দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

সিঙ্গাইর মসজিদ
বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন জনপদ বাগেরহাট জেলার খুলনা-বরিশাল মহাসড়কের সংলগ্ন সুন্দরঘোনা গ্রামে সিঙ্গাইর মসজিদ (Singair Mosque) অবস্থিত। ধারনা করা হয়, মুঘল শাসনামলে পঞ্চদশ শতকে খান জাহান আলী (রঃ) এই ঐতিহাসিক এক গম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করেন। ষাট গম্বুজ মসজিদ থেকে সিঙ্গাইর মসজিদের দূরত্ব মাত্র ২৫ মিটার। এক গম্বুজ বিশিষ্ট বর্গাকৃতির মসজিদের আয়তন (১২.০৪ x ১২.০৪) মিটার এবং মসজিদের দেয়ালগুলোর ২.১০ মিটার পুরু। মসজিদের চতুর্দিকের কার্ণিশগুলো বক্রাকারে নির্মিত এবং মসজিদের চারকোণে ৪টি গোলাকার বুরুজ রয়েছে।

দুসাই রিসোর্ট এন্ড স্পা
World Luxury Hotel Awards প্রাপ্ত দুসাই রিসোর্ট এন্ড স্পা (DuSai Resort & Spa) এর অবস্থান মৌলভীবাজার জেলার গিয়াসনগরে। সুদৃশ্য লেক এবং পাহাড়ের ওপর সবুজ বনানী পরিবেষ্টিত এই রিসোর্টটি অবকাশ যাপনের জন্য একটি আদর্শ স্থান হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে।

মুপ্পোছড়া ঝর্ণা
মুপ্পোছড়া ঝর্ণা (Muppochora Jhorna) প্রস্থের দিক থেকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় একটি ঝর্ণা। অনিন্দ্য সুন্দর মুপ্পোছড়া ঝর্ণা দেখতে হলে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার বাঙ্গালকাটায় যেতে হবে। কাপ্তাই লেক পাড়ের এই উপজেলা সাথে সড়ক পথে কোন সংযোগ নেই। কাপ্তাই উপজেলা হতে শুধুমাত্র নৌ-পথে এই উপজেলায় যাওয়া যায়। দূর্গম পার্বত্য এলাকা হওয়ায় এখানে অসংখ্য ছোট বড় পাহাড়ে আছে প্রচুর ঝর্ণা। চাকমা শব্দ বিলাই অর্থ বিড়াল এবং ছড়ি অর্থ পাহাড় হতে প্রাবাহিত ঝর্ণা। মুপ্পোছড়া ঝর্ণা বিলাইছড়িতে অবস্থিত বৃহত্তম ঝর্ণাগুলোর একটি। বিলাইছড়ি হতে শুধুমাত্র নৌপথে বাঙ্গালকাটাতে যাওয়া গেলেও বাঙ্গালকাটা হতে ট্রেকিং করে মুপ্পোছড়া ঝর্ণায় যেতে হয়।

নাগরিয়াকান্দি সানফ্লাওয়ার গার্ডেন ও পার্ক
নরসিংদী জেলার নাগরিয়া কান্দি এলাকায় অবস্থিত সানফ্লাওয়ার গার্ডেন (Nagoriakandi Sunflower Garden) ঢাকার কাছে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সূর্যমুখী বাগান হিসেবে পরিচিত। ফুলের সময়ে এখানে হাজারো সূর্যমুখী ফুলে ছেয়ে যায় পুরো এলাকা। শুধু সূর্যমুখী নয়, এখানে আছে টিউলিপ সহ শীতকালীন নানান ফুলের সমারোহ।

শশী লজ
শশী লজ ( Shoshi Lodge ) ময়মনসিংহ জেলা সদরে অবস্থিত একটি রাজবাড়ি। ঊনবিংশ শতকে মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদ নির্মাণ করেন। মহারাজ সূর্যকান্ত তার দত্তক ছেলে শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর নামানুসারে প্রাসাদটির নামকরণ করেন শশী লজ। স্থানীয়ভাবে ময়মনসিংহ রাজবাড়ি নামেও পরিচিত। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী পুনরায় নির্মাণ করেন। ৯ একর জায়গা উপর নির্মিত শশী লজ ভবনের প্রধান ফটকে ১৬ টি গম্বুজ রয়েছে।

দুবলার চর
দুবলার চর (Dublar Char) সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের দক্ষিণ দিকে, হিরণ পয়েন্ট থেকে দক্ষিণ-পূর্বে এবং কটকার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি ছোট্ট সুন্দর দ্বীপ। দুবলার চর হিন্দুধর্মালম্বীদের পূণ্যস্নান, রাসমেলা এবং হরিণের জন্য সর্বাধিক সুপরিচিত। কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝখানে জেগে উঠেছে বিচ্ছিন্ন এই দুবলার চর।

লুইস ভিলেজ রিসোর্ট এন্ড পার্ক
জামালপুর জেলা সদরের বেলটিয়ায় নিরিবিলি পরিবেশে লুইস ভিলেজ রিসোর্ট এন্ড পার্ক (Luis Village Resort and Park) গড়ে তোলা হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই পার্কটি ইতিমধ্যেই ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে সর্বাধুনিক বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। পার্কের ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিস্তৃত সবুজ এলাকা, সাজানো পথ, বসার জায়গা, নান্দনিক ভাস্কর্য এবং খোলা প্রকৃতি। লুইস ভিলেজ রিসোর্ট এন্ড পার্কে ওয়ান্ডার হুইল, বাম্পার কার, সুইং চেয়ার, মেরী গো রাউন্ড, মিনি ট্রেন, কফি কাপ, রকেট রাইড এবং বোট রাইডিংসহ সর্বমোট ১৪ টি দেশি বিদেশি রাইড রয়েছে।

মায়াবিনী লেক
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ভাইবোনছড়ার কংচাইরি পাড়ায় মায়াবিনী লেক ( Mayabini Lake) অবস্থিত। খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে মাত্র ৩০ মিনিট দূরত্বে হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা করার সুযোগ নেই। ৪০ একর উঁচু-নিচু পাহাড়ি জায়গায় ১৫ একর নিসর্গময় লেক নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই মায়াবিনী লেক পর্যটন কেন্দ্র। পাহাড়ের নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য্য, বিশাল আকাশ আর লেকের স্বচ্ছ শান্ত জল সহজেই মনকে নির্মল আনন্দে মাতিয়ে তোলে। মায়াবিনী লেকের মাঝখানে ছোট্ট সুন্দর দ্বীপে পর্যটকদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে একটি বিশ্রামাগার। আর লেকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে নৌকার ব্যবস্থা।

মাওয়া রিসোর্ট
রাজধানী ঢাকা শহর থেকে মাত্র ৩৮ কিলোমিটার দূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কান্দিপাড়া গ্রামে প্রকৃতির সংস্পর্শে মাওয়া রিসোর্ট (Mawa Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। নিরাপদ এবং নির্জন প্রকৃতির সৌন্দর্য্যে অনন্য মাওয়া রিসোর্টকে ভ্রমণের জন্য একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে আখ্যায়িত করা যায়। মাওয়া ১নং ফেরিঘাট থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে মাওয়া-ভাগ্যকূল রাস্তার পাশে পদ্মার পাড়ে নির্মিত মাওয়া রিসোর্ট প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করছে।

স্বপ্নবীথি পিকনিক স্পট
নড়াইল জেলার লোহগড়া উপজেলার রামপুরে স্বপ্নবীথি পিকনিক স্পট (Shopnobithi Picnic Spots) গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় ১২ একর জায়গার জুড়ে স্থাপিত এই বিনোদন কেন্দ্রটি ইতিমধ্যে দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে সুন্দর পিকনিক স্পট হিসাবে সুনাম অর্জন করেছে। স্বপ্নবীথি পিকনিক স্পটের কাছেই রয়েছে নিরিবিলি পিকনিক স্পট নামে আরও একটি পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র। অনেকের কাছে স্বপ্নবীথি পিকনিক স্পট নিরিবিলি পিকনিক স্পট-২ নামে পরিচিত।

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স বান্দরবান জেলার প্রবেশ পথে বান্দরবান-কেরাণীহাট সড়কের পাশে পার্বত্য জেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। বান্দরবান শহর থেকে মেঘলার দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। উঁচু নিচু পাহাড় পরিবেষ্টিত একটি কৃত্রিম লেককে ঘিরে সাজানো হয়েছে এই জায়গাটি। চারদিকের ঘন সবুজ, লেকের স্বচ্ছ পানি ও অপূর্ব প্রকৃতি পর্যটকদেরকে দূর্নিবার আকর্ষনে কাছে টানে। বৈচিত্র্য পিয়াসী মানুষ তাই আত্মিক ক্ষুধা মেটাতে মেঘলায় ছুটে আসে বারবার।

মাতাই পুখিরি
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে মহালছরি উপজেলার নুনছড়িতে দেবতার আশীর্বাদস্বরূপ পাহাড়ের চূড়ায় প্রাকৃতিক হ্রদ মাতাই পুখিরি (Matai Pukhiri) অবস্থিত। মাতাই অর্থ দেবতা এবং পুখিরি অর্থ পুকুর। আর তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই হ্রদটি পর্যটকদের কাছে দেবতার পুকুর হিসেবে সুপরিচিত। মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালা মুখ থেকে এ হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০০ ফুট উচ্চতায় সাড়ে ৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত দেবতা পুকুরের দৈর্ঘ্য দেড় হাজার ফুট এবং প্রস্থ ছয়শ ফুট। পুকুরের চারদিকে আছে ঘন সবুজ অরণ্য ও সুবিন্যস্ত পর্বতশ্রেণি। দেবতার পুকুর হ্রদের পানি কখনো সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায় না এবং বর্ষাকালে এটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে।

শিশু পার্ক
রাজশাহী জেলা সদরের নওদাপাড়া বড় বনগ্রামে অবস্থিত শিশু পার্ক রাজশাহী শহরের একটি অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র। নয়নভিরাম পিকনিক স্পট, সব বয়সীদের জন্য দেশি-বিদেশি রাইড, সুবিশাল লেক এবং নৌকা ভ্রমনের সুব্যবস্থা ২০০৬ সালে নির্মিত এই পার্কটিকে শহরবাসীর কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। এই শিশু পার্ক শহীদ জিয়া শিশু পার্ক নামে অধিক পরিচিত।

ময়নামতি জাদুঘর
কুমিল্লা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে সালমানপুরে অবস্থিত ময়নামতি জাদুঘর (Mainamati Museum) প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহশালা হিসাবে বাংলাদেশের একটি গুরত্বপূর্ণ স্থান। ময়নামতি জাদুঘরের ৪২ টি ভিন্ন ভিন্ন সংরক্ষণাগারে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থান থেকে সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীর নানা নিদর্শন সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। প্রাচীন নিদর্শনগুলোর মধ্যে ব্রোঞ্জ ও পাথরের ছোট-বড় মূর্তি, ব্রোঞ্জের বিশাল ঘন্টা, স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, ব্রোঞ্জ, তামা ও লোহার সামগ্রী, মাটির খেলনা, কাঠের নিদর্শন, মৃৎশিল্প নিদর্শন এবং প্রাচীন হস্তলিপির পান্ডুলিপি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া জাদুঘরকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে বিশ্রামাগার ও মনোরম ফুলের বাগান।

ধরন্তি হাওর
হাওরের কথা আসলেই আমাদের মনে সুনামগঞ্জ, সিলেট কিংবা কিশোরগঞ্জের ছবি ভেসে উঠে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সৌরভ বিলিয়ে থাকা হাওর সম্পর্কে অনেকেরই তেমন জানাশুনা নেই। ধরন্তি হাওর (Dhoronti Haor) তেমনি এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধারণকারী জলাভূমির নাম। নৈসর্গিক ধরন্তি হাওরের পূর্ব দিকে তিতাস নদী এবং পশ্চিমে মেঘনা নদী সহ ছোট বড় আরও বেশকিছু খাল-বিল রয়েছে।

মানিকছড়ি মং রাজবাড়ী
খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে ৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে মানিকছড়ি উপজেলায় ঐতিহাসিক মং রাজার প্রাচীন আদি নিবাস মানিকছড়ি মং রাজবাড়ী (Mung Rajbari) অবস্থিত। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে কয়েক শতাব্দী ধরে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে মং অন্যতম। প্রাচীনকালে মং রাজবংশ হিসেবে পরিচিত এই নৃ-গোষ্ঠীর একটি আলাদা স্বায়ত্তশাসিত রাজশাসন ছিল। ১৭৯৬ সালে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার মহামূনি স্থানে রাজা কংজয় ত্রিপুরা রাজবংশের রাজকন্যাকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে তিনি ৫০০ ত্রিপুরা পরিবার সঙ্গে নিয়ে সীতাকুণ্ড থেকে মানিকছড়িতে আসেন এবং রাজপরিবারের সদস্যদের বসবাসের জন্য মানিকছড়ি মং রাজবাড়ী স্থাপন করেন। এভাবেই মানিকছড়িতে কংজয়ের আমল থেকে মং রাজপরিবারের যাত্রা শুরু হয়। ১৮২৬ সালে রাজা কংজয় ত্রিপুরা মারা গেলে তাঁর ছেলে কিওজাই সেন মাত্র ৭ বছর বয়সে চাচা লথ্যানয্যার অভিভাবকত্বে শূন্য রাজসিংহাসনে স্থলাভিষিক্ত হন। পরবর্তীতে কিওজাই সেনকে ইংরেজ সরকার মং সার্কেলের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন। কিওজাই সেনের পর রাজবংশের অন্যান্য বংশধররা পর্যায়ক্রমে মং সার্কেলের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়ে রাজ্য পরিচালনা করতে থাকেন। মং রাজবংশের সপ্তম রাজা মং প্রু সাইনের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে “অনারারি কর্নেল র্যাঙ্ক” পদবীতে ভূষিত করা হয়।