দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি
ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি কুমিল্লায় অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৭৩৭ জন সৈন্য চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। এটি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের টিপরা বাজার ও ময়নামতি সাহেব বাজারের মধ্যস্থলে অবস্থিত।

হরিপুর জমিদার বাড়ি
হরিপুর জমিদার বাড়ি ( Haripur Zamidar Bari ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিণবেড় গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। প্রায় ৫ একর জমির ওপর লাল ইট সুরকির গাঁথুনি দিয়ে তৈরি তিন তলা দৃষ্টিনন্দন এই জমিদার বাড়িতে রয়েছে মোট ৬০ টি কক্ষ, দরবার হল, রংমহল, ধানের গোলা, গোয়ালঘর, নাচ ঘর, মল পুকুর, রন্ধনশালা, খেলার মাঠ এবং মন্দির। এছাড়া হরিপুর বড় বাড়ি খ্যাত জমিদার বাড়ির পশ্চিম দিকে তিতাস নদীর পাড়ে রয়েছে একটি শান বাঁধানো ঘাট। আর ঘাটের উত্তর দিকে আছে হরিপুর জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী এবং গৌরী প্রসাদ রায় চৌধুরীর সমাধি মঠ।

চিংড়ি ঝর্ণা
চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়ীকন্যা বান্দরবান ৯২ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত। ৪৪৭৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের পাহাড়ীকন্যা বান্দরবানে পাহাড় ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য ছোট বড় ঝর্ণা। তেমনি অপরূপ সুন্দর একটি ঝর্ণা হচ্ছে চিংড়ি ঝর্ণা (Chingri Jhorna) । এই ঝর্ণায় এক সময় প্রচুর চিংড়ি পাওয়া যেত বলেই ঝর্ণার এমন নামকরণ। বগালেক থেকে কেওক্রাডং যাওয়ার পথে ৩০-৪০ মিনিট হাটলে চিংড়ি ঝর্ণার দেখা পাবেন।

রাজাঝির দীঘি
ফেনী শহরের জিরো পয়েন্টে ঐতিহাসিক রাজাঝির দীঘি (Rajajhir Dhigi) অবস্থিত। প্রচলিত আছে, প্রায় সাতশত বছর আগে ত্রিপুরা রাজ্যের এক প্রভাবশালী রাজার কন্যার অন্ধত্ব দূরীকরণের উদ্দেশ্যে এই দীঘি খনন করা হয়। ফেনী অঞ্চলের মানুষ কন্যাকে আঞ্চলিক ভাষায় ঝি বলে থাকে। ফলে দীঘিটি খননের পর থেকেই রাজাঝির দীঘি বা রাজনন্দিনীর দীঘি নামে পরিচিত হয়ে উঠে।

হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ
রাজশাহী বিভাগের জয়পুরহাট জেলায় অবস্থিত হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ ( Hinda – Kasba Shahi Mosque ) বাংলাদেশের ইসলামী স্থাপত্য শিল্পের একটি অন্যতম নিদর্শন। জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে ক্ষেতলালের হিন্দা গ্রামে মসজিদটির অবস্থান। কাচ, চিনামাটি এবং মোজাইকের মাধ্যমে মসজিদের দেয়ালে মোগল স্থাপত্য শিল্পের অনুকরনে বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা আগত দর্শনার্থীদের কাছে মসজিদটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বাগমারী পীর হিসাবে সুপরিচিত হযরত আবদুল গফুর চিশতি (রঃ) চিরকুমার ছিলেন। তিনি জয়পুরহাট জেলায় বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরী করে গেছেন। হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ হযরত আবদুল গফুর চিশতি (রঃ)-এর নকশায় খলিফা আবদুল খালেক চিশতির তত্বাবধানে বাংলা ১৩৬৫ সালে নির্মাণ করা হয়।

হিমছড়ি
কক্সবাজার গিয়েছেন কিন্তু হিমছড়িতে যাননি কিংবা হিমছড়ির নাম শুনেন নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কক্সবাজার থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে হিমছড়ি অবস্থিত। হিমছড়ির ছোট বড় ঝর্ণা, পাহাড় আর ফটোগ্রাফিক সমুদ্রতট পর্যটকদের বিমোহিত করে রাখে। শীতল পানির ঝর্ণা, মেরিন ড্রাইভ রোড এবং বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত দেখতে আপনাকে হিমছড়ি আসতেই হবে। সারাবছরই হিমছড়িতে যেতে পারবেন তবে বর্ষায় ঝর্ণাগুলে পূর্নতা পায়।

ছোট সোনা মসজিদ
রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন হিসাবে আখ্যায়িত ছোট সোনা মসজিদ (Choto Sona Mosque) অবস্থিত। ছোট সোনা মসজিদের প্রধান প্রবেশ পথের উপরে স্থাপিত শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ সালের মধ্যে সুলতান হুসাইন শাহর শাসনকালে জনৈক মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী ছোট সোনা মসজিদটি নির্মাণ করেন। প্রচলিত আছে, একসময় মসজিদের গম্বুজগুলো সোনা দিয়ে মোড়ানো ছিল এবং সে কারণেই মসজিদটি সোনা মসজিদ হিসাবে পরিচিতি পায়। আর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছে ভারতে আয়তনে বড় আরেকটি সোনা মসজিদ থাকায় এই মসজিদটি সকলের কাছে ছোট সোনা মসজিদ নামে প্রসিদ্ধ হয়ে উঠে। মসজিদের সামনের আঙ্গিনা পশ্চিম থেকে পূর্বে ৪২ মিটার এবং দক্ষিণ থেকে উত্তরে ৪৩.৫ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

সাফিনা পার্ক ও রিসোর্ট
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দ্বিগ্রাম খেজুরতলায় প্রায় ৪০ বিঘা জায়গার উপর ২০১২ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে সাফিনা পার্ক ও রিসোর্ট (Safina Park and Resort)। গোদাগাড়ী থেকে সাফিনা পার্কের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার। নতুন বিনোদন আয়োজনে সাজানো সাফিনা পার্কটি সব বয়সী দর্শনার্থীদের কাছে চিত্তবিনোদন ও পিকনিক স্পট হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

ফুলের গ্রাম সাবদি
ঢাকা হতে দিনে গিয়ে দিনে ঘুরে আসা যায় এমন স্থানের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবদি (Sabdi) একটি আকর্ষণীয় ভ্রমণ স্থান। শীতকালে সাবদি গ্রামের ফসলের ক্ষেতগুলো হলুদ সরিষা ফুলে ভরে উঠে। এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, কসমস, ডেইজি জিপসি, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের ফুলের চাষ করা হয়। সমগ্র গ্রাম বাহারি ফুলের রঙে রঙিন হয়ে উঠে। ফুল চাষকে ঘিরে চলে গ্রামের চাষীদের ব্যস্ততা। তখন সাবদি গ্রামে প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীদের পদচারণা বৃদ্ধি পায়। দিগন্তজোড়া ফুলের রাজ্য থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্যের অপূর্ব সৌন্দর্য ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে।

কার্জন হল
কার্জন হল (Curzon Hall) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত প্রায় ১১৫ বছরের পুরনো একটি ঐতিহাসিক ভবন ও পুরাকীর্তি। বর্তমানে কার্জন হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও জীব বিজ্ঞান অণুষদের পাঠদানে ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৯০৪ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি তৎকালীন গভর্ণর জেনারেল জর্জ কার্জন এই ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর থেকে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত কার্জন হল ঢাকা কলেজ ভবন হিসেবে ব্যবহার করা হত।

রকস মিউজিয়াম
বাংলাদেশের একমাত্র পাথরের জাদুঘর বা রকস মিউজিয়াম (Panchagarh Rocks Museum) পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে স্থাপন করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালে সম্পূর্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে অধ্যক্ষ নাজমুল হক এই পাথরের জাদুঘর গড়ে তোলেন। জাদুঘরে বিভিন্ন রং, আকৃতি এবং বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পাথর সংরক্ষিত আছে। হাজার বছরের পুরনো পাথর ছাড়াও এখানে প্রাচীন ইমারতের ইট এবং পোড়ামাটির বিভিন্ন মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়।

সায়রা গার্ডেন রিসোর্ট
সায়রা গার্ডেন রিসোর্ট (Shaira Garden Resort) নারায়ণগঞ্জ জেলার মদনপুর ইউনিয়নের হেদায়েত পাড়া গ্রামে নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকা থেকে নাজিম উদ্দিন ভূইয়া কলেজের বিপরীত পাশে অবস্থিত সায়রা গার্ডেন রিসোর্টের দূরত্ব মাত্র ২২ কিলোমিটার। মাত্র ৩০ বিঘা জমির উপর সায়রা গার্ডেন রিসোর্টটি নির্মিত হলেও ক্রমশই এর আয়তন বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

বারদী লোকনাথ আশ্রম
নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে ৩৪ কিলোমিটার দূরে সোনারগাঁ উপজেলার বারদি বাজারের পশ্চিম-উত্তর কোণে শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম (Sri Sri Loknath Bramhachari Ashram) বা বারদী লোকনাথ আশ্রম অবস্থিত। ১৭৩০ সালের ৩১ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত থানার অন্তর্গত কচুয়া গ্রামে লোকনাথ ব্রহ্মচারী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পুঁথি বিদ্যা ত্যাগ করে সন্ন্যাস ব্রত গ্রহণ করে হিমালয়ে কঠোর যোগ সাধনা করেন। পরবর্তীতে মানুষের মাঝে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি লোকালয়ে বের হয়ে আসেন। বিভিন্ন দেশ ঘুরে ১৮৬৩ সালে সোনারগাঁয়ে পৌঁছে লোকনাথ ব্রহ্মচারী বারদী গ্রামে প্রকৃতির নিবিড় সজীবতায় এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ১৬০ বছর বয়সে ১৮৯০ সালের ১ জুন (১৯শে জ্যৈষ্ঠ) মহাপুরুষ লোকনাথ ব্রহ্মচারী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বারদী লোকনাথ আশ্রম জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য এক মিলন মেলা হিসেবে পরিচিত।

লটকন বাগান
টক-মিষ্টি স্বাদের লটকন (Lotkon) কম-বেশি সবারই পছন্দের একটি ফল। আর লটকনের জন্য নরসিংদী জেলার রয়েছে দেশজোড়া খ্যাতি। নরসিংদীর শিবপুর ও মরজাল উপজেলায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি লটকনের আবাদ হয়ে থাকে। শিবপুর উপজেলার ছোটাবান্দা গ্রামের রাস্তার দুই পাশের অসংখ্য ছোট বড় লটকন বাগান নজরে পড়ে। বাগানের গাছগুলোর গোড়া থেকে শুরু করে শাখা প্রশাখা ও উপশাখা জুড়ে ঝুলতে থাকে থোকা থোকা হাজারো পাকা লটকন। তবে কোন বাগানে ঢোকার আগে অবশ্যই মালিকের অনুমতি নিতে হবে। অধিকাংশ বাগানের মালিক খুবই আন্তরিক এবং দর্শনার্থীদের আগ্রহ নিয়ে নিজেদের বাগান ঘুরে দেখায়। তাই বাগানের মালিকের সাথে কথা বলে নিজ হাতে গাছ থেকে পেড়ে লটকন খেতে পারবেন।

ডিসি পার্ক
২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ফৌজদার হাট বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এর কাছে একটি সরকারি জমি দখলমুক্ত করে করে সেখানে একটি বিশেষ বাগান তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ করে দুবাইয়ের মিরাকেল গার্ডেন এর আদলে তৈরি করা হয় ফুলের সাম্রাজ্য। যা বর্তমানে চট্টগ্রাম ডিসি পার্ক (DC Park Chittagong) নামে পরিচিতি।

শালবন বৌদ্ধ বিহার
শালবন বৌদ্ধ বিহার (Shalbon Buddha Bihar) কুমিল্লা জেলার কোটবাড়িতে অবস্থিত, যা বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন হিসাবে সুপরিচিত। তৎকালীন সময় এই অঞ্চলে শাল ও গজারির বন ছিল বলে বিহারটি শালবন বিহার নামে পরিচিতি লাভ করে। শালবন বিহারটি অনেকটা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মতো তবে আকারের দিক দিয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার থেকে কিছুটা ছোট। কোটবাড়ি এলাকায় ১৮৭৫ সালে রাস্তা তৈরির সময় একটি ইমারতের ধ্বংশাবশেষ সকলে প্রত্যক্ষ করেন। তখন এটিকে প্রাচীন দূর্গের অংশ হিসাবে ধারণা করা হচ্ছিল। ১৯১৭ সালে ঢাকা জাদুঘরের অধ্যক্ষ নলিনী কান্ত ভট্টাশালী শালবন বৌদ্ধ বিহারটিকে পর্যবেক্ষন করে পট্টিকেরা নগর বলে মতামত পোষণ করেন। তবে ধারণা করা হয় এই বিহারটি ৭ম শতাব্দীর শেষ সময়ে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব নির্মাণ করেন। বিভিন্ন সময় শালবন বিহারের ছয়টি স্থাপনা নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণের কথা জানা যায়। মনে করা হয়, ৮ম শতাব্দীর মধ্যে ৩য় বারের মত কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণ ও বিহারের সার্বিক সংস্কার হয়। পর্যায়ক্রমে ৮ম ও ৯ম শতাব্দীতে ৪র্থ ও ৫ম বারের মত বিহারটি সংস্কার করা হয়।