দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

মহামুনি বৌদ্ধ বিহার
চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী মহামুনি গ্রামে টিলার উপর মহামুনি বৌদ্ধ বিহার (Mahamuni Buddhist Vihara) অবস্থিত। ধারণা করা হয়, ১৮১৩ সালে চাইংগা ঠাকুর নামের এক বৌদ্ধ ধর্মগুরু মহামানব গৌতম বুদ্ধের মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে এই বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এ কারণে গৌতম বুদ্ধের নামের সাথে মিলিয়ে নাম রাখা হয় মহামুনি মন্দির। আবার ড. রামচন্দ্র বড়ুয়া তাঁর ‘চট্টগ্রামের মগের ইতিহাস প্রাগুক্ত’ গ্রন্থে ১৮০৫ সালে মহামুনি বৌদ্ধ বিহারের মন্দির ও মুর্তি নির্মাণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। মহামুনি বৌদ্ধ বিহারের প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এই স্থাপনাটি প্রায় ২০০ বছরের পুরাতন একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

শকুনি লেক
শকুনি লেক (Shokuni Lake) মাদারীপুর জেলার একটি পরিচয় বহনকারী ঐতিহাসিক নাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর শকুনি লেকের পরিবেশ সহজেই মনকে প্রশান্ত করে তোলে। কাগজপত্রে ‘শকুনি লেক’ নামে পরিচিত হলেও স্থানীয়দের কাছে এই লেক ‘মাদারীপুর লেক’ হিসেবে সুপরিচিত। কয়েকশ বছর পূর্বে জনৈক রাজা প্রজাদের পানির সংকট নিরসনের জন্য শকুনি লেক খনন করেন। যা বর্তমানে মাদারীপুরবাসীর কাছে বিনোদন কেন্দ্রের চাহিদা পূরণ করে চলেছে। এখানে আছে ওয়াচ টাওয়ার, কৃত্রিম ঝর্ণা, কফি শপ, রেস্টুরেন্ট এবং বিশ্রামের জন্য ছাউনি।

লটকন বাগান
টক-মিষ্টি স্বাদের লটকন (Lotkon) কম-বেশি সবারই পছন্দের একটি ফল। আর লটকনের জন্য নরসিংদী জেলার রয়েছে দেশজোড়া খ্যাতি। নরসিংদীর শিবপুর ও মরজাল উপজেলায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি লটকনের আবাদ হয়ে থাকে। শিবপুর উপজেলার ছোটাবান্দা গ্রামের রাস্তার দুই পাশের অসংখ্য ছোট বড় লটকন বাগান নজরে পড়ে। বাগানের গাছগুলোর গোড়া থেকে শুরু করে শাখা প্রশাখা ও উপশাখা জুড়ে ঝুলতে থাকে থোকা থোকা হাজারো পাকা লটকন। তবে কোন বাগানে ঢোকার আগে অবশ্যই মালিকের অনুমতি নিতে হবে। অধিকাংশ বাগানের মালিক খুবই আন্তরিক এবং দর্শনার্থীদের আগ্রহ নিয়ে নিজেদের বাগান ঘুরে দেখায়। তাই বাগানের মালিকের সাথে কথা বলে নিজ হাতে গাছ থেকে পেড়ে লটকন খেতে পারবেন।

বারদী লোকনাথ আশ্রম
নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে ৩৪ কিলোমিটার দূরে সোনারগাঁ উপজেলার বারদি বাজারের পশ্চিম-উত্তর কোণে শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম (Sri Sri Loknath Bramhachari Ashram) বা বারদী লোকনাথ আশ্রম অবস্থিত। ১৭৩০ সালের ৩১ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত থানার অন্তর্গত কচুয়া গ্রামে লোকনাথ ব্রহ্মচারী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পুঁথি বিদ্যা ত্যাগ করে সন্ন্যাস ব্রত গ্রহণ করে হিমালয়ে কঠোর যোগ সাধনা করেন। পরবর্তীতে মানুষের মাঝে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি লোকালয়ে বের হয়ে আসেন। বিভিন্ন দেশ ঘুরে ১৮৬৩ সালে সোনারগাঁয়ে পৌঁছে লোকনাথ ব্রহ্মচারী বারদী গ্রামে প্রকৃতির নিবিড় সজীবতায় এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ১৬০ বছর বয়সে ১৮৯০ সালের ১ জুন (১৯শে জ্যৈষ্ঠ) মহাপুরুষ লোকনাথ ব্রহ্মচারী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বারদী লোকনাথ আশ্রম জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য এক মিলন মেলা হিসেবে পরিচিত।

মধুটিলা ইকোপার্ক
শেরপুর জেলা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁওয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারিভাবে মধুটিলা ইকো পার্ক ( Madhutila Eco Park ) এর অবস্থান। মধুটিলা ইকোপার্কে শোভাবর্ধনকারী ও বিরল প্রজাতির বৃক্ষের বনায়নের পাশাপাশি আছে বিশ একরের ঔষধি বৃক্ষের বনায়ন। এছাড়া রয়েছে রেস্ট হাউজ, বাসগৃহ, বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, আকর্ষণীয় রাইড, স্টার ব্রিজ, ক্যান্টিন, মিনি চিড়িয়াখানা, কার পার্কিং এবং বসার স্থান। মধুটিলার লেকে ঘুরে বেড়ানো জন্য ৫ টি দেশীয় নৌকা ও ৩টি প্যাডেল বোট রয়েছে। সবুজের সমারোহ আর পাহাড়ের হাতছানিতে প্রতি বছর সারাদেশ থেকে সৌন্দর্য্য প্রিয় মানুষ মধুটিলায় বেড়াতে আসেন। মধুটিলা ইকোপার্কের খুব কাছেই রয়েছে গজনী অবকাশ কেন্দ্র , হাতে সময় থাকলে সেখান থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।

ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক
ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক (Magic Paradise Park) কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত। ওয়াটার পার্ক, ২০টির অধিক রাইড, ডাইনোসর পার্ক, পিকনিক স্পট সহ এই পার্কটি কুমিল্লার সবচেয়ে সুন্দর ও বড় এমিউজমেন্ট পার্ক। বিদেশি কার্টুন ডিজনিকের আদলে তৈরি প্যারাডাইজ পার্কের গেটটি বেশ আকর্ষনীয়। মনোরম পরিবেশের এই পার্কটি ছোট বড় সবার জন্যেই। পার্ক রিভিউ নিয়ে দেখে নিন আমাদের ম্যাজিক প্যারাডাইস ইউটিউব ভিডিও ।

মহারাজার দিঘী
পঞ্চগড় জেলা সদর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অমরখানা ইউনিয়নে অবস্থিত এক ঐতিহাসিক পুকুরের নাম মহারাজার দীঘি (Maharajar Dighi)। ধারণা করা হয়, ভিতরগড় নামের ১৫০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক এক রাজ্যে মহারাজা পৃথু রাজত্ব করাকালীন এই দীঘিটি খনন করেন।

মানা বে ওয়াটার পার্ক
মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া এলাকায় অবস্থিত মানা বে ওয়াটার পার্ক (Mana Bay Waterpark) বাংলাদেশের প্রথম প্রিমিয়াম থিম পার্ক। প্রায় ৬০ হাজার স্কয়ার মিটার বিস্তৃত এই ওয়াটার পার্ক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম এবং আধুনিক রাইড সমৃদ্ধ বিনোদন কেন্দ্র। পার্কটিতে সকল বয়সের মানুষের জন্য বৈচিত্র্যময় সব আয়োজন রয়েছে। এখানে ১৭ টি রোমাঞ্চকর রাইড রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- ওয়াটার স্লাইড ট্যুর, দেশের একমাত্র ওয়েভ পুল ও ফ্লোরাইডার ডাবল (সার্ফিং সিমুলেটর)। বাচ্চাদের জন্য একটি আলাদা জোন ও একটি কৃত্রিম নদীর ব্যবস্থা রয়েছে পার্কটিতে।

ধুপপানি ঝর্ণা
রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ওড়াছড়িতে গেলে দেখা মিলে অনিন্দ্য সুন্দর ধুপপানি ঝর্ণা (Dhuppani Waterfall) । ২০০০ সালের দিকে এক বৌদ্ধ ধ্যান সন্ন্যাসী এখানে ধ্যান শুরু করেন, পরবর্তীতে স্থানীয় মানুষের মাধ্যমে এই ঝর্ণা সকলের কাছে পরিচিতি পায়।

দিল্লির আখড়া
কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে প্রায় সাড়ে চারশত বছরের পুরনো দিল্লির আখড়া (Dhillir Akhra) অন্যতম। কিশোরগঞ্জের মনোরম একটি হাওরাঞ্চল মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নে দিল্লির আখড়ার অবস্থান। নাম দিল্লির আখড়া হলেও বাস্তবে ভারতে দিল্লির সাথে এই আখড়ার আলাদা কোন সম্পর্ক নেই। জানা যায়, দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে আধ্যাত্মিক সাধু নারায়ন গোস্বামী এই আখড়াটি স্থাপন করেন। আখড়ার ভেতরে ধর্মশালা, নাটমন্দির, অতিথিশালা, পাকশালা, বৈষ্ণবদেব থাকার ঘর, সাধক নারায়ন গোস্বামী এবং তাঁর অন্যতম শিষ্য গঙ্গারাম গোস্বামীর সমাধি রয়েছে।

দর্শনা
চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরীর নাম দর্শনা (Darshana)। ১৮৬২ সালের ১৫ই নভেম্বর দেশের প্রথম রেললাইনের কাজ শুরু হয় এই দর্শনাতে। সীমান্তবর্তী আন্তর্জাতিক মানের দর্শনা রেলওয়ে ষ্টেশন এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এখান থেকেই মৈত্রী ট্রেন সরাসরি ভারতে যাতায়াত করে।

ডিসি পার্ক
২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ফৌজদার হাট বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এর কাছে একটি সরকারি জমি দখলমুক্ত করে করে সেখানে একটি বিশেষ বাগান তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ করে দুবাইয়ের মিরাকেল গার্ডেন এর আদলে তৈরি করা হয় ফুলের সাম্রাজ্য। যা বর্তমানে চট্টগ্রাম ডিসি পার্ক (DC Park Chittagong) নামে পরিচিতি।

মানিকছড়ি ডিসি পার্ক
খাগড়াছড়ি মানেই পাহাড় আর অরণ্যের হাতছানি। কিন্তু এই পরিচিত ছবির বাইরে এমন কিছু জায়গা আছে, যেগুলো নীরবে নিজেদের বৈশিষ্ট্য তৈরি করছে। মানিকছড়ি উপজেলার ডলু মৌজায় অবস্থিত মানিকছড়ি ডিসি পার্ক (Manikchari DC Park) ঠিক তেমনই এক উদাহরণ। যেখানে প্রকৃতি, পরিকল্পনা আর ভবিষ্যৎ পর্যটনের সম্ভাবনা একসঙ্গে মিলেছে।

দিব্যক জয়স্তম্ভ
নওগাঁ জেলা থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে পত্নীতলা উপজেলার দিবর দীঘির মাঝখানে বাঙ্গালী আভিজাত্যের প্রতীক দিব্যক জয়স্তম্ভ (Dibar Jayastambha) বা দিবর স্তম্ভ অবস্থিত। গোলাকৃতি দিবর দীঘিতে অবস্থিত আটকোণ বিশিষ্ট গ্রানাইড পাথরের এই জয়স্তম্ভটির মোট উচ্চতা ৩১ ফুট ৮ ইঞ্চি, যার ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি পানির নিচে এবং ২৫ ফুট ৫ ইঞ্চি পানির উপরে দৃশ্যমান। স্তম্ভতির প্রতিটি কোণের পরিধি ১ ফুট সাড়ে ৩ ইঞ্চি। দিব্যক জয়স্তম্ভের উপরের অংশটি খাঁজ কাটা মুকুটাকৃতির নানা কারুকার্যে সুশোভিত। চারপাশের মনোরম পরিবেশে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন এই জয়স্তম্ভটি স্থানীয়দের কাছে একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

শালবন বৌদ্ধ বিহার
শালবন বৌদ্ধ বিহার (Shalbon Buddha Bihar) কুমিল্লা জেলার কোটবাড়িতে অবস্থিত, যা বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন হিসাবে সুপরিচিত। তৎকালীন সময় এই অঞ্চলে শাল ও গজারির বন ছিল বলে বিহারটি শালবন বিহার নামে পরিচিতি লাভ করে। শালবন বিহারটি অনেকটা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মতো তবে আকারের দিক দিয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার থেকে কিছুটা ছোট। কোটবাড়ি এলাকায় ১৮৭৫ সালে রাস্তা তৈরির সময় একটি ইমারতের ধ্বংশাবশেষ সকলে প্রত্যক্ষ করেন। তখন এটিকে প্রাচীন দূর্গের অংশ হিসাবে ধারণা করা হচ্ছিল। ১৯১৭ সালে ঢাকা জাদুঘরের অধ্যক্ষ নলিনী কান্ত ভট্টাশালী শালবন বৌদ্ধ বিহারটিকে পর্যবেক্ষন করে পট্টিকেরা নগর বলে মতামত পোষণ করেন। তবে ধারণা করা হয় এই বিহারটি ৭ম শতাব্দীর শেষ সময়ে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব নির্মাণ করেন। বিভিন্ন সময় শালবন বিহারের ছয়টি স্থাপনা নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণের কথা জানা যায়। মনে করা হয়, ৮ম শতাব্দীর মধ্যে ৩য় বারের মত কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণ ও বিহারের সার্বিক সংস্কার হয়। পর্যায়ক্রমে ৮ম ও ৯ম শতাব্দীতে ৪র্থ ও ৫ম বারের মত বিহারটি সংস্কার করা হয়।

ঢাকেশ্বরী মন্দির
ঢাকেশ্বরী মন্দির ( Dhakeshwari Temple ) বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি ঐতিহাসিক পুণ্যস্থান এবং জাতীয় মন্দির। ঢাকেশ্বরী শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘ঢাকার ঈশ্বরী’। আবার অনেকে মনে করেন, এই ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নাম থেকেই ঢাকার নামকরণ করা হয়েছে।