দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের লাল ভবন
রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের লাল ভবনের বয়স প্রায় দেড়শত বছর। প্রাচীন ঐতিহাসিক এই লাল ভবনটি রাজবাড়ী জেলার একটি অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন। গোয়ালন্দ মহকুমার বাণীবহ এস্টেটের বাণীবহের জমিদার গিরিজা শংকর মজুমদার ভবনটিকে কাঁচারী ঘর হিসেবে ব্যবহার করতেন। ১৮৯২ সালে জমিদার গিরিজা শংকর মজুমদার এই লাল ভবনে গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। আর রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে (Rajbari Government High School) বলা যায় শতাধিক বছরের পুরাতন গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুলের বর্তমান রূপ।

আলভিনা গার্ডেন – কৃষি পর্যটন কেন্দ্র
আলভিনা গার্ডেন (Alveena Garden) বাংলাদেশের প্রথম কৃষি পর্যটন কেন্দ্র। সিলেট এর গোপালগঞ্জ উপজেলার লক্ষনাবন্দ ইউনিয়নের পাহাড়লাইন রোডের দক্ষিণভাগ চৌধুরীপাড়া গ্রামে অবস্থিত। আলভিনা গার্ডেন এর প্রাকৃতিক যে সৌন্দর্য আছে সেটা খুব সুন্দর ও আকর্ষণীয়। যে কারনে পর্যটকরা এখানে এসে ভালো সময় কাটিয়ে যাচ্ছেন। আলভিনা গার্ডেন এ দেখা মিলবে আনারস, কাজু বাদাম, কফি ও লেবু বাগান। একই সঙ্গে এখানে গড়ে ওঠেছে পর্যটন শিল্প। প্রতিদিন অনেক পর্যটক টিকিট করে এখানে ভ্রমণ করতে আসেন।

অষ্টগ্রাম হাওর
অষ্টগ্রাম হাওর কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম (Astagram) উপজেলায় অবস্থিত। কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হতে অষ্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। উত্তরে কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন ও ইটনা, দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছির নগর, পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছিরনগর উপজেলা ও হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলা, পশ্চিমে কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর ও নিকলি উপজেলা। অষ্টগ্রামের অবস্থান হাওরের মাধখানে।

শাহ ইরানী (রঃ) মাজার শরীফ
নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার পাটুলি ইউনিয়নে শাহ ইরানী (রঃ) মাজার শরীফ (Shah Irani Mazar Sharif) অবস্থিত। হযরত শাহ ইরানী (রঃ) সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানা না গেলেও ইতিহাসবিদের মতে, পারস্য, ইয়েমেন, ইরাক, মিশর, তুর্কি প্রভৃতি দেশ থেকে বিখ্যাত আউলিয়াগণ হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর সঙ্গী হিসেবে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন। তৎকালীন সময়ে ইরানের রাজ পরিবারের সদস্য শাহ ইরান একজন ধর্ম প্রচারক হিসাবে আসেন। তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ৪০ বছর। উল্লেখ্য তাঁর প্রকৃত নাম অজানা থাকার কারণে এবং ইরানের অধিবাসী হওয়ায় তিনি শাহ ইরানী নামে পরিচিতি লাভ করেন।

শিশু পার্ক
রাজশাহী জেলা সদরের নওদাপাড়া বড় বনগ্রামে অবস্থিত শিশু পার্ক রাজশাহী শহরের একটি অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র। নয়নভিরাম পিকনিক স্পট, সব বয়সীদের জন্য দেশি-বিদেশি রাইড, সুবিশাল লেক এবং নৌকা ভ্রমনের সুব্যবস্থা ২০০৬ সালে নির্মিত এই পার্কটিকে শহরবাসীর কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। এই শিশু পার্ক শহীদ জিয়া শিশু পার্ক নামে অধিক পরিচিত।

ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি
ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি কুমিল্লায় অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৭৩৭ জন সৈন্য চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। এটি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের টিপরা বাজার ও ময়নামতি সাহেব বাজারের মধ্যস্থলে অবস্থিত।

সোনাকান্দা দুর্গ
নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বদিকে অবস্থিত প্রাচীন এক জল দুর্গের নাম সোনাকান্দা দুর্গ (Sonakanda Fort)। ধারণা করা হয়, ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন বাংলা সুবেদার মীর জুমলা বাংলার গুরত্বপূর্ণ শহর গুলোতে জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে রক্ষার উদ্যেশ্যে ঢাকার কাছাকাছি যে তিনটি জল দুর্গ নির্মাণ করেন তাদের মধ্যে সোনাকান্দা কেল্লা অন্যতম। বাংলার বার ভূঁইয়ার অন্যতম বীর ঈশা খাঁ তৎকালীন সময়ে এই দুর্গ ব্যবহার করতেন।

ধর্মসাগর দীঘি
ধর্মসাগর দীঘি (Dharmasagar Dighi) কুমিল্লা জেলা শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত। ধারণা করা হয় ১৭৫০ থেকে ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে মধ্যে প্রজাহিতৈষী পাল বংশের রাজা ধর্মপাল তৎকালীন দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জলের কষ্ট লাঘবের জন্য ধর্মসাগর দীঘিটি খনন করেন। তাঁর নামানুসারেই দীঘির নামকরন করা হয় ধর্মসাগর দীঘি। ধর্মসাগর দীঘির উত্তরে একটি শিশুপার্ক নির্মিত হয়েছে। সবুজে ঢাকা শিশুপার্কে বসে ধর্মসাগরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বিকেলবেলা সবুজে আচ্ছাদিত নান্দনিক ধর্মসাগর দীঘির পাড়ে শত শত ভ্রমণকারীর আগমন ঘটে। চাইলে নৌকা ভাড়া করে দীঘি ঘুরে দেখারও সুযোগ রয়েছেন।

মনু মিয়া জমিদার বাড়ি
নরসিংদী জেলা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার কেন্দ্রস্থলে ব্যাক্তিগত মালিকানাধীন ঘোড়াশাল জমিদার বাড়ি (Ghorashal Zamidar Bari) অবস্থিত। স্থানীদের কাছে এই বাড়িটি মনু মিয়া জমিদার বাড়ি (Monu Mia Zamidar Bari) হিসেবে পরিচিত। ১১৭৬ বঙ্গাব্দে জমিদার সাজদা মিয়া এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করেন। তবে আহমাদুল কবির মনু মিয়ার পিতা আবু ইউসুফ লুৎফুল কবির মনু মিয়া জমিদার বংশের মধ্যে সবচেয়ে সফল ও জননন্দিত হওয়ার তাঁর নামে বাড়িটির নামকরণ করা হয়।

গান্ধী আশ্রম
গান্ধী আশ্রম (Jamalpur Gandhi Ashram) জামালপুর জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের কাপাশহাটিয়া গ্রামে অবস্থিত। ১৯৩৪ সালে মহাত্মা গান্ধিজীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন জামালপুর মহকুমা কংগ্রেসের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন সরকার। এই আশ্রমে তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নানা কর্মপরিকল্পনা করা হত। এছারাও এই আশ্রম থেকে চরকায় সুতা তৈরি, হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ, লেখাপড়া ও শরীরচর্চা কার্যক্রম চালানো হত। এই আশ্রম তখন পরিণত হয়েছিল ঐ অঞ্চলের মুক্তিকামী মানুষের মিলনমেলায়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর এ আশ্রমের কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হয় আশ্রমটির কার্যক্রম।

দর্শনা
চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরীর নাম দর্শনা (Darshana)। ১৮৬২ সালের ১৫ই নভেম্বর দেশের প্রথম রেললাইনের কাজ শুরু হয় এই দর্শনাতে। সীমান্তবর্তী আন্তর্জাতিক মানের দর্শনা রেলওয়ে ষ্টেশন এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এখান থেকেই মৈত্রী ট্রেন সরাসরি ভারতে যাতায়াত করে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধ
জাতীয় স্মৃতিসৌধ (National Martyrs Memorial) নির্মিত হয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল বীর শহীদদের স্মৃতির স্মরণে। ঢাকা থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে ৪৪ হেক্টর জায়গা নিয়ে সাভার উপজেলায় এই স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্স স্থাপন করা হয়েছে। স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেনের নকশায় ১৯৮২ সালের শেষের দিকে স্মৃতিসৌধের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

দুর্গাসাগর দিঘী
দুর্গাসাগর দিঘী ( Durga Sagar ) বরিশাল শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে স্বরূপকাঠি – বরিশাল সড়কে মাধবপাশায় অবস্থিত। ১৭৮০ খৃষ্টাব্দে তৎকালীন রাজা শিব নারায়ণ এলাকাবাসীর পানির সংকট নিরসনের জন্য মাধবপাশায় একটি বৃহৎ দীঘি খনন করে তাঁর মা দুর্গা দেবীর নামানুসারে দিঘীটির দুর্গাসাগর নামকরণ করেন। ঐতিহাসিক এই দিঘীটির জলাভূমির আয়তন ২৭ একর এবং পাড় ও জমি সহ মোট আয়তন ৪৫.৪২ একর। বর্তমানে জেলা প্রশাসন দুর্গাসাগর দিঘী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। দুর্গাসাগর দিঘীর তিন দিকে ৩টি ঘাটলা এবং দিঘীর মাঝখানে একটি টিলা বা ছোট দ্বীপ রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এই দুর্গাসাগর মাধবপাশা দীঘি (Madhobpasha Dighi) নামেও ব্যাপক পরিচিত।

ডাইনো পার্ক
কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ির জামমূড়ায় লালমাই পাহাড়ের ১২ একর জায়গা নিয়ে ডাইনোসর পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। সমতল ভূমি থেকে ৪৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত পাখির কলকাকলিতে মুখরিত মনোমুগ্ধকর এই থিম পার্কে হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া ডাইনোসরেরা চলাফেরা করে। ডাইনোসর পার্ক নাম হলেও ডাইনো পার্ক (Dino Park) নামটি ছড়িয়ে গেছে সর্বত্র।

আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট
রাঙ্গামাটি জেলার সেনানিবাস এলাকায় মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে নির্মিত পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্রের নাম আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট ( Aronnak Holiday Resort )। কাপ্তাই হ্রদে ঘেরা শান্ত ও ছিমছাম পরিবেশের আরণ্যক রিসোর্টটি সুনিপুণ ভাবে ছবির মত সাজানো গোছানো। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কতৃক পরিচালিত আকর্ষনীয় এই রিসোর্টে রয়েছে ছোটদের জন্য বিভিন্ন রাইড, হ্যাপি আইল্যান্ড, ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, পেডেল বোট, সুইমিং পুল, রেস্টুরেন্ট এবং খেলাধুলার ব্যবস্থা।

গ্রীনল্যান্ড পার্ক
হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত সবুজে মোড়া দৃষ্টিনন্দন গ্রীনল্যান্ড পার্ক (Greenland Park) একটি জনপ্রিয় পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র। ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠা এই পার্কে বাঁশের তৈরী ঝুলন্ত সাকো, গোল চত্বর, লেক, নান্দ্যনিক রেস্টুরেন্ট ছাড়াও পিকনিক আয়োজনের সকল ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রীনল্যান্ড পার্কের লেকের জলে নৌকা দিয়ে ঘুরতে ও সাতার কাটতে পারবেন।