দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

পলওয়েল পার্ক
রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে কাপ্তাই লেকের কোল ঘেঁসে তৈরি পলওয়েল পার্ক (Polwel Park) সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় রাঙ্গামাটির অন্যতম সেরা বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। বৈচিত্রময় ল্যান্ডস্কেপ, অভিনব নির্মাণশৈলী এবং নান্দ্যনিক বসার স্থান পার্কটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক মাত্রা। নৈসর্গিক প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটাতে ও চিত্তবিনোদনের জন্য প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থীর পদচারণার পলওয়েল পার্ক মুখর হয়ে উঠে।

টাঙ্গুয়ার হাওর
মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সুনামগঞ্জ জেলার টাঙ্গুয়ার হাওর (Tanguar Haor) প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। অথৈ নীল জল, হিজল-করচের জলাবন আর মেঘ-পাহাড়ের মিতালী এই হাওরকে অপরূপ রূপে সাজিয়েছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মিঠাপানির জলাভূমির মূল আয়তন প্রায় ৬,৯১২ একর, যা বর্ষায় বাফার জোনসহ প্রায় ১২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এক বিশাল সমুদ্রের রূপ নেয়।

ডিসি পার্ক
পিরোজপুর জেলা সদরে অবস্থিত ডিসি পার্ক (DC Park) পিরোজপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। নামাজপুর গ্রামে বলেশ্বর নদীর তীরে গড়ে উঠা এই পার্কের ওয়াচ টাওয়ার থেকে অপরুপ প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ডি. সি. পার্ক স্থানীয় মানুষের কাছে পিরোজপুর রিভার ভিউ ইকো পার্ক (Pirojpur River View Echo Park) নামেও পরিচিত। পিরোজপুর জেলার সাবেক জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ মনছুর রাজা চৌধুরী স্থানীয় মানুষের চিত্তবিনোদনের জন্য ২০০৭ সালে একটি পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তখন থেকেই পার্কের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি ডিসি পার্ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

আপন ভুবন পিকনিক এন্ড শুটিং স্পট
পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রিয় মানুষের সাথে একান্ত সময় কাটাতে রাজধানী ঢাকার খুব কাছে গাজীপুর জেলার পুবাইল কলেজ গেইট সংলগ্ন এলাকায় সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে আপন ভুবন পিকনিক এন্ড শুটিং স্পট (Apon Bhubon Picnic and Shooting Spot) গড়ে তোলা হয়েছে। টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের রাস্তা। প্রচলিত সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি আপন ভুবন পিকনিক এন্ড শুটিং স্পটে আছে সুইমিং পুল, কিডস জোন, পিকনিক স্পট এবং খেলার মাঠ।

লুইস ভিলেজ রিসোর্ট এন্ড পার্ক
জামালপুর জেলা সদরের বেলটিয়ায় নিরিবিলি পরিবেশে লুইস ভিলেজ রিসোর্ট এন্ড পার্ক (Luis Village Resort and Park) গড়ে তোলা হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই পার্কটি ইতিমধ্যেই ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে সর্বাধুনিক বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। পার্কের ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিস্তৃত সবুজ এলাকা, সাজানো পথ, বসার জায়গা, নান্দনিক ভাস্কর্য এবং খোলা প্রকৃতি। লুইস ভিলেজ রিসোর্ট এন্ড পার্কে ওয়ান্ডার হুইল, বাম্পার কার, সুইং চেয়ার, মেরী গো রাউন্ড, মিনি ট্রেন, কফি কাপ, রকেট রাইড এবং বোট রাইডিংসহ সর্বমোট ১৪ টি দেশি বিদেশি রাইড রয়েছে।

কুলুমছড়া ঝর্ণা
কুলুমছড়া ঝর্ণা (Kulumchora Waterfall) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্তে অবস্থিত। সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে ছুটে চলা এই ঝর্ণার ধবধবে সাদা পানি আর সেই পানির তীব্র স্রোতেই জন্ম নিয়েছে এক অপরূপ পাথুরে ছড়া। এটি ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এক রহস্যময় ও মায়াবী স্থান। সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ‘ বিছনাকান্দি ‘র খুব কাছাকাছি হলেও, কুলুমছড়া অনেকটাই যেন প্রকৃতির এক গোপন ও অচেনা ঝর্ণা। যারা বিছনাকান্দি থেকে হাইকিং করে জাফলং যান, তারা অনেকেই এই ছড়ার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। এই ছড়ার পানির মূল উৎস ভারতের মেঘালয় পাহাড়। ছড়ার সামনে দাঁড়ালে যে গর্জন শোনা যায়, তা মূলত সীমান্ত পেরিয়ে আসা পানির সুর। তাই অনেকে মজা করে বলেন, এখানে এক পা রাখলেই যেন পৌঁছে যাওয়া যায় কুলুমছড়ার জন্মভূমিতে।

মোজাফফর গার্ডেন এন্ড রিসোর্ট
মোজাফফর গার্ডেন এন্ড রিসোর্ট (Mozaffer Garden & Resort) সাতক্ষীরায় মন্টু মিয়ার বাগান বাড়ি নামে বহুল পরিচিত। সাতক্ষীরা জেলায় ১২০ বিঘা জায়গা জুড়ে ১৯৮৯ সালে জনাব কে, এম, খায়রুল মোজাফফর (মন্টু) এই মোজাফফর গার্ডেন এন্ড রিসোর্ট স্থাপন করেন। সবুজে পরিপূর্ণ এবং খোলামেলা প্রাকৃতিক পরিবেশ সহজেই এখানে আগত অতিথিদের নজর কাড়ে। মোজাফফর গার্ডেন এন্ড রিসোর্টে থাকার জন্য ৪ টি ভবনে মোট ৩০ টি কক্ষ রয়েছে। কারুকাজপূর্ণ এসব কক্ষগুলোতে রয়েছে আধুনিক জীবন যাপনের সমস্ত নাগরিক সুবিধা।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল (আংশিক) উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান অবস্থিত। বাংলাদেশের যে ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যান আছে তার মধ্যে লাউয়াছড়া অন্যতম। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। ১২৫০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট এ উদ্যানটিকে প্রাকৃতিক জাদুঘর বললেও কম হবে। বিভিন্ন প্রকার গাছগাছালি ও পশুপাখি এ বনের শোভা আরো বৃদ্ধি করেছে। জীব বৈচিত্রে ভরপুর নান্দনিক সৌন্দর্যের অন্যতম স্থান এই জাতীয় উদ্যানটি দেশে ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট হিসেবে খ্যাত। লাউয়াছড়া উদ্যান মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

দুবলিয়া মেলা
পাবনা সদর উপজেলার দুবলিয়া গ্রামে স্থানীয় বাসীন্দাদের শতবছরের গ্রাম বাংলার গৌরব ও ঐতিহ্যের এক অন্যতম বহিঃপ্রকাশ দুবলিয়া মেলা (Dublia Fair)। যা দুবলিয়াবাসীর বিনোদনের প্রধান এক উৎস। ইতিহাস থেকে জানা যায়, বর্ষাকালে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধ দুবলিয়াতে যাতায়াতের মাধ্যম হিসাবে নৌকার প্রচলন ছিল। আর তখন গ্রামীণ বিনোদনের অন্যতম উৎস নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করেই মূলত এই মেলার জন্ম হয়।

বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক
রাজধানী ঢাকার শ্যামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ২.৩ একর জায়গা জুড়ে ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক (Buriganga Eco-Park) নির্মাণ করেন। রাজধানী ঢাকায় পরিবার পরিজনদের নিয়ে প্রকৃতির সাথে সময় কাটাতে বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক হতে পারে একটি আদর্শ জায়গা। বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক নামের পাশাপাশি এটি ‘শ্যামপুর ইকো পার্ক’ এবং ‘বিআইডব্লিউটিএ ইকো পার্ক’ নামেও পরিচিত।

বর্ডার হাট, কসবা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশ-ভারত বর্ডার হাট (Bangladesh-India Border Haat) দুই দেশের যৌথ মালিকানার ভিত্তিতে পরিচালিত একটি আন্তঃসীমান্ত বানিজ্য এলাকা। ২০১৫ সালে ১১ই জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তের ২০৩৯ নং পীলার সংলগ্ন তারাপুর-কমলাসাগর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বর্ডার হাটের উদ্বোধন করা হয়। সপ্তাহের একদিন বিভিন্ন পণ্য কেনা-বেচার পাশাপাশি দুই দেশের মানুষের জন্য একটি মিলন মেলা হিসেবে পরিচিত এই বর্ডার হাট। অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতি ছয় মাসে এই হাট থেকে প্রায় দুই কোটি থেকে আড়াই কোটি টাকার ভারতীয় ও বাংলাদেশী পণ্য কেনাবেচা হয়ে থাকে।

রিসাং ঝর্ণা
খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার সাপমারা গ্রামে অপূর্ব সুন্দর রিসাং ঝর্ণার অবস্থান। স্থানীয়দের কাছে রিসাং ঝর্ণা (Risang Jorna) ‘সাপ মারা রিসাং ঝর্ণা’ নামে পরিচিত। মারমা শব্দ রিছাং-এর অর্থ কোন উঁচু স্থান হতে জলরাশি গড়িয়ে পড়া। রিছাং ঝর্ণার অপর নাম তেরাং তৈকালাই। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র হতে এই ঝর্ণার দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। আর খাগড়াছড়ি-ঢাকা সড়ক ধরে ১ কিলোমিটার এগিয়ে গিলেই রিসাং ঝর্ণা দেখতে পাওয়া যায়।

নাহার গার্ডেন পিকনিক স্পট
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের কামতা গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে নাহার গার্ডেন পিকনিক স্পট (Nahar Garden Picnic Spot)। ধলেশ্বরী নদীর কোল ঘেষে কোলাহল মুক্ত শান্ত গ্রামীন পরিবেশে সবুজের সমারোহ কিছুটা সময় কাটাতে নাহার গার্ডেন পিকনিক স্পট একটি আদর্শ জায়গা।

লাংলোক ঝর্ণা
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান। পাহাড়ি এই জেলায় ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় ঝর্ণা, আর প্রতিটি ঝর্ণার সৌন্দর্যই ভিন্নরকম। এর মধ্যে অন্যতম লাংলোক ঝর্ণা (Langlok Waterfall) , যা স্থানীয়ভাবে লিলুক ঝর্ণা নামেও পরিচিত। অ্যাডভেঞ্চার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী এর উচ্চতা প্রায় ৩৯৩ ফুট । অনেকের মতে, এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু ঝর্ণা। বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নে অবস্থিত এই ঝর্ণাটি এখন অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।

সারাহ রিসোর্ট
রাজধানী ঢাকার কাছে পরিবার-পরিজন কিংবা প্রিয় মানুষের সাথে আনন্দময় সময় কাটাতে সারাহ রিসোর্ট ( Sarah Resort ) একটি আদর্শ ভ্রমণ স্থান। গাজীপুরের রাজাবাড়িতে অবস্থিত চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং শিশুদের প্রতি যত্নবান দৃষ্টিভঙ্গির জন্য সারাহ রিসোর্ট দর্শনার্থীদের মন জয় করে নিয়েছে।

মহাস্থানগড়
মহাস্থানগড় (Mahasthangarh) বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। প্রাচীন পুন্ড্রনগরীতে প্রায় ৪০০০ বছর পুরাতন স্থাপনা রয়েছে। মাউর্যা এবং গুপ্ত রাজারা মহাস্থানগড়কে প্রাদেশিক রাজধানী হিসাবে ব্যবহার করতেন।