দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

নাফাখুম
নাফাখুম জলপ্রপাত (Nafakhum Waterfall) বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে অবস্থিত। পানি প্রবাহের পরিমানের দিক থেকে এটিকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় জলপ্রপাত হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। আবার কেউ কেউ একে বাংলার নায়াগ্রা বলে অভিহিত করেন। নাফাখুম দেখতে থানচি বাজার থেকে সাঙ্গু নদী পথে নৌকা দিয়ে রেমাক্রি যেতে হয়। রেমাক্রীতে রয়েছে মারমা বসতি, মারমা ভাষায় খুম মানে জলপ্রপাত।

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত
মাধবকুন্ড জলপ্রপাত (Madhabkunda Waterfall) মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত। কিছু বছর আগেও মাধবকুন্ড ছিল বাংলাদেশের জলপ্রপাত প্রেমী পর্যটকদের কাছে একমাত্র আকর্ষন। বর্তমানে বাংলাদেশে আরো বেশ কিছু ঝর্ণা আবিষ্কৃত হয়েছে। তবু পর্যটকদের কাছে মাধবকুন্ড ঝর্ণার আবেদন একটুও কমেনি।

সাজেক ভ্যালি
সাজেক ভ্যালি (Sajek Valley), বর্তমান সময়ে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য। রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হিসাবে খ্যাত, যার আয়তন প্রায় ৭০২ বর্গমাইল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা প্রায় ১৮০০ ফুট। সাজেকের অবস্থান রাঙ্গামাটি জেলায় হলেও ভৌগলিক কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক যাতায়াত অনেক সহজ। খাগড়াছড়ি জেলা থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার আর দীঘিনালা থেকে ৪০ কিলোমিটার। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লঙ্গদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম ও পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত।

লালবাগ কেল্লা
লালবাগ কেল্লা ( Lalbagh Fort ) রাজধানী ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকায় অবস্থিত। সম্রাট আওরঙ্গজেব লালবাগ কেল্লা নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও তাঁর পুত্র যুবরাজ শাহজাদা আজম ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে লালবাগ দূর্গের নির্মাণ কাজ আরম্ভ করেন।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল (আংশিক) উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান অবস্থিত। বাংলাদেশের যে ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যান আছে তার মধ্যে লাউয়াছড়া অন্যতম। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। ১২৫০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট এ উদ্যানটিকে প্রাকৃতিক জাদুঘর বললেও কম হবে। বিভিন্ন প্রকার গাছগাছালি ও পশুপাখি এ বনের শোভা আরো বৃদ্ধি করেছে। জীব বৈচিত্রে ভরপুর নান্দনিক সৌন্দর্যের অন্যতম স্থান এই জাতীয় উদ্যানটি দেশে ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট হিসেবে খ্যাত। লাউয়াছড়া উদ্যান মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

জাফলং
জাফলং (Jaflong) প্রকৃতির কন্যা হিসাবে পরিচিত। সিলেট জেলার দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে জাফলং সবার পছন্দ। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা প্রকৃতির দানে রুপের পসরা সাজিয়ে আছে জাফলং। পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানির ধারা, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, উঁচু উঁচু পাহাড়ে সাদা মেঘের খেলা জাফলংকে করেছে অনন্য। একেক ঋতুতে জাফলং একেক রকম রুপের প্রকাশ ঘটায়, যা পর্যটকদেরকে ভ্রমণের জন্য সারাবছরই আগ্রহী করে রাখে।

মহাস্থানগড়
মহাস্থানগড় (Mahasthangarh) বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। প্রাচীন পুন্ড্রনগরীতে প্রায় ৪০০০ বছর পুরাতন স্থাপনা রয়েছে। মাউর্যা এবং গুপ্ত রাজারা মহাস্থানগড়কে প্রাদেশিক রাজধানী হিসাবে ব্যবহার করতেন।

মেঘমাটি ভিলেজ রিসোর্ট
গ্রামীণ পরিবেশ এবং সবুজ প্রকৃতির সাথে অবসর কাটানোর জন্য ময়মনসিংহ (Mymensingh) জেলার ভালুকায় মেঘমাটি ভিলেজ রিসোর্ট ( Meghmati Village Resort ) গড়ে তোলা হয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে মেঘমাটি ভিলেজ রিসোর্টে যেতে মাত্র আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। মেঘমাটি রিসোর্টে আধুনিক সুযোগসুবিধা সম্পন্ন একটি দ্বিতল ভিলার সাথে চমৎকার একটি সুইমিং পুল যুক্ত রয়েছে। আর রিসোর্টের চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন রকম ফলের গাছ।

আপন ভুবন পিকনিক এন্ড শুটিং স্পট
পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রিয় মানুষের সাথে একান্ত সময় কাটাতে রাজধানী ঢাকার খুব কাছে গাজীপুর জেলার পুবাইল কলেজ গেইট সংলগ্ন এলাকায় সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে আপন ভুবন পিকনিক এন্ড শুটিং স্পট (Apon Bhubon Picnic and Shooting Spot) গড়ে তোলা হয়েছে। টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের রাস্তা। প্রচলিত সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি আপন ভুবন পিকনিক এন্ড শুটিং স্পটে আছে সুইমিং পুল, কিডস জোন, পিকনিক স্পট এবং খেলার মাঠ।

জাতীয় স্মৃতিসৌধ
জাতীয় স্মৃতিসৌধ (National Martyrs Memorial) নির্মিত হয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল বীর শহীদদের স্মৃতির স্মরণে। ঢাকা থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে ৪৪ হেক্টর জায়গা নিয়ে সাভার উপজেলায় এই স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্স স্থাপন করা হয়েছে। স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেনের নকশায় ১৯৮২ সালের শেষের দিকে স্মৃতিসৌধের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

টাঙ্গুয়ার হাওর
মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সুনামগঞ্জ জেলার টাঙ্গুয়ার হাওর (Tanguar Haor) প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। অথৈ নীল জল, হিজল-করচের জলাবন আর মেঘ-পাহাড়ের মিতালী এই হাওরকে অপরূপ রূপে সাজিয়েছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মিঠাপানির জলাভূমির মূল আয়তন প্রায় ৬,৯১২ একর, যা বর্ষায় বাফার জোনসহ প্রায় ১২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এক বিশাল সমুদ্রের রূপ নেয়।

বার শিবালয় মন্দির
জয়পুরহাট জেলা সদর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে যমুনা নদীর তীরবর্তী বেল-আমলা গ্রামে বার শিবালয় মন্দির (Baro Shibaloy Temple/12 Sib Temple’s) অবস্থিত। বারো শিবালয় মন্দির নির্মাণের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা না গেলেও মন্দিরের দেয়াল চিত্র, নকশা করা ইট এবং কারুকার্যময় পোড়ামাটির ফলকের ব্যবহার শৈলী দেখে অনুমান করা হয় এটি সেন যুগে নির্মিত একটি স্থাপনা। আর রাজা বল্লাল সেনের শিবের প্রতি বিশেষ দূর্বলতা থাকার কারণে তাকে এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা মনে করা হয়। ১২ টি শিব মন্দিরের প্রতিটির অভ্যন্তরে আছে গণেশের চিত্র, নম শিবায় ও শ্রী গণেশায় দেবায় নম, বিভিন্ন দেব-দেবীর কাহিনী চিত্র এবং রামলক্ষণ-সীতা, হনুমান ও মা কালীর প্রতিমা। আর মন্দির আঙ্গিনার মাঝখানে স্থান পেয়েছে একটি নন্দী মূর্তি। তবে বার শিবালয় মন্দিরের ১২টি শৃঙ্গ বা আলয় দেখে আগত ভক্তরা সবচেয়ে বেশি পুলকিত হয়।

আহসান মঞ্জিল
আহসান মঞ্জিল ( Ahsan Manzil ) পুরান ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। আহসান মঞ্জিলের সাথে জড়িয়ে রয়েছে ঢাকার শত বছরের পুরনো ইতিহাস। ঢাকার পুরনো স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় আহসান মঞ্জিলকে। নবাব পরিবারের বহুল স্মৃতি বিজড়িত এই প্রাসাদটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

আগুন পাহাড়
আগুন পাহাড় (Agun Pahar) সিলেট জেলা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরের উৎলারপার গ্যাস ফিল্ড এর কাছে অবস্থিত। হরিপুরের আগুন পাহাড় প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। রোদ-বৃষ্টি কোনো কিছুতেই থেমে নেই আগুন। টিলার মধ্যে ছোট ছোট গর্তে প্রতিনিয়ত জ্বলতে দেখা যায় আগুন। এই পাহাড়ে দিনরাত আগুন জ্বলে থাকে। পাহাড়ের যেকোন স্থানে খোঁচা দিলেই আগুন বের হয়ে আসে।

মহেরা জমিদার বাড়ি
মহেরা জমিদার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা, যা প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্যের অমূল্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। এটি আট একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এবং এর সাথে রয়েছে ছোট পার্ক, চিড়িয়াখানা, পিকনিক স্পট ও বোট রাইডের ব্যবস্থা।

ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট
শহরের কোলাহল ছেড়ে একটু দূরে নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে গাজীপুরের মাওনার চকপাড়াতে অবস্থিত ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট (Dream Square Resort) থেকে ঘুরে আসতে পারেন। প্রায় ১২০ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই রিসোর্টে প্রকৃতি ও আধুনিকতার এক চমৎকার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। তাই বিনোদনের নানা আয়োজনে সাজানো ড্রিম স্কয়ার রিসোর্টকে অবকাশ যাপনের জন্য অনেকে পছন্দ করেন।