দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

ঠাকুরপুর জামে মসজিদ
ঠাকুরপুর জামে মসজিদ (Thakurpur Jame Mosque) ঐতিহ্য আর নান্দ্যনিকতায় চুয়াডাঙ্গা জেলার একটি অন্যতম প্রাচীন ইসলামিক স্থাপত্য নিদর্শন। চুয়াডাঙ্গা থেকে ২ কিলোমিটার দূরে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের পার্শ্ববর্তী ঠাকুরপুর গ্রামে অবস্থিত ঠাকুরপুর জামে মসজিদটি বর্তমানে পীরগঞ্জ জামে মসজিদ হিসেবে সুপরিচিত। মসজিদের মূল অংশ নির্মাণের ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য পাওয়া না গেলেও স্থানীয় প্রবীণদের মতে, ১৬৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সাধক পুরুষ হযরত আফু শাহ্ ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দ্যেশ্যে ঠাকুরপুরে এসে খানকা স্থাপন করেন। তিনি জীনদের সাহায্যে এক রাতের মধ্যেই মসজিদটি নির্মাণ করেন। একারণে স্থানীয় অনেকে এই মসজিদটি “জিনের মসজিদ” হিসেবে অভিহিত করেন।

উলিপুর মুন্সিবাড়ী
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে উলিপুর মুন্সিবাড়ীর (Ulipur Munshi Bari) অবস্থান। উলিপুর বাজার থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে প্রায় ৩৯ একর জায়গার উপর মুন্সিবাড়ীর বিশাল অট্টালিকাগুলো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আঠারো শতকে বিনোদী লালের পালক পুত্র শ্রী ব্রজেন্দ্র লাল মুন্সির তত্ত্বাবধানে চমৎকার স্থাপত্যের এই মুন্সিবাড়ী নির্মিত হয়। মূল ভবনে আছে শয়ন কক্ষ, ডাইনিং হল, রান্নাঘর, অঙ্কন কক্ষ, বিশ্রাম ঘর এবং অতিথিশালা। মূল বাড়ীর পিছনের দিকে শিব মন্দির, উন্মুক্ত দোল মঞ্চ, তুলসি বেদী, নাট মন্দির, দূর্গা মন্দির ও কূপসহ স্নানাগার রয়েছে। এছাড়া মূল ফটকের পাশে আছে কাঁঠালি চাপা ফুলের গাছ এবং শান বাঁধানো পুকুর ঘাট।

জিঞ্জিরা প্রাসাদ
জিঞ্জিরা প্রাসাদ ঢাকার কেরাণীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মোগল স্থাপনা। এটি ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে সুবেদার দ্বিতীয় ইব্রাহিম খাঁ প্রমোদকেন্দ্র হিসাবে নির্মাণ করেন। প্রাসাদটি চারপাশে পানি বেষ্টিত হওয়ায় এর নামকরণ হয়েছিল জিঞ্জিরা বা দ্বীপের প্রাসাদ।

আমিয়াখুম জলপ্রপাত
বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলায় অবস্থিত একটি অসাধারণ জলপ্রপাতের নাম আমিয়াখুম (Amiakum Waterfall)। এটি বাংলাদেশের দুর্গম জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম। সবুজে মোড়া পাহাড় আর পাথরের বাধা পেরিয়ে দুধসাদা রঙের ফেনা ছড়িয়ে তুমুল বেগে নিচে নেমে আসছে শীতল পানির ধারা। লোকালয় থেকে অনেক দূরে বিশুদ্ধ প্রকৃর মাঝে জলের পতন আর প্রবাহের শব্দতরঙ্গের সুরের মূর্ছনা পর্যটকদের মোহাবিষ্ট করে তোলে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা আমিয়াখুম জলপ্রপাত অনেকের কাছে পেয়েছে বাংলার ভূস্বর্গ নামের সুখ্যাতি। ঝর্ণার রূপে মুগ্ধ হয়ে কেউ কেউ আবার একে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর জলপ্রপাত হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

আনন্দ পার্ক রিসোর্ট
আনন্দ পার্ক রিসোর্ট বা আনন্দ রিসোর্ট ( Ananda Park Resort ) গাজীপুরের কালিয়াকৈরের একটি পরিচিত নাম। ৪২ বিঘা জায়গায় বিনোদনের বিভিন্ন আয়োজন নিয়ে গড়ে উঠা আনন্দ রিসোর্টটির সাথে নামের যথার্থতা লক্ষ্য করা যায়। কালিয়াকৈরের সিনাবহের তালতলি এলাকায় অবস্থিত এই রিসোর্টে বিভিন্ন রকম রাইডের পাশাপাশি রয়েছে সরাসরি বিল থেকে মাছ শিকারের ব্যবস্থা। ঢাকা থেকে কাছে গাজীপুরের এই রিসোর্ট থেকে চাইলে দিনে গিয়ে দিনেই ঘুরে আসা যায়।

আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ
চট্টগ্রাম শহর থেকে ৭.৬ কিলোমিটার দূরে আন্দরকিল্লা সার্কেলের কাছে মোঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য নিদর্শন আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ (Anderkilla Shahi Jame Masjid) অবস্থিত। ঐতিহাসিক সূত্র মতে, মোঘল আমলে কিল্লা আরকানি মগ ও পর্তুগীজ জলদস্যুদের আস্তানা ছিল। ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ২৭শে জানুয়ারি বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খা’র ছেলে বুজুর্গ উমেদ খাঁর এই আস্তানার অন্দরে প্রবেশের মাধ্যমে “আন্দর কিল্লা” নামকরণ করা হয়। পরবর্তীতে মগ ও পর্তুগীজদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিজয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে শায়েস্তা খাঁ ১৬৬৭ খ্রিষ্টাব্দে এখানে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ নির্মাণ করেন। পবিত্র মদিনা থেকে মসজিদের ইমাম নিযুক্ত করা হয়।

আলতাদীঘি
নওগাঁ জেলাস্থ ধামইরহাট উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে আলতাদীঘি (Alta Dighi) অবস্থিত। ধামইরহাট হতে গ্রামীণ আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে যতই এগিয়ে যাওয়া যায় ততই গাছগাছালি ঘেরা সবুজ প্রকৃতির মুগ্ধতাকে উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারিভাবে সংরক্ষিত শালবন এবং লাল মাটির পাহাড়ি এলাকার মতো বনের উঁচু-নিচু ট্রেইলে হাঁটলে গ্রাম বাংলার এক বিচিত্র রূপের সৌন্দর্য আহরণ করতে পারবেন।

ভাসু বিহার
ভাসু বিহার বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার গ্রামে অবস্থিত একটি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এটি গুপ্তযুগের বৌদ্ধ বিহার ও মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৩-৭৪ সালে খনন কাজের মাধ্যমে এখানে বিভিন্ন মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে।

ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি
ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। এটি আনুমানিক ১৯০০ শতকে জমিদার যদুনাথ সাহা নির্মাণ করেন। ভবনের গ্রীক স্থাপত্যশৈলী এবং ভেতরের দেয়ালে ময়ূর, সাপ ও বিভিন্ন ফুল-পাখির নকশা বিশেষ আকর্ষণীয়।

উত্তরা গণভবন
নাটোরের উত্তরা গণভবন, যা দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি নামেও পরিচিত, একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা যা বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্থানীয় কার্যালয় ও বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি ৪৩ একর আয়তনের একটি প্রাসাদ কমপ্লেক্স, যেখানে ১২টি ভবন, একটি লেক, এবং সুসজ্জিত বাগান রয়েছে।

আবদুস সালাম স্মৃতি জাদুঘর
ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সালে ফেনী (Feni) জেলার লক্ষণপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর নামানুসারে লক্ষণপুর গ্রামের বর্তমান নাম সালাম নগর। পিতার চাকুরীর সুবাদে ভাষা আন্দোলনের সময় শহীদ আব্দুস সালাম ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাশে কোয়ার্টারে থাকতেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের সামনের রাস্তায় ১৪৪ ধারা অগ্রাহ্য করে ছাত্র জনতার বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে পুলিশের গুলিতে আব্দুস সালাম আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় প্রায় দেড় মাস পর ১৯৫২ সালের ০৭ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আলীপুর মাছ বাজার
বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী পটুয়াখালী জেলার বরিশাল-পটুয়াখালী সংলগ্ন রোডে দক্ষিণাঞ্চলের জনপ্রিয় আলীপুর মৎস্য বাজার (Alipur Fish Market) অবস্থিত। এখানে দেশী ও সামুদ্রিক মাছের আড়ত আছে। বাজারে ছোট খাটো হাওর থেকে শুরু করে বড় নদী ও সাগর থেকে সংগ্রহীত প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। কাঁকড়া, রূপচাঁদা, কোরালসহ বিভিন্ন জাতের সামুদ্রিক ও দেশীয় মাছের দেখা মিলবে এই বাজারে। এমনকি প্রায়ই ছোট ছোট হাঙ্গর মাছেরও সন্ধান মিলে। বাজার ঘুরে সস্তায় মাছ কেনার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারি ও খুচরা মৎস্য ব্যবসায়ীরা আলীপুর মাছ বাজারে ভিড় করেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (University of Rajshahi) বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, যা ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে মাত্র ১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩৮ হাজারের বেশী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর সবুজে ঘেরা বিশাল ক্যাম্পাস, ঐতিহাসিক নিদর্শন ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য শিক্ষানুরাগী ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১৯২১ সালের ১ জুলাই রাজধানী ঢাকার শাহবাগে প্রায় ৬০০ একর জমির উপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka) যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎকালীন সময়ে ৩ টি ফ্যাকাল্টি, ১২ টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক এবং ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী ছিল। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ টি ফ্যাকাল্টি, ৮৪ টি বিভাগ এবং ১২ টি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৪৬,০০০ শিক্ষার্থী এবং ১,৮০৫ জন শিক্ষক রয়েছে৷ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রগতিশীলতার ধারক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তারুণ্যের উন্মত্ততা বহু ঐতিহাসিক ঘটনাকে জন্ম দিয়েছে। মেধা ও মননে বিকশিত বিদ্যার্থীদের পদচারনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খ্যাত হয়ে উঠে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসাবে।

আলীর গুহা বা আলীর সুড়ঙ্গ
প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট রহস্যময় আলীর গুহা (Ali’s Cave) বা আলীর সুড়ঙ্গ বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় অবস্থিত। আলীর পাহাড় থেকে এর নাম করণ হয় আলীর সুড়ঙ্গ। আলীকদম সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে মাতামুহুরী-টোয়াইন খাল ঘেঁষে দুই পাহাড়ের চুড়ার এই গুহা নিয়ে রহস্যের শেষ নেই।

টিপরাছড়া গলফ মাঠ
টিপরা ছড়া গলফ মাঠ (Tipra Cherra Golf Course) মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। জায়গাটি অনেকের কাছে হরিণছড়া গলফ মাঠ (Harinchara Golf Field) নামেও পরিচিত। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই স্থানের কিছু ভিডিও ও স্থির চিত্র ভাইরাল হবার পর অনেক দর্শনার্থীর মধ্যে জায়গাটি নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়।