দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

টুপামারী পুকুর
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত শহরের একমাত্র পিকনিক স্পটের নাম টুপামারী পুকুর (Tupamari Dighi)। টুপামারী পুকুরকে কেন্দ্র করে প্রায় ২৫ একর জায়গা জুড়ে এই পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হয়েছে। কুড়িগ্রামের আশেপাশের জেলা থেকে শৌখিন মৎস্য শিকারিরা এই পুকুরে মৎস্য শিকারের জন্য এসে থাকেন। শীতকালে পুকুরের মনোরম পরিবেশে পিকনিক করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ঘুরতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যাও কম নয়।

হ্যাপি আইল্যান্ড
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার রাঙ্গামাটি জেলার ভেদভেদী এলাকা সংলগ্ন কাপ্তাই হৃদের কোল ঘেঁষে হ্যাপি আইল্যান্ড (Happy Island) গড়ে তোলা হয়েছে। মনোরম সবুজ প্রকৃতি ও চমৎকার নির্মাণশৈলীর এই দ্বীপটি মূলত একটি ওয়াটার পার্ক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩০৫ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের উদ্যোগে প্রায় দুই বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় কাপ্তাই লেক পরিবেষ্টিত একটি টিলার উপর ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল এই অসাধারণ ওয়াটার আইল্যান্ডটি উদ্বোধন করা হয়।

নাগরিয়াকান্দি সানফ্লাওয়ার গার্ডেন ও পার্ক
নরসিংদী জেলার নাগরিয়া কান্দি এলাকায় অবস্থিত সানফ্লাওয়ার গার্ডেন (Nagoriakandi Sunflower Garden) ঢাকার কাছে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সূর্যমুখী বাগান হিসেবে পরিচিত। ফুলের সময়ে এখানে হাজারো সূর্যমুখী ফুলে ছেয়ে যায় পুরো এলাকা। শুধু সূর্যমুখী নয়, এখানে আছে টিউলিপ সহ শীতকালীন নানান ফুলের সমারোহ।

মাওয়া রিসোর্ট
রাজধানী ঢাকা শহর থেকে মাত্র ৩৮ কিলোমিটার দূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কান্দিপাড়া গ্রামে প্রকৃতির সংস্পর্শে মাওয়া রিসোর্ট (Mawa Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। নিরাপদ এবং নির্জন প্রকৃতির সৌন্দর্য্যে অনন্য মাওয়া রিসোর্টকে ভ্রমণের জন্য একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে আখ্যায়িত করা যায়। মাওয়া ১নং ফেরিঘাট থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে মাওয়া-ভাগ্যকূল রাস্তার পাশে পদ্মার পাড়ে নির্মিত মাওয়া রিসোর্ট প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করছে।

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ
চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে অবস্থিত শৈল্পিক কারুকার্যময় হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদটি আয়তনের দিক দিয়ে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৩৩৭ বঙ্গাব্দে হাজী আহমদ আলী পাটোয়ারী হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ (Hajigonj Boro Masjid) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ২৮,৪০০ বর্গফুট আয়তনের বিশাল এই মসজিদে একসাথে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারেন। আর বাংলাদেশে জুমাতুল বিদা’য়ার সবচেয়ে বড় জামাত এই মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ বৃহৎ এই মসজিদে প্রায় ১৮৮ ফুট উঁচু দৃষ্টিনন্দন মিনার রয়েছে।

তৈদুছড়া ঝর্ণা
খাগড়াছড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে দীঘিনালা উপজেলার বুনো জঙ্গলের মাঝে আঁকাবাঁকা পাহাড়ের ভাঁজ দিয়ে বয়ে চলছে নয়নাভিরাম তৈদুছড়া ঝর্ণা। ত্রিপুরা ভাষায় তৈদু মানে পানির দরজা এবং ছড়া মানে ঝর্ণা। ১০০ ফুট উচু ঝর্ণা মুখ থেকে বয়ে যাওয়া শীতল ও স্বচ্ছ পানির কলকল শব্দে মুখরিত হয়ে থাকে তৈদুপাড়া এলাকার চারপাশ। প্রাকৃতিক অসাধারন বিচিত্রের এই ঝর্ণা এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে খাগড়াছড়ির পর্যটনশিল্পে। ট্র্যাকিং প্রেমীরা দীঘিনালার দুর্গম গিরি পথ পাড়ি দিয়ে খাগড়াছড়ির বৃহত্তম এই ঝর্ণা দেখতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে।

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স বান্দরবান জেলার প্রবেশ পথে বান্দরবান-কেরাণীহাট সড়কের পাশে পার্বত্য জেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। বান্দরবান শহর থেকে মেঘলার দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। উঁচু নিচু পাহাড় পরিবেষ্টিত একটি কৃত্রিম লেককে ঘিরে সাজানো হয়েছে এই জায়গাটি। চারদিকের ঘন সবুজ, লেকের স্বচ্ছ পানি ও অপূর্ব প্রকৃতি পর্যটকদেরকে দূর্নিবার আকর্ষনে কাছে টানে। বৈচিত্র্য পিয়াসী মানুষ তাই আত্মিক ক্ষুধা মেটাতে মেঘলায় ছুটে আসে বারবার।

তমা তুঙ্গী পর্যটন কেন্দ্র
তমা তুঙ্গি পর্যটন কেন্দ্র (Toma Tungi Parjatan Complex) বান্দরবান জেলার থানছি উপজেলা অবস্থিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাশন ব্রিগেড এর তত্ত্বাবধানে এই পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। পাহাড়ি প্রকৃতির কোলে ঘেরা এই পর্যটন স্থানটি বর্তমানে বান্দরবান ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এক জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠছে। তমা তুঙ্গি পর্যটন কেন্দ্র থেকে চারপাশের দৃশ্য দেখলে নিমিষেই মন ভাল হয়ে যায়। তমা তুঙ্গী পর্যটন কেন্দ্রের ভিউ পয়েন্ট থেকে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ গুলোর মধ্যে তজিংডং ও কেওক্রাডং আর ডিম পাহাড় দেখতে পাওয়া যায়।

ট্রি-টপ অ্যাডভেঞ্চার অ্যান্ড ফার্ম
সিলেট মানেই সবুজ পাহাড়, টিলার ভাঁজে লুকিয়ে থাকা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। চায়ের দেশের সেই নৈসর্গিক রূপকে অক্ষুণ্ন রেখে এবং আধুনিক নাগরিক জীবনের ক্লান্তি দূর করার এক চমৎকার ঠিকানা হলো ট্রি-টপ অ্যাডভেঞ্চার অ্যান্ড ফার্ম (Tree Top Adventure Farm)। যান্ত্রিক জীবন থেকে ক্ষণিকের বিরতি নিয়ে যারা প্রকৃতির সবুজ কোলে শ্বাস নিতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি যেন এক স্বপ্নের ভুবন।

উয়ারী বটেশ্বর
উয়ারী বটেশ্বর বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার বেলাবো ও শিবপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। এটি আড়াই হাজার বছরের পুরনো একটি সুসংগঠিত নগর সভ্যতা হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রাচীন দুর্গ, মুদ্রা ভাণ্ডার এবং বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে।

গুরুদুয়ারা নানকশাহী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কলা ভবনের কাছে অবস্থিত শিখ ধর্মের একটি উপাসনালয়ের নাম গুরুদুয়ারা নানকশাহী (Gurdwara Nanak Shahi)। প্রচলিত আছে, বাংলাদেশের বৃহত্তম এই গুরুদুয়ারার স্থানটিতে ষোড়শ শতকে শিখ ধর্মের প্রবর্তক গুরু নানক কিছু সময় অবস্থান করেছিলেন। তখন তিনি একেশ্বরবাদ এবং ভ্রাতৃত্ববোধ এবং শিখ ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানিকতা পালন সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। গুরুদুয়ারা নানকশাহীর নির্মাণ কাল নিয়ে মতভেদ থাকলেও ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে গুরুদুয়ারার নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি ও জাদুঘর
কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোরেশদপুর গ্রামে অবস্থিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বাড়িটিই শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি ( Rabindranath Tagore’s Shilaidaha Kuthibari ) নামে পরিচিত। কুষ্টিয়া শহর থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ির দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার। প্রায় ৩৩ বিঘা আয়তনের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির মূল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে আড়াই বিঘা জমিতে। ৩ তলা বিশিষ্ট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়িতে সর্বমোট ১৮ টি কক্ষ আছে। ভবনের তৃতীয় তলায় ছিল কবির লেখার ঘর। আর এই কুটিবাড়ির ছাদ থেকে কবি সুর্যোদয়, সূর্য্যাস্ত এবং জ্যোৎস্না উপভোগ করতেন।

গাংচিল আইল্যান্ড
গাংচিল আইল্যান্ড (Gangchil Island) রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের বুকে কর্নফুলি ও মাইনি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত একটি দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পসাইট। এটি মুলত কাপ্তাই হ্রদের একটি দ্বীপ। চারপাশের সবুজ পাহাড়, কাপ্তাই লেকের শান্ত নীল জলরাশি ও নির্জনতাই এখানখার প্রধান আকর্ষণ। রাঙ্গামাটি রিজার্ভ বাজার ঘাট থেকে নদী পথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এই নয়নাভিরাম গাংচিল আইল্যান্ড এর অবস্থান। এর কিছু দুরেই সীমান্তের ওপাড়ে রয়েছে ভারতের মিজোরাম। সম্প্রতি চালু হওয়া অফ বিট ক্যাম্পিং সাইট গাংচিল আইল্যান্ড কোলাহলের শহর ছেড়ে যারা নির্জনতায় কিছু সময় কাটাতে চায় তাদের জন্য আদর্শ গন্তব্য। এখানে আসলে যে কেউ একদম প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে পারবে।

পুলিশ পার্ক
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে মাথাভাঙ্গা তীরে পুলিশ পার্ক (Police Park) অবস্থিত। পুলিশ সুপার রোডের এই বিনোদন কেন্দ্রটি ইতিমধ্যে চুয়াডাঙ্গা শহরের ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মনোরম ও নিরিবিলি পরিবেশের পুলিশ পার্কে বিনোদনের জন্য আছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইড, উন্মক্ত মঞ্চ, মিনি চিড়িয়াখানা সহ সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা।

পাকশী রিসোর্ট
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশে ৩৩ একর জায়গা জুড়ে পাকশী রিসোর্ট (Pakshi Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী এবং নৈস্বর্গিক ল্যান্ডস্কেপ পাঁচ তারকা মানের পাকশী রিসোর্টকে দিয়েছে ভিন্ন এক মাত্রা। পাকশী রিসোর্টের শোভা বাড়িয়েছে ফুলের বাগান, প্রায় চার শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, ফলের বাগান, নান্দ্যনিক লেক, মিনি চিড়িয়াখানা, সুইমিং পুল, স্পা, মাল্টি কুজিন রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট এবং বিভিন্ন ইনডোর গেমসের আয়োজন।

ঘাগুটিয়ার পদ্মবিল
বাংলাদেশে একসময় অনেক জায়গাতেই পদ্মফুলের দেখা গেলেও দিন দিন তা কমে যাচ্ছে। এখানে ব্যতিক্রম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম ঘাগুটিয়ার পদ্মবিল। শত বছর ধরে ১২০ একর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অবস্থিত ঘাগুটিয়ার পদ্মবিলে ফুটে থাকে হাজার হাজার পদ্ম। যখন বিলে জুড়ে পদ্ম ফুটে তা দেখার জন্যে প্রতিবছর প্রকৃতিপ্রেমীরা দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসে।