দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

নভোথিয়েটার, রাজশাহী : যাওয়ার উপায়, সময়সূচী ও টিকেট মূল্য
রাজশাহী নভোথিয়েটার (Rajshahi Novo Theatre) প্রায় ২.৩০ একর জায়গায় সোলার-নির্ভর, আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ “রাজশাহী নভোথিয়েটার” নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকার পর এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নভোথিয়েটার। গণপূর্ত অধিদফতর ও নভোথিয়েটার কর্তৃপক্ষ বেসিস-ডিওআইসিটির সহযোগিতায় এই নভোথিয়েটার নির্মাণ করা হয়।

দরিয়া নগর
দরিয়ানগর (Doria Nogor) পর্যটন কেন্দ্রটি হচ্ছে পাহাড়, সমুদ্র আর সূর্যের অপূর্ব মিলনস্থল। প্রকৃতির এ অপরূপ সমন্বয় অবলোকনের জন্য যেতে হবে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে কলাতলী মোড় থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার পূর্বদিকে। একদিকে দৃষ্টি জুড়ে বঙ্গোপসাগর আর অন্য দিকে পাহাড় এরই মাঝখান দিয়ে কক্সবাজার হতে টেকনাফগামী রাস্তা। এই রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে সামনে পড়বে বড়ছেড়া গ্রামের পাঁচটি পাহাড়ের সমন্বয়ে গড়ে উঠা দরিয়ানগর বিনোদন কেন্দ্র।

মানা বে ওয়াটার পার্ক
মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া এলাকায় অবস্থিত মানা বে ওয়াটার পার্ক (Mana Bay Waterpark) বাংলাদেশের প্রথম প্রিমিয়াম থিম পার্ক। প্রায় ৬০ হাজার স্কয়ার মিটার বিস্তৃত এই ওয়াটার পার্ক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম এবং আধুনিক রাইড সমৃদ্ধ বিনোদন কেন্দ্র। পার্কটিতে সকল বয়সের মানুষের জন্য বৈচিত্র্যময় সব আয়োজন রয়েছে। এখানে ১৭ টি রোমাঞ্চকর রাইড রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- ওয়াটার স্লাইড ট্যুর, দেশের একমাত্র ওয়েভ পুল ও ফ্লোরাইডার ডাবল (সার্ফিং সিমুলেটর)। বাচ্চাদের জন্য একটি আলাদা জোন ও একটি কৃত্রিম নদীর ব্যবস্থা রয়েছে পার্কটিতে।

গাংচিল আইল্যান্ড
গাংচিল আইল্যান্ড (Gangchil Island) রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের বুকে কর্নফুলি ও মাইনি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত একটি দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পসাইট। এটি মুলত কাপ্তাই হ্রদের একটি দ্বীপ। চারপাশের সবুজ পাহাড়, কাপ্তাই লেকের শান্ত নীল জলরাশি ও নির্জনতাই এখানখার প্রধান আকর্ষণ। রাঙ্গামাটি রিজার্ভ বাজার ঘাট থেকে নদী পথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এই নয়নাভিরাম গাংচিল আইল্যান্ড এর অবস্থান। এর কিছু দুরেই সীমান্তের ওপাড়ে রয়েছে ভারতের মিজোরাম। সম্প্রতি চালু হওয়া অফ বিট ক্যাম্পিং সাইট গাংচিল আইল্যান্ড কোলাহলের শহর ছেড়ে যারা নির্জনতায় কিছু সময় কাটাতে চায় তাদের জন্য আদর্শ গন্তব্য। এখানে আসলে যে কেউ একদম প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে পারবে।

বঙ্গবন্ধু সেতু রিসোর্ট
বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর কাছে যমুনা নদীর পূর্ব পাশে তোলা হয়েছে থ্রি স্টার মানের বঙ্গবন্ধু সেতু রিসোর্ট (Bangabandhu Setu Resort) । এই রিসোর্টের পূর্ব নাম ছিল যমুনা রিসোর্ট (Jamuna Resort) । টাংগাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার মাঝামাঝি স্থানে এই রিসোর্টি অবস্তিত। যমুনা রিসোর্টে রয়েছে জিম, হেলথ ক্লাব, সুইমিংপুল, বেকারি, ফরেন মানি এক্সচেঞ্জ এবং স্যুভেনির শপ। খেলাধুলার সুবিধা হিসাবে এখানে ফুটবল, হকি, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন ও দাবার ব্যবস্থা আছে। থাকার জন্য বঙ্গবন্ধু সেতু রিসোর্টে রয়েল সুইট, ডিলাক্স এক্সিকিউটিভ সুইট, ২ ও ৩ বেডরুমের কটেজ, ডরমিটরি এবং এক্সট্রা বেড সুবিধা রয়েছে।

চিকলি ওয়াটার পার্ক –
চিকলি ওয়াটার পার্ক (Chiklee Water Park) রংপুর শহরের হনুমানতলা এলাকায় অবস্থিত একটি জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র। প্রায় ১০০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই পার্কটি দেশের প্রথম ভাসমান ওয়াটার পার্ক হিসেবে পরিচিত। চিকলি ওয়াটার পার্ক পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর জন্য একটি আদর্শ স্থান, যেখানে বিনোদন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একসাথে উপভোগ করা যায়। চিকলি ওয়াটার পার্কে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে বেশকিছু ওয়াটার রাইড, পাশাপাশি বাচ্চাদের জন্য রয়েছে খেলার জায়গা, আছে একটি বিশাল নাগরদোলা।

নিরিবিলি পিকনিক স্পট
নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার রামপুরে অবস্থিত নিরিবিলি পিকনিক স্পট (Niribili Picnic Spot) দক্ষিনবঙ্গের একটি অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র। ১৯৯১ সালে নিরিবিলি পিকনিক স্পট উদ্ভোধন করা হয়। প্রায় ১৪ একর জায়গা জুড়ে স্থাপিত এই বনভোজন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে শিশু পার্ক, মিনি চিড়িয়াখানা, এস এম সুলতানের শিল্পকর্ম, দোলনা, রোপওয়ে, মিনি ট্রেন এবং ওয়াটার বোট।

প্রজাপতি পার্ক
চট্টগ্রাম জেলার শাহ আমানত বিমানবন্দর ও পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন পতেঙ্গা নেভাল একাডেমির ১৫ নম্বর রোডে প্রায় ৬ একর জায়গা জুড়ে দেশের প্রথম প্রজাপতি পার্ক (Butterfly Park Bangladesh) গড়ে তোলা হয়েছে। ইন্ট্রাকো গ্রুপের এই উদ্যোগটি ২০০৯ সালে নেওয়া হলেও ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে প্রজাপতি পার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এই পার্কে প্রায় ২০০ প্রজাতির এক হাজারেরও বেশি প্রজাপতি রয়েছে। এছাড়া এখানে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে কৃত্রিম প্রজনন করানো হয়। মার্চ থেকে আগস্ট/সেপ্টেম্বর মাস প্রজাপতির স্বাভাবিক প্রজননের উপযুক্ত সময় হলেও শীতকালেও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় প্রজাপতির বংশবিস্তার ও প্রদর্শনী অব্যাহত রাখা হয়।

গণিতবিদ কে.পি. বসুর বসতভিটা
ঝিনাইদহ জেলার হরিশংকরপুর গ্রামে অবস্থিত গণিতবিদ কালীপদ বসুর বসতভিটা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। ১৯০৭ সালে নির্মিত এই ভবনটি শুধুমাত্র একটি স্থাপত্য নয়, বরং বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতীক। নবগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এই বাড়িটি ছিল তৎকালীন অভিজাত সমাজের এক চমৎকার উদাহরণ। এখানে ১৭টি কক্ষ ছিল, যা আজও দর্শকদের আকর্ষণ করে। তবে, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি ধ্বংসের পথে।

রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট
গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে শালবনের ভেতরে প্রায় ৮০ বিঘা জমি নিয়ে যৌথ মালিকানায় গড়ে তোলা হয়েছে রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট ( Rajendra Eco Resort )। বনের স্বাভাবিক সৌন্দর্য্যকে অক্ষুন্ন রাখতে এখানে পরিকল্পিতভাবে আরো বনায়ন করা হয়েছে। রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টে ২৬ টি কটেজ পার্ক ছাড়াও রয়েছে বেশ কয়েকটি মাটির ঘর। এখানে আগত অতিথিরা চাইলে রিসোর্টের লেকে মাছ ধরা, নৌকা ও সাইকেল চালানো কিংবা শাক-সবজি ও ফার্ম ঘুরে দেখতে পারেন। রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টে আরো রয়েছে একটি সুইমিং পুল, ম্যাসেজ পার্লার ও ক্যাফেটেরিয়া। ঘন অরণ্যের ভেতরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ৪ তলা বিশিষ্ট প্রতিটি ভবনের ছাদে পাখির চোখে বন পর্যবেক্ষনের জন্য রয়েছে অবজারভেশন টাওয়ার। তাই শহরের বেশ কাছে ঝুল বারান্দায় বসে বন্য প্রকৃতি আর চোখ জুড়ানো সবুজের স্বাদ নিতে চলে আসতে পারেন রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টে।

ফান টাউন পার্ক
বিনোদনের নতুন আয়োজন নিয়ে কুমিল্লা জেলার ঢুলিপাড়াতে ২০১৬ সালে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ভার্চুয়াল থীম পার্ক ফান টাউন (Fun Town)। ভিন্ন ধাঁচে নির্মিত এই পার্ক ছোট বড় সব বয়সী মানুষের নির্মল বিনোদনের জন্য একটি উপযুক্ত জায়গা। পার্কের মনোরম পরিবেশে ঘুরে বেড়ানো ছাড়াও আকর্ষণীয় রাইডের মজা নিতে ছুটির দিনে অনেকে এই পার্কে আসেন। ১৫ ডি সিনেমা ফান টাউন পার্কের প্রধান আকর্ষণ হলেও ছোট বাচ্চাদের জন্য এখানে রয়েছে নাগরদোলা, ট্রেন, বাম্পার কার, প্যাডেল বোট, সুইং চেয়ার, মেরিগো রাউন্ড, সেল্ফ কন্ট্রোল এরোপ্লেন সহ বিভিন্ন ইনডোর ও আউটডোর রাইড। আর বিশেষ দিন গুলোতে ফান টাউন পার্ক কনসার্ট, ডিজে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় আয়োজনে পূর্ণ থাকে।

ফরিদপুর পৌর শেখ রাসেল শিশুপার্ক
ফরিদপুর জেলা শহরের গোয়ালচামট নামক স্থানে প্রায় ১৪ একর জায়গাজুড়ে ওয়ান্ডারল্যান্ড এবং ফরিদপুর পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে ফরিদপুর পৌর শেখ রাসেল শিশুপার্ক (Faridpur Poura Sheikh Rasel Shishu Park) নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালে নির্মিত পৌর শেখ রাসেল শিশুপার্কটিতে আছে চলন্ত ট্রেন, ভূতুরে গুহা, ওয়ান্ডার হুইল, সুইং কেয়ার, প্যারাট্যুপার, বোট রাইডিং সহ ৩০ টিরও অধিক আকর্ষণীয় রাইড, লেক, মিনি চিড়িয়াখানা, ভিডিও গেমস, ফুড কর্ণার এবং পিকনিক স্পট।

বাহাদুর শাহ পার্ক
পুরান ঢাকার সদরঘাট এলাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী উদ্যানের নাম বাহাদুর শাহ পার্ক (Bahadur Shah Park)। ১৮৮৫ সালের ১৭-ই ফেব্রুয়ারী স্যার সলিমুল্লাহর পুত্র খাজা হাফিজুল্লাহ স্মরণে বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের পার্কে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়।

সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্ট
সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্ট (Sonargaon Royal Resort) ঢাকা জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জ এর সোনারগাঁও উপজেলার খাস নগর দিঘীরপাড় এলাকায় অবস্থিত। যারা দূর-দূরান্ত থেকে সোনারগাঁও মিউজিয়াম, পানাম নগর এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় স্থান দেখতে আসেন থাকার জন্য সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্ট অন্যতম সেরা জায়গা। রিসোর্টটি খুব বড় না হলেও সাজানো গোছানো। রিসোর্ট প্রাঙ্গনে একটি ছোট সুইমিং পুল রয়েছে। রিসোর্ট এর ছাদের বারান্দা থেকে একটি বিশাল হ্রদ এবং সবুজ প্রান্তর দেখা যায়। রিসোর্টের আবাসিক ভবনগুলির স্থাপত্যশৈলী আলাদাভাবে সকলের নজর কারে। রিসোর্টটিতে পাঁচ ধরনের রুম এবং স্যুট রয়েছে, পাশাপাশি বিলিয়ার্ড, সকার এবং অন্যান্য ইনডোর গেমের সুবিধা রয়েছে। রিসোর্ট থেকে হেঁটে সোনারগাঁও জাদুঘর, পানাম নগর, হাসনগর দিঘী, গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ মন্দির ও মেঘনা নদীতে যাওয়া যায়। সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে দুটি কনভেনশন হলে ব্যবসায়িক ও সামাজিক অনুষ্ঠান করার ব্যবস্থা আছে।

মর্ডান ফ্যান্টাসি কিংডম
কর্মময় জীবনের ব্যস্ততার অবসরে একটু প্রশান্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে ২০১১ সালে মডার্ন হারবাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ডা. আলমগির মতি প্রায় ৫০ একর জমি নিয়ে মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম (Modern Fantasy Kingdom) ও মিনি চিড়িয়াখানা পার্কটি প্রতিষ্ঠা করেন। শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার কলুকাঠি গ্রামের মনোরম পরিবেশে অবস্থিত মর্ডান ফ্যান্টাসি কিংডমে রয়েছে বিনোদনের সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা।

এসকেএস ইন রিসোর্ট
গাইবান্ধা জেলা সদরের রাধাকৃষ্ণপুরে অবস্থিত একটি আধুনিক রিসোর্টের নাম এসকেএস ইন (SKS Inn)। শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে কলেজ রোডের এই এসকেএস ইন রেস্ট হাউজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট উত্তর জনপদের মানুষের রুচিশীলতার প্রতীক। সবুজের মায়ায় ঘেরা প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত নজরকাড়া প্রাকৃতিক পরিবেশের এসকেএস ইন রিসোর্টে আছে নানা প্রজাতির বৃক্ষ, কৃত্রিম ফোয়ারা, জিম, গেম জোন, উন্মুক্ত মঞ্চ, কিডস জোন, সুইমিংপুল, রেস্টুরেন্ট, সেমিনার কক্ষ, দৃষ্টিনন্দন পুকুর এবং কটেজ সহ বিভিন্ন আধুনিক স্থাপনা।