দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

এলেঙ্গা রিসোর্ট
এলেঙ্গা রিসোর্ট ( Elenga Resort ) টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার এলেঙ্গা নামক স্থানে ২০০৮ সালে সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠে। টাঙ্গাইল থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে প্রায় ১৬৭ হেক্টর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠা এই রিসোর্টের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। নদী ও গাছগাছালিপূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশ এই রিসোর্টকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

ধর্মসাগর দীঘি
ধর্মসাগর দীঘি (Dharmasagar Dighi) কুমিল্লা জেলা শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত। ধারণা করা হয় ১৭৫০ থেকে ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে মধ্যে প্রজাহিতৈষী পাল বংশের রাজা ধর্মপাল তৎকালীন দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জলের কষ্ট লাঘবের জন্য ধর্মসাগর দীঘিটি খনন করেন। তাঁর নামানুসারেই দীঘির নামকরন করা হয় ধর্মসাগর দীঘি। ধর্মসাগর দীঘির উত্তরে একটি শিশুপার্ক নির্মিত হয়েছে। সবুজে ঢাকা শিশুপার্কে বসে ধর্মসাগরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বিকেলবেলা সবুজে আচ্ছাদিত নান্দনিক ধর্মসাগর দীঘির পাড়ে শত শত ভ্রমণকারীর আগমন ঘটে। চাইলে নৌকা ভাড়া করে দীঘি ঘুরে দেখারও সুযোগ রয়েছেন।

আরশিনগর হলিডে রিসোর্ট
ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে গাজীপুর জেলার ভাওয়ালে গ্রামীণ প্রাকৃতিক পরিবেশে আরশিনগর হলিডে রিসোর্ট এন্ড পিকনিক স্পট (Arshinagar Holiday Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। নাগরিক জীবনের অবসরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত আরশিনগর হলিডে রিসোর্টে রয়েছে সবুজ উদ্যান, খেলার মাঠ, সুইমিং পুল, রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট, পিকনিক, বোটিং, ফিশিং, ক্যাম্প ফায়ার, ট্র্যাকিং, তাঁবু এবং বারবিকিউয়ের ব্যবস্থা।

সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি
নারায়ণগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে চলে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন উত্তর দিকে সোনারগাঁও এবং দক্ষিণ দিকে মোগড়াপাড়ার অবস্থান। মোগরাপাড়ার মেইনরোড ধরে ৪ কিলোমিটার দূরে সাচিলপুর গ্রামে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি (Tomb of Sultan Gias Uddin Azam Shah) অবস্থিত।

ধানুকা মনসা বাড়ি
প্রায় ছয়শত বছরের প্রাচীন ধানুকা মনসা বাড়ি ( Dhanuka Manasha Bari ) শরীয়তপুর জেলার প্রবীণ ব্যক্তিবর্গের কাছে ময়ুর ভট্টের বাড়ি নামে পরিচিত। ধানুকা মনসা বাড়িতে সুলতানী ও মোগল আমলের স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত ৫ টি ইমারত রয়েছে। যার মধ্যে আছে দুর্গা মন্দির, মনসা মন্দির, কালি মন্দির, নহবতখানা এবং আবাসিক ভবন।

আলভিনা গার্ডেন – কৃষি পর্যটন কেন্দ্র
আলভিনা গার্ডেন (Alveena Garden) বাংলাদেশের প্রথম কৃষি পর্যটন কেন্দ্র। সিলেট এর গোপালগঞ্জ উপজেলার লক্ষনাবন্দ ইউনিয়নের পাহাড়লাইন রোডের দক্ষিণভাগ চৌধুরীপাড়া গ্রামে অবস্থিত। আলভিনা গার্ডেন এর প্রাকৃতিক যে সৌন্দর্য আছে সেটা খুব সুন্দর ও আকর্ষণীয়। যে কারনে পর্যটকরা এখানে এসে ভালো সময় কাটিয়ে যাচ্ছেন। আলভিনা গার্ডেন এ দেখা মিলবে আনারস, কাজু বাদাম, কফি ও লেবু বাগান। একই সঙ্গে এখানে গড়ে ওঠেছে পর্যটন শিল্প। প্রতিদিন অনেক পর্যটক টিকিট করে এখানে ভ্রমণ করতে আসেন।

দারাসবাড়ি মসজিদ
দারাসবাড়ি মসজিদ (Darasbari Mosque) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের অমপুর নামক স্থানের কাছে অবস্থিত। স্থানীয় বাসীন্দারা এই মসজিদের স্থানটিকে দারাসবাড়ি নামে চেনে। মসজিদের শিলালিপি থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ১৪৯৭ সালে সুলতান শামসুদ্দিন ইউসুফের শাসন আমলে দারাসবাড়ি মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। শুরুতে মসজিদটির নাম ছিল ফিরোজপুর মসজিদ কিন্তু ১৫০৪ সালে দারাসবাড়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর মানুষের মুখে মুখে দারাসবাড়ি মসজিদ নামটি পরিচিত হয়ে উঠে। টেরাকোটা ইট দিয়ে তৈরি দারাসবাড়ি মসজিদটির সাথে ভারতের চামচিকা মসজিদের অনেক সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। মসজিদের ভেতরের আয়তক্ষেত্র দুই ভাগে বিভক্ত এবং এর মূল গম্বুজটি দেখতে অনেক আকর্ষণীয়। দারাসবাড়ি মসজিদের দৈর্ঘ্য ৯৯ ফুট ৫ ইঞ্চি ও প্রস্থ ৩৪ ফুট ৯ ইঞ্চি এবং মসজিদের পূর্ব দিকে ১০ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা একটি বারান্দা রয়েছে। মসজিদে মোট ৯ টি কারুকার্যময় মেহরাব রয়েছে। আর মসজিদটির উত্তর দিকে রয়েছে প্রায় ৬০ বিঘা আয়তনের একটি বিশাল দিঘী।

মুহুরী প্রজেক্ট
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মুহুরী প্রজেক্ট ( Muhuri Project ) ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় অবস্থিত। মুহুরী সেচ প্রকল্পকে ঘিরে করে গড়ে উঠা বাংলাদেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সর্ববৃহৎ মৎস্য জোন হিসেবেও মুহুরী প্রজেক্ট দেশব্যাপী সুপরিচিত। ১৯৭৭-৭৮ অর্থ বছরে মুহুরী সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে ফেনী, মুহুরী এবং কালিদাস পাহালিয়া নদীর পানি প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মিত আড়ি বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। মুহুরী প্রজেক্টের সুফল হিসাবে ২০,১৯৪ হেক্টর এলাকা সরাসরি সেচ সুবিধার মধ্যে আসে।

আলী আমজদের ঘড়ি
সুরমা নদীর তীরে অবস্থিত আলী আমজদের ঘড়ি (Ali Amjader Ghari) ঊনবিংশ শতকের নির্মিত সিলেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সিলেটের কুলাউড়ার পৃত্থিমপাশার জমিদার আলী আহমদ খান ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে ক্বীন ব্রীজের পাশে এই ঐতিহাসিক ঘড়িঘর নির্মাণ করেন। আলী আহমদ খানের ছেলের নামানুসারে ঘড়িঘরটি আলী আমজদের ঘড়ি নামে পরিচিতি লাভ করে। লোহার খুঁটির উপর ঢেউটিন দিয়ে তৈরী বিশালাকার গম্বুজাকৃতির আলী আমজদের ঘড়ি ঘরের উচ্চতা ২৬ ফুট। আর ঘড়ির দৈর্ঘ্য ৯ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি।

আলেকজান্ডার ক্যাসেল
আলেকজান্ডার ক্যাসেল (Alexander Castle) ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। ১৮৭৯ সালে তৎকালীন মুক্তাগাছার মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আলেকজান্ডারের সম্পতি রক্ষার্থে এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন। সুদূর চীন থেকে আসা কারিগর দিয়ে কাঠ ও লোহার অপূর্ব সমন্বয়ে দৃষ্টিনন্দন এই প্রাসাদটি নির্মাণ করা হয়। প্রাসাদ তৈরীতে অত্যাধিক লোহার ব্যবহারের কারণে স্থানীয়দের কাছে এটি “লোহার কুঠি” নামে পরিচিতি পায়। সুন্দর শিল্পকর্ম ও নান্দনিকতায় পূর্ণ এই কুঠির প্রধান ফটকের সামনে দুইটি মার্বেল পাথরের মূর্তি এবং চারদিকে কয়েকটি নারীর ভাস্কর্য রয়েছে। দ্বিতল ভবনের ছাদে অভ্র ও চুমকি ব্যবহার করে প্রাসাদের ভিতরে ঠাণ্ডা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রাসাদের পিছনেই রয়েছে বিশালাকার পুকুর, ফুলের বাগান ও একটি কৃত্রিম হ্রদ।

স্প্রিং ভ্যালি রিসোর্ট
নগর জীবনের ব্যস্ততার অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে রাজধানী ঢাকার কাছে গাজীপুরের সালনাতে গড়ে উঠা স্প্রিং ভ্যালি রিসোর্ট (SpringValley Resort) একটি আদর্শ স্থান। পরিবার, প্রিয়জন কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে পিকনিক অথবা হ্যাংআউটের উদ্দেশ্যে যে কোনো দিন স্প্রিং ভ্যালি রিসোর্টে চলে আসতে পারেন। ১২ বিঘা জমির উপর গ্রামীণ আবহে নির্মিত এই রিসোর্টটি ট্রিপসিলো নামক একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। এই রিসোর্টে রয়েছে বিভিন্ন রকম খেলাধুলার ব্যবস্থা, বিশাল খেলার মাঠ, সুইমিং পুল এবং পুকুর। এখানে আগত অতিথিরা চাইলে পুকুরে মাছ ধরা ও নৌকায় ভেসে বেড়াতে পারেন। ঢাকার বেশ কাছাকাছি দূরত্বে কম খরচে চিত্তবিনোদনের জন্য রিসোর্টটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, তাই ছুটির দিনের জন্য অগ্রিম বুকিং দিয়ে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

স্বর্ণ মন্দির
স্বর্ণ মন্দির বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে বালাঘাটা এলাকায় অবস্থিত। এই স্বর্ণ মন্দিরটি মহাসুখ মন্দির বা বৌদ্ধ ধাতু জাদী নামেও সমানভাবে পরিচিত। স্বর্ণমন্দির নাম হলেও এখানে স্বর্ণ দিয়ে তৈরি কোন স্থাপনা নেই। তবুও মন্দিরে সোনালি রঙের আধিক্যের জন্য এটি স্বর্ণমন্দির হিসাবে পরিচিত। পাহাড়ের চূড়ায় তৈরী এ সুদৃশ্য প্যাগোডা বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের পবিত্র একটি তীর্থস্থান। দেশ বিদেশ থেকে অসংখ্য বৌদ্ধ ধর্মালম্বী এই স্বর্ণমন্দির দেখতে এবং প্রার্থনা করতে আসেন। গৌতমবুদ্ধের সমসাময়িক কালে নির্মিত বৌদ্ধ মুর্তির একটি এখানে স্থাপন করা হয়েছে। এই মন্দিরটি প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্যাগোডা দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য বৌদ্ধ স্থাপনার মধ্যে অন্যতম উপাশনালয়। পাহাড়ের উপর দেবতা পুকুর নামে একটি পানি সম্বলিত ছোট পুকুর আছে।

ঝুলন্ত ব্রিজ
পর্যটনপ্রেমী মানুষের কাছে রাঙ্গামাটি জেলার একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পর্যটকদের মোহিত করতে রাঙ্গামাটিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র। এদের মধ্যে কাপ্তাই হ্রদের উপর নির্মিত ৩৩৫ ফুট লম্বা ঝুলন্ত ব্রিজ উল্লেখযোগ্য। রাঙ্গামাটিতে ভ্রমণে আসা সকল পর্যটকই ‘সিম্বল অফ রাঙ্গামাটি’ হিসাবে খ্যাত ঝুলন্ত সেতুটি দেখতে আসেন। কাপ্তাই লেকের বিচ্ছিন্ন দুই পাড়ের পাহাড়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে দিয়েছে রঙিন এই ঝুলন্ত সেতু। এই সেতুতে দাঁড়িয়ে কাপ্তাই লেকের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করা যায়। ব্রিজের এক পাশে পাহাড়ের উপর শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে দোলনা, স্লিপার ইত্যাদি। লেকে ভ্রমণের জন্য ব্রিজের নিচে ইঞ্জিন চালিত বোট ঘন্টা প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় ভাড়া পাওয়া যায়। ঝুলন্ত ব্রিজে প্রবেশের জন্য পর্যটন কর্পোরেশনকে জনপ্রতি ২০ টাকা ফি দিতে হয়।

আদিনাথ মন্দির
কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা ইউনিয়নের ঠাকুরতলা গ্রামের মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় আদিনাথ মন্দির (Adinath Temple) অবস্থিত। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই মন্দিরের রয়েছে আধ্যাত্মিক গুরুত্ব। হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবতা মহাদেবের নামানুসারে মন্দিরের নামকরণ করা হয়েছে আদিনাথ। আবার আদিনাথের অন্য নাম মহেশ, যা থেকে মহেশখালী নামের সৃষ্টি। মন্দিরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৫.৩ মিটার (প্রায় ২৮০ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত এবং মন্দিরে উঠতে হয় ৬৯টি সিঁড়ি বেয়ে। বর্তমানে এই মন্দির কমপ্লেক্সের ভেতরে রাখাইন বৌদ্ধ বিহার ও মসজিদ আছে এজন্য অনেকে মন্দিরটিকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক হিসাবে আখ্যায়িত করেন। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে শিব চতুর্দশী উপলক্ষে ১০/১৫ দিনব্যাপী মেলা বসে তখন হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

হাতিমাথা
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ইউনিয়নের একটি পাহাড়ি পথকে মায়ুং কপাল বা হাতিমুড়া (Hatimura) নামে ডাকা হয়। স্থানীদের কাছে হাতিমাথা খ্যাত এই স্থানের চাকমা নাম ‘এদো সিরে মোন’। আবার অনেকের কাছে এটি স্বর্গের সিড়ি হিসাবেও পরিচিত। বহু নামের অধিকারী হাতিমাথা পাহাড়ের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ১৫ গ্রামের বাসিন্দা চলাচল করে। গ্রামবাসীর চলাচলকে সুবিধাজনক করতে হাতিমাথা পাহাড়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কতৃক ৩০৮ ফুট লম্বা লোহার সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে।

সিদ্ধেশ্বরী মঠ
মাগুরা জেলা সদরের আঠারখাদা গ্রামের নবগঙ্গা নদীর তীরে সিদ্ধেশ্বরী মঠ ( Siddheshwari Math ) অবস্থিত। মাগুরা শহর থেকে সিদ্ধেশ্বরী মঠের দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার। সুদূর অতীতে এই জায়গাটিকে কালিকাতলা শ্মশান নামে ডাকা হত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, অনেককাল আগে থেকেই কালিকাতলা শ্মশানে একটি মঠ এবং সিদ্ধেশরী মাতার মন্ত্রঙ্কিত শিলাখন্ড ও কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। অতি প্রাচীনকালে নির্মিত হওয়ায় সিদ্ধেশরী মন্দিরের নির্মাণ কাল এবং নির্মাতা সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। গভীর জঙ্গলে মাঝে অবস্থিত এই জায়গাটি সন্যাসীগণ তপস্যার জন্য পছন্দ করতেন। সিদ্ধেশ্বরী মঠের স্থান থেকে সপ্তদশ শতকের আগে থেকে নবগঙ্গা ধরে পূর্ণাথীগণ কামাক্ষ্যার পথে তীর্থে যাত্রা করতেন। আর তখন সাধু সন্যাসীদের পদচারনায় সিদ্ধেশ্বরী মঠ মুখর থাকতো।