দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

ভাগ্যকুলের মিষ্টি
মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল বাজার সুস্বাদু মিষ্টি ও ঘোলের জন্য সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে সুপরিচিত। আদি ও আসল স্বাদের সন্দেশ, ছানা, চমচমের মত বিভিন্ন মিষ্টান্ন খেতে চাইলে ভাগ্যকুল এক স্বর্গীয় স্থান। রকমারি মিষ্টির বাহার নিয়ে ভাগ্যকুলের বিভিন্ন মিষ্টান্ন ভান্ডারগুলো যেন আপ্যায়নের পসরা সাজিয়ে বসে আছে। এদের মধ্যে গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এবং চিত্তরঞ্জন মিষ্টান্ন ভান্ডার অতুলনীয় স্বাদের মিষ্টি ও ঘোলের জন্য সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। যদিও ভাগ্যকুলের সকল দোকানেরই রয়েছে সমান সুনাম।

বাগেরহাট জাদুঘর
বাগেরহাট জেলার সুন্দরঘোনায় ষাট গম্বুজ মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে পুরাতন রূপসা রোডে বাগেরহাট জাদুঘর (Bagerhat Museum) অবস্থিত। ১৯৭৩ সালে মুসলিম সংস্কৃতি ও খানজাহান আলীর স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক আবেদন জানানো হলে ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো-বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে ৫২০ বর্গ মিটার জায়গা জুড়ে এই জাদুঘরটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর বাগেরহাট জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

বালিয়াডাঙ্গী সূর্য্যপূরী আমগাছ
ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণ মারি সীমান্তের মন্ডু মালা গ্রামে এমন ব্যতিক্রমী এক প্রাচীন আম গাছ রয়েছে যা দেখার জন্য মানুষের মধ্যে রয়েছে বিশেষ আগ্রহ। বালিয়াডাঙ্গী সূর্য্যপূরী আমগাছ (Surjapuri Mango Tree) নামে পরিচিত প্রায় ২০০ বছরেরও পুরনো এই আম গাছটি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ২.৫ বিঘা জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। ফলে এটি এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় আম গাছের স্বীকৃতি পেয়েছে।

শ্রীফলতলী জমিদার বাড়ি
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরের শ্রীফলতলী গ্রামে শ্রীফলতলী জমিদার বাড়ি (Shreefaltali Court Of Estate) অবস্থিত। রহিম নেওয়াজ খান চৌধুরীর মাধ্যমে এই জমিদার বাড়ির গোড়াপত্তন ঘটে। রহিম নেওয়াজ খানের পিতা খোদা নেওয়াজ খান শ্রীফলতলী জমিদার এস্টেটের কর্ণধার ছিলেন। শ্রীফলতলী জমিদার বাড়িটি জমিদারী পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হত। রহিম নেওয়াজ খানের প্রচেষ্টার ফলে প্রায় ১০০ বছর আগে কালিয়াকৈর থানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

সোনাইছড়ি ট্রেইল
চট্টগ্রামের বারৈয়াঢালা অভয়ারণ্যের অন্তর্ভুক্ত মীরসরাইয়ের হাদি ফকিরহাট বাজার সংলগ্ন সোনাইছড়ি ট্রেইল (Sonaichhari Trail) ডে ট্রিপের জন্য একটি আদর্শ জায়গা। চট্টগ্রামের সবচেয়ে সুন্দর সোনাইছড়ি ট্রেইলের বৈচিত্র্যময় বুনো পাথুরে সৌন্দর্য অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের অদ্ভুত মায়ায় আকর্ষণ করে।

সোনাইমুড়ি টেক
নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার বাগাঘ ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়ায় লালমাটির শহর সোনাইমুড়ি টেক (Sonaimuri Tek) অবস্থিত । লাল মাটির পাহাড়ি টিলা, সমতল ভূমির বসতবাড়ি, পাখির কল-কাকলী ও অপার সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ সোনাইমুড়ি বিনোদন পার্কে ছুটির দিনগুলোতে থাকে উপচে পড়া ভিড়।

সোনাকান্দা দুর্গ
নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বদিকে অবস্থিত প্রাচীন এক জল দুর্গের নাম সোনাকান্দা দুর্গ (Sonakanda Fort)। ধারণা করা হয়, ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন বাংলা সুবেদার মীর জুমলা বাংলার গুরত্বপূর্ণ শহর গুলোতে জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে রক্ষার উদ্যেশ্যে ঢাকার কাছাকাছি যে তিনটি জল দুর্গ নির্মাণ করেন তাদের মধ্যে সোনাকান্দা কেল্লা অন্যতম। বাংলার বার ভূঁইয়ার অন্যতম বীর ঈশা খাঁ তৎকালীন সময়ে এই দুর্গ ব্যবহার করতেন।

সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্ট
সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্ট (Sonargaon Royal Resort) ঢাকা জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জ এর সোনারগাঁও উপজেলার খাস নগর দিঘীরপাড় এলাকায় অবস্থিত। যারা দূর-দূরান্ত থেকে সোনারগাঁও মিউজিয়াম, পানাম নগর এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় স্থান দেখতে আসেন থাকার জন্য সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্ট অন্যতম সেরা জায়গা। রিসোর্টটি খুব বড় না হলেও সাজানো গোছানো। রিসোর্ট প্রাঙ্গনে একটি ছোট সুইমিং পুল রয়েছে। রিসোর্ট এর ছাদের বারান্দা থেকে একটি বিশাল হ্রদ এবং সবুজ প্রান্তর দেখা যায়। রিসোর্টের আবাসিক ভবনগুলির স্থাপত্যশৈলী আলাদাভাবে সকলের নজর কারে। রিসোর্টটিতে পাঁচ ধরনের রুম এবং স্যুট রয়েছে, পাশাপাশি বিলিয়ার্ড, সকার এবং অন্যান্য ইনডোর গেমের সুবিধা রয়েছে। রিসোর্ট থেকে হেঁটে সোনারগাঁও জাদুঘর, পানাম নগর, হাসনগর দিঘী, গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ মন্দির ও মেঘনা নদীতে যাওয়া যায়। সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে দুটি কনভেনশন হলে ব্যবসায়িক ও সামাজিক অনুষ্ঠান করার ব্যবস্থা আছে।

সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা
সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণার স্থানীয় নাম মায়াবী ঝর্ণা। জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে ভারতের সীমান্তে অবস্থিত মায়াবী ঝর্ণাতে যেতে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। বিএসএফের প্রহরায় বাংলাদেশীরা সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা (Songrampunji Waterfall) দেখতে যেতে পারে। পাহাড়ের গা বেয়ে ঝরনার জল জমে পুকুরের মতো সৃষ্টি হয়েছে। এই ঝর্ণার রয়েছে মোট তিনটি ধাপ। ভ্রমণ পাগল মানুষদের জন্য আদর্শ অ্যাডভেঞ্চারের জায়গা হল সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা। ঝর্ণার তৃতীয় ধাপে রয়েছে একটি সুড়ঙ্গ, আর সুড়ঙ্গ পথের শেষ এখন পর্যন্ত অজানা। পিচ্ছিল পাথুরে পথ পেরিয়ে ঝর্ণার সবগুলো ধাপ দেখতে চাইলে অবশ্যই সাহস এবং বাড়তি সতর্কতা জরুরী।

বাইক্কা বিল
চায়ের শহর হিসেবে খ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের পূর্ব পাশে অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল (Baikka Beel) অবস্থিত। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে বাইক্কা বিলের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। ২০০৩ সালের ১ জুলাই বাইক্কা বিলকে মৎস্য অভয়াশ্রম হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের পর বাইক্কা বিলকে ঘিরে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট গড়ে উঠেছে। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য আর হাজার হাজার পাখির কলতানে মুখরিত থাকা বাইক্কা বিলে রয়েছে বালি, বুনো হাঁসের বসতি ও গরু মহিষের বিশাল চরন ভূমি। প্রতি শীতে বিলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে দূর দূরান্ত থেকে দেশি-বিদেশী পর্যটকরা এখানে ভিড় জমায়। বর্তমানে হাওরটি ৮০ প্রজাতির মাছ, ১৮ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছ এবং প্রায় ১৬০ প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাসস্থল। বিপুল পরিমাণ পাখির আগমণের কারণে প্রতি বছর এই বাইক্কা বিলে পাখিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় এবং এই তথ্য আন্তর্জাতিক ভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
রাজধানী ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (Suhrawardy Udyan) বাংলাদেশের অন্যতম একটি ঐতিহাসিক স্থান। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নিরব সাক্ষী সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অতীতে রমনা রেসকোর্স ময়দান নামে পরিচিত ছিল। এক সময় এখানে ঘোড়দৌড়ের আয়োজন করা হলেও বর্তমানে বিভিন্ন সবুজ বৃক্ষের সুশীতল ছায়াঘেরা স্থান হিসাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সর্বজন স্বীকৃত।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি
মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে দুই বাংলার প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈত্রিক বাড়ি (Sunil Gangopadhyay Father’s House) অবস্থিত। বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে আবির্ভূত এই বাঙ্গালী সাহিত্যিক একাধারে কবি, ছোট গল্পকার, সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট হিসেবে পরিচিত ছিলেন। লেখকের প্রতি জন্মবার্ষিকীতে তার পৈত্রিকবাড়িতে দুই বাংলার উদ্যোগে বই মেলার পাশাপাশি পাহাড়ি নৃত্য, লালন ও পল্লীগীতির মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমন্বয়ে সুনীল মেলায় আয়োজন করা হয়।

বাহাদুর শাহ পার্ক
পুরান ঢাকার সদরঘাট এলাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী উদ্যানের নাম বাহাদুর শাহ পার্ক (Bahadur Shah Park)। ১৮৮৫ সালের ১৭-ই ফেব্রুয়ারী স্যার সলিমুল্লাহর পুত্র খাজা হাফিজুল্লাহ স্মরণে বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের পার্কে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়।

সুজাবাদ কেল্লা
সুজাবাদ কেল্লা (Sujabad Kella) ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দুই নং মগর ইউনিয়ন সুজাবাদ গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। বাংলার সুবেদার মোঘল সম্রাট শাজাহানের পুত্র শাহজাদা সুজা এই কেল্লা নির্মাণ করেন। মোগল শাসনামলের শেষভাগে ঝালকাঠি অঞ্চল মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের লুণ্ঠনের প্রধানক্ষেত্রে পরিণত হয়। জলদস্যুদের শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে বাংলার সুবেদার পুত্র শাহজাদা সুজা ১৬৫৪ সালে সুজাবাদ গ্রামের প্রবর্তন করে এখানে দুইটি কেল্লা নির্মাণ করেন। দুইটি কেল্লার একটি ছিল মাটি এবং অন্যটি ইটের তৈরি। যা তৎকালীন সময়ে অন্দর ও বাহির কেল্লা নামে পরিচিতি লাভ করে।

থানকোয়াইন ঝর্ণা
থানকোয়াইন ঝর্ণা (Thankowain Waterfall) বান্দরবানের আলিকদম উপজেলায় অবস্থিত একটি মনোমুগ্ধকর ঝর্না। থানকোয়াইন ঝিরি থেকে উৎপন্ন হওয়া এই ঝর্না পাহাড় আর সবুজ প্রকৃতির জন্য পর্যটকদের কাছে অনেক জনপ্রিয় এছারাও ঝর্ণাটি তুলনামূলক ‘সহজ’ ট্রেকিং রুটের কারণে পর্যটকদের কাছে বেশ পরিচিত। আলিকদম বাজার থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে এই ঝর্নার অবস্থান। থানকোয়াইন ঝর্ণার স্বচ্ছ জলের ধারা এবং চারপাশের শান্ত, নিস্তব্ধ পরিবেশ শহুরে ক্লান্তি দূর করে মনকে সতেজ করে তোলে।

কালভৈরব মন্দির
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলায় অবস্থিত কালভৈরব মন্দির (Sri Sri Kal Bhairab Temple) এক ঐতিহাসিক স্থাপনার নাম। তিতাস নদীর কূল ঘেঁষা ব্রাহ্মণবাড়ীয়া শহরের মেড্ডা এলাকায় ৩০০ বছরের পুরনো হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম এই তীর্থক্ষেত্রের অবস্থান। হিন্দু দেবতা শ্রী শ্রী কালভৈরবের মূর্তি এই মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ। ১৯০৫ সালে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ২৮ ফুট উচ্চতার কালভৈরব বা শিব মূর্তি ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বাধিক উচ্চতার মূর্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। বিশালাকার মূর্তির ডান দিকে কালী এবং বাম দিকে দেবী পার্বতীর প্রতিমা রয়েছে। সরাইলের বিখ্যাত জমিদার নূর মোহাম্মদ কালভৈরব মন্দিরের জমি দান করেন।