা জানান দিয়ে যাচ্ছে। বর্গাকৃতির নকশার রায়ের বাড়ির দ্বিতল দালান ঘরের দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ২০ ফুট। দ্বিতল ভবনের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের একতলা বিশিষ্ট আরও ৩টি ভবন রয়েছে। রায় বাহাদুর শ্রীনাথ রায়ের বাড়ির পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে আছে দুইটি শানবাধানো ঘাটের পুকুর।

রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে রায়পুর উপজেলায় বাংলাদেশের বৃহত্তম ও এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (Raipur Fish Hatchery and Training Centre) অবস্থিত। ১৯৭৯ সালে দেশের প্রধান খালগুলোতে মাছের পোনা ও রেনু চাষ এবং সরবারহের লক্ষ্যে রায়পুরে এই মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে রায়পুর মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রে কৃত্রিম মৎস্য প্রজনন শুরু করা হয় এবং ১৯৯২ সাল থেকে কেন্দ্রটি বানিজ্যকভাবে মাছ উৎপাদন শুরু করে। ১৯৭৯-১৯৯২ সাল পর্যন্ত এই কেন্দ্রটি ড্যানিশ উন্নয়ন সংস্থা ড্যানিডা কর্তৃক নোয়াখালী আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে জেলার বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে মৎস্য বিভাগের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দেশের তিনটি মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের মধ্যে রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অন্যতম।