দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

কাজির বাগ ইকো পার্ক
কাজির বাগ ইকো পার্ক (Kazir Bagh Eco Park) ফেনী জেলার সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নে অবস্থিত। ফেনী জেলা শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে ফেনী-পরশুরাম সড়কের পাশে অবস্থিত এই পার্কটি প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান। বিশেষ করে যারা যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে মুক্তি পেয়ে কিছুটা সময় সবুজের মাঝে কাটাতে চান, তাদের জন্য এই পার্কটি অনন্য।

সুরেশ্বর দরবার শরীফ
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় সুরেশ্বর গ্রামে সুরেশ্বর দরবার শরীফ (Sureswar Darbar Sharif) অবস্থিত। পদ্মা পাড়ের এই জেলার সুরেশ্বর গ্রামে হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রহঃ) জন্ম গ্রহণ করেন। অনেক ভক্তগণ শাহ্ সুরেশ্বরী (রহঃ) কে “জানু বাবা” এবং “দয়াল বাবা” বলে ডাকেন।

সোনাইমুড়ি টেক
নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার বাগাঘ ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়ায় লালমাটির শহর সোনাইমুড়ি টেক (Sonaimuri Tek) অবস্থিত । লাল মাটির পাহাড়ি টিলা, সমতল ভূমির বসতবাড়ি, পাখির কল-কাকলী ও অপার সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ সোনাইমুড়ি বিনোদন পার্কে ছুটির দিনগুলোতে থাকে উপচে পড়া ভিড়।

আহসান মঞ্জিল
আহসান মঞ্জিল ( Ahsan Manzil ) পুরান ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। আহসান মঞ্জিলের সাথে জড়িয়ে রয়েছে ঢাকার শত বছরের পুরনো ইতিহাস। ঢাকার পুরনো স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় আহসান মঞ্জিলকে। নবাব পরিবারের বহুল স্মৃতি বিজড়িত এই প্রাসাদটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

লেক্সাস গার্ডেন
সিলেট শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে পীরের বাজার হযরত শাহ সুন্দর রহঃ মাজার এর কাছে উঁচুনিচু টিলা বেষ্টিত ২৬ একর উপর জমির উপর ২০২১ সালে গড়ে উঠেছে লেক্সাস গার্ডেন (Lexus Garden)। লেক্সাস গার্ডেন সিলেটের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক উদ্যান। পাহাড়, লেক ও বৃহৎ আনারসের বাগান লেক্সাস গার্ডেন এর সৌন্দর্য হাজারগুণ বারিয়ে দিয়েছে। পরবর্তীতে এই পার্ক সহজেই পর্যটকদের দৃষ্টিআকর্ষণ করে।

আলাদিন পার্ক
রাজধানী ঢাকার ধামরাই উপজেলার সিতি এলাকায় অবস্থিত আলাদীন’স পার্ক (Aladin’s Park) একটি জনপ্রিয় পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র। ঢাকার ভেতরে পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের নিয়ে অল্প সময়ের অবসরে ঘুরে আসতে পারেন এই পার্ক থেকে। প্রায় ৪০ বিঘা জমির উপর নির্মিত আলাদীন’স পার্কে বিভিন্ন রাইডের মধ্যে রয়েছে বুল রাইড, বাম্পার কার, স্পিড স্পিনিং কার, হাইড্রলিক পেন্ডুলাম, সুপার সুয়িং, ডাবল ডেক কেরোসেল, ম্যাজিক শো, টয় ট্রেন, কিডি রাইডস জোন, ১২D ডায়নামিক সিনেমা হল এবং প্যাডেল বোট।

ওসমানী উদ্যান
ঢাকার গুলিস্তানে নগর ভবন ও সচিবালয়ের সংলগ্ন প্রায় ২৩.৩৭ একর জায়গাজুড়ে ওসমানী উদ্যান (Osmani Uddayan) অবস্থিত। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর নামে ওসমানি উদ্যান নামকরন ও ওসমানি অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হয়। ওসমানী উদ্যানের ৩টি প্রবেশ পথের প্রধান গেইটটি দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ভবনের বিপরীত পাশে অবস্থিত। গোলাপ শাহ মসজিদ এবং ওসমানি অডিটোরিয়ামের কাছে ২য় ও ৩য় প্রবেশ পথ অবস্থিত।

বাগেরহাট জাদুঘর
বাগেরহাট জেলার সুন্দরঘোনায় ষাট গম্বুজ মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে পুরাতন রূপসা রোডে বাগেরহাট জাদুঘর (Bagerhat Museum) অবস্থিত। ১৯৭৩ সালে মুসলিম সংস্কৃতি ও খানজাহান আলীর স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক আবেদন জানানো হলে ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো-বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে ৫২০ বর্গ মিটার জায়গা জুড়ে এই জাদুঘরটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর বাগেরহাট জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্ক
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্ক ময়মনসিংহ শহরের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত একটি মনোরম স্থান। এখানে বিখ্যাত চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিনের চিত্রকর্ম সংরক্ষিত আছে এবং পার্কে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা, মিনি চিড়িয়াখানা এবং আরও অনেক আকর্ষণ।

চা বাগান
চা বাগানের কথা আসলেই সর্ব প্রথমেই আমাদের চোখে ভেসে উঠে সিলেটের শ্রীমঙ্গলের ছবি কিন্তু দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের সমতল ভূমিতেও যে বাণিজ্যিক ভাবে চা চাষ সম্ভব তা এখানে না আসলে বিশ্বাস করা কঠিন। প্রায় ১৫০ বছর আগে বাংলাদেশে চায়ের উৎপাদন শুরু হলেও পঞ্চগড়ে ১৯৯৮ সালে প্রথম চা চাষ শুরু হয়। তৎকালীন সময়ে পঞ্চগড়ের জমি পতিত থাকতে দেখে শিল্পপতি কাজী শাহেদ আহমদ ভারতের চা বাগান (Tea Garden) দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে চায়ের চাষ শুরু করেন।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু
সড়কপথে ভৈরব ও আশুগঞ্জের মধ্যে অবাধ যোগাযোগের জন্য মেঘনা নদীর উপর নির্মিত নান্দ্যনিক এক সেতুর নাম সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু (Sayed Nazrul Islam Bridge) । ১৯৯৯ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০০২ সালে শেষ হয়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থিত ১.২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৯.৬০ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট এই সেতুটিতে ৭টি ১১০ মিটার স্প্যান এবং ২টি ৭৯.৫ মিটার স্প্যান রয়েছে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর পূর্ব নাম ছিল বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য মৈত্রী সেতু, যা ২০১০ সালে পরিবর্তন করা হয়। যদিও স্থানীয়দের কাছে সেতুটি ভৈরব ব্রিজ নামে অধিক পরিচিত। সেতুতে দাঁড়িয়ে মেঘনা নদীর সৌন্দর্য অবলোকনের পাশাপাশি বিভিন্ন নৌযান ও জেলেদের কর্মব্যস্ততা প্রত্যক্ষ করা যায়।

মেহেরুন শিশু পার্ক
কে আর মলিক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হদা উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে ৬০ বিঘা জায়গার উপর মেহেরুন শিশু পার্ক ও মিনি চিড়িয়াখানা (Meherun Children Park and Mini Zoo) গড়ে তোলা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই পার্কটি স্থানীয় মানুষের চিত্তবিনোদনের অন্যতম স্থানে পরিণত হয়ে উঠছে, ফলে মেহেরুন শিশু পার্কে প্রতিদিনই বিনোদন প্রত্যাশী দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে।

কেরু এন্ড কোং
১৯৩৮ সালে প্রায় ৩০০ বিঘা জমির উপর চুয়াডাঙ্গা (Chuadanga) জেলায় এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম চিনির কল ‘কেরু এন্ড কোং’ স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে কেরু এন্ড কোং-কে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে। প্রায় ৮০ বছরের পুরানো কেরু এন্ড কোং-এ চিনি ছাড়াও দেশি এবং বিলেতি মদ উৎপাদন করা হয়। এছাড়া কেরু এন্ড কোং-এর অধীনে একটি ডিস্টিলারি এবং ফার্মাসিউটিকাল ইউনিট পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে অবশিষ্ট চিনিকলগুলোর মধ্যে একমাত্র কেরু এ্যান্ড কোং (Carew & Co Bangladesh Ltd) আজো কোন লোকশানের মুখ দেখেনি। দর্শনায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি দেখতে অনুমতির প্রয়োজন হয়, আর ডিস্টিলারি সেকশনে ঢুকতে গেলে তো সরাসরি এমডি’র কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। বিনোদনের সুবিধার্থে এখানে একটি পিকনিক স্পট এবং গেস্ট হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে।

শশী লজ
শশী লজ ( Shoshi Lodge ) ময়মনসিংহ জেলা সদরে অবস্থিত একটি রাজবাড়ি। ঊনবিংশ শতকে মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদ নির্মাণ করেন। মহারাজ সূর্যকান্ত তার দত্তক ছেলে শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর নামানুসারে প্রাসাদটির নামকরণ করেন শশী লজ। স্থানীয়ভাবে ময়মনসিংহ রাজবাড়ি নামেও পরিচিত। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী পুনরায় নির্মাণ করেন। ৯ একর জায়গা উপর নির্মিত শশী লজ ভবনের প্রধান ফটকে ১৬ টি গম্বুজ রয়েছে।

ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট
শহরের কোলাহল ছেড়ে একটু দূরে নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে গাজীপুরের মাওনার চকপাড়াতে অবস্থিত ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট (Dream Square Resort) থেকে ঘুরে আসতে পারেন। প্রায় ১২০ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই রিসোর্টে প্রকৃতি ও আধুনিকতার এক চমৎকার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। তাই বিনোদনের নানা আয়োজনে সাজানো ড্রিম স্কয়ার রিসোর্টকে অবকাশ যাপনের জন্য অনেকে পছন্দ করেন।

কালভৈরব মন্দির
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলায় অবস্থিত কালভৈরব মন্দির (Sri Sri Kal Bhairab Temple) এক ঐতিহাসিক স্থাপনার নাম। তিতাস নদীর কূল ঘেঁষা ব্রাহ্মণবাড়ীয়া শহরের মেড্ডা এলাকায় ৩০০ বছরের পুরনো হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম এই তীর্থক্ষেত্রের অবস্থান। হিন্দু দেবতা শ্রী শ্রী কালভৈরবের মূর্তি এই মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ। ১৯০৫ সালে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ২৮ ফুট উচ্চতার কালভৈরব বা শিব মূর্তি ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বাধিক উচ্চতার মূর্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। বিশালাকার মূর্তির ডান দিকে কালী এবং বাম দিকে দেবী পার্বতীর প্রতিমা রয়েছে। সরাইলের বিখ্যাত জমিদার নূর মোহাম্মদ কালভৈরব মন্দিরের জমি দান করেন।