দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

বনরাণী ফরেষ্ট রিসোর্ট
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গান্ধিগাঁওয়ে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে জঙ্গল ঘেরা অপরুপ প্রাকৃতিক পরিবেশে আধুনিক পর্যটন স্থাপনা বনরাণী ফরেষ্ট রিসোর্ট (Bonorani Forest Resort) নির্মাণ করা হয়েছে। গজনী অবকাশ কেন্দ্র হতে এই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন পিকনিক স্পট বনরাণী ফরেষ্ট রিসোর্ট পায়ে হেঁটে যেতে মাত্র ১০/১২ মিনিট সময় লাগে। পাহাড়ী ছড়া, সবুজ বন আর বন্য হাতির বিচরনের রোমান্চকর এই রিসোর্টে ক্যাম্প ফায়ার, BBQ ডিনার আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া রিসোর্টের ব্যবস্থাপনায় ৩ বেলা স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।

কমলক ঝর্ণা
কমলক ঝর্ণা (Komlok Waterfalls) দেখতে সাজেক ভ্যালির রুইলুই পাড়া হতে দুই/আড়াই ঘন্টা ট্রেকিং করতে হয়। সাজেক ভ্যালির পাহাড়ের সাথে মেঘের লুকোচুরি খেলা দেখার পর আরো রোমাঞ্চিত হতে চাইলে ঘুরে আসুন কমলক ঝর্ণাটি। তবে এর জন্য অন্তত একদিন সাজেক ভ্যালিতে অবস্থান করা ভাল। কমলক ঝর্ণার স্থানীয় নাম পিদাম তৈসা ঝর্ণা বা সিকাম তৈসা। সুন্দর ঝিরিপথ ধরে চলতে চলতে বিভ্রান্ত হতে পারেন কিংবা অতি বর্ষণে কোথাও কোথাও ঝিরিপথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে সুতরাং প্রথমবার ঝর্ণাটি দেখতে গিয়ে থাকলে একজন গাইড সাথে নিয়ে যাওয়া আবশ্যক।

পদ্মা গার্ডেন
ওডভার মুনক্সগার্ড পার্ক (Oddvar Munksgaard Park) রাজশাহী শহরের পদ্মা নদীর পারে অবস্থিত। পদ্মা নদীর পাশে অবস্থান হওয়ায় পার্কটি পদ্মা গার্ডেন (Padma Garden) নামেই বেশি পরিচিত। বড়কুটি এলাকার ফুতকিপাড়া থেকে দরগাপাড়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত পদ্মা পার্ক।

ব্রহ্মপুত্র নদ
এশিয়া মহাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর নাম ব্রহ্মপুত্র নদ (Brahmaputra River)। সংস্কৃত শব্দ ব্রহ্মপুত্র শব্দের অর্থ ব্রহ্মার পুত্র। হিমালয়ের কৈলাস শৃঙ্গের কাছে জিমা ইয়ংজং হিমবাহ হতে সৃষ্টি হয়ে সাং পো নামে তিব্বতের পুর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে সিয়ং এবং আসামে দিহং নামে বয়ে যাবার সময় দিবং এবং লোহিত নামে আরো দুইটি বড় নদীর সাথে যুক্ত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের জন্ম। এরপর কুড়িগ্রাম জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ময়মনসিংহ অঞ্চল দিয়ে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। উৎপত্তিস্থল থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৯০০ কিলোমিটার। ১৭৮৭ সালে ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখা যমুনা নদীর জন্ম হয়।

কমলদহ ঝর্ণা
সীতাকুন্ডের পরিচিত ঝর্ণা গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কমলদহ ট্রেইলের ঝর্ণা গুলো। মোটামুটি সহজ ট্রেইল এবং অল্প সময়ে কমলদহ ট্রেইলের ঝর্ণা গুলো দেখে আসা যায় বলে ভ্রমণপিয়াসু মানুষের কাছে জনপ্রিয় স্থান হয়ে উঠেছে। কমলদহ ট্রেইলে অনেক গুলো ঝর্ণা আছে। এই ট্রেইলের উপরের দিকে ডানে বায়ে ঝিরি পথ ভাগ হয়ে গেছে। ঝিরি পথ দিয়ে আগালেই দেখা মিলবে ছোট বড় ঝর্ণা আর ক্যাসকেডের।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে মোঃ রুহুল আমিন অন্যতম। ২০০৮ সালের ২০ জুলাই নোয়াখালী জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে সোনাইমুড়ী উপজেলার সদরের দেওটি ইউনিয়নের বাগপাচড়া গ্রামে (বর্তমান রুহুল আমিন নগর) রুহুল আমিনের পৈত্রিক ভূমিতে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর (Birshrestho Ruhul Amin Memorial Museum) নির্মাণ করা হয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই স্মৃতি জাদুঘরে আছে সুসজ্জিত লাইব্রেরী, অফিস ও অভ্যর্থনা কক্ষ।

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ কমপ্লেক্স
বীরশ্রেষ্ট নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামে (বর্তমান নূর মোহাম্মদ গ্রাম) জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণের লক্ষ্যে যশোর অঞ্চলের ৮ নং সেক্টরে যোগদান করেন। এই মহান বীরের দেশপ্রেম ও বীরত্বে পরবর্তী প্রজন্মকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে নড়াইলের চণ্ডিবরপুর ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদনগরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়েছে।

ক্যামেলিয়া লেক, কমলগঞ্জ
সবুজ চা–গাছের সারি, উঁচু–নিচু পাহাড়ি টিলা আর তার মাঝখানে স্বচ্ছ পানির এক শান্ত লেক, এই দৃশ্য দেখলেই বোঝা যায় ক্যামেলিয়া লেক (Camelia Lake) কেন এতটা আলাদা। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানের ভেতরে অবস্থিত এই লেকটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘বিসলার বান’ (Bislar Ban) নামে। নীল আকাশে দল বেঁধে উড়ে যাওয়া অতিথি পাখি, লেকের পানিতে তাদের জলকেলি আর চারপাশের নিস্তব্ধ পরিবেশ মিলিয়ে জায়গাটি প্রকৃতির এক নীরব আশ্রয়।

এগারসিন্দুর দুর্গ
কিশোরগঞ্জ থেকে ২২ কিলোমিটার এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা হতে ৮ কিলোমিটার দূরে এগারসিন্দুর গ্রামে ঈশা খাঁর স্মৃতি বিজড়িত এই দুর্গের অবস্থান। এগারোসিন্ধুর নামের পূর্বে জায়গাটি গঞ্জের হাট নামে পরিচিত ছিল। ১১ টি ছোট বড় খাল বা নদী এই গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পরবর্তীতে এই জায়গা এগারসিন্দুর নামে পরিচিতি পায়। নদী পথে যোগাযোগ সহজ থাকায় তৎকালীন সময়ে এই এলাকা দ্রুত ব্যবসা বানিজ্য ও বসবাসের স্থান হিসেবে পেওসার লাভ করে।

নিউজিল্যান্ড পাড়া
খাগড়াছড়ি জেলা সদর হতে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পানখাইয়া পাড়া এবং পেরাছড়ার কিছু অংশ দেখতে নিউজিল্যান্ডের মত হওয়ায় এলাকাটি স্থানীয়দের নিকট নিউজিল্যান্ড পাড়া (Newzeland Para) হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। আর পানখাইয়া পাড়া হতে পেরাছড়া গ্রামের যাওয়ার পথটিকে নিউজিল্যান্ড সড়ক নামকরণ করা হয়।

ড্রিম হলিডে পার্ক
নরসিংদী জেলার পাঁচদোনার চৈতাবাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ড্রিম হলিডে পার্ক (Dream Holiday Park) অবস্থিত। প্রায় ৬০ একর জমির ওপর নির্মিত পার্কটিতে বিভিন্ন ধরনের ওয়াটার বাম্পার কার, রাইডার ট্রেন, বাইসাইকেল, রকিং বর্স, স্পিডবোট, সোয়ানবোট, জেড ফাইটার, নাগেট ক্যাসেল, এয়ার বাইসাইকেল রয়েছে।

নাজিমগড় গার্ডেন রিসোর্ট
সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগরের পাহাড়ের কোলে প্রায় ৬ একর জমির উপর অবস্থিত নাজিমগড় গার্ডেন রিসোর্ট (Nazimgarh Garden Resort) । ছবির মত সুন্দর এই রিসোর্টে অবকাশ যাপনের সাথে সাথে খাসিয়া পল্লী ও চা বাগানের মুগ্ধতা উপভোগ করা যায়।

রাণী ভবানী নাটোর রাজবাড়ী
প্রাচীন জনপদ নাটোর জেলায় সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত রাণী ভবানী রাজবাড়ী (Rani Bhawani Rajbari) কে বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৬ সালে রাণী ভবানী কেন্দ্রীয় পার্ক হিসাবে ঘোষনা করে। রাণী ভবানী কেন্দ্রীয় পার্কে রয়েছে ৬ টি দীঘি এবং শ্যামসুন্দর, তারকেশ্বর শিব এবং আনন্দময়ী কালিবাড়ি নামের ৩ টি মন্দির, যেগুলাতে এককালে রাজকীয় ভাবে পূজা – আর্চনার আয়োজন করা হত। রা্ণী ভবানী রাজবাড়ি নাটোর রাজবাড়ি (Natore Rajbari) নামেই অধিক পরিচিত।

রায়ের বাজার শহীদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধ
শহীদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধ (Shahid Intellectual Memorial) যা রায়ের বাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ ও শহীদ বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ নামেও পরিচিত। স্মৃতি স্মারকটির অবস্থান ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার এলাকায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তিলগ্নে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের সহযোগীদের সহায়তায় দেশের যে-সকল শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবী এবং অন্যান্যদের হত্যা করেছিল তাঁদের শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ এটি নির্মাণ করা হয়।

সী পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা
বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের ইনানী বিচে গড়ে তোলা হয়েছে ফাইভ স্টার হোটেল সী পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা (Sea Pearl Beach Resort And Spa) । এক পাশে সমুদ্র আর অন্য পাশে আকাশচুম্বী পাহাড় নিয়ে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে সর্বদা প্রস্তুত স্পেনীয় স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত লাক্সারিয়াস এই রিসোর্টটি। প্রায় ৫০ বিঘা জায়গা জুড়ে বিস্তৃত রিসোর্টের ভেতর এবং বাহিরের প্রতিটি নির্মাণেই আভিজাত্য এবং স্বকীয়তা বিশেষভাবে চোখে পড়ে, যা হোটেলে আগত অতিথিদের কাছে রাজকীয় অনুভূতি এনে দেয়।

কুতুবদিয়া দ্বীপ
কুতুবদিয়া ( Kutubdia ) কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি দ্বীপ উপজেলা। নানান রকম বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ২১৬ বর্গ কিলোমিটার। এই দ্বীপে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সমুদ্র সৈকত, লবণ চাষ, বাতিঘর এবং কুতুব আউলিয়ার মাজার।