দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি, হোসেনপুর
জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেক আগেই তবু কালের সাক্ষী হয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলায় গোবিন্দপুর ইউনিয়নে অবস্থিত গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি (Gangatia Jamidar Bari) । স্থানীয়দের কাছে এই বাড়িটি জমিদার বংশের বর্তমান উত্তরাধিকারী মানবেন্দ্র চক্রবর্তী চৌধুরীর নামানুসারে ‘মানব বাবুর বাড়ি’ (Manob Babur Bari) হিসাবে অধিক পরিচিত। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন এই জমিদার বাড়িটি অষ্টাদশ শতকের গ্রীক স্থাপত্যকলা অনুযায়ী নির্মিত। কারুকার্যময় বাড়িটিতে রয়েছে কাচারিঘর, নহবতখানা, দরবারগৃহ ও মন্দির। এছাড়াও চর্তুদিক থেকে সুউচ্চ প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িতে রয়েছে পুকুর ও সবুজে ঢাকা সুবিশাল আঙ্গিনা। কাছারিঘরটি ছাড়া অন্য সমস্ত স্থাপনাই আজ প্রায় ধ্বংস প্রাপ্ত তবুও প্রাচীন স্থাপত্যের নির্মাণ শৈলী দেখতে প্রতি বছর দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এই জমিদার বাড়ি দেখতে আসেন।

বিবির পুকুর
বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এক ঐতিহ্যবাহী জলাশয়ের নাম বিবির পুকুর (Bibir Pukur)। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে জিন্নাত বিবি জনমানুষের জলের কষ্ট নিরসনের উদ্দেশ্যে এই পুকুর খনন করেন। নগরীর সদর রোডের পূর্ব পাশে অবস্থিত বিবির পুকুরের দৈর্ঘ্য ১৮৫০ ফুট এবং প্রস্থ ৪০০ ফুট। পরবর্তীতে জিন্নাত বিবির নামানুসারে শতবর্ষী পুকুরটি বিবির পুকুর নামে পরিচিত হয়ে উঠে। তৎকালীন সময় কীর্তনখোলা নদীর সাথে খালের মাধ্যমে বিবির পুকুরের দুইটি সংযোগ ছিল। ফলে নদীর মতই এই পুকুরে নিয়মিতভাবে জোয়ার ভাটা দেখা যেত।

পাগলা মসজিদ
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ (Pagla Masjid) অবস্থিত। পাগলা মসজিদ মুসলিম অমুসলিম সকলের কাছেই একটি বিস্ময়। মূলত বিপুল পরিমানের টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনা রুপা দান হিসেবে পাবার জন্যে এই মসজিদ সর্বাধিক আলোচিত।

এলেঙ্গা রিসোর্ট
এলেঙ্গা রিসোর্ট ( Elenga Resort ) টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার এলেঙ্গা নামক স্থানে ২০০৮ সালে সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠে। টাঙ্গাইল থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে প্রায় ১৬৭ হেক্টর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠা এই রিসোর্টের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। নদী ও গাছগাছালিপূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশ এই রিসোর্টকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট
মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় প্রায় ৩০ বিঘা জায়গাজুড়ে মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট (Meghna Village Holiday Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। প্রবেশ ফটকের শুরুতেই রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাণীর ভাস্কর্য। তারপর প্রবেশ পথ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলেই শান্ত সুন্দর পরিবেশের মুগ্ধতা। মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্টের কুটিরগুলোকে নেপালি ঢঙে তৈরী করা হয়েছে। যারা কর্মব্যস্ততায় গ্রামের সৌরভ মিস করেন তারা ঢাকার কাছে বিনোদন কিংবা অবকাশ যাপনের জন্য মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট-এ আসতে পারেন।

বালাপুর জমিদার বাড়ি
বালাপুর জমিদার বাড়ি (Balapur Zamindar Bari) রাজধানী ঢাকার কাছে একদিনের ভ্রমণের জন্য চমৎকার একটি দর্শনীয় স্থান। নরসিংদী সদরের পাইকারচর ইউনিয়নের বালাপুর গ্রামে ঐতিহ্যবাহী বালাপুর জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। মেঘনা নদীর তীরে প্রায় ৩২০ বিঘা জমির ওপর জমিদার নবীন চন্দ্র সাহা দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যমন্ডিত জমিদার বাড়িটি তৈরি করেন। বিলাসবহুল বালাপুর জমিদার বাড়িতে ১০৩ টি মোজাইক করা, দরজা-জানালায় ফুল লতাপাতা নকশা করা সুসজ্জিত কক্ষ ছিল। প্রধান ভবনের পূর্বে তিনতলা, উত্তরে একতলা, দক্ষিণে দ্বিতীয় তলা এবং পশ্চিমে একটি বিশাল প্রবেশদ্বার সহ একটি দ্বিতীয়তলা বিশিষ্ট ভবন রয়েছে। প্রতিটি ভবনে মনোমুগ্ধকর কারুকার্য দেখতে পাওয়া যায়।

দামতুয়া ঝর্ণা
দামতুয়া ঝর্ণা বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় অবস্থিত। বান্দরবান জেলার দুর্গম জায়গায় যে কয়টি সুন্দর ঝর্ণা আছে তার মধ্যে আকার আকৃতি ও সৌন্দর্য্যের দিক দিয়ে এটি বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ঝর্ণার মধ্যে একটি। ঝর্ণায় যাওয়ার রাস্তা দুর্গম হওয়ায় অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের কাছে বর্তমানে খুবই আকর্ষণীয় এই স্থান। দামতুয়া ঝর্ণাটি আরও বেশ কিছু নামে পরিচিত। তার মধ্যে তুক অ ঝর্ণা, লামোনই ও ডামতুয়া ঝর্ণা নাম উল্লেখযোগ্য। দামতুয়া যাওয়ার পথেই পাবেন ওয়াংপা ঝর্ণা, তুক অ ঝিরি ঝর্ণা, আরও বেশ কিছু সুন্দর ক্যাসকেড। এই ঝর্ণায় যাবার রাস্তা মোটেও সহজ নয়। ঝর্ণায় যাওয়া আসার জন্যে পাহাড়ী রাস্তায় প্রায় ১২-১৩ কিলোমিটার হাঁটতে হবে। তাই যাঁরা পাহাড়ি পরিবেশে হাঁটতে পারেননা এবং শিশু ও বয়স্কদের সেখানে না যাওয়াই ভালো।

মেঘমাটি ভিলেজ রিসোর্ট
গ্রামীণ পরিবেশ এবং সবুজ প্রকৃতির সাথে অবসর কাটানোর জন্য ময়মনসিংহ (Mymensingh) জেলার ভালুকায় মেঘমাটি ভিলেজ রিসোর্ট ( Meghmati Village Resort ) গড়ে তোলা হয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে মেঘমাটি ভিলেজ রিসোর্টে যেতে মাত্র আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। মেঘমাটি রিসোর্টে আধুনিক সুযোগসুবিধা সম্পন্ন একটি দ্বিতল ভিলার সাথে চমৎকার একটি সুইমিং পুল যুক্ত রয়েছে। আর রিসোর্টের চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন রকম ফলের গাছ।

ফুলের গ্রাম সাবদি
ঢাকা হতে দিনে গিয়ে দিনে ঘুরে আসা যায় এমন স্থানের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবদি (Sabdi) একটি আকর্ষণীয় ভ্রমণ স্থান। শীতকালে সাবদি গ্রামের ফসলের ক্ষেতগুলো হলুদ সরিষা ফুলে ভরে উঠে। এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, কসমস, ডেইজি জিপসি, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের ফুলের চাষ করা হয়। সমগ্র গ্রাম বাহারি ফুলের রঙে রঙিন হয়ে উঠে। ফুল চাষকে ঘিরে চলে গ্রামের চাষীদের ব্যস্ততা। তখন সাবদি গ্রামে প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীদের পদচারণা বৃদ্ধি পায়। দিগন্তজোড়া ফুলের রাজ্য থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্যের অপূর্ব সৌন্দর্য ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে।

ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক
ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক (Magic Paradise Park) কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত। ওয়াটার পার্ক, ২০টির অধিক রাইড, ডাইনোসর পার্ক, পিকনিক স্পট সহ এই পার্কটি কুমিল্লার সবচেয়ে সুন্দর ও বড় এমিউজমেন্ট পার্ক। বিদেশি কার্টুন ডিজনিকের আদলে তৈরি প্যারাডাইজ পার্কের গেটটি বেশ আকর্ষনীয়। মনোরম পরিবেশের এই পার্কটি ছোট বড় সবার জন্যেই। পার্ক রিভিউ নিয়ে দেখে নিন আমাদের ম্যাজিক প্যারাডাইস ইউটিউব ভিডিও ।

ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি
ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। এটি আনুমানিক ১৯০০ শতকে জমিদার যদুনাথ সাহা নির্মাণ করেন। ভবনের গ্রীক স্থাপত্যশৈলী এবং ভেতরের দেয়ালে ময়ূর, সাপ ও বিভিন্ন ফুল-পাখির নকশা বিশেষ আকর্ষণীয়।

আড়িয়াল বিল
বর্ষাকালে অথৈ জলরাশি আর শীতকালে বিস্তীর্ণ সবুজ শস্যক্ষেতে পূর্ণ দেশের মধ্যাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন বিলের নাম আড়িয়াল বিল (Arial Bil)। ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ এবং মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলার প্রায় ১৩৬ বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই বিলের অধিকাংশ অংশ মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত। ধারণা করা হয়, প্রাচীনকালে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মিলনস্থল নদীর প্রবাহের ফলে শুষ্ক হয়ে যাওয়ার কারণে মুন্সিগঞ্জ জেলার পদ্মা ও ধলেশ্বরী নদীর মাঝে আড়িয়াল বিলের উৎপত্তি।

বিছনাকান্দি
বিছনাকান্দি (Bisnakandi) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। বিছনাকান্দি মূলত জাফলং ও ভোলাগঞ্জের মতই একটি পাথর কোয়ারী। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের খাসিয়া পাহাড়ের অনেকগুলো ধাপ দুই পাশ থেকে এসে বিছনাকান্দিতে মিলিত হয়েছে। সেই সাথে মেঘালয় পাহাড়ের খাঁজে থাকা সুউচ্চ ঝর্ণা বিছনাকান্দির প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। পর্যটকদের কাছে বিছানাকান্দির মূল আকর্ষন হচ্ছে পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা স্বচ্ছ জলধারা আর পাহাড়ে পাহাড়ে শুভ্র মেঘের উড়াউড়ি। প্রথম দেখায় আপনার মনে হবে এ যেন এক পাথরের বিছানা, আর স্বচ্ছ পানিতে গা এলিয়ে দিতেই যে মানসিক প্রশান্তি পাবেন এই প্রশান্তি আপনাকে বিছানাকান্দি টেনে নিয়ে যাবে বারবার। এ যেন পাহাড়, নদী, ঝর্ণা আর পাথর মিলিয়ে প্রাকৃতিক মায়াজাল বিছিয়ে রেখেছে বিছানাকান্দি।

চিত্রা রিসোর্ট
চিত্রা রিসোর্ট (Chitra Resort) নড়াইল জেলার চিত্রা নদী তীরে শহরের কোলাহল মুক্ত মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে। সৌন্দর্য এবং বৈশিষ্টের স্বকীয়তার জন্য এই পার্কটিতে প্রতিদিন শত শত বিনোদনপ্রেমী দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে।

সায়রা গার্ডেন রিসোর্ট
সায়রা গার্ডেন রিসোর্ট (Shaira Garden Resort) নারায়ণগঞ্জ জেলার মদনপুর ইউনিয়নের হেদায়েত পাড়া গ্রামে নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকা থেকে নাজিম উদ্দিন ভূইয়া কলেজের বিপরীত পাশে অবস্থিত সায়রা গার্ডেন রিসোর্টের দূরত্ব মাত্র ২২ কিলোমিটার। মাত্র ৩০ বিঘা জমির উপর সায়রা গার্ডেন রিসোর্টটি নির্মিত হলেও ক্রমশই এর আয়তন বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্র
চাঁদপুর জেলার মতলব এর উত্তর উপজেলায় অবস্থিত মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্র (Mohonpur Parjatan Centre) মেঘনা নদীর তীরে প্রায় ৬০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। স্থানীয়ভাবে এটি মিনি কক্সবাজার নামেও পরিচিত, এর কারণ এখানে কৃত্রিমভাবে সৈকতের আদলে তৈরি করা বালুময় বীচ।