দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

নীলগিরি
নীলগিরি (Nilgiri) কে বলা হয় বাংলার দার্জিলিং। বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে নীলগিরি অবস্থান। নীলগিরি পাহাড় চূড়াতেই রয়েছে সেনাবাহিনী পরিচালিত বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটক কেন্দ্র গুলোর একটি নীলগিরি পর্যটক কেন্দ্র। এখানে দীগন্ত জুড়ে সবুজ পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি যে কাউকে এর রূপ দিয়ে বিমোহিত করে রাখবে। যদি সমুদ্র পৃষ্ট থেকে ২২০০ ফুট উচ্চতায় মেঘ ছোঁয়ার ইচ্ছে থাকে তাহলে নীলগিরি আপনার সেই ইচ্ছে পূরণ করবে।

বলিয়াদী জমিদার বাড়ী
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বলিয়াদী ইউনিয়নে ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বলিয়াদী জমিদার বাড়ী (Baliadi Jamider Bari) অবস্থিত। ১৬১২ খৃস্টাব্দে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান বলে প্রতিষ্ঠিত বলিয়াদী এস্টেটের প্রথম কর্ণধর ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রাঃ) বংশধর কুতুব উদ্দিন সিদ্দিকীর পুত্র সাদ উদ্দিন সিদ্দিকী।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে মানিকগঞ্জ জেলা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে। সাতটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিয়ে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি গৌরবের সাক্ষী হয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। দৃষ্টিনন্দন এই জমিদার বাড়ির বিভিন্ন ভবন একেক জন উত্তরাধিকারীদের মাধ্যমে পৃথক পৃথক সময়ে নির্মিত হয়েছে। বালিয়াটি জমিদার বাড়িটি বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের মাধ্যমে সংরক্ষণ ও পরিচালনা করা হচ্ছে। আর জমিদার বাড়ির কেন্দ্রীয় ব্লকে রংমহল খ্যাত ভবনে যাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে। বালিয়াটি প্যালেস নামেও পরিচিত এই জমিদার বাড়ি।

চা বাগান
চা-বাগানের জন্য বিখ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলকে বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী বলা যেতে পারে। মৌলভীবাজার জেলায় ৯২ টির মত চা বাগান রয়েছে। ৪৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের শ্রীমঙ্গলের চা বাগানের নজরকাড়া সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন অনেক পর্যটক আসেন। মাইলের পর মাইল পর্যন্ত চা বাগান দেখে পাহাড়ের ঢালে সবুজ গালিচা বলে মনে হয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নত মানের চা শ্রীমঙ্গলেই উৎপন্ন হয়ে।

নলডাঙ্গা রাজবাড়ি রিসোর্ট
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামে নলডাঙ্গা রাজবাড়ি রিসোর্ট (Naldanga Rajbari Resort) অবস্থিত। মোগল সম্রাট আকবরের শাসন আমলে নলডাঙ্গা গ্রাম মোহাম্মদ শাহী পরগনার রাজধানী হিসাবে সুপরিচিত ছিল। নলডাঙ্গা রাজবাড়ির সর্বশেষ রাজার নাম প্রমথ ভূষণ রায় বাহাদুর। বর্তমানে কারুকার্যময় রাজপ্রাসাদ না থাকলেও নলডাঙ্গা রাজবাড়ির ৭টি মন্দির কালের সাক্ষী হিসাবে টিকে আছে।

গাইবান্ধা পৌর পার্ক
গাইবান্ধা পৌর পার্ক, গাইবান্ধা পৌরসভার নিয়ন্ত্রনাধীন সামাজিক বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে অতি সুপরিচিত একটি উন্মুক্ত স্থান। গাইবান্ধা জেলা শহরে বসবাসকারীদের চিত্তবিনোদনের কথা বিবেচনা করে ১৯২৭ সালে জমিদার গোবিন্দ লাল রায়ের দান করা ১ একর ৭ শতক জমিতে গাইবান্ধা পৌর পার্ক (Gaibandha Pouro Park) যাত্রা শুরু করে। একটি পুকুরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা পার্কে বিভিন্ন রকমের ফুল, ফল ও বনজ গাছ রয়েছে। আর পুকুরের মাঝখানে পানির ফোয়ারা এবং এক পাশে সান বাধানো ঘাট আছে। শান্ত সুন্দর এই পুকুরের পাড়ে বসে নিশ্চিন্তে একটি বিকেল কাটিয়ে দেয়া যায় তাই বেলা বাড়ার সাথে সাথে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা হাউজ
কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁও এলাকায় ঐতিহাসিক নওয়াব ফয়জুন্নেসা হাউজ (Nawab Faizunnesa House) নামের জমিদার বাড়ির অবস্থান। জমিদার গাজী চৌধুরীর সাথে বিয়ে হবার কিছুদিন পর বিবাহ বিচ্ছেদ হলে দেনমোহরের প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ১৮৭১ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী এই বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন।

ইনানী রয়েল রিসোর্ট
কক্সবাজারের ইনানী বীচ পয়েন্টে অবস্থিত এক রাজকীয় রিসোর্টের নাম ইনানী রয়েল রিসোর্ট (Inani Royal Resort)। ইনানী সাগর সৈকতের কোল ঘেষা অপরূপ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অনন্য নান্দ্যনিকতায় সাজানো এই রিসোর্ট পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। পরিবার পরিজন, বন্ধু বান্ধব, হানিমুন কিংবা যেকোন কর্পোরেট ট্যুরের জন্যে নিরিবিলি ও চমৎকার পরিবেশের ইনানী রয়েল রিসোর্ট হতে পারে আপনার প্রিয় গন্তব্য।

মুনলাই পাড়া
বান্দরবানের রুমা উপজেলার বগালেক বা কেওক্রাডং যাওয়ার পথে পাহাড়ি চূড়ায় অবস্থিত একটি গ্রাম মুনলাই পাড়া। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত বম জনগোষ্ঠীর এই গ্রামটি বর্তমানে বাংলাদেশের পর্যটনের এক অনন্য মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার
৩৬০ আউলিয়ার সিলেট নগরী ‘পূন্যভূমি’ হিসাবে খ্যাত। সিলেটের মাটিতে যেসব পীর, দরবেশ শায়িত আছেন এদের মধ্যে হযরত শাহজালাল (রঃ) অন্যতম। আর এজন্য তাঁকে ওলিকুল শিরোমণি বলা হয়। হযরত শাহ জালাল (রঃ) সকল ধর্মের মানুষের কাছে সমাদৃত ছিলেন। প্রতি বছর হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার জিয়ারতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের ঢল দেখা করা যায়।

তৈদুছড়া ঝর্ণা
খাগড়াছড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে দীঘিনালা উপজেলার বুনো জঙ্গলের মাঝে আঁকাবাঁকা পাহাড়ের ভাঁজ দিয়ে বয়ে চলছে নয়নাভিরাম তৈদুছড়া ঝর্ণা। ত্রিপুরা ভাষায় তৈদু মানে পানির দরজা এবং ছড়া মানে ঝর্ণা। ১০০ ফুট উচু ঝর্ণা মুখ থেকে বয়ে যাওয়া শীতল ও স্বচ্ছ পানির কলকল শব্দে মুখরিত হয়ে থাকে তৈদুপাড়া এলাকার চারপাশ। প্রাকৃতিক অসাধারন বিচিত্রের এই ঝর্ণা এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে খাগড়াছড়ির পর্যটনশিল্পে। ট্র্যাকিং প্রেমীরা দীঘিনালার দুর্গম গিরি পথ পাড়ি দিয়ে খাগড়াছড়ির বৃহত্তম এই ঝর্ণা দেখতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে।

টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট
বাংলাদেশের পাহাড়ি জেলা বান্দরবান প্রকৃতি প্রেমীদের স্বর্গ। বান্দরবানের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে অনেক দেখার মত স্থান। জনপ্রিয় পর্যটন স্থান গুলোর অনেক গুলো অবস্থিত বান্দরবান-থানচি রাস্তার পাশে। চিম্বুক পাহাড় ও নীলগিরি দেখার জন্যেই অনেকেই এই রাস্তায় ভ্রমণ করে থাকেন।

মায়াদ্বীপ
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বারদী ইউনিয়নে অবস্থিত মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠা ত্রিভুজ আকৃতির চরের নাম মায়াদ্বীপ (Maya Dwip)। সবুজে ঘেরা মায়াদ্বীপ আপনার মনকে এক অপার্থিব প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেবে। খোলা প্রান্তর, নদীর ঢেউয়ের সমান্তরালে বয়ে চলা বাতাস আর মাতাল করা একটি দুপুর সব মিলিয়ে এই চর যেন সত্যিই মায়ায় ঘেরা জাদুপুরী।

মণিপুরী পল্লী
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য উপজাতীয় নৃ-গোষ্ঠী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তেমনি মৌলভীবাজার শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে শ্রীমঙ্গলের কমলগঞ্জ উপজেলায় আদমপুর ইউনিয়নে মনিপুরী সম্প্রদায়ের কাপড়ের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মণিপুরী পল্লী (Monipuri Village)। স্থানীয় মনিপুরীরা এখানে নিজেরা কাপড়ের বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে। দেশ বিদেশে মণিপুরী পণ্য সমূহের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এছাড়া নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কারণেও মনিপুরীদের সুখ্যাতি ছড়িয়ে আছে বিশ্বব্যাপী।

ধরন্তি হাওর
হাওরের কথা আসলেই আমাদের মনে সুনামগঞ্জ, সিলেট কিংবা কিশোরগঞ্জের ছবি ভেসে উঠে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সৌরভ বিলিয়ে থাকা হাওর সম্পর্কে অনেকেরই তেমন জানাশুনা নেই। ধরন্তি হাওর (Dhoronti Haor) তেমনি এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধারণকারী জলাভূমির নাম। নৈসর্গিক ধরন্তি হাওরের পূর্ব দিকে তিতাস নদী এবং পশ্চিমে মেঘনা নদী সহ ছোট বড় আরও বেশকিছু খাল-বিল রয়েছে।

দুবলার চর
দুবলার চর (Dublar Char) সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের দক্ষিণ দিকে, হিরণ পয়েন্ট থেকে দক্ষিণ-পূর্বে এবং কটকার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি ছোট্ট সুন্দর দ্বীপ। দুবলার চর হিন্দুধর্মালম্বীদের পূণ্যস্নান, রাসমেলা এবং হরিণের জন্য সর্বাধিক সুপরিচিত। কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝখানে জেগে উঠেছে বিচ্ছিন্ন এই দুবলার চর।