দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি
নারায়ণগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে চলে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন উত্তর দিকে সোনারগাঁও এবং দক্ষিণ দিকে মোগড়াপাড়ার অবস্থান। মোগরাপাড়ার মেইনরোড ধরে ৪ কিলোমিটার দূরে সাচিলপুর গ্রামে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি (Tomb of Sultan Gias Uddin Azam Shah) অবস্থিত।

জাদিপাই ঝর্ণা
বান্দরবান জেলায় বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কেওক্রাডং পাহাড় থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে জাদিপাই ঝর্ণার (Jadipai Waterfall) অবস্থান। কেওক্রাডাং, জংছিয়া ও জাদিপাই এই ৩টি পাহাড়ি ঝিরির স্বচ্ছ পানির ধারা একত্রে মিলিত হয়ে প্রায় ২০০ ফুট উপর থেকে কালো পাথরের গা বেয়ে জাদিপাই ঝর্ণা রূপে সাংঙ্গু নদীর সাথে এসে মিশেছে। জাদিপাই বাংলাদেশের প্রশস্ততম ঝর্ণাগুলোর মধ্যে অন্যতম। জলপ্রপাতের চারিদিকে ছড়ানো আছে সবুজে মোড়ানো পাহাড় এবং প্রকৃতির নির্মল মাদকতা। যার বুক চিরে স্বশব্দে বয়ে চলা জাদিপাই আপন ভাবধারায় বান্দরবানের ঝর্ণার রাণী রূপে প্রাবাহমান।

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান
কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান (Kaptai National Park) বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত একটি অন্যতম প্রধান সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সবুজ পাহাড়, ঘন অরণ্য আর আঁকাবাঁকা লেকের জল যেখানে এসে মিলেছে, সেখানেই গড়ে উঠেছে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান। শহুরে জীবনের কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির একদম কাছাকাছি কিছু সময় কাটানোর জন্য এটি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ইকো-ট্যুরিজম স্পট। পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত এই উদ্যানটি বন্যপ্রাণী প্রেমী, ট্র্যাকার এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। এখানে একদিকে যেমন রয়েছে কাপ্তাই লেকের শান্ত জলরাশি, অন্যদিকে রয়েছে কর্ণফুলী নদীর স্রোতস্বিনী রূপ। আর এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে চিরহরিৎ বৃক্ষে ঘেরা কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান।

স্প্রিং ভ্যালি রিসোর্ট
নগর জীবনের ব্যস্ততার অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে রাজধানী ঢাকার কাছে গাজীপুরের সালনাতে গড়ে উঠা স্প্রিং ভ্যালি রিসোর্ট (SpringValley Resort) একটি আদর্শ স্থান। পরিবার, প্রিয়জন কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে পিকনিক অথবা হ্যাংআউটের উদ্দেশ্যে যে কোনো দিন স্প্রিং ভ্যালি রিসোর্টে চলে আসতে পারেন। ১২ বিঘা জমির উপর গ্রামীণ আবহে নির্মিত এই রিসোর্টটি ট্রিপসিলো নামক একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। এই রিসোর্টে রয়েছে বিভিন্ন রকম খেলাধুলার ব্যবস্থা, বিশাল খেলার মাঠ, সুইমিং পুল এবং পুকুর। এখানে আগত অতিথিরা চাইলে পুকুরে মাছ ধরা ও নৌকায় ভেসে বেড়াতে পারেন। ঢাকার বেশ কাছাকাছি দূরত্বে কম খরচে চিত্তবিনোদনের জন্য রিসোর্টটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, তাই ছুটির দিনের জন্য অগ্রিম বুকিং দিয়ে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

বড় স্টেশন
রুপালী ইলিশ চাঁদপুরকে এনে দিয়েছে ‘ইলিশের বাড়ি’ নামের সুখ্যাতি। ঢাকা হতে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যায় বিধায় তাজা ইলিশের স্বাদ গ্রহণ এবং অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক চাঁদপুরে অবস্থিত বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভিড় করেন। আর চাঁদপুর ঘুরতে এসে বড় স্টেশন (Boro Station) আসেননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া এই তিন নদীর মিলনস্থলটি মোলহেড নামেও পরিচিতি লাভ করেছে। তিন নদীর মোহনায় সূর্যাস্থের দৃশ্য, ছোট ছোট নৌকার ভেসে চলা, নদীর কূলে পানি আঁচড়ে পড়ার শব্দ সারাজীবন মনে রাখার জন্য যথেষ্ঠ।

স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পট
স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পট ( Shopnopuri Artificial Amusement Park ) বা বিনোদন কেন্দ্রটি দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জে প্রায় ৪০০ একর ভূমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে। সড়কপথে দিনাজপুর থেকে স্বপ্নপুরী দূরত্ব প্রায় ৫২ কিলোমিটার। সমগ্র বাংলাদেশ থেকে প্রচুর দর্শনার্থী চিত্তবিনোদনের জন্য স্বপ্নপুরীতে বেড়াতে আসেন। এছাড়া এখানে বিভিন্ন চলচিত্র নির্মিত হওয়ায় স্বপ্নপুরী সহজেই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

স্বপ্নবীথি পিকনিক স্পট
নড়াইল জেলার লোহগড়া উপজেলার রামপুরে স্বপ্নবীথি পিকনিক স্পট (Shopnobithi Picnic Spots) গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় ১২ একর জায়গার জুড়ে স্থাপিত এই বিনোদন কেন্দ্রটি ইতিমধ্যে দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে সুন্দর পিকনিক স্পট হিসাবে সুনাম অর্জন করেছে। স্বপ্নবীথি পিকনিক স্পটের কাছেই রয়েছে নিরিবিলি পিকনিক স্পট নামে আরও একটি পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র। অনেকের কাছে স্বপ্নবীথি পিকনিক স্পট নিরিবিলি পিকনিক স্পট-২ নামে পরিচিত।

শিশু উদ্যান ও রিসোর্ট
জয়পুরহাট শহর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে বুলু পাড়ায় জয়পুর রিসোর্টের ( Joypur Resort ) পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে একটি মনোরম শিশু উদ্যান ( Shishu Udyan) । জয়পুরহাট জেলায় অবস্থিত এই শিশু উদ্যানটির সাজানো গোছানো পরিবেশ যে কাউকে মুগ্ধ করে দেবার জন্য যথেষ্ট। সকল বয়সী মানুষকে নির্মল বিনোদন দেওয়ায় উদ্দেশ্যে রফিকুল ইসলাম চৌধুরী (প্রিন্স) ২০০৫ সালে ৬০ বিঘা জমির উপর এই শিশু পার্কটি প্রতিষ্ঠা করেন।

শিশু পার্ক
রাজশাহী জেলা সদরের নওদাপাড়া বড় বনগ্রামে অবস্থিত শিশু পার্ক রাজশাহী শহরের একটি অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র। নয়নভিরাম পিকনিক স্পট, সব বয়সীদের জন্য দেশি-বিদেশি রাইড, সুবিশাল লেক এবং নৌকা ভ্রমনের সুব্যবস্থা ২০০৬ সালে নির্মিত এই পার্কটিকে শহরবাসীর কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। এই শিশু পার্ক শহীদ জিয়া শিশু পার্ক নামে অধিক পরিচিত।

শেখ রাসেল শিশু পার্ক
শেখ রাসেল শিশু পার্ক (Sheikh Rasel Shishu Park) গোপালগঞ্জ জেলায় টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত একটি পরিবারিক বিনোদন কেন্দ্র। মধুমতী নদীর তীরে চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশে নিয়ে গড়ে উঠা এই পার্কটি সব বয়সী মানুষকে সমানভাবে আকৃষ্ট করে। তাই প্রতিদিনই অসংখ্য দর্শনার্থীর পদচারনায় শেখ রাসেল শিশু পার্ক মুখর হয়ে উঠে।

শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা রিসোর্ট
ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলায় ভারত সীমান্তের কাছে গ্রাম বাংলার লোক সংস্কৃতির বিভিন্ন উপকরণের সমন্বয়ে শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা রিসোর্ট (Shamser Gazir Bansher Kella Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। নবাব সিরাজদৌল্লার আমলে “ভাঁটির বাঘ” হিসেবে পরিচিত শমসের গাজী একাধারে ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা, ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী এবং ত্রিপুরার রোশনাবাদ পরগণার কৃষক বিদ্রোহের নায়ক। সোনাপুরে শমসের গাজীর স্মৃতিচিহ্নকে কেন্দ্র করে তাঁর উত্তরসূরিরা প্রায় ৫ একর জায়গার উপর শৈল্পিক আয়োজনে এই রিসোর্টটি গড়ে নির্মাণ করেন।

ধরন্তি হাওর
হাওরের কথা আসলেই আমাদের মনে সুনামগঞ্জ, সিলেট কিংবা কিশোরগঞ্জের ছবি ভেসে উঠে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সৌরভ বিলিয়ে থাকা হাওর সম্পর্কে অনেকেরই তেমন জানাশুনা নেই। ধরন্তি হাওর (Dhoronti Haor) তেমনি এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধারণকারী জলাভূমির নাম। নৈসর্গিক ধরন্তি হাওরের পূর্ব দিকে তিতাস নদী এবং পশ্চিমে মেঘনা নদী সহ ছোট বড় আরও বেশকিছু খাল-বিল রয়েছে।

ষাইট্টা বটগাছ
ষাইট্টা ঢাকার ধামরাই (Dhamrai) উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি গ্রাম। ষাইট্টা গ্রামের দেবীদাস বংশের পূর্বপুরুষরা প্রায় ৫০০ বছর আগে পাশাপাশি একটি পাকুড় গাছ এবং একটি বটগাছ রোপন করেন। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীর লোকজন এই গাছ দুটিকে দেবতা মনে করেন। তাই তারা গাছের ছায়ার নিচে কালি মন্দির নির্মাণ করেছেন।

মানিকছড়ি মং রাজবাড়ী
খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে ৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে মানিকছড়ি উপজেলায় ঐতিহাসিক মং রাজার প্রাচীন আদি নিবাস মানিকছড়ি মং রাজবাড়ী (Mung Rajbari) অবস্থিত। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে কয়েক শতাব্দী ধরে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে মং অন্যতম। প্রাচীনকালে মং রাজবংশ হিসেবে পরিচিত এই নৃ-গোষ্ঠীর একটি আলাদা স্বায়ত্তশাসিত রাজশাসন ছিল। ১৭৯৬ সালে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার মহামূনি স্থানে রাজা কংজয় ত্রিপুরা রাজবংশের রাজকন্যাকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে তিনি ৫০০ ত্রিপুরা পরিবার সঙ্গে নিয়ে সীতাকুণ্ড থেকে মানিকছড়িতে আসেন এবং রাজপরিবারের সদস্যদের বসবাসের জন্য মানিকছড়ি মং রাজবাড়ী স্থাপন করেন। এভাবেই মানিকছড়িতে কংজয়ের আমল থেকে মং রাজপরিবারের যাত্রা শুরু হয়। ১৮২৬ সালে রাজা কংজয় ত্রিপুরা মারা গেলে তাঁর ছেলে কিওজাই সেন মাত্র ৭ বছর বয়সে চাচা লথ্যানয্যার অভিভাবকত্বে শূন্য রাজসিংহাসনে স্থলাভিষিক্ত হন। পরবর্তীতে কিওজাই সেনকে ইংরেজ সরকার মং সার্কেলের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন। কিওজাই সেনের পর রাজবংশের অন্যান্য বংশধররা পর্যায়ক্রমে মং সার্কেলের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়ে রাজ্য পরিচালনা করতে থাকেন। মং রাজবংশের সপ্তম রাজা মং প্রু সাইনের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে “অনারারি কর্নেল র্যাঙ্ক” পদবীতে ভূষিত করা হয়।

ময়নামতি জাদুঘর
কুমিল্লা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে সালমানপুরে অবস্থিত ময়নামতি জাদুঘর (Mainamati Museum) প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহশালা হিসাবে বাংলাদেশের একটি গুরত্বপূর্ণ স্থান। ময়নামতি জাদুঘরের ৪২ টি ভিন্ন ভিন্ন সংরক্ষণাগারে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থান থেকে সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীর নানা নিদর্শন সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। প্রাচীন নিদর্শনগুলোর মধ্যে ব্রোঞ্জ ও পাথরের ছোট-বড় মূর্তি, ব্রোঞ্জের বিশাল ঘন্টা, স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, ব্রোঞ্জ, তামা ও লোহার সামগ্রী, মাটির খেলনা, কাঠের নিদর্শন, মৃৎশিল্প নিদর্শন এবং প্রাচীন হস্তলিপির পান্ডুলিপি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া জাদুঘরকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে বিশ্রামাগার ও মনোরম ফুলের বাগান।

শোলাকিয়া ঈদ্গাহ ময়দান
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ ময়দান। ১৮২৮ সাল থেকে এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ৭ একর আয়তনের শোলাকিয়া ঈদগাহ (Sholakia Eidgah) মাঠে মোট ২৬৫ সারি আছে এবং প্রতি সারিতে প্রায় ছয়-সাতশ করে মুসল্লি দাঁড়াবার ব্যবস্থা আছে। সেই হিসেবে মাঠে এক লাখ ষাট থেকে আঁশি হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের সময় দেখা যায় মাঠে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় চারপাশের খোলা জায়গা, আশপাশের সড়ক, আশেপাশের ঘর বাড়ির উঠানেও নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। এভাবে প্রায় তিন লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ পড়ে থাকেন। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ও বিদেশ থেকে অনেক মুসুল্লির আগমনে এ মাঠের ঈদের জামাতের মর্যাদা অনেক বেড়ে গেছে। এমনকি বহু পর্যটক এই অভূতপূর্ব মহামিলনের সময়টি দেখার দেখার জন্যে শোলাকিয়ায় উপস্থিত হয়।