দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

মারমেইড বিচ রিসোর্ট
একপাশে ঝাউবনে ঘেরা সমুদ্র সৈকত এবং অন্যপাশে পাহাড় বেষ্টিত পেঁচারদিয়া গ্রামের পেঁচার দ্বীপ স্থানটি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পেঁচার দ্বীপের মাঝখান দিয়ে তৈরী করা হয়েছে ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক। টেকনাফগামী মেরিন ড্রাইভ সড়কের পশ্চিম পাশে রেজু খালের কাছে গড়ে তোলা হয়েছে মারমেইড বিচ রিসোর্ট (Mermaid Beach Resort) ।

মণিপুরী রাজবাড়ি
সিলেট শহরের মির্জাজাঙ্গালে উনবিংশ শতাব্দীতে মণিপুরী রাজবাড়ি (Manipuri Rajbari) স্থাপিত হয়। প্রাচীন স্থাপত্য কীর্তির অন্যতম নিদর্শন এই মণিপুরী রাজবাড়ি। ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মণিপুরী রাজবাড়ি। ১৮২২-২৪ সালে সিলেট শহরের মির্জাজাঙ্গাল রোডে এই ঐতিহাসিক বাড়িটি নির্মাণ করেন মণিপুরের রাজা গম্ভীর সিং ও তার ভাইয়েরা। পরবর্তীতে চৌর্জিৎ সিং ও মার্জিত সিং ভানুগাছ এলাকায় এসে বসতি স্থাপন করলেও রাজা গম্ভীর সিং থেকে যান মির্জাজাঙ্গালে।

লোভাছড়া
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ঘেঁষা খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে স্বচ্ছ পানির নদী হচ্ছে লোভাছড়া। সবুজ পাহাড় আর লোভাছড়ার স্বচ্ছ পানি এখানকার পরিবেশকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। সেই সাথে আছে ব্রিটিশ আমলে চালু হওয়া লোভাছড়া চা বাগান, ১৯২৫ সালে নির্মিত পুরনো ঝুলন্ত সেতু ও খাসিয়া গ্রাম। পাহাড়, নদী ও নীল আকাশের অপূর্ব মায়াজালে প্রাকৃতিকে এক নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য উপহার দিয়েছে রুপে অনন্যা লোভাছড়া।

বারদী লোকনাথ আশ্রম
নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে ৩৪ কিলোমিটার দূরে সোনারগাঁ উপজেলার বারদি বাজারের পশ্চিম-উত্তর কোণে শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম (Sri Sri Loknath Bramhachari Ashram) বা বারদী লোকনাথ আশ্রম অবস্থিত। ১৭৩০ সালের ৩১ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত থানার অন্তর্গত কচুয়া গ্রামে লোকনাথ ব্রহ্মচারী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পুঁথি বিদ্যা ত্যাগ করে সন্ন্যাস ব্রত গ্রহণ করে হিমালয়ে কঠোর যোগ সাধনা করেন। পরবর্তীতে মানুষের মাঝে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি লোকালয়ে বের হয়ে আসেন। বিভিন্ন দেশ ঘুরে ১৮৬৩ সালে সোনারগাঁয়ে পৌঁছে লোকনাথ ব্রহ্মচারী বারদী গ্রামে প্রকৃতির নিবিড় সজীবতায় এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ১৬০ বছর বয়সে ১৮৯০ সালের ১ জুন (১৯শে জ্যৈষ্ঠ) মহাপুরুষ লোকনাথ ব্রহ্মচারী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বারদী লোকনাথ আশ্রম জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য এক মিলন মেলা হিসেবে পরিচিত।

লোহাগড়া মঠ
চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার চান্দ্রা বাজার থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লোহাগড়া মঠ (Lohagarh Moth) একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন নিদর্শন। জমিদার বংশের লোহা ও গহড় নামের অত্যাচারী ও প্রতাপশালী দুই ভাই জমিদার বাড়ির অবস্থানস্বরূপ ডাকাতিয়া নদীর কূল ঘেঁষে এই মঠটি নির্মাণ করেছিল এবং তাদের নামেই এই গ্রাম ও মঠের নামকরণ করা হয়। প্রায় ২০০ বছরের পুরাতন লোহাগড় মঠে বর্তমানে ভিন্ন ভিন্ন উচ্চতার ৩টি মঠ, প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ ও মাটির নিচের গহবর বিদ্যমান রয়েছে। সবচেয়ে বড় মঠটির শৈল্পিক কারুকার্যময় এবং অন্যান্য মঠ থেকে আলাদা। তৎকালীন জমিদারদের অত্যাচারের নীরব সাক্ষী লোহাগড়া মঠ চাঁদপুরের একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

লেক ভিউ আইল্যান্ড
২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই লেকে গড়ে তোলা হয়েছে লেক ভিউ আইল্যান্ড ( Lake View Island ) নামক পর্যটন কেন্দ্র। লেক ভিউ আইল্যান্ডে রয়েছে নীলকৌড়ি বজরা, দৃষ্টিনন্দন কটেজ, হিলটপ সুইমিং পুল, অ্যাডভেঞ্চার পার্ক এবং মাছ ধরার সুব্যবস্থা।

রাঙ্গুনিয়া কোদালা চা বাগান
১৮৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কোদালা চা বাগান (Kodala Tea Estate) বাংলাদেশের প্রথম এবং শীর্ষস্থানীয় চা বাগানের মধ্যে অন্যতম। সবুজ পাহাড় আর প্রাকৃতিক নিঃস্বর্গে সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া সদর উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কোদালা ইউনিয়নে এই ঐতিহ্যবাহী কোদালা চা বাগানের অবস্থান। চা বাগানের পাশে দিয়ে রূপের মাধুরী ছড়িয়ে বয়ে গেছে লুসাই কন্যা কর্ণফুলী। চা শ্রমিকদের কর্মতৎপরতা, পাখির কিচিরমিচির শব্দ এবং ব্রিটিশ আমলের বাংলো প্রভৃতি যেন ১০০ বছর আগের কোন ঘটনা ধারাবাহিকভাবে পুনরাবৃত্তি করে চলেছে।

কচিখালী সমুদ্র সৈকত
সুন্দরবনের কটকা নদীর পূর্ব দিকে অবস্থিত প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত কচিখালী সমুদ্র সৈকত (Kochikhali Sea Beach) একটি চমৎকার দর্শনীয় স্থান। সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি এখানে আছে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং পর্যটন কেন্দ্র। সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের এই সৈকতটিকে বলা হয় ভয়ংকর সুন্দর! কারণ সৈকতে পৌঁছাতে হলে বঙ্গোপসাগরের মোহনার খরস্রোতা কটকা নদী ও সুন্দরবনের ভিতরের প্রায় ৩ কিলোমিটার বুনো পথ পাড়ি দিতে হয়। এই পথে প্রায়ই হরিনের পাল, বন্য শুকর এবং বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যায়।

খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান
সিলেট শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে খাদিমনগর ইউনিয়ন ও গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে রেইনফরেস্ট নামে খ্যাত খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান অবস্থিত। ২০০৬ সালের ১৩ এপ্রিল ৬৭৮.৮০ হেক্টর জমি নিয়ে খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান (Khadimnagar National Park) প্রতিষ্ঠিত হয়।

কালাবগী ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র
কালাবগী ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র (Kalabogi Eco Tourism Center) বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন একটি নতুন এবং সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র। এটি খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের কালাবগী ফরেস্ট স্টেশন সংলগ্ন শিবসা নদীর তীরে অবস্থিত। সুন্দরবনের প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে অনুভব করার জন্য এই কেন্দ্রটি দারুণ এক আকর্ষণ। মূলত সুন্দরবনের ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে দর্শনার্থীদের বনের জীববৈচিত্র্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রসারে এটি তৈরি করা হয়। ২০২৩ সালের শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া এই কেন্দ্রটি করমজলের তুলনায় বেশ শান্ত ও কোলাহলমুক্ত। নদীভাঙন কবলিত এই অঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম যেমন দেখার মতো, তেমনি এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এককথায় অপার্থিব। যারা চিরাচরিত ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির নীরবতা উপভোগ করতে চান, তাদের কাছে কালাবগী দ্রুত একটি জনপ্রিয় ডে-ট্যুর স্পট হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

ইদ্রাকপুর কেল্লা
ইদ্রাকপুর কেল্লা ( Idrakpur Fort ) মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরে অবস্থিত মোঘল স্থাপত্যের একটি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালিন বাংলার সুবাদার ও সেনাপতি মীর জুমলা ইছামতি নদীর তীরে ইদ্রাকপুর নামক স্থানে এই কেল্লাটি নির্মাণ করেন। ৮২ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৭২ মিটার প্রস্থের ইটের তৈরি ইদ্রাকপুর কেল্লাটি মগ জলদস্যু এবং পর্তুগিজদের হাত থেকে রক্ষার জন্য নির্মাণ করা হয়।

হাতিমাথা
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ইউনিয়নের একটি পাহাড়ি পথকে মায়ুং কপাল বা হাতিমুড়া (Hatimura) নামে ডাকা হয়। স্থানীদের কাছে হাতিমাথা খ্যাত এই স্থানের চাকমা নাম ‘এদো সিরে মোন’। আবার অনেকের কাছে এটি স্বর্গের সিড়ি হিসাবেও পরিচিত। বহু নামের অধিকারী হাতিমাথা পাহাড়ের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ১৫ গ্রামের বাসিন্দা চলাচল করে। গ্রামবাসীর চলাচলকে সুবিধাজনক করতে হাতিমাথা পাহাড়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কতৃক ৩০৮ ফুট লম্বা লোহার সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে।

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ
চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে অবস্থিত শৈল্পিক কারুকার্যময় হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদটি আয়তনের দিক দিয়ে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৩৩৭ বঙ্গাব্দে হাজী আহমদ আলী পাটোয়ারী হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ (Hajigonj Boro Masjid) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ২৮,৪০০ বর্গফুট আয়তনের বিশাল এই মসজিদে একসাথে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারেন। আর বাংলাদেশে জুমাতুল বিদা’য়ার সবচেয়ে বড় জামাত এই মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ বৃহৎ এই মসজিদে প্রায় ১৮৮ ফুট উঁচু দৃষ্টিনন্দন মিনার রয়েছে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও গবেষণারের নাম চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা (Chittagong Zoo)। ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পাহাড়তলী ইউএসটিসি মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন ৬ একর জায়গাজুড়ে বানর, সিংহ, হরিণ ও হনুমান এই চার প্রজাতির ১৬টি প্রাণী নিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা যাত্রা শুরু করে।

বোয়ালিয়া ট্রেইল
বোয়ালিয়া ট্রেইল (Boalia Trail) চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলায় অবস্থিত। সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা শান্ত ঝিরিপথ, চারপাশের বন্য পরিবেশ আর একের পর এক নান্দনিক জলপ্রপাতের রোমাঞ্চকর মেলবন্ধনের নাম বোয়ালিয়া ট্রেইল। প্রকৃতির এক অপার বিস্ময় আর ট্র্যাকিং অ্যাডভেঞ্চারের স্বর্গরাজ্য হলো চট্টগ্রামের মিরসরাই। এই মিরসরাই উপজেলার অন্যতম একটি আকর্ষণীয় এবং অফবিট রুট হলো বোয়ালিয়া ট্রেইল। খৈয়াছড়া বা নাপিত্তাছড়ার চেয়ে তুলনামূলক কম পরিচিত হওয়ায় এই ট্রেইলের প্রকৃতি এখনো অনেকটা আদিম, শান্ত ও প্লাস্টিক দূষণমুক্ত। বোয়ালিয়া ট্রেইলের মূল বিশেষত্ব হলো, অল্প পরিশ্রমে এখানে মূল বোয়ালিয়া ঝরনা ছাড়াও উত্তরণ, বাঘবিয়ানী এবং অমরমাণিক্য ঝরনার মতো বেশ কয়েকটি দারুণ জলপ্রপাতের দেখা মেলে।

চন্দ্রলোক ক্যাম্পিং সাইট এন্ড রিসোর্ট
চন্দ্রালোক ক্যাম্পিং সাইট এন্ড রিসোর্ট (Chandralok Camping Site and Resort) রাঙ্গামাটি কাপ্তাই শিলছড়ি হাজিরটেক এলাকায় অবস্থিত। প্রকৃতির সৌন্দর্যে অভিজ্ঞতা তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে হিল ল্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার-এর উদ্যোগে নির্মিত এই রিসোর্ট যাত্রা শুরু করে। পর্যটকরা এখানে নিরাপদ, শান্ত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এক নতুন গন্তব্যের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন এই রিসোর্টে। রিসোর্টটি নতুন হলেও রূপের রাণী রাঙ্গামাটির নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি করছে। আর যাদের প্রকৃতির কাছে থাকতে ভালো লাগে, যারা বাজেট-ফ্রেন্ডলি ক্যাম্পিং অভিজ্ঞতা চায়, তাদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে।