দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

একুরিয়াম পার্ক
যান্ত্রিক ঢাকার ব্যস্ত জীবন থেকে মুক্তি পেতে আমরা প্রতিনিয়ত এমন কোনো জায়গার খোঁজ করি যেখানে পরিবার ও শিশুদের নিয়ে কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো যায়। সম্প্রতি ঢাকার আগারগাঁওয়ে চালু হওয়া একুরিয়াম পার্ক (Aquarium Park) শহরবাসীর বিনোদনের তালিকায় যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। এটি কেবল একটি পার্ক নয়, বরং জলজ জগত এবং পাখিদের বৈচিত্র্যময় এক মিলনস্থল। এখানে একদিকে যেমন কাঁচের ওপারে খেলা করে বেড়ানো রঙিন মাছের দল পর্যটকদের মুগ্ধ করে, অন্যদিকে ঢাকার সবচেয়ে বড় বার্ড এভিয়ারি বা পাখিশালায় দেশি-বিদেশি পাখির কিচিরমিচির মন ভরিয়ে দেয়।

গ্রীন ভিউ রিসোর্ট
সপ্তাহজুড়ে কর্মব্যস্ত সময় অতিবাহিত করার পর মানব মন চিত্তবিনোদনের জন্য ব্যকুল হয়। আর অনেক ক্ষেত্রে অবসর কাটানোর জন্য পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে পরিকল্পনা সাজাতে হয়। কয়েক দিন অথবা দিনব্যাপী ট্যুরে ঘুরতে যাওয়ার স্থানের তালিকার শীর্ষস্থানগুলো আজকাল বিভিন্ন রিসোর্ট দখল করে নিয়েছে। ঢাকার উত্তরখানের মৈনারটেকে অবস্থিত তেমনি একটি রিসোর্টের নাম গ্রীন ভিউ রিসোর্ট (Green View Resort And Convention Centre)।

আটকান্দি মসজিদ
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আটকান্দি গ্রামে মাওলানা আলিম উদ্দিন প্রায় ১৫০ বছর আগে ঐতিহাসিক আটকান্দি মসজিদ (Atkandi Nilkuthi Mosque) নির্মাণ করেন। কোন শিলালিপি না থাকায় মসজিদের নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুমান করা হয় আটকান্দি মসজিদটি ১৮৯০ সালের দিকে নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে আটকান্দি মসজিদটি নীলকুঠি মসজিদ নামে সুপরিচিত।

মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্র
চাঁদপুর জেলার মতলব এর উত্তর উপজেলায় অবস্থিত মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্র (Mohonpur Parjatan Centre) মেঘনা নদীর তীরে প্রায় ৬০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। স্থানীয়ভাবে এটি মিনি কক্সবাজার নামেও পরিচিত, এর কারণ এখানে কৃত্রিমভাবে সৈকতের আদলে তৈরি করা বালুময় বীচ।

পর্বত বাগান
১৯৩০ সালে রাস বিহারী পর্বত মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নে কুমার নদীর তীরে দেশি-বিদেশি প্রায় ৫০০ প্রজাতির গাছের চারা রোপন করে একটি বাগান গড়ে তোলেন। প্রায় ২৬ একর জমির ওপর তৈরী বাগানকে তাঁর নামানুসারে পর্বত বাগান (Parbat Bagan) নামকরণ করা হয়। পর্বত বাগানের পাশ দিয়ে বয়ে চলা কুমার নদী চারপাশের পরিবেশকে করেছে আরো মোহনীয়। ফলে তৎকালীন সময়ে মাদারীপুর মহকুমার সকল উচ্চপদস্থ কর্মকতার অবাধ আগমন ঘটতো পর্বত বাগানে।

অঙ্গনা রিসোর্ট
রাজধানী ঢাকার কাছে গাজীপুরের কাপাসিয়ার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশে অঙ্গনা রিসোর্ট (Angana Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। ২০০৪ সালে উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার ভাই সৈয়দ আলী মুরাদ ১৮ বিঘা জমিতে অঙ্গনা রিসোর্ট প্রতিষ্ঠা করেন। নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততার বাইরে স্বস্তিতে একটি দিন কাটাতে গ্রামীণ পরিবেশের এই রিসোর্ট ইতিমধ্যে বেশ সুনাম অর্জন করেছে।

ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট
শহরের কোলাহল ছেড়ে একটু দূরে নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে গাজীপুরের মাওনার চকপাড়াতে অবস্থিত ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট (Dream Square Resort) থেকে ঘুরে আসতে পারেন। প্রায় ১২০ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই রিসোর্টে প্রকৃতি ও আধুনিকতার এক চমৎকার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। তাই বিনোদনের নানা আয়োজনে সাজানো ড্রিম স্কয়ার রিসোর্টকে অবকাশ যাপনের জন্য অনেকে পছন্দ করেন।

চন্দ্রনাথ পাহাড় ও মন্দির
চন্দ্রনাথ পাহাড় (Chandranath Hill) হিন্দু ধর্মালম্বীদের তীর্থস্থান আর সুবিশাল সমুদ্র অপরূপ প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যের লীলাভূমি সীতাকুণ্ডকে করেছে অনন্য। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের অবস্থান সীতাকুণ্ড বাজার থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার পূর্বে দিকে। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে পায়ে হেঁটে কিংবা রিক্সায় করে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে নিচের গেটের কাছে যাওয়া যায়। তবে পায়ে হেঁটে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যাবার পথে হিন্দুদের বেশ কিছু ধর্মীয় স্থাপনা ও অধিবাসীদের জীবন যাত্রার চিত্র দেখে যেতে পারবেন। এছাড়াও পাহাড়ের একটু গভীরে গেলে চোখে পড়বে জুমক্ষেত এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চাষ করা ফুলের বাগান। চন্দ্রনাথ পাহাড় চূড়াতেই চন্দ্রনাথ মন্দির (Chandranath Temple) অবস্থিত।

ষাট গম্বুজ মসজিদ
ষাট গম্বুজ মসজিদ (Shaat Gombuj Mosque) খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। মসজিদটির কোন শিলালিপি না থাকায় ষাট গম্বুজ মসজিদের প্রতিষ্টাতা ও নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মসজিদের স্থাপত্যশৈলী দেখে খান-ই-জাহান ১৫০০ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এ মসজিদে ব্যবহৃত পাথরগুলো রাজমহল থেকে আনা হয়েছিলো। ষাট গম্বুজ মসজিদটি বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। ইউনেস্কো ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

আদমজী জুট মিল
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়ায় অবস্থিত আদমজী জুট মিল (Adamjee Jute Mills) একসময় পূর্ব পাকিস্থানের ২য় বৃহত্তম পাট কল হিসেবে পরিচিত ছিল। অতীতে এই পাটকলকে প্রাচ্যের ডান্ডিও বলা হত। ১৯৫০ সালে তৎকালীন পাকিস্থানের ধনাঢ্য আদমজী পরিবারের তিন ভাইয়ের যৌথ উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে প্রায় ২৯৭ একর জায়গা জুড়ে আদমজী জুট মিলস প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পরের বছর অর্থাৎ ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর ১৭০০ হেসিয়ান ও ১০০০ সেকিং লুম দিয়ে পাটকলটি বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে। পরবর্তীতে আদমজী জুট মিলস লিমিটেড শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার পর এখানে প্রায় ৩,৩০০ টি তাঁতকল বসানো হয়।

বার আউলিয়া মাজার
পঞ্চগড় জেলা সদর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুরে বার আউলিয়া মাজার (Bara Aulia Shrine) অবস্থিত। প্রচলিত আছে, ২টি বাঘ ও ২টি সাপ সবসময় এই মাজারটি পাহারা দিতো এবং কেউ খারাপ উদ্দেশ্যে মাজারে আসলে বাঘ দুটি বের হত। বার আউলিয়াদের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন ধরণের জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে।

উৎসব পার্ক
উৎসব পার্ক রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অবস্থিত একটি মনোরম বিনোদন কেন্দ্র। গ্রামীণ পরিবেশে শহুরে বিনোদনের স্বাদ দিতে পার্কটি ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে বিভিন্ন রাইড, পশু পাখির ভাস্কর্য, লেক এবং পিকনিক স্পট রয়েছে।

দিয়াবাড়ি
দিয়াবাড়ি (Diabari) রাজধানী ঢাকার উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্রের নাম। নদীর পরশমাখা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে এক অপার্থিব শুভ্রতায় মনকে ভরিয়ে দিতে দিয়াবাড়ির জুড়ি নেই। আর শরৎকালে রাজধানী ঢাকায় কাশবনের মুগ্ধতায় বুঁদ হতে চাইলে দ্বিধাহীন চিত্তে চলে আসুন এখানে। দৃষ্টিজুড়ে কাশফুলের কোমল শুভ্রতা আর দিগন্তে ঝুলে থাকা শেষ বিকেলের সূর্য্য ভুলিয়ে দেবে নাগরিক জীবনের কর্ম ব্যস্ততার সকল অবসাদ। ঢাকার ভেতরে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য এটি অন্যতম আদর্শ জায়গা।

ধর্মসাগর দীঘি
ধর্মসাগর দীঘি (Dharmasagar Dighi) কুমিল্লা জেলা শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত। ধারণা করা হয় ১৭৫০ থেকে ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে মধ্যে প্রজাহিতৈষী পাল বংশের রাজা ধর্মপাল তৎকালীন দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জলের কষ্ট লাঘবের জন্য ধর্মসাগর দীঘিটি খনন করেন। তাঁর নামানুসারেই দীঘির নামকরন করা হয় ধর্মসাগর দীঘি। ধর্মসাগর দীঘির উত্তরে একটি শিশুপার্ক নির্মিত হয়েছে। সবুজে ঢাকা শিশুপার্কে বসে ধর্মসাগরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বিকেলবেলা সবুজে আচ্ছাদিত নান্দনিক ধর্মসাগর দীঘির পাড়ে শত শত ভ্রমণকারীর আগমন ঘটে। চাইলে নৌকা ভাড়া করে দীঘি ঘুরে দেখারও সুযোগ রয়েছেন।

দারাসবাড়ি মসজিদ
দারাসবাড়ি মসজিদ (Darasbari Mosque) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের অমপুর নামক স্থানের কাছে অবস্থিত। স্থানীয় বাসীন্দারা এই মসজিদের স্থানটিকে দারাসবাড়ি নামে চেনে। মসজিদের শিলালিপি থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ১৪৯৭ সালে সুলতান শামসুদ্দিন ইউসুফের শাসন আমলে দারাসবাড়ি মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। শুরুতে মসজিদটির নাম ছিল ফিরোজপুর মসজিদ কিন্তু ১৫০৪ সালে দারাসবাড়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর মানুষের মুখে মুখে দারাসবাড়ি মসজিদ নামটি পরিচিত হয়ে উঠে। টেরাকোটা ইট দিয়ে তৈরি দারাসবাড়ি মসজিদটির সাথে ভারতের চামচিকা মসজিদের অনেক সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। মসজিদের ভেতরের আয়তক্ষেত্র দুই ভাগে বিভক্ত এবং এর মূল গম্বুজটি দেখতে অনেক আকর্ষণীয়। দারাসবাড়ি মসজিদের দৈর্ঘ্য ৯৯ ফুট ৫ ইঞ্চি ও প্রস্থ ৩৪ ফুট ৯ ইঞ্চি এবং মসজিদের পূর্ব দিকে ১০ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা একটি বারান্দা রয়েছে। মসজিদে মোট ৯ টি কারুকার্যময় মেহরাব রয়েছে। আর মসজিদটির উত্তর দিকে রয়েছে প্রায় ৬০ বিঘা আয়তনের একটি বিশাল দিঘী।

মেরিন ড্রাইভ রোড
বর্তমানে কক্সবাজার ভ্রমণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ রোড (Marine Drive Road) । ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রোড কক্সবাজারের কলাতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত। মেরিন ড্রাইভ রোডের এক দিকে রয়েছে উত্তাল সমুদ্র সৈকত আর অন্য দিকে রয়েছে সবুজের ঢাকা ছোট-বড় পাহাড়। আবার কোথাও কোথাও পাহাড়ের গা বেয়ে ঝর্ণা ধারার দেখা মিলে। মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে যেতে যেতে বিস্তৃত সাগরের সমস্ত সৌন্দর্য্য আহরণ ও জেলেদের সাগরে মাছ ধরার দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সেই সাথে সমুদ্র সৈকতে দেখা মিলবে টেকনাফ গর্জন ফরেস্ট খ্যাত চিরহরিৎ বন। কক্সবাজারের থেকে খোলা জিপ, মাইক্রোবাস, সিএনজি কিংবা অটোরিকশায় মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে হিমছড়ি ও ইনানী সমুদ্র সৈকত যাওয়া যায়।