দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

আলুটিলা গুহা
আলুটিলা গুহা ( Alutila Cave ) পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলায় আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক গুহার নাম। স্থানীয়দের কাছে আলুটিলা গুহা ‘মাতাই হাকড়’ বা ‘দেবতার গুহা’ নামে পরিচিত।

যমুনা ফিউচার পার্ক
যমুনা ফিউচার পার্ক (Jamuna Future Park) দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ বহুতল শপিং মল হিসাবে পরিচিত। ২০০২ সালে যমুনা বিল্ডার্স লিমিটেড প্রায় ৪,১০০,০০ বর্গফুট আয়তনের এই সুবিশাল শপিং কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শুরু করে। ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর যমুনা ফিউচার পার্ক সফলভাবে খুলে দেয়া হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটু দূরে কুড়িল ফ্লাইওভার কাছে অবস্থিত যমুনা ফিউচার পার্ক প্রাঙ্গণে প্রবেশের শুরুতেই রয়েছে স্কাইড্রপ, রোলার কোস্টার, পাইরেট শিপ, ম্যাজিক উইন্ডমিল, ফ্লাইং ডিসকো ও টাওয়ার চ্যালেঞ্জারের মতো শিহরণ জাগানিয়া ৬টি রোমাঞ্চকর আউটডোর রাইড।

আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ
চট্টগ্রাম শহর থেকে ৭.৬ কিলোমিটার দূরে আন্দরকিল্লা সার্কেলের কাছে মোঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য নিদর্শন আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ (Anderkilla Shahi Jame Masjid) অবস্থিত। ঐতিহাসিক সূত্র মতে, মোঘল আমলে কিল্লা আরকানি মগ ও পর্তুগীজ জলদস্যুদের আস্তানা ছিল। ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ২৭শে জানুয়ারি বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খা’র ছেলে বুজুর্গ উমেদ খাঁর এই আস্তানার অন্দরে প্রবেশের মাধ্যমে “আন্দর কিল্লা” নামকরণ করা হয়। পরবর্তীতে মগ ও পর্তুগীজদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিজয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে শায়েস্তা খাঁ ১৬৬৭ খ্রিষ্টাব্দে এখানে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ নির্মাণ করেন। পবিত্র মদিনা থেকে মসজিদের ইমাম নিযুক্ত করা হয়।

শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা রিসোর্ট
ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলায় ভারত সীমান্তের কাছে গ্রাম বাংলার লোক সংস্কৃতির বিভিন্ন উপকরণের সমন্বয়ে শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা রিসোর্ট (Shamser Gazir Bansher Kella Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। নবাব সিরাজদৌল্লার আমলে “ভাঁটির বাঘ” হিসেবে পরিচিত শমসের গাজী একাধারে ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা, ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী এবং ত্রিপুরার রোশনাবাদ পরগণার কৃষক বিদ্রোহের নায়ক। সোনাপুরে শমসের গাজীর স্মৃতিচিহ্নকে কেন্দ্র করে তাঁর উত্তরসূরিরা প্রায় ৫ একর জায়গার উপর শৈল্পিক আয়োজনে এই রিসোর্টটি গড়ে নির্মাণ করেন।

পুলিশ পার্ক
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে মাথাভাঙ্গা তীরে পুলিশ পার্ক (Police Park) অবস্থিত। পুলিশ সুপার রোডের এই বিনোদন কেন্দ্রটি ইতিমধ্যে চুয়াডাঙ্গা শহরের ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মনোরম ও নিরিবিলি পরিবেশের পুলিশ পার্কে বিনোদনের জন্য আছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইড, উন্মক্ত মঞ্চ, মিনি চিড়িয়াখানা সহ সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা।

পায়রা সমুদ্রবন্দর
পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে কলাপাড়া উপজেলার রাবনাবাদ নদী ও আন্ধারমানিক নদীর মোহনায় পায়রা সমুদ্র বন্দর (Payra Sea Port) অবস্থিত। ২০১৩ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই বন্দরটি বর্তমানে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে প্রায় ৬০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই সামুদ্রিক বন্দরটি দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদেশীয় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আপনি যদি শিল্পায়ন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধন দেখতে চান তবে পায়রা বন্দর হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণের আদর্শ গন্তব্য।

হাজীগঞ্জ দুর্গ
নারায়ণগঞ্জ জেলার হাজীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত হাজীগঞ্জ দুর্গ (Hajiganj Fort) মুঘল আমলে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক জল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তৎকালীন সময়ে হাজীগঞ্জ খিজিরপুর নামে পরিচিত ছিল, ফলে অনেকেই একে খিজিরপুর দুর্গ নামে আখ্যায়িত করেছেন। সপ্তদশ শতকের দিকে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান কর্তৃক ঢাকায় মুঘল রাজধানী স্থাপনের পর মগ ও পর্তুগীজ জলদস্যুদের আক্রমণ প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে নির্মিত তিনটি জল দুর্গ বা ট্রায়াঙ্গল অব ওয়াটার ফোর্টগুলোর মধ্যে হাজীগঞ্জ অন্যতম। আর অপর দুই দুর্গের নাম সোনাকান্দা দুর্গ এবং ইদ্রাকপুর দুর্গ। ঢাকা থেকে সড়কপথে হাজীগঞ্জ দুর্গের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার।

ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার
গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনেরপাড়া গ্রামে অবস্থিত ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার (Friendship Center)। এটি মূলত একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রধান কার্যালয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ২০০২ সালে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ফ্রেন্ডশিপ’ নামের এই সংস্থাটি যাত্রা শুরু করে। তাদের নির্মিত ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে নানাবিধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা হয়।

ময়নামতি জাদুঘর
কুমিল্লা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে সালমানপুরে অবস্থিত ময়নামতি জাদুঘর (Mainamati Museum) প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহশালা হিসাবে বাংলাদেশের একটি গুরত্বপূর্ণ স্থান। ময়নামতি জাদুঘরের ৪২ টি ভিন্ন ভিন্ন সংরক্ষণাগারে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থান থেকে সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীর নানা নিদর্শন সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। প্রাচীন নিদর্শনগুলোর মধ্যে ব্রোঞ্জ ও পাথরের ছোট-বড় মূর্তি, ব্রোঞ্জের বিশাল ঘন্টা, স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, ব্রোঞ্জ, তামা ও লোহার সামগ্রী, মাটির খেলনা, কাঠের নিদর্শন, মৃৎশিল্প নিদর্শন এবং প্রাচীন হস্তলিপির পান্ডুলিপি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া জাদুঘরকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে বিশ্রামাগার ও মনোরম ফুলের বাগান।

দুসাই রিসোর্ট এন্ড স্পা
World Luxury Hotel Awards প্রাপ্ত দুসাই রিসোর্ট এন্ড স্পা (DuSai Resort & Spa) এর অবস্থান মৌলভীবাজার জেলার গিয়াসনগরে। সুদৃশ্য লেক এবং পাহাড়ের ওপর সবুজ বনানী পরিবেষ্টিত এই রিসোর্টটি অবকাশ যাপনের জন্য একটি আদর্শ স্থান হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে।

শেখ মাহমুদ শাহ মসজিদ
কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে এক গম্বুজ বিশিষ্ট প্রাচীন শেখ মাহমুদ শাহ্ মসজিদ (Sheikh Mahmud Shah Mosque) অবস্থিত। ১৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শায়েস্তা খাঁর আমলে এগারসিন্ধুরের তৎকালীন প্রখ্যাত ব্যবসায়ী শাহ্ মাহমুদ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির মূল নাম শাহ্ মাহমুদ মসজিদ হলেও ইউনেস্কো মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে শাহ্ মোহাম্মদ মসজিদ নামে লিপিবদ্ধ করে।

ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণমারী গ্রামে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক (Dreamland Educational Park)। ১৯৯৫ সালে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রশিদুন্নবী চাঁদ প্রায় ১৭ একর জমিতে গাইবান্ধা জেলা শহরের অন্যতম এই বিনোদন কেন্দ্রটি নির্মাণ করেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক-এ আছে দেশি-বিদেশি বৃক্ষ, ফুলের বাগান, ভাস্কর্য এবং বিভিন্ন স্থাপনা।

টুপামারী পুকুর
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত শহরের একমাত্র পিকনিক স্পটের নাম টুপামারী পুকুর (Tupamari Dighi)। টুপামারী পুকুরকে কেন্দ্র করে প্রায় ২৫ একর জায়গা জুড়ে এই পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হয়েছে। কুড়িগ্রামের আশেপাশের জেলা থেকে শৌখিন মৎস্য শিকারিরা এই পুকুরে মৎস্য শিকারের জন্য এসে থাকেন। শীতকালে পুকুরের মনোরম পরিবেশে পিকনিক করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ঘুরতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যাও কম নয়।

আপসাইড ডাউন
আপসাইড ডাউন গ্যালারী ঢাকার লালমাটিয়ায় অবস্থিত একটি অনন্য ইলিউশনাল আর্ট গ্যালারী। এখানে প্রবেশ করলে মনে হবে আপনি উল্টো রাজ্যে চলে এসেছেন। গ্যালারীর প্রতিটি কক্ষের আসবাবপত্র সিলিং-এর সাথে যুক্ত, যা দর্শনার্থীদের জন্য একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

মেরি এন্ডারসন
নারায়ণগঞ্জ সদরের অন্তর্গত বুড়িগঙ্গা নদীর উপর বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত ভাসমান রেস্টুরেন্ট ও বারের নাম মেরি এন্ডারসন (Mary Anderson Floating Restaurant and Bar)। শুরুতে এই ভাসমান রেস্টুরেন্টের নাম ছিল স্টেট ইয়ট মেরী এন্ডারসন। বাংলায় নিযুক্ত ব্রিটিশ গভর্নরদের ব্যবহারের জন্য ১৯৩৩ সালে কলকাতার শিপইয়ার্ডে ১৫০ ফুট দীর্ঘ বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালিত একটি জাহাজ নির্মাণ করা হয়। সেই সময়কার বাংলার গভর্নর স্যার জন এন্ডারসনের মেয়ে মেরী আন্ডারসনের নামে এই জাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে বলে মনে করা হয়।

নীলকুঠি ও ডিসি ইকোপার্ক
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়নের ভাটপাড়ায় ঐতিহাসিক ভাটপাড়া নীলকুঠি ( Bhatpara Neelkuthi ) অবস্থিত। ১৮৫৯ সালে নির্মিত ভাটপাড়া নীলকুঠি তৈরীতে ইট, চুন-শুরকি, লোহার বীম এবং ইটের টালি ব্যবহার করা হয়েছে। কাজলা নদীর তীরে অবস্থিত ব্রিটিশ বেনিয়াদের নির্যাতনের সাক্ষী ভাটপাড়া নীলকুঠিরের দৈর্ঘ্য ৮০ ফুট এবং প্রস্থ ৭০ ফুট। কুঠিবাড়ির মূল ভবন ছাড়াও বর্বরতার ইতিহাস মনে করিয়ে দিতে আজো জরাজীর্ণ অবস্থায় টিকে আছে জেলখানা, মৃত্যুকূপ এবং ঘোড়ার আস্তাবল।