দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

বিথাঙ্গল বড় আখড়া
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় বিতঙ্গল গ্রামে বিথাঙ্গল বড় আখড়া (Bithangal Bara Akhara) বা বিতঙ্গল আখড়ার অবস্থান। বৈষ্ণব ধর্মালম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান হিসাবে পরিচিত এই আখড়াটি ষোড়শ শতাব্দীতে রামকৃষ্ণ গোস্বামী নির্মাণ করেন। মধ্যযুগীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বিথাঙ্গল বড় আখড়ায় ১২০ জন বৈষ্ণবের জন্য পৃথক কক্ষ রয়েছে। এখানে যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্য্যের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব আয়োজন করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে আছে আষাড় মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রথযাত্রা, ফাল্গুন মাসে দোল পূর্ণিমার ৫ দিন পর পঞ্চম দোল উৎসব, কার্তিক মাসের শেষ দিনে ভোলা সংক্রান্তিতে কীর্তন, চৈত্রের অষ্টমী তিথিতে পূণ্যস্নান ও বারুনী মেলা ইত্যাদি।

দারাসবাড়ি মসজিদ
দারাসবাড়ি মসজিদ (Darasbari Mosque) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের অমপুর নামক স্থানের কাছে অবস্থিত। স্থানীয় বাসীন্দারা এই মসজিদের স্থানটিকে দারাসবাড়ি নামে চেনে। মসজিদের শিলালিপি থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ১৪৯৭ সালে সুলতান শামসুদ্দিন ইউসুফের শাসন আমলে দারাসবাড়ি মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। শুরুতে মসজিদটির নাম ছিল ফিরোজপুর মসজিদ কিন্তু ১৫০৪ সালে দারাসবাড়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর মানুষের মুখে মুখে দারাসবাড়ি মসজিদ নামটি পরিচিত হয়ে উঠে। টেরাকোটা ইট দিয়ে তৈরি দারাসবাড়ি মসজিদটির সাথে ভারতের চামচিকা মসজিদের অনেক সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। মসজিদের ভেতরের আয়তক্ষেত্র দুই ভাগে বিভক্ত এবং এর মূল গম্বুজটি দেখতে অনেক আকর্ষণীয়। দারাসবাড়ি মসজিদের দৈর্ঘ্য ৯৯ ফুট ৫ ইঞ্চি ও প্রস্থ ৩৪ ফুট ৯ ইঞ্চি এবং মসজিদের পূর্ব দিকে ১০ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা একটি বারান্দা রয়েছে। মসজিদে মোট ৯ টি কারুকার্যময় মেহরাব রয়েছে। আর মসজিদটির উত্তর দিকে রয়েছে প্রায় ৬০ বিঘা আয়তনের একটি বিশাল দিঘী।

চন্দ্রিমা উদ্যান
ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র সংসদ ভবন সংলগ্ন ক্রিসেন্ট লেকের পাশে চন্দ্রিমা উদ্যান (Chandrima Uddan) অবস্থিত। চন্দ্রিমা উদ্যান নামকরণ নিয়ে ভিন্ন মত প্রচলিত আছে। কেউ কেউ মনে করেন এখানে একটি বাড়ি ছিল, যার মালিকের নাম চন্দ্রিমা। আবার কারো মতে, অর্ধচন্দ্রাকৃতির ক্রিসেন্ট লেকের সাথে মিলিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ এটির নাম রাখেন চন্দ্রিমা উদ্যান।

বার্গি লেক ভ্যালি
বার্গি লেক ভ্যালি (Bargee Lake Valley) রাঙ্গামাটির আসামবস্তী-কাপ্তাই রোডে অবস্থিত। পাহাড়ের বিলুপ্ত একটি ঐতিহ্যবাহী পাখির নামে পর্যটনকেন্দ্রটির নামকরণ করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা থেকে বার্গি লেক ভ্যালি মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে। বার্গি লেক ভ্যালি রাঙ্গামাটির একটি জনপ্রিয় ইকো-রিসোর্ট এবং পর্যটন স্পট। এখানে পর্যটকেরা নয়নাভিরাম সবুজ প্রাকৃতিক দৃশ্য ও কাপ্তাই লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করে থাকে। পর্যটকদের জন্য এখানে ক্যাম্পিং ও কায়াকিং করার সুবিধা রয়েছে। এছারা রিসোর্টে রয়েছে রাত্রিযাপনের জন্য উন্নত কটেজ, হাউজবোট ও ক্যাম্পিং করার বেবস্থা। ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে থাকতে পারবেন তাঁবুতে। আপনি যদি পরিবার বা বন্ধু বান্ধব নিয়ে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চান তাহলে বার্গি লেক হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণ গন্তব্য।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা
রাজধানী ঢাকার মিরপুরে মনোরম প্রকৃতিক পরিবেশে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ( Bangladesh National Zoo ) অবস্থিত। জনসাধারণের বিনোদন, প্রাণি বৈচিত্র সংরক্ষণ, প্রজনন, গবেষণা এবং বন্যপ্রাণি সম্পর্কিত জ্ঞান বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে ১৯৫০ সালে ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে অল্প সংখ্যক বন্যপ্রাণি নিয়ে বাংলাদেশে চিড়িয়াখানার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে মিরপুরে চিড়িয়াখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয় এবং ১৯৭৪ সনের ২৩ জুন বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও গবেষণারের নাম চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা (Chittagong Zoo)। ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পাহাড়তলী ইউএসটিসি মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন ৬ একর জায়গাজুড়ে বানর, সিংহ, হরিণ ও হনুমান এই চার প্রজাতির ১৬টি প্রাণী নিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা যাত্রা শুরু করে।

চন্দ্রলোক ক্যাম্পিং সাইট এন্ড রিসোর্ট
চন্দ্রালোক ক্যাম্পিং সাইট এন্ড রিসোর্ট (Chandralok Camping Site and Resort) রাঙ্গামাটি কাপ্তাই শিলছড়ি হাজিরটেক এলাকায় অবস্থিত। প্রকৃতির সৌন্দর্যে অভিজ্ঞতা তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে হিল ল্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার-এর উদ্যোগে নির্মিত এই রিসোর্ট যাত্রা শুরু করে। পর্যটকরা এখানে নিরাপদ, শান্ত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এক নতুন গন্তব্যের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন এই রিসোর্টে। রিসোর্টটি নতুন হলেও রূপের রাণী রাঙ্গামাটির নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি করছে। আর যাদের প্রকৃতির কাছে থাকতে ভালো লাগে, যারা বাজেট-ফ্রেন্ডলি ক্যাম্পিং অভিজ্ঞতা চায়, তাদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে।

বোয়ালিয়া ট্রেইল
বোয়ালিয়া ট্রেইল (Boalia Trail) চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলায় অবস্থিত। সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা শান্ত ঝিরিপথ, চারপাশের বন্য পরিবেশ আর একের পর এক নান্দনিক জলপ্রপাতের রোমাঞ্চকর মেলবন্ধনের নাম বোয়ালিয়া ট্রেইল। প্রকৃতির এক অপার বিস্ময় আর ট্র্যাকিং অ্যাডভেঞ্চারের স্বর্গরাজ্য হলো চট্টগ্রামের মিরসরাই। এই মিরসরাই উপজেলার অন্যতম একটি আকর্ষণীয় এবং অফবিট রুট হলো বোয়ালিয়া ট্রেইল। খৈয়াছড়া বা নাপিত্তাছড়ার চেয়ে তুলনামূলক কম পরিচিত হওয়ায় এই ট্রেইলের প্রকৃতি এখনো অনেকটা আদিম, শান্ত ও প্লাস্টিক দূষণমুক্ত। বোয়ালিয়া ট্রেইলের মূল বিশেষত্ব হলো, অল্প পরিশ্রমে এখানে মূল বোয়ালিয়া ঝরনা ছাড়াও উত্তরণ, বাঘবিয়ানী এবং অমরমাণিক্য ঝরনার মতো বেশ কয়েকটি দারুণ জলপ্রপাতের দেখা মেলে।

বাবুডাইং
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ঝিলিম ইউনিয়নে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় পাহাড়ি বনভূমিতে বাবুডাইং পিকনিক স্পট (Babu Daing Picnic Spot) অবস্থিত। রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে প্রায় ৩০০ একর জায়গা জুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চলের এই পাহাড়ি বনভূমি গঠিত। বনের শেষ প্রান্তে ভূখণ্ড থেকে বেশ উপরে অবস্থিত গোল চত্বর থেকে পূর্ব দিকে গড়ে উঠা টিলার মতো উঁচু-নিচু অংশটিই বাবুডাইং হিসেবে পরিচিত। এই চত্বর থেকে নিচে তাকালেই নজরে পড়বে পর্যটকদের মুগ্ধ করার মতো ঢেউ খেলানো অদ্ভুত সুন্দর বন। এই বন পেরিয়ে সামনে আগালে গাছে গাছে থাকা জানা-অজানা বিভিন্ন পাখী ও বেশ কিছু মনোরম ঝর্ণার দেখা মিলবে। এছাড়া বনের মাঝে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠা আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ লেকে একটি ক্রসড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। এই ড্যামের মাধ্যমে লেকের পানি ব্যবহার করে জমিতে সেচ দেওয়া হয়। প্রবল বেগে প্রবাহিত এই ড্যামের পানি দূর থেকে দেখলে অনেকটাই ঝর্ণার মতো দেখায়। এই ড্যাম পার হয়ে দুই পাশের ঘাসের মাঝ দিয়ে হেঁটে বাবুডাইং পিকনিক স্পটে যেতে হয়।

বাঘা মসজিদ
রাজশাহী শহর থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরে ঐতিহাসিক বাঘা মসজিদ ( Bagha Mosque ) অবস্থিত। ইট দিয়ে তৈরি প্রাচীন এই মসজিদটির চারপাশে ৪ টি এবং মাঝখানে দুই সারিতে মোট ১০ টি গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের পূর্ব পাশের ৫ টি দরজা ছাড়া উত্তর-দক্ষিণের দেয়ালের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাঘা মসজিদের ভেতরে এবং বাইরে প্রচুর পোড়া মাটিরফলক দেখতে পাওয়া যায়। মসজিদের ভেতরে উঁচু বেদিতে একটি বিশেষ নামাজের কক্ষ রয়েছে। এই বিশেষ নামাজের কক্ষ কার বা কাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল তা এখনো অজানা রয়েছে।

বুড়ির হাট জামে মসজিদ
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত বুড়ির হাট জামে মসজিদ (Burir Hat Jame Masjid) বাংলাদেশের ইসলামী স্থাপত্যকলার এক অন্যতম নিদর্শন। বুড়ির হাট বাজারে প্রায় একশত বছর আগে এই বিখ্যাত মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। ঐতিহাসিক বুড়ির হাট মসজিদ অত্র জেলার সর্বোৎকৃষ্ট স্থাপনাগুলোর মধ্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

চাঁচড়া শিবমন্দির
যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া গ্রামে অবস্থিত চাঁচড়া শিবমন্দির ( Chanchra Shiva Mandir ) প্রায় ৩২২ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। ১৬৯৬ খ্রিষ্টাব্দে চাঁচড়ার রাজা মনোহর রায় এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। আটচালা ধরনের চাঁচড়া শিবমন্দিরের মূল আয়তাকার চৌচালা ছাদের উপর আরেকটি ছোট আকারের চৌচালা ছাদ তৈরী করা হয়েছে। পূর্বমুখী চাঁচড়া শিবমন্দিরের সামনে তিনটি খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বার রয়েছে। পোড়ামাটির ফলকে নান্দ্যনিক ভাবে অলংকৃত মন্দিরের দৈর্ঘ্য ৯.৫ মিটার এবং প্রস্থ ৮.১৩ মিটার। চাঁচড়া শিবমন্দির তৈরীতে চুন, সুরকি ও বর্গাকৃতির ইট ব্যবহার করা হয়েছে।

শোলাকিয়া ঈদ্গাহ ময়দান
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ ময়দান। ১৮২৮ সাল থেকে এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ৭ একর আয়তনের শোলাকিয়া ঈদগাহ (Sholakia Eidgah) মাঠে মোট ২৬৫ সারি আছে এবং প্রতি সারিতে প্রায় ছয়-সাতশ করে মুসল্লি দাঁড়াবার ব্যবস্থা আছে। সেই হিসেবে মাঠে এক লাখ ষাট থেকে আঁশি হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের সময় দেখা যায় মাঠে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় চারপাশের খোলা জায়গা, আশপাশের সড়ক, আশেপাশের ঘর বাড়ির উঠানেও নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। এভাবে প্রায় তিন লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ পড়ে থাকেন। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ও বিদেশ থেকে অনেক মুসুল্লির আগমনে এ মাঠের ঈদের জামাতের মর্যাদা অনেক বেড়ে গেছে। এমনকি বহু পর্যটক এই অভূতপূর্ব মহামিলনের সময়টি দেখার দেখার জন্যে শোলাকিয়ায় উপস্থিত হয়।

জোড় বাংলা মসজিদ
ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে এক গম্বুজ বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন জোড় বাংলা মসজিদ (Jor Bangla Masjid) বা জোড়া ঢিবি মসজিদের অবস্থান। মসজিদের কারুকার্য ও স্থাপত্যশিল্প মুসলিম সভ্যতা ও উৎকর্ষতার এক অন্যতম নিদর্শন হিসাবে গন্য করা যায়। ধারণা করা হয়, ৮০০ হিজরি সনে আলাউদ্দিন হুসাইন শাহের পুত্র শাহ সুলতান মাহমুদ জোড় বাংলা মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। বহু বছর আগে এই স্থানে থাকা এক জোড়া কুঁড়ে ঘর বা জোড়া দীঘির সেকারণেই মসজিদের এমন নামকরণ করা হয়েছে।

ঝিটকার সরিষা ক্ষেত
রাজধানী ঢাকার কাছে সরিষা ক্ষেতের সৌন্দর্যে বুঁদ হতে চাইলে ঘুরে আসুন মানিকগঞ্জ জেলার ঝিটকার (Jhitka) দিগন্ত বিস্তৃত সরিষা ক্ষেত থেকে। খেজুর গাছের সারি, হলুদ ফুলের মুগ্ধতা আবার কোথাও মধুচাষীদের মধু সংগ্রহের ধুম যেন প্রকৃতি নিরব উৎসবের আহ্বান জানাতে ব্যকুল। শীতের কুয়াশায় মোড়া হলুদ সরিষার ক্ষেত যেন রূপকথার রাজ্য থেকে তুলে আনা কোন জীবন্ত ছবি। আর খুব সকালে ঝিটকায় আসলে সরিষা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগের সাথে সাথে তাজা খেজুরের রস চেখে দেখার সুযোগ মিলবে অনায়াসেই।

বিউটি বোর্ডিং
পুরান ঢাকার বিউটি বোর্ডিং (Beauty Boarding) বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অনন্য এক আড্ডার স্থান। বাংলাবাজারের বইয়ের মার্কেট ছাড়িয়ে কিছুটা এগিয়ে শ্রীশদাস লেনে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা। পুরান ঢাকার অন্যান্য আধুনিক ভবনের তুলনায় বিউটি বোর্ডিংকে কিছুটা জীর্ণ ও প্রাচীন মনে হলেও, এর প্রতিটি ইটে মিশে আছে ইতিহাসের পদচিহ্ন এবং বাঙালি বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার স্মৃতি।