দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

মণিপুরী পল্লী
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য উপজাতীয় নৃ-গোষ্ঠী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তেমনি মৌলভীবাজার শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে শ্রীমঙ্গলের কমলগঞ্জ উপজেলায় আদমপুর ইউনিয়নে মনিপুরী সম্প্রদায়ের কাপড়ের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মণিপুরী পল্লী (Monipuri Village)। স্থানীয় মনিপুরীরা এখানে নিজেরা কাপড়ের বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে। দেশ বিদেশে মণিপুরী পণ্য সমূহের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এছাড়া নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কারণেও মনিপুরীদের সুখ্যাতি ছড়িয়ে আছে বিশ্বব্যাপী।

ধরন্তি হাওর
হাওরের কথা আসলেই আমাদের মনে সুনামগঞ্জ, সিলেট কিংবা কিশোরগঞ্জের ছবি ভেসে উঠে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সৌরভ বিলিয়ে থাকা হাওর সম্পর্কে অনেকেরই তেমন জানাশুনা নেই। ধরন্তি হাওর (Dhoronti Haor) তেমনি এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধারণকারী জলাভূমির নাম। নৈসর্গিক ধরন্তি হাওরের পূর্ব দিকে তিতাস নদী এবং পশ্চিমে মেঘনা নদী সহ ছোট বড় আরও বেশকিছু খাল-বিল রয়েছে।

মুনলাই পাড়া
বান্দরবানের রুমা উপজেলার বগালেক বা কেওক্রাডং যাওয়ার পথে পাহাড়ি চূড়ায় অবস্থিত একটি গ্রাম মুনলাই পাড়া। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত বম জনগোষ্ঠীর এই গ্রামটি বর্তমানে বাংলাদেশের পর্যটনের এক অনন্য মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চন্দ্রনাথ পাহাড় ও মন্দির
চন্দ্রনাথ পাহাড় (Chandranath Hill) হিন্দু ধর্মালম্বীদের তীর্থস্থান আর সুবিশাল সমুদ্র অপরূপ প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যের লীলাভূমি সীতাকুণ্ডকে করেছে অনন্য। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের অবস্থান সীতাকুণ্ড বাজার থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার পূর্বে দিকে। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে পায়ে হেঁটে কিংবা রিক্সায় করে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে নিচের গেটের কাছে যাওয়া যায়। তবে পায়ে হেঁটে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যাবার পথে হিন্দুদের বেশ কিছু ধর্মীয় স্থাপনা ও অধিবাসীদের জীবন যাত্রার চিত্র দেখে যেতে পারবেন। এছাড়াও পাহাড়ের একটু গভীরে গেলে চোখে পড়বে জুমক্ষেত এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চাষ করা ফুলের বাগান। চন্দ্রনাথ পাহাড় চূড়াতেই চন্দ্রনাথ মন্দির (Chandranath Temple) অবস্থিত।

আরশিনগর হলিডে রিসোর্ট
ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে গাজীপুর জেলার ভাওয়ালে গ্রামীণ প্রাকৃতিক পরিবেশে আরশিনগর হলিডে রিসোর্ট এন্ড পিকনিক স্পট (Arshinagar Holiday Resort) গড়ে তোলা হয়েছে। নাগরিক জীবনের অবসরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত আরশিনগর হলিডে রিসোর্টে রয়েছে সবুজ উদ্যান, খেলার মাঠ, সুইমিং পুল, রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট, পিকনিক, বোটিং, ফিশিং, ক্যাম্প ফায়ার, ট্র্যাকিং, তাঁবু এবং বারবিকিউয়ের ব্যবস্থা।

আলতাদীঘি
নওগাঁ জেলাস্থ ধামইরহাট উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে আলতাদীঘি (Alta Dighi) অবস্থিত। ধামইরহাট হতে গ্রামীণ আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে যতই এগিয়ে যাওয়া যায় ততই গাছগাছালি ঘেরা সবুজ প্রকৃতির মুগ্ধতাকে উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারিভাবে সংরক্ষিত শালবন এবং লাল মাটির পাহাড়ি এলাকার মতো বনের উঁচু-নিচু ট্রেইলে হাঁটলে গ্রাম বাংলার এক বিচিত্র রূপের সৌন্দর্য আহরণ করতে পারবেন।

নলডাঙ্গা রাজবাড়ি রিসোর্ট
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামে নলডাঙ্গা রাজবাড়ি রিসোর্ট (Naldanga Rajbari Resort) অবস্থিত। মোগল সম্রাট আকবরের শাসন আমলে নলডাঙ্গা গ্রাম মোহাম্মদ শাহী পরগনার রাজধানী হিসাবে সুপরিচিত ছিল। নলডাঙ্গা রাজবাড়ির সর্বশেষ রাজার নাম প্রমথ ভূষণ রায় বাহাদুর। বর্তমানে কারুকার্যময় রাজপ্রাসাদ না থাকলেও নলডাঙ্গা রাজবাড়ির ৭টি মন্দির কালের সাক্ষী হিসাবে টিকে আছে।

বোটানিক্যাল গার্ডেন, ময়মনসিংহ
সবুজে ঢাকা শান্ত নিরিবিলি স্থান হিসাবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রায় ২৫ একর জায়গা জুড়ে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংগ্রহ নিয়ে ১৯৬৩ সালে বোটানিক্যাল গার্ডেন (Botanical Garden) প্রতিষ্ঠা করা হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা বোটানিক গার্ডেনস কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল (বিজিসিআই) কতৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের প্রথম বোটানিক্যাল গার্ডেনে ১০০০টি বড়, ১২৭৮টি মাঝারি এবং ৪৪৬৭টি ছোট বৃক্ষ সহ প্রায় ৬০০টি বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এদের মধ্যে গুটগুটিয়া, আফ্রিকান টিউলিপ, কাইজেলিয়া, স্বর্ণঅশোক, কুম্ভি, নাগেশ্বরচাপা, বুধানারিকেল, পাটেনজাবা, পাহাড়ি কাশ, কাইকা, সিন্দুরি, বিক্সা চান্দুল, এপিকাক প্রভৃতি কালাহুজা, প্যাশন ফ্রুট, ডেরিস, কালোমেঘ, মিছরিদানা, নিলকান্ত, শতমূলী, স্বর্পগন্ধা, তালমুলি, হানি সাকল, বানকলা, হলুদ কাঞ্চন, শম্ভুকাস, অনন্ত লতা, খামি, কুলানজান, কানথাকাশ, সুলতানচাপা, কাইকা, কানসুনালু, লেতকানথা, পাটিপাটা, নাক্সভোমিকা, নদাজাম, তিথিজাম, আজুলি, শাল, খারাজুরা, আরুসা, পানিকলমি, খুসখের, এলেনা, চাগাল্লাদি, মোথা, আভুকাদো, ডুরিয়ান, কোকুয়া, সাতকরা, বরমালা, মেইলাম, স্বর্ণ অশোক, রাজ অশোক, ব্রানফেলসিয়া, ক্যাকটাস, লালচিতা, নিলচিতা, গালমরিচ, মাসুকদা, গানিয়ারি, গ্রিলিরিচিডা, ফার্ন হরিণসিংঙ্গা, আতমরা, বেরিয়া, বেহেলাতদ, ফার্ন কড়ই, গার্ডেনিয়া, ব্যামবুস, রনডেলিটিয়া, টাবেবুইয়া, ডুমবিয়া, বনজারি, জয়ত্রী, জয়পাল, নাগনাথ, জাচারান্দা, বন্য খেজুর, স্কাফেলারা, রাভেনিয়া, জাকুটিভাসা, ভেরিগেটেট মন্ডার, পারসিমন, হারগুজা কান্তাপ্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

নীলগিরি
নীলগিরি (Nilgiri) কে বলা হয় বাংলার দার্জিলিং। বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে নীলগিরি অবস্থান। নীলগিরি পাহাড় চূড়াতেই রয়েছে সেনাবাহিনী পরিচালিত বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটক কেন্দ্র গুলোর একটি নীলগিরি পর্যটক কেন্দ্র। এখানে দীগন্ত জুড়ে সবুজ পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি যে কাউকে এর রূপ দিয়ে বিমোহিত করে রাখবে। যদি সমুদ্র পৃষ্ট থেকে ২২০০ ফুট উচ্চতায় মেঘ ছোঁয়ার ইচ্ছে থাকে তাহলে নীলগিরি আপনার সেই ইচ্ছে পূরণ করবে।

দুবলার চর
দুবলার চর (Dublar Char) সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের দক্ষিণ দিকে, হিরণ পয়েন্ট থেকে দক্ষিণ-পূর্বে এবং কটকার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি ছোট্ট সুন্দর দ্বীপ। দুবলার চর হিন্দুধর্মালম্বীদের পূণ্যস্নান, রাসমেলা এবং হরিণের জন্য সর্বাধিক সুপরিচিত। কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝখানে জেগে উঠেছে বিচ্ছিন্ন এই দুবলার চর।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা হাউজ
কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁও এলাকায় ঐতিহাসিক নওয়াব ফয়জুন্নেসা হাউজ (Nawab Faizunnesa House) নামের জমিদার বাড়ির অবস্থান। জমিদার গাজী চৌধুরীর সাথে বিয়ে হবার কিছুদিন পর বিবাহ বিচ্ছেদ হলে দেনমোহরের প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ১৮৭১ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী এই বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন।

মির্জাপুর শাহী মসজিদ
মির্জাপুর শাহী মসজিদ (Mirzapur Shahi Masjid) বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে। মির্জাপুর শাহী মসজিদটি প্রায় সাড়ে ৩০০ বছরের পুরনো। ঢাকায় অবস্থিত হাইকোর্ট মসজিদের নকশার সাথে মির্জাপুর শাহী মসজিদের নকশার অনেক মিল চোখে পড়ে।

ইদ্রাকপুর কেল্লা
ইদ্রাকপুর কেল্লা ( Idrakpur Fort ) মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরে অবস্থিত মোঘল স্থাপত্যের একটি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালিন বাংলার সুবাদার ও সেনাপতি মীর জুমলা ইছামতি নদীর তীরে ইদ্রাকপুর নামক স্থানে এই কেল্লাটি নির্মাণ করেন। ৮২ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৭২ মিটার প্রস্থের ইটের তৈরি ইদ্রাকপুর কেল্লাটি মগ জলদস্যু এবং পর্তুগিজদের হাত থেকে রক্ষার জন্য নির্মাণ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়া কোদালা চা বাগান
১৮৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কোদালা চা বাগান (Kodala Tea Estate) বাংলাদেশের প্রথম এবং শীর্ষস্থানীয় চা বাগানের মধ্যে অন্যতম। সবুজ পাহাড় আর প্রাকৃতিক নিঃস্বর্গে সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া সদর উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কোদালা ইউনিয়নে এই ঐতিহ্যবাহী কোদালা চা বাগানের অবস্থান। চা বাগানের পাশে দিয়ে রূপের মাধুরী ছড়িয়ে বয়ে গেছে লুসাই কন্যা কর্ণফুলী। চা শ্রমিকদের কর্মতৎপরতা, পাখির কিচিরমিচির শব্দ এবং ব্রিটিশ আমলের বাংলো প্রভৃতি যেন ১০০ বছর আগের কোন ঘটনা ধারাবাহিকভাবে পুনরাবৃত্তি করে চলেছে।

ষাট গম্বুজ মসজিদ
ষাট গম্বুজ মসজিদ (Shaat Gombuj Mosque) খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। মসজিদটির কোন শিলালিপি না থাকায় ষাট গম্বুজ মসজিদের প্রতিষ্টাতা ও নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মসজিদের স্থাপত্যশৈলী দেখে খান-ই-জাহান ১৫০০ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এ মসজিদে ব্যবহৃত পাথরগুলো রাজমহল থেকে আনা হয়েছিলো। ষাট গম্বুজ মসজিদটি বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। ইউনেস্কো ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

কচিখালী সমুদ্র সৈকত
সুন্দরবনের কটকা নদীর পূর্ব দিকে অবস্থিত প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত কচিখালী সমুদ্র সৈকত (Kochikhali Sea Beach) একটি চমৎকার দর্শনীয় স্থান। সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি এখানে আছে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং পর্যটন কেন্দ্র। সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের এই সৈকতটিকে বলা হয় ভয়ংকর সুন্দর! কারণ সৈকতে পৌঁছাতে হলে বঙ্গোপসাগরের মোহনার খরস্রোতা কটকা নদী ও সুন্দরবনের ভিতরের প্রায় ৩ কিলোমিটার বুনো পথ পাড়ি দিতে হয়। এই পথে প্রায়ই হরিনের পাল, বন্য শুকর এবং বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যায়।