দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

হাতিমাথা
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ইউনিয়নের একটি পাহাড়ি পথকে মায়ুং কপাল বা হাতিমুড়া (Hatimura) নামে ডাকা হয়। স্থানীদের কাছে হাতিমাথা খ্যাত এই স্থানের চাকমা নাম ‘এদো সিরে মোন’। আবার অনেকের কাছে এটি স্বর্গের সিড়ি হিসাবেও পরিচিত। বহু নামের অধিকারী হাতিমাথা পাহাড়ের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ১৫ গ্রামের বাসিন্দা চলাচল করে। গ্রামবাসীর চলাচলকে সুবিধাজনক করতে হাতিমাথা পাহাড়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কতৃক ৩০৮ ফুট লম্বা লোহার সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে।

ষোলআনী সৈকত
ঢাকা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানায় মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষা ষোলআনী প্রজেক্ট বর্তমানে ষোলআনী সৈকত (Sholoani Saikat) নামে পরিচিত। এই স্থানটি আগে দৌলতপুর নামে পরিচিত ছিল। নদী ভাঙ্গন রোধ করতে মেঘনা নদীর পাড়ে সিসি ব্লক দিয়ে বাধ নির্মাণের ফলে এই স্থানটির সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পায় এবং তা প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। ঢাকা থেকে দূরত্ব কম হওয়ার কারণে বাইকারদের কাছে এই স্থান অতি অল্প সময়ে অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

স্প্রিং ভ্যালি রিসোর্ট
নগর জীবনের ব্যস্ততার অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে রাজধানী ঢাকার কাছে গাজীপুরের সালনাতে গড়ে উঠা স্প্রিং ভ্যালি রিসোর্ট (SpringValley Resort) একটি আদর্শ স্থান। পরিবার, প্রিয়জন কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে পিকনিক অথবা হ্যাংআউটের উদ্দেশ্যে যে কোনো দিন স্প্রিং ভ্যালি রিসোর্টে চলে আসতে পারেন। ১২ বিঘা জমির উপর গ্রামীণ আবহে নির্মিত এই রিসোর্টটি ট্রিপসিলো নামক একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। এই রিসোর্টে রয়েছে বিভিন্ন রকম খেলাধুলার ব্যবস্থা, বিশাল খেলার মাঠ, সুইমিং পুল এবং পুকুর। এখানে আগত অতিথিরা চাইলে পুকুরে মাছ ধরা ও নৌকায় ভেসে বেড়াতে পারেন। ঢাকার বেশ কাছাকাছি দূরত্বে কম খরচে চিত্তবিনোদনের জন্য রিসোর্টটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, তাই ছুটির দিনের জন্য অগ্রিম বুকিং দিয়ে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

মারমেইড বিচ রিসোর্ট
একপাশে ঝাউবনে ঘেরা সমুদ্র সৈকত এবং অন্যপাশে পাহাড় বেষ্টিত পেঁচারদিয়া গ্রামের পেঁচার দ্বীপ স্থানটি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পেঁচার দ্বীপের মাঝখান দিয়ে তৈরী করা হয়েছে ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক। টেকনাফগামী মেরিন ড্রাইভ সড়কের পশ্চিম পাশে রেজু খালের কাছে গড়ে তোলা হয়েছে মারমেইড বিচ রিসোর্ট (Mermaid Beach Resort) ।

মির্জাপুর শাহী মসজিদ
মির্জাপুর শাহী মসজিদ (Mirzapur Shahi Masjid) বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে। মির্জাপুর শাহী মসজিদটি প্রায় সাড়ে ৩০০ বছরের পুরনো। ঢাকায় অবস্থিত হাইকোর্ট মসজিদের নকশার সাথে মির্জাপুর শাহী মসজিদের নকশার অনেক মিল চোখে পড়ে।

রাঙ্গুনিয়া কোদালা চা বাগান
১৮৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কোদালা চা বাগান (Kodala Tea Estate) বাংলাদেশের প্রথম এবং শীর্ষস্থানীয় চা বাগানের মধ্যে অন্যতম। সবুজ পাহাড় আর প্রাকৃতিক নিঃস্বর্গে সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া সদর উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কোদালা ইউনিয়নে এই ঐতিহ্যবাহী কোদালা চা বাগানের অবস্থান। চা বাগানের পাশে দিয়ে রূপের মাধুরী ছড়িয়ে বয়ে গেছে লুসাই কন্যা কর্ণফুলী। চা শ্রমিকদের কর্মতৎপরতা, পাখির কিচিরমিচির শব্দ এবং ব্রিটিশ আমলের বাংলো প্রভৃতি যেন ১০০ বছর আগের কোন ঘটনা ধারাবাহিকভাবে পুনরাবৃত্তি করে চলেছে।

ষাট গম্বুজ মসজিদ
ষাট গম্বুজ মসজিদ (Shaat Gombuj Mosque) খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। মসজিদটির কোন শিলালিপি না থাকায় ষাট গম্বুজ মসজিদের প্রতিষ্টাতা ও নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মসজিদের স্থাপত্যশৈলী দেখে খান-ই-জাহান ১৫০০ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এ মসজিদে ব্যবহৃত পাথরগুলো রাজমহল থেকে আনা হয়েছিলো। ষাট গম্বুজ মসজিদটি বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। ইউনেস্কো ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

সন্তোষপুর রাবার বাগান
সন্তোষপুর রাবার বাগানটি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নে গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে সন্তোষপুর রাবার বাগান (Santoshpur Rubber Garden) থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে গাছের কষ সংগ্রহ করে রাবার তৈরি করা হয়, যা বিদেশেও রফতানি করা হয়। অপূর্ব সন্তোষপুর বনাঞ্চল ১০৬ একর পাহাড়ি জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এছাড়া বনে শাল ও গজারিসহ নানা জাতের বৃক্ষ এবং বিরল প্রজাতির প্রায় পাঁচশতাধিক বানর রয়েছে।

সাইরু হিল রিসোর্ট
সাইরু হিল রিসোর্ট ( Sairu Hill Resort ), অবস্থান ও সৌন্দর্যের কথা চিন্তা করলে বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর রিসোর্ট গুলোর একটি। বান্দরবান শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে বান্দরবান-থানচি সড়কের চিম্বুক পাহড়ের আগে এর অবস্থান। প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচু পাহাড় চূড়ায় নান্দনিক ডিজাইন, প্রকৃতির ছায়ায় সাজানো গুছানো পরিবেশ, চারপাশের সবুজ পাহাড় সারি, চোখের সামনে মেঘেদের আনাঘোনা, প্যানোরোমিক ভিউ এই সব কিছু আপনার সময়টুকু উপভোগ্য করে তুলবে। অত্যাধুনিক বিলাশবহুল এই রিসোর্টে আছে সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা। আছে সুন্দর এক সুইমিংপুল। পরিবার, কাপল কিংবা হানিমুনের জন্যে আদর্শ হতে পারে সাইরু হিল রিসোর্ট।

কচিখালী সমুদ্র সৈকত
সুন্দরবনের কটকা নদীর পূর্ব দিকে অবস্থিত প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত কচিখালী সমুদ্র সৈকত (Kochikhali Sea Beach) একটি চমৎকার দর্শনীয় স্থান। সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি এখানে আছে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং পর্যটন কেন্দ্র। সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের এই সৈকতটিকে বলা হয় ভয়ংকর সুন্দর! কারণ সৈকতে পৌঁছাতে হলে বঙ্গোপসাগরের মোহনার খরস্রোতা কটকা নদী ও সুন্দরবনের ভিতরের প্রায় ৩ কিলোমিটার বুনো পথ পাড়ি দিতে হয়। এই পথে প্রায়ই হরিনের পাল, বন্য শুকর এবং বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যায়।

ইদ্রাকপুর কেল্লা
ইদ্রাকপুর কেল্লা ( Idrakpur Fort ) মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরে অবস্থিত মোঘল স্থাপত্যের একটি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালিন বাংলার সুবাদার ও সেনাপতি মীর জুমলা ইছামতি নদীর তীরে ইদ্রাকপুর নামক স্থানে এই কেল্লাটি নির্মাণ করেন। ৮২ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৭২ মিটার প্রস্থের ইটের তৈরি ইদ্রাকপুর কেল্লাটি মগ জলদস্যু এবং পর্তুগিজদের হাত থেকে রক্ষার জন্য নির্মাণ করা হয়।

উজানী রাজবাড়ী
গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে মুকসুদপুরে অবস্থিত উজানী রাজবাড়ী (Ujani Palace) একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। কালের বিবর্তনে রাজবাড়ীর প্রাচীন শিল্প নিদর্শনগুলো অনেকাংশে হারিয়ে গেছে। তবে জমিদারী প্রথার সাক্ষী হিসেবে রাজবাড়িটি টিকে থাকলেও যথাযথ সংস্কারের অভাবে এই স্থাপনার সৌন্দর্য বিলুপ্তির পথে। ব্রিটিশ শাসনামলে যশোর জেলা থেকে গোবিন্দ ও সুর নারায়ণ নামের দুই জমিদার গোপালগঞ্জের উজানী গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তারা তেলিহাটি পরগনার প্রায় ৫০ হেক্টর এলাকা নিয়ে জমিদারী প্রথা চালু করেন এবং জমিদারী কাজের জন্য কয়েকটি দ্বিতল ও ত্রিতল প্রাসাদ নির্মাণ করেন। সে পরিকল্পনার অংশ হিসাবে উজানিতে কারুকার্যখচিত জমিদার বাড়ি নির্মাণ করা হয়, যা বর্তমানে উজানী রাজবাড়ী হিসেবে পরিচিত।

রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়ক
রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়কটি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলা সদর থেকে বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত একটি সুন্দর সড়ক। বাংলাদেশে বসেই যদি আপনি লাদাখের মতো রোমাঞ্চকর বাইকিং অনুভূতি পেতে চান তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে রাজস্থলী–ফারুয়া (Rajasthali-Farua Border Road) সীমান্ত সড়ক।

রাজবন বিহার
বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বৃহত্তম বিহার রাজবন বিহার ( Rajban Bihar ) রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত। রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হলো এই রাজবন বিহার। চিন্তাপ্রচারক ও ধর্ম-দার্শনিক বৌদ্ধধর্মীয় নেতা শ্রদ্ধেয় সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে ১৯৭৭ সালে স্থায়ভাবে বসবাসের জন্যে রাঙ্গামাটিতে আসেন। বনভান্ত ও তাঁর শিষ্যদের বসবাসের জন্যে এই বিহারটি নির্মান করা হয়। বৌদ্ধদের জন্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এই বিহার বর্তমানে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান হিসেবে পরিণত হয়েছে। শুধু বৌদ্ধ ধর্মাম্বলীদের জন্যে নয় পার্বত্য অঞ্চলের এই ধর্মজ্ঞানচর্চাকেন্দ্রটি দুনিয়ার সব প্রকৃতিপ্রেমী, সৌন্দর্যঘনিষ্ট ও জ্ঞানসাধক মানুষের জন্যেই। ভ্রমণে এই বিহার ঘুরে দেখার আনন্দের সাথে খুব সহজেই যুক্ত হবে জানার নতুন ভুবন। সাংস্কৃতিক ভাব বিনিময়ের সাথে মিলবে ধর্মচিন্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বোধের সুযোগ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি ও জাদুঘর
কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোরেশদপুর গ্রামে অবস্থিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বাড়িটিই শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি ( Rabindranath Tagore’s Shilaidaha Kuthibari ) নামে পরিচিত। কুষ্টিয়া শহর থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ির দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার। প্রায় ৩৩ বিঘা আয়তনের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির মূল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে আড়াই বিঘা জমিতে। ৩ তলা বিশিষ্ট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়িতে সর্বমোট ১৮ টি কক্ষ আছে। ভবনের তৃতীয় তলায় ছিল কবির লেখার ঘর। আর এই কুটিবাড়ির ছাদ থেকে কবি সুর্যোদয়, সূর্য্যাস্ত এবং জ্যোৎস্না উপভোগ করতেন।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধি
রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে কাপ্তাই লেকের ছোট্ট এক দ্বীপে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন বাঙ্গালির অন্যতম এক বীর সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ (Birsrestha Munshi Abdur Rauf Monument)। অথৈ নীল জল পরিবেষ্টিত সমাধি স্থলে লেখা “তুমি দুর্জয়, নির্ভীক মৃত্যুহীন এক প্রাণ” কথাগুলো যেন তাঁর গৌরবজ্বল বীরত্বের এক অনন্য প্রকাশ।