দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

লালঘাট ঝর্ণাধারা
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে তাহিরপুর উপজেলা সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ জিরো পয়েন্টের কাছে দৃষ্টিনন্দন লালঘাট ঝর্ণাধারা (Lalghat Waterfall) অবস্থিত। লালঘাট আদিবাসী পল্লীঘেঁষা এই ঝর্ণার স্বচ্ছ পানির ধারা ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের বুক চিরে অবিরাম গতিতে নিচে নেমে এসেছে। লালঘাট ঝর্ণার পানি প্রবাহ লালঘাট গ্রামের পশ্চিম দিকে আঁকা-বাঁকা ছড়া রূপে সংসার হাওরের মিঠা পানির সাথে মিলিত হয়েছে।

মুহুরী প্রজেক্ট
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মুহুরী প্রজেক্ট ( Muhuri Project ) ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় অবস্থিত। মুহুরী সেচ প্রকল্পকে ঘিরে করে গড়ে উঠা বাংলাদেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সর্ববৃহৎ মৎস্য জোন হিসেবেও মুহুরী প্রজেক্ট দেশব্যাপী সুপরিচিত। ১৯৭৭-৭৮ অর্থ বছরে মুহুরী সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে ফেনী, মুহুরী এবং কালিদাস পাহালিয়া নদীর পানি প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মিত আড়ি বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। মুহুরী প্রজেক্টের সুফল হিসাবে ২০,১৯৪ হেক্টর এলাকা সরাসরি সেচ সুবিধার মধ্যে আসে।

জ্বীনের মসজিদ
জ্বীনের মসজিদ (Jiner Mosjid) লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার দেনায়েতপুর নামক স্থানে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। ১৮৮৮ সালে ৫৭ শতাংশ জমির উপর নির্মিত জ্বীনের মসজিদের দৈর্ঘ্য ১১০ ফুট এবং প্রস্থ ৭০ ফুট। দিল্লীর শাহী জামে মসজিদের নকশায় নির্মিত এই মসজিদের ছাদে বড় আকারের ৩ টি গম্বুজ আছে। মসজিদের তলদেশে প্রায় ২৫ ফুট গভীরে একটি গোপন ইবাদতখানা রয়েছে। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল্লাহ এই গোপন ইবাদতখানায় ধ্যান মগ্ন থাকতেন। বর্তমানে এই ইবাদতখানাটি পানি পূর্ণ কূপে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১৫ ফুট ভিত্তির উপর ইটের তৈরি এই মসজিদের মিনার, গম্বুজ ও মূল ভবনের নকশার নান্দনিকতা সকলকে আকর্ষণ করে। মসজিদের সামনে ও পাশে দুইটি পুকুর রয়েছে।

বারেক টিলা
বারেক টিলা (Barek Tila) সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবস্থিত এক অপরূপ প্রাকৃতিক বিস্ময়। স্থানীয়ভাবে এটি বারাইক্কা টিলা (Barikka Tila) বা বারিক টিলা (Barik Tila) নামেও পরিচিত। প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু এই টিলার ওপর দাঁড়ালে চোখের সামনে উন্মোচিত হয় ভারতের মেঘালয়ের সুউচ্চ খাসিয়া পাহাড়, ঘন সবুজ অরণ্য আর নিচে সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলা নীলচে-সবুজ যাদুকাটা নদী।

জগদল রাজবাড়ি
ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে জগদল নামক স্থানে জগদল রাজবাড়ি (Jogdol Rajbari) অবস্থিত। ধারণা করা হয়, আনুমানিক ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে জগদলের রাজকুমার শ্রী বীরেন্দ্র কুমার নাগর ও তীরনই নদী মোহনায় এই রাজবাড়িটি তৈরী করেন। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি এবং ১০০ মিটার দূরে নাগর নদীর পাড়ে অবস্থিত মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ ছাড়া তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই। আর শিক্ষা অনুরাগী শ্রী বীরেন্দ্র কুমারের ব্যক্তিগত পাঠাগারের গ্রন্থগুলো ১৯৪৮ সালে তৎকালীন সুরেন্দ্রনাথ কলেজে (বর্তমান দিনাজপুর সরকারি কলেজ) দান করা হয়।

শোলাকিয়া ঈদ্গাহ ময়দান
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ ময়দান। ১৮২৮ সাল থেকে এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ৭ একর আয়তনের শোলাকিয়া ঈদগাহ (Sholakia Eidgah) মাঠে মোট ২৬৫ সারি আছে এবং প্রতি সারিতে প্রায় ছয়-সাতশ করে মুসল্লি দাঁড়াবার ব্যবস্থা আছে। সেই হিসেবে মাঠে এক লাখ ষাট থেকে আঁশি হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের সময় দেখা যায় মাঠে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় চারপাশের খোলা জায়গা, আশপাশের সড়ক, আশেপাশের ঘর বাড়ির উঠানেও নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। এভাবে প্রায় তিন লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ পড়ে থাকেন। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ও বিদেশ থেকে অনেক মুসুল্লির আগমনে এ মাঠের ঈদের জামাতের মর্যাদা অনেক বেড়ে গেছে। এমনকি বহু পর্যটক এই অভূতপূর্ব মহামিলনের সময়টি দেখার দেখার জন্যে শোলাকিয়ায় উপস্থিত হয়।

ঝিটকার সরিষা ক্ষেত
রাজধানী ঢাকার কাছে সরিষা ক্ষেতের সৌন্দর্যে বুঁদ হতে চাইলে ঘুরে আসুন মানিকগঞ্জ জেলার ঝিটকার (Jhitka) দিগন্ত বিস্তৃত সরিষা ক্ষেত থেকে। খেজুর গাছের সারি, হলুদ ফুলের মুগ্ধতা আবার কোথাও মধুচাষীদের মধু সংগ্রহের ধুম যেন প্রকৃতি নিরব উৎসবের আহ্বান জানাতে ব্যকুল। শীতের কুয়াশায় মোড়া হলুদ সরিষার ক্ষেত যেন রূপকথার রাজ্য থেকে তুলে আনা কোন জীবন্ত ছবি। আর খুব সকালে ঝিটকায় আসলে সরিষা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগের সাথে সাথে তাজা খেজুরের রস চেখে দেখার সুযোগ মিলবে অনায়াসেই।

বাওয়াছড়া লেক
চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর গ্রামে ছোট কমলদহ বাজারের কাছে বাওয়াছড়া লেক (Bawachhora Lake and Waterfalls) অবস্থিত। ছোট কমলদহ বাজার থেকে লেকে দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার। বারমাসি ছড়ার নিকট অবস্থানের কারণে লেকটিকে বাওয়াছড়া লেক নামে ডাকা হয়। লেকের চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর, যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোন নিখুঁত ছবি।

নাগরপুর চৌধুরী বাড়ী
ঊনবিংশ শতাব্দীতে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় জমিদার যদুনাথ চৌধুরী কারুকার্যমণ্ডিত নাগরপুর জমিদার বাড়ী (Nagarpur Zamidar Bari) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ৫৪ একর জায়গার উপর নান্দনিক সৌন্দর্যে নির্মিত এই জমিদার বাড়ী থেকেই চৌধুরী বাড়ীর প্রথম পুরুষ যদুনাথ চৌধুরী ও তার বংশধর উপেদ্র মোহন চৌধুরী, জগদীন্দ্র মোহন চৌধুরী ও শশাঙ্ক মোহন চৌধুরী জমিদারীত্ব করতেন। নাগরপুর চৌধুরী বাড়ীর পূর্বে ধলেশ্বরী ও পশ্চিমে যমুনা নদী বয়ে চলেছে। কথিত আছে যদুনাথ চৌধুরী নাগরপুরকে কোলকাতার মতো করে সাজানোর পরিকল্পনা থেকেই নাগরপুর ও কোলকাতার নৌপথকে কেন্দ্র করে নাগরপুরে এই চৌধুরী বাড়ী নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে উপেদ্র মোহন চৌধুরীর বড় ছেলে জমিদার সতীশ চন্দ্র চৌধুরী নাগরপুরে স্কুল, কলেজ, মন্দির, দাতব্য চিকিৎসালয়, খেলার মাঠ ও হাট বাজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার সতীশ চন্দ্র চৌধুরীর জনহিতকর কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে “রায় বাহাদুর” খেতাবে ভূষিত করেন।

জোড় বাংলা মসজিদ
ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে এক গম্বুজ বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন জোড় বাংলা মসজিদ (Jor Bangla Masjid) বা জোড়া ঢিবি মসজিদের অবস্থান। মসজিদের কারুকার্য ও স্থাপত্যশিল্প মুসলিম সভ্যতা ও উৎকর্ষতার এক অন্যতম নিদর্শন হিসাবে গন্য করা যায়। ধারণা করা হয়, ৮০০ হিজরি সনে আলাউদ্দিন হুসাইন শাহের পুত্র শাহ সুলতান মাহমুদ জোড় বাংলা মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। বহু বছর আগে এই স্থানে থাকা এক জোড়া কুঁড়ে ঘর বা জোড়া দীঘির সেকারণেই মসজিদের এমন নামকরণ করা হয়েছে।

হাতি ফুলকলির সমাধিসৌধ
জেলা প্রশাসকের হাতি ‘ফুলকলি’র সমাধিসৌধ (Elephent Fulkoli Mausoleum) খাগড়াছড়ি শহরে প্রবেশের মুখেই গোলবাড়ি এলাকায় অবস্থিত একটি স্থাপনা। পাহাড়ঘেরা সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধ শুধু একটি হাতির কবর নয়, এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের এক সময়ের যোগাযোগব্যবস্থা, প্রশাসনিক ইতিহাস এবং মানুষের সঙ্গে প্রাণীর আবেগঘন সম্পর্কের প্রতীক।

লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি
লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি ( Lakutia Zamindar Bari ) দেখতে যেতে হবে বরিশাল শহর থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত লাকুটিয়া গ্রামে। ১৭০০ সালে রুপচন্দ্র রায়ের পুত্র রাজতন্ত্র রায়ের হাত ধরে ইট পাথর আর সূড়কি গাথুনিতে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে ৪০০ বছরের পুরনো লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি। এখানে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন একটি মঠ, সুবিশাল দীঘি, মাঠ এবং কারুকার্যমন্ডিত জমিদার বাড়ি।

বিউটি বোর্ডিং
পুরান ঢাকার বিউটি বোর্ডিং (Beauty Boarding) বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অনন্য এক আড্ডার স্থান। বাংলাবাজারের বইয়ের মার্কেট ছাড়িয়ে কিছুটা এগিয়ে শ্রীশদাস লেনে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা। পুরান ঢাকার অন্যান্য আধুনিক ভবনের তুলনায় বিউটি বোর্ডিংকে কিছুটা জীর্ণ ও প্রাচীন মনে হলেও, এর প্রতিটি ইটে মিশে আছে ইতিহাসের পদচিহ্ন এবং বাঙালি বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার স্মৃতি।

গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ি
নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামের ড্রিম হলিডে পার্ক সংলগ্ন মেহেরপাড়ায় রয়েছে পবিত্র কোরআন শরীফের প্রথম পূর্নাঙ্গ বাংলা অনুবাদক ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ি। বাড়িটি অনেকদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ২০১৬ সালে ভারতীয় কমিশনারের অনুদানে মূল বাড়ির কাঠামো ঠিক রেখে পুনর্নির্মাণ করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

চাঁদপুর বেলগাঁও চা বাগান, বাঁশখালী
চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত চাঁদপুর বেলগাঁও চা বাগান (Chandpur Belgaon Tea Garden)। এটি বাঁশখালী চা বাগান (Banshkhali Tea Garden) নামেই বেশি পরিচিত। বাঁশখালী চা বাগান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। বাগানটি মন কাড়ছে দর্শনার্থীদের।

ক্যামেলিয়া লেক, কমলগঞ্জ
সবুজ চা–গাছের সারি, উঁচু–নিচু পাহাড়ি টিলা আর তার মাঝখানে স্বচ্ছ পানির এক শান্ত লেক, এই দৃশ্য দেখলেই বোঝা যায় ক্যামেলিয়া লেক (Camelia Lake) কেন এতটা আলাদা। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানের ভেতরে অবস্থিত এই লেকটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘বিসলার বান’ (Bislar Ban) নামে। নীল আকাশে দল বেঁধে উড়ে যাওয়া অতিথি পাখি, লেকের পানিতে তাদের জলকেলি আর চারপাশের নিস্তব্ধ পরিবেশ মিলিয়ে জায়গাটি প্রকৃতির এক নীরব আশ্রয়।