দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

আগুন পাহাড়
আগুন পাহাড় (Agun Pahar) সিলেট জেলা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরের উৎলারপার গ্যাস ফিল্ড এর কাছে অবস্থিত। হরিপুরের আগুন পাহাড় প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। রোদ-বৃষ্টি কোনো কিছুতেই থেমে নেই আগুন। টিলার মধ্যে ছোট ছোট গর্তে প্রতিনিয়ত জ্বলতে দেখা যায় আগুন। এই পাহাড়ে দিনরাত আগুন জ্বলে থাকে। পাহাড়ের যেকোন স্থানে খোঁচা দিলেই আগুন বের হয়ে আসে।

আমদহ গ্রামের স্থাপত্য
মেহেরপুর জেলা শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে আমদহ গ্রামের স্থাপত্য নিদর্শন গুলোর অবস্থান। পরীখা ঘেরা আমদহ গ্রামের স্থাপত্য (Architecture of Amda Village) নিদর্শন স্থানের আয়তন প্রায় ১ বর্গকিলোমিটার। আমদহ গ্রামের এই স্থাপত্য নিদর্শন গুলোকে রাজা গোয়ালা চৌধুরীর সাথে বগা দস্যুদের যুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত আবাসস্থল হিসাবে মনে করা হয়।

আঠারবাড়ী জমিদার বাড়ী
ময়মনসিংহ জেলার অন্যতম সমৃদ্ধ জনপদ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী গ্রামে প্রায় আড়াই শত বছর পুরাতন দৃষ্টিনন্দন আঠারবাড়ী জমিদার বাড়ীর (Atharabari Zamidar Bari) অবস্থান। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সদর থেকে জমিদার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। অতীতে আঠারবাড়ি গ্রাম শিবগঞ্জ/গোবিন্দ বাজার নামে পরিচিত ছিল। জমিদার দীপ রায় চৌধরী নিজ পুত্রের নামে জমিদারি ক্রয় করে এই এলাকার নাম পরিবর্তন করে রায় বাজার রাখেন। রায় বাবু জমিদারির একটি অংশে রাজবাড়ী, পুকুর ও পরিখা তৈরী করে যশোর থেকে রাজ পরিবারের কাজর্কম দেখাশুনার জন্য আঠারটি হিন্দু পরিবার নিয়ে আসেন এবং তাদের বসবাসের জন্য বাড়ী তৈরী করে দেন। তখন থেকেই এই স্থানটি আঠারবাড়ী নামে পরিচিত হয়ে উঠে।

সায়রা গার্ডেন রিসোর্ট
সায়রা গার্ডেন রিসোর্ট (Shaira Garden Resort) নারায়ণগঞ্জ জেলার মদনপুর ইউনিয়নের হেদায়েত পাড়া গ্রামে নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকা থেকে নাজিম উদ্দিন ভূইয়া কলেজের বিপরীত পাশে অবস্থিত সায়রা গার্ডেন রিসোর্টের দূরত্ব মাত্র ২২ কিলোমিটার। মাত্র ৩০ বিঘা জমির উপর সায়রা গার্ডেন রিসোর্টটি নির্মিত হলেও ক্রমশই এর আয়তন বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্র
চাঁদপুর জেলার মতলব এর উত্তর উপজেলায় অবস্থিত মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্র (Mohonpur Parjatan Centre) মেঘনা নদীর তীরে প্রায় ৬০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। স্থানীয়ভাবে এটি মিনি কক্সবাজার নামেও পরিচিত, এর কারণ এখানে কৃত্রিমভাবে সৈকতের আদলে তৈরি করা বালুময় বীচ।

উৎসব পার্ক
উৎসব পার্ক রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অবস্থিত একটি মনোরম বিনোদন কেন্দ্র। গ্রামীণ পরিবেশে শহুরে বিনোদনের স্বাদ দিতে পার্কটি ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে বিভিন্ন রাইড, পশু পাখির ভাস্কর্য, লেক এবং পিকনিক স্পট রয়েছে।

দার্জিলিং টিলা, শ্রীমঙ্গল
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রধানগর এলাকার এম আর খান চা বাগানের ৭ নম্বর সেকশানে ৩০০ ফুট উচ্চতায় দার্জিলিং টিলার অবস্থান। দেখতে অনেকটা দার্জিলিংয়ের চা-বাগানের মতো। তাই স্থানীয়রা টিলাটির নাম দিয়েছেন দার্জিলিং টিলা। তাই পর্যটকদের কাছেও এটি দার্জিলিং টিলা (Darjeeling Tila) নামেই অধিক পরিচিত।

টি বাঁধ
রাজশাহীর পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত ‘টি-বাঁধ’ (T Badh) শুধুমাত্র একটি প্রতিরক্ষা বাঁধ নয়; এটি রাজশাহী শহরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির এক অনন্য মিলনস্থল। ইংরেজি “T” অক্ষরের মতো আকৃতির এই বাঁধটি নদীভাঙন রোধে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তেমনি এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।

বড় স্টেশন
রুপালী ইলিশ চাঁদপুরকে এনে দিয়েছে ‘ইলিশের বাড়ি’ নামের সুখ্যাতি। ঢাকা হতে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যায় বিধায় তাজা ইলিশের স্বাদ গ্রহণ এবং অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক চাঁদপুরে অবস্থিত বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভিড় করেন। আর চাঁদপুর ঘুরতে এসে বড় স্টেশন (Boro Station) আসেননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া এই তিন নদীর মিলনস্থলটি মোলহেড নামেও পরিচিতি লাভ করেছে। তিন নদীর মোহনায় সূর্যাস্থের দৃশ্য, ছোট ছোট নৌকার ভেসে চলা, নদীর কূলে পানি আঁচড়ে পড়ার শব্দ সারাজীবন মনে রাখার জন্য যথেষ্ঠ।

আই বাঁধ
আই বাঁধ (I Badh) রাজশাহী শহরের শ্রীরামপুর এলাকায় অবস্থিত একটি বাঁধ শহর রক্ষা। এই বাঁধটি দেখতে অনেকটা ইংরেজি বর্ণ ‘I’ এর মতো হওয়ায় এর নামকরণ করা হয়েছে ‘আই বাঁধ’। মূলত শহর রক্ষা ও ভাঙন রোধে এটি নির্মিত হলেও, এর নান্দনিক গঠন এবং নদীর বুকে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য দেখার সুযোগ বাঁধটিকে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত করেছে। নদীর বুকে প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ এই পাথুরে পথ দিয়ে হাঁটলে মনে হবে আপনি পদ্মার বুক চিরে এগিয়ে যাচ্ছেন। শরতের নীল আকাশ আর কাশফুল, কিংবা বর্ষার ভরা যৌবনা পদ্মা প্রতিটি ঋতুতেই আই বাঁধ তার ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়ে ধরা দেয়। পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে বিকেল কাটানোর জন্য এটি রাজশাহীর সবচেয়ে সেরা জায়গা।

তমা তুঙ্গী পর্যটন কেন্দ্র
তমা তুঙ্গি পর্যটন কেন্দ্র (Toma Tungi Parjatan Complex) বান্দরবান জেলার থানছি উপজেলা অবস্থিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাশন ব্রিগেড এর তত্ত্বাবধানে এই পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। পাহাড়ি প্রকৃতির কোলে ঘেরা এই পর্যটন স্থানটি বর্তমানে বান্দরবান ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এক জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠছে। তমা তুঙ্গি পর্যটন কেন্দ্র থেকে চারপাশের দৃশ্য দেখলে নিমিষেই মন ভাল হয়ে যায়। তমা তুঙ্গী পর্যটন কেন্দ্রের ভিউ পয়েন্ট থেকে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ গুলোর মধ্যে তজিংডং ও কেওক্রাডং আর ডিম পাহাড় দেখতে পাওয়া যায়।

বেনাপোল স্থল বন্দর
বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের কাছে অবস্থিত যশোর জেলার শার্শা উপজেলার অন্তর্গত একটি গ্রামের নাম বেনাপোল। বেনাপোলে আছে একটি সীমান্ত তল্লাশী ঘাঁটি ও একটি আন্তর্জাতিক স্থল বন্দর, যা বেনাপোল স্থল বন্দর (Benapole Land Port) নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ কতৃক পরিচালিত বেনাপোল স্থল বন্দরের বিপরীতে ভারতের অংশটি পেট্রাপোল নামে পরিচিত, এটি পশ্চিম বাংলার বনগাঁ মহুকুমার অন্তর্ভুক্ত। আর বেনাপোল রেলস্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

আবি রিভার পার্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের দক্ষিণ প্রান্তে ভাদুগরে কুড়ুলিয়া খালের (অ্যান্ডারসন খাল) তীরে জেলার আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্র আবি রিভার পার্ক (Abi River Park) অবস্থিত। প্রায় ৪৮০ শতক জায়গা জুড়ে নান্দনিক আয়োজনে সাজানো এই শিশুপার্কটি সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে। আবি পার্কের চারপাশে আছে সবুজ গাছগাছালি ঘেরা নজরকাড়া সব স্থাপনা, বিভিন্ন প্রাণির প্রতিক্রিতি ও দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা। তবে দর্শনার্থীদের কাছে আবি রিভার পার্কের এন্ডারসন খালের তীরে নির্মিত হাঙ্গর আকৃতির নৌকা ঘাটের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশী।

মাওয়া রিসোর্ট
রাজধানী ঢাকা শহর থেকে মাত্র ৩৮ কিলোমিটার দূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কান্দিপাড়া গ্রামে প্রকৃতির সংস্পর্শে মাওয়া রিসোর্ট (Mawa Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। নিরাপদ এবং নির্জন প্রকৃতির সৌন্দর্য্যে অনন্য মাওয়া রিসোর্টকে ভ্রমণের জন্য একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে আখ্যায়িত করা যায়। মাওয়া ১নং ফেরিঘাট থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে মাওয়া-ভাগ্যকূল রাস্তার পাশে পদ্মার পাড়ে নির্মিত মাওয়া রিসোর্ট প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করছে।

আলীপুর মাছ বাজার
বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী পটুয়াখালী জেলার বরিশাল-পটুয়াখালী সংলগ্ন রোডে দক্ষিণাঞ্চলের জনপ্রিয় আলীপুর মৎস্য বাজার (Alipur Fish Market) অবস্থিত। এখানে দেশী ও সামুদ্রিক মাছের আড়ত আছে। বাজারে ছোট খাটো হাওর থেকে শুরু করে বড় নদী ও সাগর থেকে সংগ্রহীত প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। কাঁকড়া, রূপচাঁদা, কোরালসহ বিভিন্ন জাতের সামুদ্রিক ও দেশীয় মাছের দেখা মিলবে এই বাজারে। এমনকি প্রায়ই ছোট ছোট হাঙ্গর মাছেরও সন্ধান মিলে। বাজার ঘুরে সস্তায় মাছ কেনার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারি ও খুচরা মৎস্য ব্যবসায়ীরা আলীপুর মাছ বাজারে ভিড় করেন।

আলভিনা গার্ডেন – কৃষি পর্যটন কেন্দ্র
আলভিনা গার্ডেন (Alveena Garden) বাংলাদেশের প্রথম কৃষি পর্যটন কেন্দ্র। সিলেট এর গোপালগঞ্জ উপজেলার লক্ষনাবন্দ ইউনিয়নের পাহাড়লাইন রোডের দক্ষিণভাগ চৌধুরীপাড়া গ্রামে অবস্থিত। আলভিনা গার্ডেন এর প্রাকৃতিক যে সৌন্দর্য আছে সেটা খুব সুন্দর ও আকর্ষণীয়। যে কারনে পর্যটকরা এখানে এসে ভালো সময় কাটিয়ে যাচ্ছেন। আলভিনা গার্ডেন এ দেখা মিলবে আনারস, কাজু বাদাম, কফি ও লেবু বাগান। একই সঙ্গে এখানে গড়ে ওঠেছে পর্যটন শিল্প। প্রতিদিন অনেক পর্যটক টিকিট করে এখানে ভ্রমণ করতে আসেন।