দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

সুন্দরবন
সুন্দরবন (Sundarban) একটি প্রাকৃতিক বিস্ময়ের নাম। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন বা লবণাক্ত বনাঞ্চল। সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার, যা যৌথভাবে বাংলাদেশ ও ভারতে মধ্যে রয়েছে। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার। খুলনা , সাতক্ষীরা , বাগেরহাট , পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলার অংশ নিয়েই বাংলাদেশের সুন্দরবন। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

গান্ধী আশ্রম
গান্ধী আশ্রম (Gandhi Ashram) নোয়াখালী জেলার মাইজদী কোর্ট থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে সোনামুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজারের কাছে অবস্থিত মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। প্রয়াত জমিদার ব্যারিস্টার হেমন্ত কুমার ঘোষের বাড়িতে স্থাপিত গান্ধী আশ্রম নোয়াখালীর একটি সেবামূলক সংগঠন হিসেবে সারা দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ময়মনসিংহ জেলা শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে প্রায় ১২০০ একর জায়গা নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (Bangladesh Agricultural University) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ১৯৬১ সালে কার্যক্রম শুরু হওয়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, বিভিন্ন অনুষদীয় ভবন, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, মিলনায়তন, বোটানিক্যাল গার্ডেন, হর্টিকালচার ফিল্ড, স্টেডিয়াম, জিমনেসিয়াম, জিটিআই ভবন, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ১৩ টি আবাসিক হল এবং ড. ওয়াজেদ মিয়া ডরমিটরী।

যমুনা সেতু
বাংলাদেশের পূর্বাঞ্ছলের ভুয়াপুর ও পশ্চিমাঞ্চলের সিরাজগঞ্জ জেলার সাথে সংযোগ স্থাপনকারী যমুনা বহুমুখী সেতুটি বঙ্গবন্ধু সেতু (Bangabandhu Bridge) হিসেবেও সুপরিচিত। ১৯৯৮ সালের জুন মাসে উদ্বোধন হওয়া এই সেতু দক্ষিণ এশিয়ার ৬ষ্ঠ বৃহৎ এবং বিশ্বের ১১তম দীর্ঘতম সেতু। ১৯৯৪ সালে জাপান সরকারের সহায়তায় যমুনা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হলেও ১৯৯৮ সালে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। সর্বপ্রথম মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানি যমুনা নদীর উপর সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা বাস্তবায়ন করেন। বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণের ফলে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের সাথে সাথে সড়ক ও রেলপথে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যপক উন্নতি সাধিত হয়েছে।

বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট
পঞ্চগড় জেলার অন্তর্গত বাংলাদেশের সর্বোত্তরের উপজেলার নাম তেঁতুলিয়া। তেঁতুলিয়া উপজেলার ১নং বাংলাবান্ধা ইউনিয়নে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট (Banglabandha Zero Point) এবং বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরের অবস্থান। হিমালয়ের কোল ঘেঁষা মহানন্দা নদীর তীরে ১৯৯৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী প্রায় ১০ একর জমিতে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট অর্থাৎ বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর নির্মাণ করা হয়। বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরের মাধ্যমে ভারত, নেপাল এবং ভুটানের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

সাউথ টাউন জামে মসজিদ
রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের সাউথ টাউন আবাসিক প্রকল্পে সাউথ টাউন জামে মসজিদ (South Town Jame Masjid) অবস্থিত। নজরকারা স্থাপত্যশৈলী ও বৈচিত্র্যময় নির্মাণ মসজিদকে দিয়েছে বাড়তি স্বতন্ত্রতা। মসজিদ মূলত প্রাথর্নার স্থান হলেও নির্মাণশৈলীর নান্দ্যনিকতায় সৌন্দর্য প্রেমী মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে সাউথ টাউন জামে মসজিদ। তাই সহজেই দেশজুড়ে মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে এই মসজিদের বার্তা। ফলে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী মসজিদটি দেখতে ও নামাজ আদায় করতে আসেন।

শহীদ হাদিস পার্ক
শহীদ হাদিস পার্ক (Shahid Hadis Park) বিভাগীয় শহর খুলনার বাবুখান রোডে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক পার্ক, যা ১৮৮৪ সালে ‘খুলনা মিউনিসিপ্যাল পার্ক’ প্রতিষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শেখ হাদিসুর রহমান বাবুর নামে নামকরণ করা হয়। শহীদ হাদিস পার্কে ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অনুকরণে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। হাদিস পার্কে রয়েছে বিশাল লেক। লেকের উপর শহীদ মিনার ও পানির ফোয়ারা তৈরী করা হয়েছে। এছাড়াও শহীদ হাদিস পার্কে নির্মিত পর্যবেক্ষন টাওয়ার থেকে এক নজরে খুলনা শহরটাকে দেখা যায়।

চুনাখোলা মসজিদ
বাগেরহাট জেলা থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের চুনাখোলা গ্রামে প্রাচীন পুরাকীর্তির এক অনন্য নিদর্শন চুনাখোলা মসজিদ (Chuna Khola Mosque) অবস্থিত। ধারণা করা হয়, ১৫ শতকে হযরত খান জাহান (রঃ) এর এক অনুগত কর্মচারী মধ্যযুগীয় স্থাপত্যে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। হযরত খান জাহান আলী (রঃ) বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যবহারের প্রয়োজনীয় চুন উৎপাদনের জন্য চুনখোলা কেন্দ্র স্থাপন করেন। ফলে পোড়ামাটির অলংকরণে নির্মিত মসজিদটি চুনাখোলা মসজিদ হিসেবে পরিচিতি পায়।

বালিখলা
হাওরের দুইপাশে মাঝে রাস্তা, রাস্তার দুই পাশেবয়ে চলা রাস্তা এমন কিছু দেখতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা। করিমগঞ্জ এর রৌয়া থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘের নিয়ামতপুর – বালিখলা রাস্তা অপার সৌন্দর্য মেলে ধরে বয়ে চলেছে হাওরের মাঝ দিয়ে । বেশ উচু হওয়ায় পানিতে ডুবে যায় না এই রাস্তা। সেই সাথে আছে হাওরে নৌ ভ্রমণের সুযোগ সুবিধা। ঢাকা ও আশপাশ থেকে একদিনেই ঘুরে আসা সম্ভব। বালিখলা রাস্তা নিয়ে আমাদের ভিডিও গাইড দেখতে এইখানে ক্লিক করুন।

জৈন্তা হিল রিসোর্ট
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার আলু বাগান নামক স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে জৈন্তা হিল রিসোর্ট (Jainta Hill’s Resort) । প্রকৃতির অপূর্ব নিস্বর্গ দেখার পাশাপাশি মেঘালয় পাহাড়ের জলপ্রপাত দেখার জন্য পর্যটকরা ছুটে আসেন এই পাহাড়ি অবকাশ কেন্দ্রে। তাই জৈন্তা হিল রিসোর্টে থাকা-খাওয়ার সুবিধার সাথে সাথে রয়েছে পাহাড়ের সৌন্দর্য্য অবলোকন করার ব্যবস্থা। পাহাড়, ঝর্ণা, নদী ও সুনীল আকাশ ছাড়াও জৈন্তা হিল রিসোর্ট থেকে আরো চোখে পড়ে স্বচ্ছ পানির গভীর থেকে শ্রমিকদের পাথর তুলে আনার অসাধারণ দৃশ্য। রিসোর্টে না থাকতে চাইলে কতৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এই স্বপ্নপুরী হতে।

জাহাপুর জমিদার বাড়ি
কালের বিবর্তনে জমিদারী প্রথার বিলুপ্তি ঘটলেও কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরে অবস্থিত জাহাপুর জমিদার বাড়ি (Jahapur Zamidar Bari) ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজো টিকে আছে। জাহাপুর গ্রামের প্রায় ৪০০ বছর আগে গৌরি মোহনের হাত ধরে এই জমিদার বাড়িটি নির্মিত হলেও ১৮৬২ খিস্টাব্দে এই বাড়িতে জমিদারীর গোড়াপত্তন হয়। ঢাকা জেলার সরোজী মহালের জমিদার রাধিকা মোহন দাস হতে শ্রী গৌরি মোহন রায়ের মাধ্যমে এই পরিবার জমিদারী লাভ করেন।

ডিঙ্গাপোতা হাওর
নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ডিঙ্গাপোতা হাওর (Dingapota Haor) দেশের বৃহত্তম হাওরগুলোর মধ্যে অন্যতম। ঋতুভেদে ভিন্ন ভিন্ন নবরূপে এই হাওরের সৌন্দর্য ফুটে উঠে। বর্ষাকালে হাওরের অথৈ জলের ধারা, শুষ্ক মৌসুমে চারপাশের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য সবকিছুই প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীদের মোহিত করে। তবে সকল মৌসুমেই হাওরের বিশাল জলরাশির গভীরতম স্থানে থাকা আধডোবা হিজল গাছ, জলরাশির উচ্ছল ঢেউ ও নীল আকাশের মিতালী চোখে পরে। বিশেষ করে শরৎ ও হেমন্তকালে হাওরের দুপাড়ের সবুজ সোনালি ধানক্ষেত ও নীলচে আকাশের সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশী আকর্ষণ করে।

মজিদবাড়িয়া শাহী মসজিদ
পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যশিল্পের এক অন্যতম নিদর্শন মজিদবাড়িয়া শাহী মসজিদ (Majidbaria Shahi Masjid)। আনুমানিক সাড়ে ৫শ বছর পূর্বে স্থাপিত এই শাহী মসজিদটি সুলতানি আমলের মুসলিম স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী। মসজিদের নামানুসারেই এই এলাকার নামকরণ করা হয়েছে। মজিদবাড়িয়া শাহী মসজিদের শিলালিপির থেকে জানা যায়, ১৪৬৫ সালে ইলিয়াস শাহী বংশের নবাব রুকনুদ্দিন বরবকের আমলে খান-ই-মোয়াজ্জেম উজিয়াল খান এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।

বায়তুল মোকাররম মসজিদ
ঢাকার প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানের খুব কাছে পল্টন এলাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ (Baitul Mukarram National Mosque) -এর অবস্থান। ১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারম নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন বাওয়ানি জুট মিলসের তৎকালীন মালিক বিশিষ্ট শিল্পপতি লতিফ বাওয়ানি ও তাঁর ভাতিজা ইয়াহিয়া বাওয়ানি। সিন্ধুর বিশিষ্ট স্থপতি এ এইচ থারানির নকশায় নির্মিত বায়তুল মোকাররম মসজিদের জন্য পল্টনে ৮.৩০ একর জমি বরাদ্দ রাখা হয়। ১৯৬২ সালে মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

ইটাখোলা মুড়া
কুমিল্লা সদর উপজেলার থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে কোটবাড়িতে অবস্থিত ইটাখোলা মুড়া (Itakhola Mura) সপ্তম বা অষ্টম শতকে নির্মিত একটি বৌদ্ধ বিহার। রূপবান মুড়ার বিপরীত পাশে সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৪০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই প্রত্নস্থানে তিনটি স্তর পরিলক্ষিত হয়। প্রাচীনকাল থেকেই এখানে ইট পোড়ানো কারণে জায়গাটি ইটাখোলা মুড়া নামে পরিচিতি লাভ করে।

বালাসী ঘাট
বালাসী ঘাট ( Balashi Ghat ) গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত একটি নৌবন্দর এবং দর্শনীয় স্থান। গাইবান্ধা শহর থেকে বালাসী ঘাটের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। বর্ষায় নদী পানিতে ভরে থাকলেও শীতকালে এখানে বালুর চর ভেসে উঠে। বর্তমানে বালাসী ঘাটের চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য প্রায় প্রতিদিনই ভ্রমণপিয়াসু মানুষের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠছে। নদীর উত্তাল ঢেউ, নির্মল বাতাস আর নৈসর্গিক প্রকৃতি আগত দর্শনার্থীদের মনকে প্রফুল্ল করে তোলে। এছাড়া বালাসী ঘাটে ঘোড়ায় চড়া, নৌকা ভ্রমণ কিংবা রেলওয়ের ফেরি থেকে নদীর বুকে সূর্যাস্থের অপূর্ব দৃশ্যও উপভোগ করা যায়।