দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

মনু মিয়া জমিদার বাড়ি
নরসিংদী জেলা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার কেন্দ্রস্থলে ব্যাক্তিগত মালিকানাধীন ঘোড়াশাল জমিদার বাড়ি (Ghorashal Zamidar Bari) অবস্থিত। স্থানীদের কাছে এই বাড়িটি মনু মিয়া জমিদার বাড়ি (Monu Mia Zamidar Bari) হিসেবে পরিচিত। ১১৭৬ বঙ্গাব্দে জমিদার সাজদা মিয়া এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করেন। তবে আহমাদুল কবির মনু মিয়ার পিতা আবু ইউসুফ লুৎফুল কবির মনু মিয়া জমিদার বংশের মধ্যে সবচেয়ে সফল ও জননন্দিত হওয়ার তাঁর নামে বাড়িটির নামকরণ করা হয়।

মণিপুরী পল্লী
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য উপজাতীয় নৃ-গোষ্ঠী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তেমনি মৌলভীবাজার শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে শ্রীমঙ্গলের কমলগঞ্জ উপজেলায় আদমপুর ইউনিয়নে মনিপুরী সম্প্রদায়ের কাপড়ের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মণিপুরী পল্লী (Monipuri Village)। স্থানীয় মনিপুরীরা এখানে নিজেরা কাপড়ের বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে। দেশ বিদেশে মণিপুরী পণ্য সমূহের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এছাড়া নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কারণেও মনিপুরীদের সুখ্যাতি ছড়িয়ে আছে বিশ্বব্যাপী।

মোংলা বন্দর
মোংলা বন্দর বা মোংলাপোর্ট (Mongla Port) খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার সেলাবুনিয়া মৌজায় পশুর ও মোংলা নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত। ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত মোংলা বন্দর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর। খুলনা থেকে মোংলা বন্দরের দূরত্ব ৪৮ কিলোমিটার। বন্দরটি বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। মোংলা পোর্টটি অন্যান্য অভ্যন্তরীণ নদী বন্দর ও খুলনায রেল টার্মিনালের সাথে সংযুক্ত রয়েছে।

মৈনট ঘাট
দোহার উপজেলার মৈনট ঘাট (Moinot Ghat Dhaka) কে ডাকা হয় মিনি কক্সবাজার নামে। ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে সোজা একটি রাস্তা এসে মিলেছে দোহারের মৈনট ঘাটে। পদ্মার এক পাড়ে দোহার আর অপর পাড়ে ফরিদপুর। মৈনট ঘাট থেকে মানুষ পদ্মা পাড় হয়ে ফরিদপুরের গোপালপুর যায়। ঘাটের পূর্ব পাশে বিশাল চর মানুষকে সাগরের বেলাভূমির কথা মনে করিয়ে দেয় আর সামনের বিস্তীর্ণ পদ্মা হয়ে যায় সাগর। আর চাইলে এখান থেকে নৌকায় করে পদ্মা নদীতে ঘুরে বেড়ানো যায় কিংবা পাড় ধরে হাটা যায় ইচ্ছে মত।

মহিষারের দিগম্বরী দীঘি
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ৬০০ বছরের পুরনো মহিষারের দিগম্বরী দীঘি (Mohisar Digumbori Dighi) হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। মোঘল আমলের স্বাধীন ১২ ভূঁইয়ার এক ভূঁইয়া বিক্রমপুর পরগনার জমিদার রাজা চাঁদ রায় দিগম্বরীর সন্ন্যাসীদের অনুরোধে ১০ একর জায়গার উপর এই দীঘি খনন করেন। মহিষারের দিগম্বরী দীঘির চারপাশে ইতিহাসের অমর সাক্ষী দিগম্বরী সন্ন্যাসী বাড়ি, মেলা চত্বর, জোড়া পুকুর, মনসা মন্দির, কালি মন্দির চত্বর ও লক্ষ্মী মন্দিরসহ অসংখ্য স্থাপনা ঘিরে রয়েছে। ১৯৮২ সালে দীঘিটি পুনঃখননের সময় ৪২ কেজি ওজনের কষ্টি মূর্তিসহ বেশকিছু দুর্লভ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়।

মহেশখালী
মহেশখালী (Moheshkhali) উপজেলা কক্সবাজার জেলার একটি দ্বীপ। কক্সবাজার শহর থেকে এটি মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। জনশ্রুতি আছে, ১৫৫৯ সালের প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই দ্বীপের সৃষ্টি হয়। বৌদ্ধ সেন মহেশ্বর থেকেই প্রায় ২০০ বছর আগে এই জায়গার নামকরণ হয় মহেশখালী। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ‘এনার্জি হাব’ বা জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

ভিতরগড় দুর্গ নগরী
পঞ্চগড় জেলা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অমরখানা ইউনিয়নে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় মধ্যযুগের অন্যতম এক নিদর্শন ভিতরগড় দুর্গ নগরীর (Bhitorgarh Durg Nogori) অবস্থান। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, ৬ষ্ঠ শতকের দিকে পৃথু রাজা তার রাজধানী হিসেবে ভিতরগড় দুর্গ নির্মাণ করেন। ১২৫৭ সালে পাল বংশীয় সুলতান মুঘিসউদ্দিন কামরূপ রাজ্য আক্রমণ করলে এই দুর্গটি সুলতানী শাসনে চলে আসে। ধারণা করা হয়, ষষ্ঠ শতকের শেষে বা সপ্তম শতকের শুরুতে ভিতরগড় স্বাধীন রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এই ভিতরগড়ে প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস, স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ ও বেশ কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে।

মহামায়া লেক
মহামায়া লেক (Mohamaya Lake) চট্রগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম কৃত্রিম হৃদ। মিরসরাইয়ের দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘী বাজার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে ১১ বর্গ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে মহামায়া লেক গড়ে উঠেছে। লেকের টলটলে পানি আর পাহাড়ের মিতালী ছাড়াও এখানে পাহাড়ি গুহা, রাবার ড্যাম ও অনিন্দ্য সুন্দর ঝর্ণা রয়েছে। বোটে চড়ে লেকে ঘুরার পাশাপাশি চাইলে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ঝর্ণার শীতল পানিতে ভিজে শরীর ও মনকে অপার্থিব প্রশান্তি দিতে পারেন। মহামায়া লেকে আছে কায়াকিং করার সুবিধা এবং চাইলে তাবুতে রাতে ক্যাম্পিং করে থাকতেও পারবেন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকা মহামায়া লেকটির পানির কিছু অংশ পার্শ্ববর্তী এলাকায় সেঁচের কাজে ব্যবহৃত হয়।

মেহেরুন শিশু পার্ক
কে আর মলিক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হদা উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে ৬০ বিঘা জায়গার উপর মেহেরুন শিশু পার্ক ও মিনি চিড়িয়াখানা (Meherun Children Park and Mini Zoo) গড়ে তোলা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই পার্কটি স্থানীয় মানুষের চিত্তবিনোদনের অন্যতম স্থানে পরিণত হয়ে উঠছে, ফলে মেহেরুন শিশু পার্কে প্রতিদিনই বিনোদন প্রত্যাশী দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে।

মাথিনের কূপ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীর কুল ঘেঁষে টেকনাফ থানা চত্ত্বরে মাথিনের কূপ অবস্থিত। আঠারো শতকের শেষ ভাগে টেকনাফে পানির অভাবের পূরণের জন্য মাত্র একটি সুপেয় পানির কূপ ছিল। থানা প্রাঙ্গণের এক কূপ হতে রাখাইন তরুণীরা প্রতিদিন জল নিতে আসতো। পুলিশ কর্মকর্তা ধীরাজ ভট্টাচার্য কলকাতা থেকে এই থানায় বদলী হয়ে আসেন। সবার সাথে রাখাইন জমিদার কন্যা মাথিনও এখান থেকে জল নেয়ার জন্য আসতো। ঘটনাচক্রে ধীরাজের সাথে মাথিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং দুজনে বিয়ে করার সিন্ধান্ত নেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ধীরাজের বাবার অসুস্থতার খবর আসে। তাই ধীরাজ কলকাতায় ফিরে যেতে চান কিন্তু মাথিন তাকে যেতে বাধা দেয়। মাথিনের মনে ভয় ছিল হয়তো ধীরাজ কলকাতা থেকে আর ফিরে আসবেন না। কিন্তু ধীরাজ মাথিনকে না জানিয়ে কলকাতা চলে যান। ভালবাসার প্রিয় মানুষটা চলে যাবার পর দীর্ঘ সময় প্রহর গুনতে গুনতে অনিদ্রা আর অনাহারে নিজের সুন্দর জীবনকে চিরতরে বিসর্জন দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রাখাইন জমিদার কন্যা মাথিন।

মথুরাপুর দেউল
ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে অবস্থিত মথুরাপুর দেউল (Mathurapur Deul) একটি ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। মঠটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী বাজার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে চন্দনা নদীর তীরে অবস্থিত। টেরাকোটার দৃষ্টিনন্দন ও শৈল্পিক কারুকার্যমন্ডিত বারো কোণ বিশিষ্ঠ মথুরাপুর দেউল বা মঠের উচ্চতা প্রায় ৮০ ফুট। দেউলটিতে প্রবেশের দুইটি দরজা রয়েছে। সমগ্র মঠ জুড়ে শিলা খন্ডের ছাপচিত্রের পাশাপাশি মাটির ফলকের তৈরী অসংখ্য ছোট ছোট মুর্তির ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এসব মুর্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে নৃত্যরত নর-নারী, মস্তকবিহীন মানুষের প্রতিকৃতি, তীর ধনুক হাতে হনুমান, পেঁচা, ঘোড়া ইত্যাদি।

মত্ত মঠ
মানিকগঞ্জ জেলা সদরে অবস্থিত মত্ত মঠ (Matta Moth) একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। জানা যায়, প্রায় আড়াইশত বছর পূর্বে পটল গ্রামে হেমসেন নামে একজন অত্যাচারী জমিদার তাঁর পিতার শেষকৃত্য স্থলে এ মঠ নির্মাণ করেন। নিটল দিঘির পাড়ে ১৫ শতাংশ জমির উপর নির্মিত মঠের উচ্চতা প্রায় ২০০ ফুট উঁচু। মত্তের মঠ নির্মাণের জন্য ইরাক থেকে কারিগর আনা হয়েছিল।

বিবির পুকুর
বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এক ঐতিহ্যবাহী জলাশয়ের নাম বিবির পুকুর (Bibir Pukur)। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে জিন্নাত বিবি জনমানুষের জলের কষ্ট নিরসনের উদ্দেশ্যে এই পুকুর খনন করেন। নগরীর সদর রোডের পূর্ব পাশে অবস্থিত বিবির পুকুরের দৈর্ঘ্য ১৮৫০ ফুট এবং প্রস্থ ৪০০ ফুট। পরবর্তীতে জিন্নাত বিবির নামানুসারে শতবর্ষী পুকুরটি বিবির পুকুর নামে পরিচিত হয়ে উঠে। তৎকালীন সময় কীর্তনখোলা নদীর সাথে খালের মাধ্যমে বিবির পুকুরের দুইটি সংযোগ ছিল। ফলে নদীর মতই এই পুকুরে নিয়মিতভাবে জোয়ার ভাটা দেখা যেত।

কমলদহ ঝর্ণা
সীতাকুন্ডের পরিচিত ঝর্ণা গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কমলদহ ট্রেইলের ঝর্ণা গুলো। মোটামুটি সহজ ট্রেইল এবং অল্প সময়ে কমলদহ ট্রেইলের ঝর্ণা গুলো দেখে আসা যায় বলে ভ্রমণপিয়াসু মানুষের কাছে জনপ্রিয় স্থান হয়ে উঠেছে। কমলদহ ট্রেইলে অনেক গুলো ঝর্ণা আছে। এই ট্রেইলের উপরের দিকে ডানে বায়ে ঝিরি পথ ভাগ হয়ে গেছে। ঝিরি পথ দিয়ে আগালেই দেখা মিলবে ছোট বড় ঝর্ণা আর ক্যাসকেডের।

মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট
মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় প্রায় ৩০ বিঘা জায়গাজুড়ে মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট (Meghna Village Holiday Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। প্রবেশ ফটকের শুরুতেই রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাণীর ভাস্কর্য। তারপর প্রবেশ পথ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলেই শান্ত সুন্দর পরিবেশের মুগ্ধতা। মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্টের কুটিরগুলোকে নেপালি ঢঙে তৈরী করা হয়েছে। যারা কর্মব্যস্ততায় গ্রামের সৌরভ মিস করেন তারা ঢাকার কাছে বিনোদন কিংবা অবকাশ যাপনের জন্য মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট-এ আসতে পারেন।

মির্জাপুর শাহী মসজিদ
মির্জাপুর শাহী মসজিদ (Mirzapur Shahi Masjid) বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে। মির্জাপুর শাহী মসজিদটি প্রায় সাড়ে ৩০০ বছরের পুরনো। ঢাকায় অবস্থিত হাইকোর্ট মসজিদের নকশার সাথে মির্জাপুর শাহী মসজিদের নকশার অনেক মিল চোখে পড়ে।