দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

বড় কাটরা
পুরান ঢাকার চকবাজারের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মুঘল আমলের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন বড় কাটরা (Bara Katra) অবস্থিত। ১৬৪১ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহজাদা শাহ সুজার নির্দেশে প্রধান স্থপতি মীর আবুল কাসেম এই স্থাপনাটি নির্মাণ করেন। আবুল কাসেমকে সে সময় ‘মীর-ই-ইমারত’ নামে আখ্যায়িত করা হত। শাহজাদা শাহ সুজার বসবাসের জন্য বড় কাটরা নির্মিত হলেও পরবর্তী সময়ে এটি মুসাফিরখানা হিসাবে ব্যবহৃত হতে থাকে।

হিমছড়ি
কক্সবাজার গিয়েছেন কিন্তু হিমছড়িতে যাননি কিংবা হিমছড়ির নাম শুনেন নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কক্সবাজার থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে হিমছড়ি অবস্থিত। হিমছড়ির ছোট বড় ঝর্ণা, পাহাড় আর ফটোগ্রাফিক সমুদ্রতট পর্যটকদের বিমোহিত করে রাখে। শীতল পানির ঝর্ণা, মেরিন ড্রাইভ রোড এবং বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত দেখতে আপনাকে হিমছড়ি আসতেই হবে। সারাবছরই হিমছড়িতে যেতে পারবেন তবে বর্ষায় ঝর্ণাগুলে পূর্নতা পায়।

বোটানিক্যাল গার্ডেন, ময়মনসিংহ
সবুজে ঢাকা শান্ত নিরিবিলি স্থান হিসাবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রায় ২৫ একর জায়গা জুড়ে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংগ্রহ নিয়ে ১৯৬৩ সালে বোটানিক্যাল গার্ডেন (Botanical Garden) প্রতিষ্ঠা করা হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা বোটানিক গার্ডেনস কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল (বিজিসিআই) কতৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের প্রথম বোটানিক্যাল গার্ডেনে ১০০০টি বড়, ১২৭৮টি মাঝারি এবং ৪৪৬৭টি ছোট বৃক্ষ সহ প্রায় ৬০০টি বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এদের মধ্যে গুটগুটিয়া, আফ্রিকান টিউলিপ, কাইজেলিয়া, স্বর্ণঅশোক, কুম্ভি, নাগেশ্বরচাপা, বুধানারিকেল, পাটেনজাবা, পাহাড়ি কাশ, কাইকা, সিন্দুরি, বিক্সা চান্দুল, এপিকাক প্রভৃতি কালাহুজা, প্যাশন ফ্রুট, ডেরিস, কালোমেঘ, মিছরিদানা, নিলকান্ত, শতমূলী, স্বর্পগন্ধা, তালমুলি, হানি সাকল, বানকলা, হলুদ কাঞ্চন, শম্ভুকাস, অনন্ত লতা, খামি, কুলানজান, কানথাকাশ, সুলতানচাপা, কাইকা, কানসুনালু, লেতকানথা, পাটিপাটা, নাক্সভোমিকা, নদাজাম, তিথিজাম, আজুলি, শাল, খারাজুরা, আরুসা, পানিকলমি, খুসখের, এলেনা, চাগাল্লাদি, মোথা, আভুকাদো, ডুরিয়ান, কোকুয়া, সাতকরা, বরমালা, মেইলাম, স্বর্ণ অশোক, রাজ অশোক, ব্রানফেলসিয়া, ক্যাকটাস, লালচিতা, নিলচিতা, গালমরিচ, মাসুকদা, গানিয়ারি, গ্রিলিরিচিডা, ফার্ন হরিণসিংঙ্গা, আতমরা, বেরিয়া, বেহেলাতদ, ফার্ন কড়ই, গার্ডেনিয়া, ব্যামবুস, রনডেলিটিয়া, টাবেবুইয়া, ডুমবিয়া, বনজারি, জয়ত্রী, জয়পাল, নাগনাথ, জাচারান্দা, বন্য খেজুর, স্কাফেলারা, রাভেনিয়া, জাকুটিভাসা, ভেরিগেটেট মন্ডার, পারসিমন, হারগুজা কান্তাপ্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

মায়াবিনী লেক
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ভাইবোনছড়ার কংচাইরি পাড়ায় মায়াবিনী লেক ( Mayabini Lake) অবস্থিত। খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে মাত্র ৩০ মিনিট দূরত্বে হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা করার সুযোগ নেই। ৪০ একর উঁচু-নিচু পাহাড়ি জায়গায় ১৫ একর নিসর্গময় লেক নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই মায়াবিনী লেক পর্যটন কেন্দ্র। পাহাড়ের নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য্য, বিশাল আকাশ আর লেকের স্বচ্ছ শান্ত জল সহজেই মনকে নির্মল আনন্দে মাতিয়ে তোলে। মায়াবিনী লেকের মাঝখানে ছোট্ট সুন্দর দ্বীপে পর্যটকদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে একটি বিশ্রামাগার। আর লেকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে নৌকার ব্যবস্থা।

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স বান্দরবান জেলার প্রবেশ পথে বান্দরবান-কেরাণীহাট সড়কের পাশে পার্বত্য জেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। বান্দরবান শহর থেকে মেঘলার দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। উঁচু নিচু পাহাড় পরিবেষ্টিত একটি কৃত্রিম লেককে ঘিরে সাজানো হয়েছে এই জায়গাটি। চারদিকের ঘন সবুজ, লেকের স্বচ্ছ পানি ও অপূর্ব প্রকৃতি পর্যটকদেরকে দূর্নিবার আকর্ষনে কাছে টানে। বৈচিত্র্য পিয়াসী মানুষ তাই আত্মিক ক্ষুধা মেটাতে মেঘলায় ছুটে আসে বারবার।

উলপুর জমিদার বাড়ি
গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে উলপুর গ্রামে প্রাচীন বাংলার জমিদারদের শৌর্যবীর্য এবং আভিজাত্যের সাক্ষী উলপুর জমিদার বাড়ি (Ulpur Zamindar Bari) অবস্থিত। জানা যায়, উলপুরের জমিদারেরা একশত ঘর শরীক ছিলেন। ১৯০০ শতকে জমিদার প্রীতীশচন্দ্র রায় চৌধুরী প্রায় ২০০ একর জায়গা জুড়ে উলপুর জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। কালের আবর্তে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলেও তৎকালীন জমিদার কতৃক নির্মিত ভবনগুলো ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসাবে স্বগর্বে টিকে আছে।

নিরিবিলি পিকনিক স্পট
নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার রামপুরে অবস্থিত নিরিবিলি পিকনিক স্পট (Niribili Picnic Spot) দক্ষিনবঙ্গের একটি অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র। ১৯৯১ সালে নিরিবিলি পিকনিক স্পট উদ্ভোধন করা হয়। প্রায় ১৪ একর জায়গা জুড়ে স্থাপিত এই বনভোজন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে শিশু পার্ক, মিনি চিড়িয়াখানা, এস এম সুলতানের শিল্পকর্ম, দোলনা, রোপওয়ে, মিনি ট্রেন এবং ওয়াটার বোট।

হরিপুর জমিদার বাড়ি
হরিপুর জমিদার বাড়ি ( Haripur Zamidar Bari ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিণবেড় গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। প্রায় ৫ একর জমির ওপর লাল ইট সুরকির গাঁথুনি দিয়ে তৈরি তিন তলা দৃষ্টিনন্দন এই জমিদার বাড়িতে রয়েছে মোট ৬০ টি কক্ষ, দরবার হল, রংমহল, ধানের গোলা, গোয়ালঘর, নাচ ঘর, মল পুকুর, রন্ধনশালা, খেলার মাঠ এবং মন্দির। এছাড়া হরিপুর বড় বাড়ি খ্যাত জমিদার বাড়ির পশ্চিম দিকে তিতাস নদীর পাড়ে রয়েছে একটি শান বাঁধানো ঘাট। আর ঘাটের উত্তর দিকে আছে হরিপুর জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী এবং গৌরী প্রসাদ রায় চৌধুরীর সমাধি মঠ।

রকস মিউজিয়াম
বাংলাদেশের একমাত্র পাথরের জাদুঘর বা রকস মিউজিয়াম (Panchagarh Rocks Museum) পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে স্থাপন করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালে সম্পূর্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে অধ্যক্ষ নাজমুল হক এই পাথরের জাদুঘর গড়ে তোলেন। জাদুঘরে বিভিন্ন রং, আকৃতি এবং বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পাথর সংরক্ষিত আছে। হাজার বছরের পুরনো পাথর ছাড়াও এখানে প্রাচীন ইমারতের ইট এবং পোড়ামাটির বিভিন্ন মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়।

রামু রাবার বাগান
কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে রামু উপজেলায় পাহাড় ও সমতলের সমন্বয়ে ঐতিহ্যবাহী রামু রাবার বাগান (Ramu Rubber Garden) গড়ে তোলা হয়েছে। ১৯৬০-৬১ সালে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের সহায়তায় অনাবাদি জমি গবেষণার মাধ্যমে রামুতে রাবার চাষাবাদ শুরু করা হয়। ছোট বড় অসংখ্য পাহাড়, টিলা ও বিস্তৃত সমতল পাহাড়ের মাঝে ২,৬৮২ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত রামু রাবার বাগানের চারপাশে রয়েছে অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি।

চাঁদপুর বেলগাঁও চা বাগান, বাঁশখালী
চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত চাঁদপুর বেলগাঁও চা বাগান (Chandpur Belgaon Tea Garden)। এটি বাঁশখালী চা বাগান (Banshkhali Tea Garden) নামেই বেশি পরিচিত। বাঁশখালী চা বাগান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। বাগানটি মন কাড়ছে দর্শনার্থীদের।

পানি জাদুঘর
পানি জাদুঘর, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘর। এটি নদী ও পানিসম্পদ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে বাংলাদেশের নদী-কেন্দ্রিক মানুষের জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতি এবং নদীর ইতিহাস সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

হ্যাপি আইল্যান্ড
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার রাঙ্গামাটি জেলার ভেদভেদী এলাকা সংলগ্ন কাপ্তাই হৃদের কোল ঘেঁষে হ্যাপি আইল্যান্ড (Happy Island) গড়ে তোলা হয়েছে। মনোরম সবুজ প্রকৃতি ও চমৎকার নির্মাণশৈলীর এই দ্বীপটি মূলত একটি ওয়াটার পার্ক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩০৫ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের উদ্যোগে প্রায় দুই বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় কাপ্তাই লেক পরিবেষ্টিত একটি টিলার উপর ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল এই অসাধারণ ওয়াটার আইল্যান্ডটি উদ্বোধন করা হয়।

গুরুদুয়ারা নানকশাহী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কলা ভবনের কাছে অবস্থিত শিখ ধর্মের একটি উপাসনালয়ের নাম গুরুদুয়ারা নানকশাহী (Gurdwara Nanak Shahi)। প্রচলিত আছে, বাংলাদেশের বৃহত্তম এই গুরুদুয়ারার স্থানটিতে ষোড়শ শতকে শিখ ধর্মের প্রবর্তক গুরু নানক কিছু সময় অবস্থান করেছিলেন। তখন তিনি একেশ্বরবাদ এবং ভ্রাতৃত্ববোধ এবং শিখ ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানিকতা পালন সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। গুরুদুয়ারা নানকশাহীর নির্মাণ কাল নিয়ে মতভেদ থাকলেও ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে গুরুদুয়ারার নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

পুলিশ পার্ক
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে মাথাভাঙ্গা তীরে পুলিশ পার্ক (Police Park) অবস্থিত। পুলিশ সুপার রোডের এই বিনোদন কেন্দ্রটি ইতিমধ্যে চুয়াডাঙ্গা শহরের ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মনোরম ও নিরিবিলি পরিবেশের পুলিশ পার্কে বিনোদনের জন্য আছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইড, উন্মক্ত মঞ্চ, মিনি চিড়িয়াখানা সহ সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা।

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ
চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে অবস্থিত শৈল্পিক কারুকার্যময় হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদটি আয়তনের দিক দিয়ে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৩৩৭ বঙ্গাব্দে হাজী আহমদ আলী পাটোয়ারী হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ (Hajigonj Boro Masjid) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ২৮,৪০০ বর্গফুট আয়তনের বিশাল এই মসজিদে একসাথে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারেন। আর বাংলাদেশে জুমাতুল বিদা’য়ার সবচেয়ে বড় জামাত এই মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ বৃহৎ এই মসজিদে প্রায় ১৮৮ ফুট উঁচু দৃষ্টিনন্দন মিনার রয়েছে।