দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

ফুরোমন পাহাড়
রাঙ্গামাটির গহীনে লুকিয়ে থাকা এক অপার্থিব সৌন্দর্যের নাম ফুরোমন পাহাড়। চাকমা ভাষায় যার অর্থ 'ফুরফুরে মন'। ১,৫১৮ ফুট উঁচু এই পাহাড়ের চূড়া থেকে কাপ্তাই লেকের সুবিশাল জলরাশি আর চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখে আপনার মনও যেন হয়ে উঠবে ফুরফুরে। প্রায় ৪০০ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলে মনে হবে যেন মেঘের দেশে পৌঁছে গেছেন। চারপাশের নিস্তব্ধতা, পাখির ডাক আর প্রজাপতির ওড়াউড়ি আপনাকে মুগ্ধ করবেই। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর নির্মল বাতাস আপনাকে দেবে এক অনবদ্য অভিজ্ঞতা। যারা একটু নিরিবিলি আর প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য ফুরোমন পাহাড় এক আদর্শ গন্তব্য। ⛰️

সাজেক ভ্যালি
সাজেক ভ্যালি (Sajek Valley), বর্তমান সময়ে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য। রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হিসাবে খ্যাত, যার আয়তন প্রায় ৭০২ বর্গমাইল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা প্রায় ১৮০০ ফুট। সাজেকের অবস্থান রাঙ্গামাটি জেলায় হলেও ভৌগলিক কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক যাতায়াত অনেক সহজ। খাগড়াছড়ি জেলা থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার আর দীঘিনালা থেকে ৪০ কিলোমিটার। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লঙ্গদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম ও পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত।

পাকশী রিসোর্ট
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশে ৩৩ একর জায়গা জুড়ে পাকশী রিসোর্ট (Pakshi Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী এবং নৈস্বর্গিক ল্যান্ডস্কেপ পাঁচ তারকা মানের পাকশী রিসোর্টকে দিয়েছে ভিন্ন এক মাত্রা। পাকশী রিসোর্টের শোভা বাড়িয়েছে ফুলের বাগান, প্রায় চার শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, ফলের বাগান, নান্দ্যনিক লেক, মিনি চিড়িয়াখানা, সুইমিং পুল, স্পা, মাল্টি কুজিন রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট এবং বিভিন্ন ইনডোর গেমসের আয়োজন।

কালিনদীর কাঠের পুল
শহরের কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে এক শান্ত ও মনোরম পরিবেশের খোঁজ করছেন? তাহলে আপনার গন্তব্য হতে পারে কুষ্টিয়ার কালিনদীর কাঠের পুল। ইট-পাথরের এই শহুরে জীবনে কাঠের তৈরি এমন সেতু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এটি যেন এক হারানো দিনের স্মৃতিচিহ্ন। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অবস্থিত এই স্থানটি তার শান্ত পরিবেশ এবং নদীর মনোরম দৃশ্যের জন্য পরিচিত। যদিও পদ্মার বাঁধের কারণে কালিনদী তার আগের গৌরব হারিয়েছে, তবুও এই কাঠের সাঁকোটি তার নিজস্ব সৌন্দর্য নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে। প্রকৃতির কোলে কিছু সুন্দর মুহূর্ত কাটাতে চাইলে এই স্থানটি আপনার জন্য আদর্শ।

নভোথিয়েটার
অজানাকে জানার নেশা মানুষের চিরন্তন আগ্রহের একটি। আর সেটা যদি হয় বিনোদনের মাধ্যমে তবে তো কথাই নেই! অজানাকে জানানোর সুযোগের পাশাপাশি মানুষকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে রাজধানী ঢাকা র তেজগাঁও বিজয় সরণীর মোড়ে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার (Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman Novo Theatre)। পূর্বে এই নভোথিয়েটারটি ভাষানী নভোথিয়েটার নামে পরিচিত ছিল।

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ও ট্রেইল
অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের কাছে নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ( Napittachora Waterfall ) বর্তমানে বেশ পরিচিত একটি নাম। নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ের অবস্থিত একটি ঝর্ণা। ঝর্ণায় যাবার যে ঝিরিপথ আছে তা নাপিত্তাছড়া ট্রেইল নামে পরিচিত। এই ট্রেইলে আছে টিপরা খুম, কুপিটা খুম, বাঘবিয়ানী ঝর্না ও বান্দরখুম নামের আরও বেশ কিছু ঝর্ণা ও খুম। তুলনামূলক সহজ ট্রেইল হওয়ায় একটু কষ্ট করলে একদিনেই পুরো ট্রেইল হেঁটে উপভোগ করতে পারবেন।

কুমিরা ঘাট, সীতাকুণ্ড
সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়নের নাম কুমিরা। এখানে চট্টগ্রাম থেকে সন্দীপ যাওয়া আসার জন্য রয়েছে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কুমিরা-সন্দীপ ফেরীঘাট বা কুমিরা ঘাট (Kumira Ghat) । সম্প্রতি এ ফেরীঘাটের যাত্রীদের যাতায়তে সুবিধার জন্য গড়ে উঠেছে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ জেটি যা স্থানীয় মানুষের কাছে কুমিরা-সন্দ্বীপ ফেরীঘাট ব্রীজ, ঘাটঘর ব্রীজ ও কুমিরা ব্রীজ় ইত্যাদি বিভিন্ন নামে পরিচিত।

বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্ক
ইটের পর ইট গেঁথে তৈরি ঢাকা শহরে বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার মতো খোলা জায়গার অনেক অভাব। নাগরিক জীবনের এই ব্যস্ততা আর ক্লান্তি দূর করতে ঢাকার বুকে যে কয়েকটি মনোরম সবুজ চত্বর গড়ে উঠেছে, তার মধ্যে বর্তমানে বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্ক (Bashundhara Community Park) অন্যতম। ঢাকা শহরের অন্যতম সুপরিকল্পিত এবং অভিজাত আবাসিক এলাকা বসুন্ধরা আবাসিকের (Basundhara Residential Area) ভেতরে এই পার্কটি অবস্থিত। মূলত যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং দর্শনার্থীদের একটু প্রশান্তি ও সুস্থ বিনোদন দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে।

মিরিঞ্জা ভ্যালি
মিরিঞ্জা ভ্যালি (Mirinja Valley) বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে পাহাড়ের বুকে অবস্থিত একটি নতুন পর্যটন স্থান। এখানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল পাহাড় আর মেঘের খেলা উপভোগ করা যায়। এখানে আকাশ-মেঘ ভ্রমণপিপাসু মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।

সাহেব বাড়ি রিসোর্ট
অল্প সময়ের অবসরে ঢাকার কাছে ঘুরতে যাওয়ার জন্য গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুরে অবস্থিত সাহেব বাড়ি রিসোর্ট (Saheb Bari Resort) এক অনন্য নাম। প্রথম দর্শনেই সাজানো গুছানো ছিমছাম সাহেব বাড়ি রিসোর্ট আগত অতিথিদের মন জয় করে নেয়। প্রায় ১৫ বিঘা জায়গার উপর নির্মিত এই রিসোর্টের প্রধান গেইট দিয়ে প্রবেশ করতেই ৫ তলা বিশিষ্ট মূল রিসোর্ট ভবন, সুইমিং পুল, রেস্টুরেন্ট, অডিটরিয়াম, সবুজ ঘাসের মাঠ এবং শান বাঁধানো ঘাটের পুকুর প্রভৃতি চোখে পড়ে। একান্তে বসে গল্প করার জন্য রিসোর্ট জুড়ে গাছের নিচে আছে কাঠের তৈরী বেঞ্চের ব্যবস্থা। সেই সাথে আছে বিভিন্ন ইনডোর ও আউটডোর গেইমসের সুবিধা।

বার্ড পার্ক এন্ড ইকোভিলেজ
বার্ড পার্ক এন্ড ইকোভিলেজ (Bird Park & Eco Village) সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার আজমেরু গ্রামে অবস্থিত। শহরের কোলাহল থেকে দূরে আজমেরু গ্রামের সবুজ পরিবেশে গড়ে উঠেছে এই পার্ক। পার্কের ভেতরে পা রাখলেই আপনার মন ভরে যাবে পাখির কিচিরমিচির শব্দে। চারপাশে সবুজের সমারোহ, লতা-পাতা আর অনেক রকম ফুলের বাগানে সমৃদ্ধ এই বার্ড পার্ক। পার্কের ভিতরে চোখে পড়বে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, ময়ূর, টার্কি ও আরও নানা প্রাণী। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পুকুরে রয়েছে লাল-নীল মাছ, ব্ল্যাক সোয়ান, আমেরিকান ঝুঁটি হাঁস, রাজহাঁস ও চীনা হাঁস। পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম ঝরনা।

প্রতাপপুর জমিদার বাড়ি
ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলায় অবস্থিত প্রতাপপুর জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের এক ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। প্রায় ১৭৬০ সালে নির্মিত এই বিশাল জমিদার বাড়িটি স্থানীয়ভাবে 'বড় বাড়ি' বা 'রাজবাড়ি' নামে পরিচিত। তিন কড়ি সাহার দুই পুত্র রাম সুন্দর সাহা ও রামচন্দ্র সাহা এই বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। একসময় এই অঞ্চলের জমিদারদের মধ্যে এটিই ছিল শীর্ষস্থানীয়। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই বাড়িটি আজও তার গৌরবময় অতীতের জানান দেয়। আপনি যদি ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভালোবাসেন, তবে এই জমিদার বাড়ি আপনার জন্য এক দারুণ গন্তব্য হতে পারে। এখানকার স্থাপত্যশৈলী ও শান্ত পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে।

দিয়াবাড়ি
দিয়াবাড়ি (Diabari) রাজধানী ঢাকার উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্রের নাম। নদীর পরশমাখা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে এক অপার্থিব শুভ্রতায় মনকে ভরিয়ে দিতে দিয়াবাড়ির জুড়ি নেই। আর শরৎকালে রাজধানী ঢাকায় কাশবনের মুগ্ধতায় বুঁদ হতে চাইলে দ্বিধাহীন চিত্তে চলে আসুন এখানে। দৃষ্টিজুড়ে কাশফুলের কোমল শুভ্রতা আর দিগন্তে ঝুলে থাকা শেষ বিকেলের সূর্য্য ভুলিয়ে দেবে নাগরিক জীবনের কর্ম ব্যস্ততার সকল অবসাদ। ঢাকার ভেতরে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য এটি অন্যতম আদর্শ জায়গা।

প্রয়াস সেনা বিনোদন পার্ক
২০১৩ সালে প্রায় ১১০০ একর জায়গা নিয়ে ঘাঘট নদীর দুই পাড়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রয়াস সেনা বিনোদন পার্ক ( Proyash Shena Binodon Park ) গড়ে তোলে। পার্কের বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধি, বনজ এবং ফলজ বৃক্ষের সমাহার। আছে তিস্তা, করতোয়া ও যমুনা নামে গড়ে তোলা তিনটি পিকনিক স্পট।

রানা রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক
রানা রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক (Rana Resort & Amusement Park) দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার খুলনা জেলায় অবস্থিত একটি আধুনিক ও নয়নাভিরাম বিনোদন কেন্দ্র। খুলনা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বটিয়াঘাটা উপজেলার বরুণপাড়ায়, পশুর নদীর তীরে ৯.২৫ একর জায়গা জুড়ে এই বিশাল পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। ওয়েস্টার্ন গ্রুপের চেয়ারম্যান এ.এস.এম আলাউদ্দিন ভূঁইয়া তার অকালপ্রয়াত ছেলে ইমরান উদ্দিন রানার স্মৃতি রক্ষার্থে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য এই বিশেষ স্থাপনাটি নির্মাণ করেছেন।

গ্রীন ভ্যালী পার্ক
নাটোর জেলার লালপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রীন ভ্যালী পার্ক (Green Valley Park) উত্তরবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় একটি বিনোদন কেন্দ্র। প্রায় ১২৩ বিঘা জায়গার ওপর নির্মিত এই পার্কটিতে সকল বয়সী দর্শনার্থীদের চিত্তবিনোদনের জন্য আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আকর্ষণীয় রাইডের মধ্যে রয়েছে মিনি ট্রেন, নাইন ডি মুভি, বুলেট ট্রেন, রোলার কোস্টার, বাম্পার কার, ভূতের বাড়ি, নাগরদোলা, ম্যারিগো রাউন্ড, পাইরেট শীপ, হানি সুইং, স্পীডবোট এবং প্যাডেল বোটসহ বর্তমানে ২০টিরও বেশি রাইড। পার্কের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর বিশাল ওয়াটার পার্ক ও ওয়েভ পুল।