দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

ঢাকেশ্বরী মন্দির
ঢাকেশ্বরী মন্দির ( Dhakeshwari Temple ) বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি ঐতিহাসিক পুণ্যস্থান এবং জাতীয় মন্দির। ঢাকেশ্বরী শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘ঢাকার ঈশ্বরী’। আবার অনেকে মনে করেন, এই ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নাম থেকেই ঢাকার নামকরণ করা হয়েছে।

মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট
মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় প্রায় ৩০ বিঘা জায়গাজুড়ে মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট (Meghna Village Holiday Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। প্রবেশ ফটকের শুরুতেই রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাণীর ভাস্কর্য। তারপর প্রবেশ পথ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলেই শান্ত সুন্দর পরিবেশের মুগ্ধতা। মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্টের কুটিরগুলোকে নেপালি ঢঙে তৈরী করা হয়েছে। যারা কর্মব্যস্ততায় গ্রামের সৌরভ মিস করেন তারা ঢাকার কাছে বিনোদন কিংবা অবকাশ যাপনের জন্য মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট-এ আসতে পারেন।

ধানমন্ডি লেক
রাজধানী ঢাকার নাগরিক কোলাহলের ভেতরে অবস্থিত ধানমন্ডি লেক ( Dhanmondi Lake ) যেন এক মুঠো প্রকৃতির স্পন্দন। ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থান বলেই লেকটি ধানমন্ডি লেক নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। সবুজ গাছ আর জলের অপূর্ব মিতালী ধানমন্ডি লেককে সব বয়সী মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তাইতো প্রিয়জনকে নিয়ে হোক কিংবা প্রাণবন্ত আড্ডার বিকেল ধানমন্ডি লেক মুখর থাকে দর্শনার্থীদের সরব পদচারনায়।

মেহেরুন শিশু পার্ক
কে আর মলিক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হদা উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে ৬০ বিঘা জায়গার উপর মেহেরুন শিশু পার্ক ও মিনি চিড়িয়াখানা (Meherun Children Park and Mini Zoo) গড়ে তোলা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই পার্কটি স্থানীয় মানুষের চিত্তবিনোদনের অন্যতম স্থানে পরিণত হয়ে উঠছে, ফলে মেহেরুন শিশু পার্কে প্রতিদিনই বিনোদন প্রত্যাশী দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে।

দিল্লির আখড়া
কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে প্রায় সাড়ে চারশত বছরের পুরনো দিল্লির আখড়া (Dhillir Akhra) অন্যতম। কিশোরগঞ্জের মনোরম একটি হাওরাঞ্চল মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নে দিল্লির আখড়ার অবস্থান। নাম দিল্লির আখড়া হলেও বাস্তবে ভারতে দিল্লির সাথে এই আখড়ার আলাদা কোন সম্পর্ক নেই। জানা যায়, দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে আধ্যাত্মিক সাধু নারায়ন গোস্বামী এই আখড়াটি স্থাপন করেন। আখড়ার ভেতরে ধর্মশালা, নাটমন্দির, অতিথিশালা, পাকশালা, বৈষ্ণবদেব থাকার ঘর, সাধক নারায়ন গোস্বামী এবং তাঁর অন্যতম শিষ্য গঙ্গারাম গোস্বামীর সমাধি রয়েছে।

ধুপপানি ঝর্ণা
রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ওড়াছড়িতে গেলে দেখা মিলে অনিন্দ্য সুন্দর ধুপপানি ঝর্ণা (Dhuppani Waterfall) । ২০০০ সালের দিকে এক বৌদ্ধ ধ্যান সন্ন্যাসী এখানে ধ্যান শুরু করেন, পরবর্তীতে স্থানীয় মানুষের মাধ্যমে এই ঝর্ণা সকলের কাছে পরিচিতি পায়।

ডাইনো পার্ক
কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ির জামমূড়ায় লালমাই পাহাড়ের ১২ একর জায়গা নিয়ে ডাইনোসর পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। সমতল ভূমি থেকে ৪৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত পাখির কলকাকলিতে মুখরিত মনোমুগ্ধকর এই থিম পার্কে হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া ডাইনোসরেরা চলাফেরা করে। ডাইনোসর পার্ক নাম হলেও ডাইনো পার্ক (Dino Park) নামটি ছড়িয়ে গেছে সর্বত্র।

দরিয়া নগর
দরিয়ানগর (Doria Nogor) পর্যটন কেন্দ্রটি হচ্ছে পাহাড়, সমুদ্র আর সূর্যের অপূর্ব মিলনস্থল। প্রকৃতির এ অপরূপ সমন্বয় অবলোকনের জন্য যেতে হবে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে কলাতলী মোড় থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার পূর্বদিকে। একদিকে দৃষ্টি জুড়ে বঙ্গোপসাগর আর অন্য দিকে পাহাড় এরই মাঝখান দিয়ে কক্সবাজার হতে টেকনাফগামী রাস্তা। এই রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে সামনে পড়বে বড়ছেড়া গ্রামের পাঁচটি পাহাড়ের সমন্বয়ে গড়ে উঠা দরিয়ানগর বিনোদন কেন্দ্র।

ড্রিম হলিডে পার্ক
নরসিংদী জেলার পাঁচদোনার চৈতাবাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ড্রিম হলিডে পার্ক (Dream Holiday Park) অবস্থিত। প্রায় ৬০ একর জমির ওপর নির্মিত পার্কটিতে বিভিন্ন ধরনের ওয়াটার বাম্পার কার, রাইডার ট্রেন, বাইসাইকেল, রকিং বর্স, স্পিডবোট, সোয়ানবোট, জেড ফাইটার, নাগেট ক্যাসেল, এয়ার বাইসাইকেল রয়েছে।

ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণমারী গ্রামে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক (Dreamland Educational Park)। ১৯৯৫ সালে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রশিদুন্নবী চাঁদ প্রায় ১৭ একর জমিতে গাইবান্ধা জেলা শহরের অন্যতম এই বিনোদন কেন্দ্রটি নির্মাণ করেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক-এ আছে দেশি-বিদেশি বৃক্ষ, ফুলের বাগান, ভাস্কর্য এবং বিভিন্ন স্থাপনা।

ড্রিমল্যান্ড পার্ক
ড্রিমল্যান্ড পার্ক (Dreamland Amusement and Water Park) সিলেট থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের গোলাপগঞ্জের হিলালপুর গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ১০০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠা এই পার্কে বিভিন্ন আকর্ষনীয় আধুনিক সব রাইডের পাশাপাশি রয়েছে ওয়াটার পার্কের সমস্ত আয়োজন। ড্রিমল্যান্ড পার্কটিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের সাথে আধুনিক বিনোদনের সমন্বয় করা হয়েছে যা এই ড্রিমল্যান্ড পার্কটিতে আগত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। সপ্তাহের সাত দিনই ড্রিমল্যান্ড পার্কটি খোলা থাকে এবং ড্রিমল্যান্ড পার্কে প্রবেশ করতে ১৫০ টাকা দিয়ে প্রবেশ টিকেট সংগ্রহ করতে হয়। সপ্তাহের ৭ দিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ড্রিমল্যান্ড পার্ক সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে।

দুবলিয়া মেলা
পাবনা সদর উপজেলার দুবলিয়া গ্রামে স্থানীয় বাসীন্দাদের শতবছরের গ্রাম বাংলার গৌরব ও ঐতিহ্যের এক অন্যতম বহিঃপ্রকাশ দুবলিয়া মেলা (Dublia Fair)। যা দুবলিয়াবাসীর বিনোদনের প্রধান এক উৎস। ইতিহাস থেকে জানা যায়, বর্ষাকালে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধ দুবলিয়াতে যাতায়াতের মাধ্যম হিসাবে নৌকার প্রচলন ছিল। আর তখন গ্রামীণ বিনোদনের অন্যতম উৎস নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করেই মূলত এই মেলার জন্ম হয়।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ( Dulahazara Safari Park ) বা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কটি কক্সবাজার জেলা সদর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এটি কক্সবাজার জেলার দক্ষিণ বন বিভাগের ফাসিয়াখালি রেঞ্জের ডুলাহাজারা ব্লকের অন্তর্ভুক্ত ৯০০ হেক্টর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। ১৯৯৯ সালে মূলত হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এই সাফারি পার্কটি স্থাপন করে।

দুর্গাসাগর দিঘী
দুর্গাসাগর দিঘী ( Durga Sagar ) বরিশাল শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে স্বরূপকাঠি – বরিশাল সড়কে মাধবপাশায় অবস্থিত। ১৭৮০ খৃষ্টাব্দে তৎকালীন রাজা শিব নারায়ণ এলাকাবাসীর পানির সংকট নিরসনের জন্য মাধবপাশায় একটি বৃহৎ দীঘি খনন করে তাঁর মা দুর্গা দেবীর নামানুসারে দিঘীটির দুর্গাসাগর নামকরণ করেন। ঐতিহাসিক এই দিঘীটির জলাভূমির আয়তন ২৭ একর এবং পাড় ও জমি সহ মোট আয়তন ৪৫.৪২ একর। বর্তমানে জেলা প্রশাসন দুর্গাসাগর দিঘী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। দুর্গাসাগর দিঘীর তিন দিকে ৩টি ঘাটলা এবং দিঘীর মাঝখানে একটি টিলা বা ছোট দ্বীপ রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এই দুর্গাসাগর মাধবপাশা দীঘি (Madhobpasha Dighi) নামেও ব্যাপক পরিচিত।

এগারসিন্দুর দুর্গ
কিশোরগঞ্জ থেকে ২২ কিলোমিটার এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা হতে ৮ কিলোমিটার দূরে এগারসিন্দুর গ্রামে ঈশা খাঁর স্মৃতি বিজড়িত এই দুর্গের অবস্থান। এগারোসিন্ধুর নামের পূর্বে জায়গাটি গঞ্জের হাট নামে পরিচিত ছিল। ১১ টি ছোট বড় খাল বা নদী এই গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পরবর্তীতে এই জায়গা এগারসিন্দুর নামে পরিচিতি পায়। নদী পথে যোগাযোগ সহজ থাকায় তৎকালীন সময়ে এই এলাকা দ্রুত ব্যবসা বানিজ্য ও বসবাসের স্থান হিসেবে পেওসার লাভ করে।

ইমরান’স হেরিটেজ হোম
আপনি কি কখনো ভেবেছেন, দুইশ বছর আগের নবাব-জমিদাররা ঠিক কোন পাত্রে খেতেন, কোন টেবিলে বসতেন, কিংবা কেমন গন্ধ ভাসত তাঁদের রান্নাঘর থেকে? পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ির নূর বক্স লেনে ঢুকে একটা সরু গলি পেরোলেই আপনি সেই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন বাস্তবে, থালা হাতে। এখানেই দাঁড়িয়ে আছে ইমরান’স হেরিটেজ হোম (Emran’s Heritage Home), যাকে স্থানীয়রা চেনেন “সাহেব বাড়ি” বা “জমিদার বাড়ি” নামে। বাইরে থেকে দেখলে এটা আর দশটা পুরনো বাড়ির মতোই সাধারণ কিন্তু গেট খুললেই আপনি সোজা হাঁটা দেবেন ইতিহাসের বইয়ের পাতায়।