দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

এলেঙ্গা রিসোর্ট
এলেঙ্গা রিসোর্ট ( Elenga Resort ) টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার এলেঙ্গা নামক স্থানে ২০০৮ সালে সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠে। টাঙ্গাইল থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে প্রায় ১৬৭ হেক্টর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠা এই রিসোর্টের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। নদী ও গাছগাছালিপূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশ এই রিসোর্টকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

বড় স্টেশন
রুপালী ইলিশ চাঁদপুরকে এনে দিয়েছে ‘ইলিশের বাড়ি’ নামের সুখ্যাতি। ঢাকা হতে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যায় বিধায় তাজা ইলিশের স্বাদ গ্রহণ এবং অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক চাঁদপুরে অবস্থিত বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভিড় করেন। আর চাঁদপুর ঘুরতে এসে বড় স্টেশন (Boro Station) আসেননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া এই তিন নদীর মিলনস্থলটি মোলহেড নামেও পরিচিতি লাভ করেছে। তিন নদীর মোহনায় সূর্যাস্থের দৃশ্য, ছোট ছোট নৌকার ভেসে চলা, নদীর কূলে পানি আঁচড়ে পড়ার শব্দ সারাজীবন মনে রাখার জন্য যথেষ্ঠ।

সী পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা
বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের ইনানী বিচে গড়ে তোলা হয়েছে ফাইভ স্টার হোটেল সী পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা (Sea Pearl Beach Resort And Spa) । এক পাশে সমুদ্র আর অন্য পাশে আকাশচুম্বী পাহাড় নিয়ে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে সর্বদা প্রস্তুত স্পেনীয় স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত লাক্সারিয়াস এই রিসোর্টটি। প্রায় ৫০ বিঘা জায়গা জুড়ে বিস্তৃত রিসোর্টের ভেতর এবং বাহিরের প্রতিটি নির্মাণেই আভিজাত্য এবং স্বকীয়তা বিশেষভাবে চোখে পড়ে, যা হোটেলে আগত অতিথিদের কাছে রাজকীয় অনুভূতি এনে দেয়।

আরশিনগর হলিডে রিসোর্ট
ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে গাজীপুর জেলার ভাওয়ালে গ্রামীণ প্রাকৃতিক পরিবেশে আরশিনগর হলিডে রিসোর্ট এন্ড পিকনিক স্পট (Arshinagar Holiday Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। নাগরিক জীবনের অবসরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত আরশিনগর হলিডে রিসোর্টে রয়েছে সবুজ উদ্যান, খেলার মাঠ, সুইমিং পুল, রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট, পিকনিক, বোটিং, ফিশিং, ক্যাম্প ফায়ার, ট্র্যাকিং, তাঁবু এবং বারবিকিউয়ের ব্যবস্থা।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে মানিকগঞ্জ জেলা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে। সাতটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিয়ে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি গৌরবের সাক্ষী হয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। দৃষ্টিনন্দন এই জমিদার বাড়ির বিভিন্ন ভবন একেক জন উত্তরাধিকারীদের মাধ্যমে পৃথক পৃথক সময়ে নির্মিত হয়েছে। বালিয়াটি জমিদার বাড়িটি বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের মাধ্যমে সংরক্ষণ ও পরিচালনা করা হচ্ছে। আর জমিদার বাড়ির কেন্দ্রীয় ব্লকে রংমহল খ্যাত ভবনে যাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে। বালিয়াটি প্যালেস নামেও পরিচিত এই জমিদার বাড়ি।

রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়ক
রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়কটি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলা সদর থেকে বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত একটি সুন্দর সড়ক। বাংলাদেশে বসেই যদি আপনি লাদাখের মতো রোমাঞ্চকর বাইকিং অনুভূতি পেতে চান তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে রাজস্থলী–ফারুয়া (Rajasthali-Farua Border Road) সীমান্ত সড়ক।

কচিখালী সমুদ্র সৈকত
সুন্দরবনের কটকা নদীর পূর্ব দিকে অবস্থিত প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত কচিখালী সমুদ্র সৈকত (Kochikhali Sea Beach) একটি চমৎকার দর্শনীয় স্থান। সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি এখানে আছে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং পর্যটন কেন্দ্র। সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের এই সৈকতটিকে বলা হয় ভয়ংকর সুন্দর! কারণ সৈকতে পৌঁছাতে হলে বঙ্গোপসাগরের মোহনার খরস্রোতা কটকা নদী ও সুন্দরবনের ভিতরের প্রায় ৩ কিলোমিটার বুনো পথ পাড়ি দিতে হয়। এই পথে প্রায়ই হরিনের পাল, বন্য শুকর এবং বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যায়।

আঠারবাড়ী জমিদার বাড়ী
ময়মনসিংহ জেলার অন্যতম সমৃদ্ধ জনপদ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী গ্রামে প্রায় আড়াই শত বছর পুরাতন দৃষ্টিনন্দন আঠারবাড়ী জমিদার বাড়ীর (Atharabari Zamidar Bari) অবস্থান। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সদর থেকে জমিদার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। অতীতে আঠারবাড়ি গ্রাম শিবগঞ্জ/গোবিন্দ বাজার নামে পরিচিত ছিল। জমিদার দীপ রায় চৌধরী নিজ পুত্রের নামে জমিদারি ক্রয় করে এই এলাকার নাম পরিবর্তন করে রায় বাজার রাখেন। রায় বাবু জমিদারির একটি অংশে রাজবাড়ী, পুকুর ও পরিখা তৈরী করে যশোর থেকে রাজ পরিবারের কাজর্কম দেখাশুনার জন্য আঠারটি হিন্দু পরিবার নিয়ে আসেন এবং তাদের বসবাসের জন্য বাড়ী তৈরী করে দেন। তখন থেকেই এই স্থানটি আঠারবাড়ী নামে পরিচিত হয়ে উঠে।

হাতিমাথা
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ইউনিয়নের একটি পাহাড়ি পথকে মায়ুং কপাল বা হাতিমুড়া (Hatimura) নামে ডাকা হয়। স্থানীদের কাছে হাতিমাথা খ্যাত এই স্থানের চাকমা নাম ‘এদো সিরে মোন’। আবার অনেকের কাছে এটি স্বর্গের সিড়ি হিসাবেও পরিচিত। বহু নামের অধিকারী হাতিমাথা পাহাড়ের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ১৫ গ্রামের বাসিন্দা চলাচল করে। গ্রামবাসীর চলাচলকে সুবিধাজনক করতে হাতিমাথা পাহাড়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কতৃক ৩০৮ ফুট লম্বা লোহার সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে।

নীলগিরি
নীলগিরি (Nilgiri) কে বলা হয় বাংলার দার্জিলিং। বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে নীলগিরি অবস্থান। নীলগিরি পাহাড় চূড়াতেই রয়েছে সেনাবাহিনী পরিচালিত বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটক কেন্দ্র গুলোর একটি নীলগিরি পর্যটক কেন্দ্র। এখানে দীগন্ত জুড়ে সবুজ পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি যে কাউকে এর রূপ দিয়ে বিমোহিত করে রাখবে। যদি সমুদ্র পৃষ্ট থেকে ২২০০ ফুট উচ্চতায় মেঘ ছোঁয়ার ইচ্ছে থাকে তাহলে নীলগিরি আপনার সেই ইচ্ছে পূরণ করবে।

আউলিয়াপুর নীলকুঠি
ঐতিহাসিক ফরায়েজী আন্দোলনের সাক্ষী আউলিয়াপুর নীলকুঠি (Auliapur Nilkuthi) মাদারীপুর অঞ্চলের মানুষের কাছে ডানলপ সাহেবের নীলকুঠি (Madaripur Dunlop Nilkuthi) নামেও পরিচিত। আউলিয়াপুর নীলকুঠি যেন বর্তমানেও গরীব চাষীদের উপর ব্রিটিশ নীলকরদের শোষন এবং তৎকালীন সময়কে বহন করে চলেছে। আউলিয়াপুর নীলকুঠিরটি ছিলারচর ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামে অবস্থিত। মাদারীপুর জেলা শহর হতে এই নীলকুঠিরের দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। পীর-আউলিয়ার পদস্পর্শে ধন্য আউলিয়াপুরের খ্যাতিমান আউলিয়া হযরত শাহ সুফী খাজা ইউসুফ শাহ আহসানের দরগা শরীফের পাশেই রয়েছে নীলকুঠিটি। ১২ কক্ষ বিশিষ্ট আউলিয়াপুর নীলকুঠিরের মাঝামাঝি রয়েছে চুল্লি এবং প্রায় ৪০ ফুট উঁচু চিমনি। যদিও বর্তমানে প্রায় নিশ্চিহ্ন নীলকুঠিরের জমিও বিভিন্নভাবে বেহাত হয়ে গেছে।

বাবা আদম মসজিদ
মুন্সিগঞ্জ জেলার মীরকাদিমের দরগাবাড়ী গ্রামে কাফুরশাহ্ কর্তৃক নির্মিত ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট বাবা আদম মসজিদ (Baba Adam Mosque) অবস্থিত। সুদূর আরবে জন্ম নিয়েও ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সাধক বাবা আদম শহীদে (রাঃ) ভারতবর্ষে পদার্পণ করেন। পরবর্তীতে ১১৭৮ সালে সেন শাসনামলে তিনি মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমে আগমণ করেন। সেই সময় মুন্সিগঞ্জ ছিল বল্লাল সেনের রাজত্বে। স্থানীয় যুদ্ধে অত্যাচারী হিন্দু রাজা বল্লাল সেনের হাতে প্রাণ হারান এই সাধক। শহীদ বাবা আদমের মৃত্যুর ৩১৯ বছর পর ১৪৮৩ সালে বাবা আদম মসজিদ নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৫৩০ বছর ধরে ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদটি পুরাকালের আত্নত্যাগী বাবা আদমের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়।

স্বর্ণ মন্দির
স্বর্ণ মন্দির বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে বালাঘাটা এলাকায় অবস্থিত। এই স্বর্ণ মন্দিরটি মহাসুখ মন্দির বা বৌদ্ধ ধাতু জাদী নামেও সমানভাবে পরিচিত। স্বর্ণমন্দির নাম হলেও এখানে স্বর্ণ দিয়ে তৈরি কোন স্থাপনা নেই। তবুও মন্দিরে সোনালি রঙের আধিক্যের জন্য এটি স্বর্ণমন্দির হিসাবে পরিচিত। পাহাড়ের চূড়ায় তৈরী এ সুদৃশ্য প্যাগোডা বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের পবিত্র একটি তীর্থস্থান। দেশ বিদেশ থেকে অসংখ্য বৌদ্ধ ধর্মালম্বী এই স্বর্ণমন্দির দেখতে এবং প্রার্থনা করতে আসেন। গৌতমবুদ্ধের সমসাময়িক কালে নির্মিত বৌদ্ধ মুর্তির একটি এখানে স্থাপন করা হয়েছে। এই মন্দিরটি প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্যাগোডা দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য বৌদ্ধ স্থাপনার মধ্যে অন্যতম উপাশনালয়। পাহাড়ের উপর দেবতা পুকুর নামে একটি পানি সম্বলিত ছোট পুকুর আছে।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান জাদুঘর
ঢাকার নিকটবর্তী নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের রামনগরে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর (Bir Shreshtha Matiur Rahman Memorial Museum) অবস্থিত। ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবহনকারী এই জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয়। জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মেঘনার নদীর গা ঘেঁষা বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান জাদুঘর দেখতে দূর দূরান্ত থেকে অনেকেই ছুটে আসেন।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্ক
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্ক ময়মনসিংহ শহরের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত একটি মনোরম স্থান। এখানে বিখ্যাত চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিনের চিত্রকর্ম সংরক্ষিত আছে এবং পার্কে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা, মিনি চিড়িয়াখানা এবং আরও অনেক আকর্ষণ।

জাদিপাই ঝর্ণা
বান্দরবান জেলায় বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কেওক্রাডং পাহাড় থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে জাদিপাই ঝর্ণার (Jadipai Waterfall) অবস্থান। কেওক্রাডাং, জংছিয়া ও জাদিপাই এই ৩টি পাহাড়ি ঝিরির স্বচ্ছ পানির ধারা একত্রে মিলিত হয়ে প্রায় ২০০ ফুট উপর থেকে কালো পাথরের গা বেয়ে জাদিপাই ঝর্ণা রূপে সাংঙ্গু নদীর সাথে এসে মিশেছে। জাদিপাই বাংলাদেশের প্রশস্ততম ঝর্ণাগুলোর মধ্যে অন্যতম। জলপ্রপাতের চারিদিকে ছড়ানো আছে সবুজে মোড়ানো পাহাড় এবং প্রকৃতির নির্মল মাদকতা। যার বুক চিরে স্বশব্দে বয়ে চলা জাদিপাই আপন ভাবধারায় বান্দরবানের ঝর্ণার রাণী রূপে প্রাবাহমান।