দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

গ্রীন ভ্যালী পার্ক
নাটোর জেলার লালপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রীন ভ্যালী পার্ক (Green Valley Park) উত্তরবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় একটি বিনোদন কেন্দ্র। প্রায় ১২৩ বিঘা জায়গার ওপর নির্মিত এই পার্কটিতে সকল বয়সী দর্শনার্থীদের চিত্তবিনোদনের জন্য আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আকর্ষণীয় রাইডের মধ্যে রয়েছে মিনি ট্রেন, নাইন ডি মুভি, বুলেট ট্রেন, রোলার কোস্টার, বাম্পার কার, ভূতের বাড়ি, নাগরদোলা, ম্যারিগো রাউন্ড, পাইরেট শীপ, হানি সুইং, স্পীডবোট এবং প্যাডেল বোটসহ বর্তমানে ২০টিরও বেশি রাইড। পার্কের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর বিশাল ওয়াটার পার্ক ও ওয়েভ পুল।

শেখ রাসেল শিশু পার্ক
শেখ রাসেল শিশু পার্ক (Sheikh Rasel Shishu Park) গোপালগঞ্জ জেলায় টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত একটি পরিবারিক বিনোদন কেন্দ্র। মধুমতী নদীর তীরে চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশে নিয়ে গড়ে উঠা এই পার্কটি সব বয়সী মানুষকে সমানভাবে আকৃষ্ট করে। তাই প্রতিদিনই অসংখ্য দর্শনার্থীর পদচারনায় শেখ রাসেল শিশু পার্ক মুখর হয়ে উঠে।

সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক
সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক (Sitakunda Eco Park) চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যা বর্তমানে অসাধারণ এক পর্যটন স্থান হিসাবে বেবেচিত হচ্ছে। এখানে সহস্র ধারা এবং সুপ্তধারা নামে দুইটি অনিন্দ্য সুন্দর ঝর্ণা রয়েছে। এছাড়া সীতাকুণ্ড ইকো পার্কে রয়েছে অসংখ্য দুর্লভ প্রজাতির গাছ যা বৃক্ষ বিষয়ক জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়ক। বোটানিক্যাল গার্ডেনে রয়েছে অর্কিড হাউস, যেখানে প্রায় ৫০ ধরনের দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড সংরক্ষিত রয়েছে।

উদয়পুর ডেসটিনেশন
উদয়পুর ডেসটিনেশন (Udaipur Destination) মূলত একটি প্রকৃতি-নির্ভর (Nature-based) ট্যুরিস্ট স্পট এবং ডে-আউট সেন্টার। এটি ঢাকার বাড্ডা এলাকার ১০০ ফিট মাদানী এভিনিউতে অবস্থিত। এক সময় ‘ঠিকানা ডে আউটারস’ (Thikana Day Outers) ছিল দারুণ জনপ্রিয়। সেই চিরচেনা ঠিকানা ডে আউটারস এখন নতুন আঙ্গিকে, রাজকীয় সাজে এবং আভিজাত্যের এক অনন্য মেলবন্ধনে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘উদয়পুর ডেসটিনেশন’ নামে।

ড্রিমল্যান্ড পার্ক
ড্রিমল্যান্ড পার্ক (Dreamland Amusement and Water Park) সিলেট থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের গোলাপগঞ্জের হিলালপুর গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ১০০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠা এই পার্কে বিভিন্ন আকর্ষনীয় আধুনিক সব রাইডের পাশাপাশি রয়েছে ওয়াটার পার্কের সমস্ত আয়োজন। ড্রিমল্যান্ড পার্কটিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের সাথে আধুনিক বিনোদনের সমন্বয় করা হয়েছে যা এই ড্রিমল্যান্ড পার্কটিতে আগত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। সপ্তাহের সাত দিনই ড্রিমল্যান্ড পার্কটি খোলা থাকে এবং ড্রিমল্যান্ড পার্কে প্রবেশ করতে ১৫০ টাকা দিয়ে প্রবেশ টিকেট সংগ্রহ করতে হয়। সপ্তাহের ৭ দিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ড্রিমল্যান্ড পার্ক সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে।

স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পট
স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পট ( Shopnopuri Artificial Amusement Park ) বা বিনোদন কেন্দ্রটি দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জে প্রায় ৪০০ একর ভূমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে। সড়কপথে দিনাজপুর থেকে স্বপ্নপুরী দূরত্ব প্রায় ৫২ কিলোমিটার। সমগ্র বাংলাদেশ থেকে প্রচুর দর্শনার্থী চিত্তবিনোদনের জন্য স্বপ্নপুরীতে বেড়াতে আসেন। এছাড়া এখানে বিভিন্ন চলচিত্র নির্মিত হওয়ায় স্বপ্নপুরী সহজেই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

চর আলেকজান্ডার
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার ৪নং ইউনিয়নে চর আলেকজান্ডারের অবস্থান। ব্রিটিশ শাসনামলে রামগতি এসিল্যান্ড অফিসে আলেকজান্ডার নামে এক ইংরেজ ভদ্রলোক রেভিনিউ কালেকটর পদে কর্মরত ছিলেন। তার নাম অনুসারে এই ইউনিয়নের নামকরণ করা হয় আলেকজান্ডার৷ চর আলেকজান্ডার (Char Alexander) বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের অন্যতম একটি পর্যটন এলাকা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে নির্মিত মেঘনা বেড়িবাঁধ আর নদীর সৌন্দর্য্য দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে বেড়াতে আসে।

তিন বিঘা করিডোর
তিন বিঘা করিডোর ( Tin Bigha Corridor ) ভারতের মালিকানাধীন তিন বিঘা জায়গা জুড়ে অবস্থিত একটি স্বতন্ত্র ভূমি। বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেঘলীগঞ্জ জেলা সীমান্তে তিনবিঘা করিডোরের অবস্থান। বাংলাদেশের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলে যাতায়াতের সুবিধার্থে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইজারার মাধ্যমে তিনবিঘা করিডোর বাংলাদেশকে দেওয়া হয়।

লালবাগ কেল্লা
লালবাগ কেল্লা ( Lalbagh Fort ) রাজধানী ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকায় অবস্থিত। সম্রাট আওরঙ্গজেব লালবাগ কেল্লা নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও তাঁর পুত্র যুবরাজ শাহজাদা আজম ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে লালবাগ দূর্গের নির্মাণ কাজ আরম্ভ করেন।

ধানমন্ডি লেক
রাজধানী ঢাকার নাগরিক কোলাহলের ভেতরে অবস্থিত ধানমন্ডি লেক ( Dhanmondi Lake ) যেন এক মুঠো প্রকৃতির স্পন্দন। ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থান বলেই লেকটি ধানমন্ডি লেক নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। সবুজ গাছ আর জলের অপূর্ব মিতালী ধানমন্ডি লেককে সব বয়সী মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তাইতো প্রিয়জনকে নিয়ে হোক কিংবা প্রাণবন্ত আড্ডার বিকেল ধানমন্ডি লেক মুখর থাকে দর্শনার্থীদের সরব পদচারনায়।

টিপরাছড়া গলফ মাঠ
টিপরা ছড়া গলফ মাঠ (Tipra Cherra Golf Course) মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। জায়গাটি অনেকের কাছে হরিণছড়া গলফ মাঠ (Harinchara Golf Field) নামেও পরিচিত। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই স্থানের কিছু ভিডিও ও স্থির চিত্র ভাইরাল হবার পর অনেক দর্শনার্থীর মধ্যে জায়গাটি নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়।

নাগরিয়াকান্দি সানফ্লাওয়ার গার্ডেন ও পার্ক
নরসিংদী জেলার নাগরিয়া কান্দি এলাকায় অবস্থিত সানফ্লাওয়ার গার্ডেন (Nagoriakandi Sunflower Garden) ঢাকার কাছে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সূর্যমুখী বাগান হিসেবে পরিচিত। ফুলের সময়ে এখানে হাজারো সূর্যমুখী ফুলে ছেয়ে যায় পুরো এলাকা। শুধু সূর্যমুখী নয়, এখানে আছে টিউলিপ সহ শীতকালীন নানান ফুলের সমারোহ।

জলেশ্বরী রিসোর্ট
জলেশ্বরী রিসোর্ট (Joleswori Resort) গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুর এর ফাউগানে অবস্থিত। পরিবার পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা অফিস কলিগদের নিয়ে সবুজের মাঝে নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকা থেকে খুব কাছে এই জলেশ্বরী রিসোর্ট থেকে।

নাফাখুম
নাফাখুম জলপ্রপাত (Nafakhum Waterfall) বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে অবস্থিত। পানি প্রবাহের পরিমানের দিক থেকে এটিকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় জলপ্রপাত হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। আবার কেউ কেউ একে বাংলার নায়াগ্রা বলে অভিহিত করেন। নাফাখুম দেখতে থানচি বাজার থেকে সাঙ্গু নদী পথে নৌকা দিয়ে রেমাক্রি যেতে হয়। রেমাক্রীতে রয়েছে মারমা বসতি, মারমা ভাষায় খুম মানে জলপ্রপাত।

গানার্স ট্রেনিং এরিয়া –
চট্টগ্রাম শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে হালিশহর সমুদ্র সৈকতের কাছেই গানার্স ট্রেনিং এরিয়া (Gunners Training Area) বা আর্টিলারি সেন্টার অ্যান্ড স্কুল (AC&S) এর অবস্থান। একজন নবীন গোলন্দাজ বা ‘গানার’ থেকে শুরু করে চৌকস অফিসার পর্যন্ত প্রত্যেকের পেশাগত ও মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধির মূল কারিগর এই প্রতিষ্ঠান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই ক্যান্টনমেন্ট এলাকাটি একইসাথে কঠোর প্রশিক্ষণ এবং নান্দনিক পরিবেশের এক দারুণ সমন্বয়। নগর জীবনের ক্লান্তি থেকে মুক্তির জন্য সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এই গানার্স ট্রেনিং এরিয়া হতে পারে অন্যতম গন্তব্য। এটি সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষন কেন্দ্র হলেও বর্তমানে পর্যটক আকর্ষণের শীর্ষে রয়েছে। গানার্স ট্রেনিং এরিয়াতে আপনি দেখতে পাবেন সাগর ও দিগন্ত জোড়া বিস্তৃত সবুজ মাঠ। সাগরের জল ছুয়ে আসা ঠাণ্ডা শীতল বাতাস আপনার মনকে আনন্দে ভরিয়ে তুলবে।

ঝুলন্ত ব্রিজ
পর্যটনপ্রেমী মানুষের কাছে রাঙ্গামাটি জেলার একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পর্যটকদের মোহিত করতে রাঙ্গামাটিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র। এদের মধ্যে কাপ্তাই হ্রদের উপর নির্মিত ৩৩৫ ফুট লম্বা ঝুলন্ত ব্রিজ উল্লেখযোগ্য। রাঙ্গামাটিতে ভ্রমণে আসা সকল পর্যটকই ‘সিম্বল অফ রাঙ্গামাটি’ হিসাবে খ্যাত ঝুলন্ত সেতুটি দেখতে আসেন। কাপ্তাই লেকের বিচ্ছিন্ন দুই পাড়ের পাহাড়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে দিয়েছে রঙিন এই ঝুলন্ত সেতু। এই সেতুতে দাঁড়িয়ে কাপ্তাই লেকের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করা যায়। ব্রিজের এক পাশে পাহাড়ের উপর শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে দোলনা, স্লিপার ইত্যাদি। লেকে ভ্রমণের জন্য ব্রিজের নিচে ইঞ্জিন চালিত বোট ঘন্টা প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় ভাড়া পাওয়া যায়। ঝুলন্ত ব্রিজে প্রবেশের জন্য পর্যটন কর্পোরেশনকে জনপ্রতি ২০ টাকা ফি দিতে হয়।