দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

পায়রা সমুদ্রবন্দর
পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে কলাপাড়া উপজেলার রাবনাবাদ নদী ও আন্ধারমানিক নদীর মোহনায় পায়রা সমুদ্র বন্দর (Payra Sea Port) অবস্থিত। ২০১৩ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই বন্দরটি বর্তমানে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে প্রায় ৬০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই সামুদ্রিক বন্দরটি দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদেশীয় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আপনি যদি শিল্পায়ন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধন দেখতে চান তবে পায়রা বন্দর হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণের আদর্শ গন্তব্য।

চন্দ্রমহল ইকো পার্ক
চন্দ্রমহল ইকো পার্ক (Chandra Mahal Eco Park) বাগেরহাট জেলা সদরের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পাশে রঞ্জিতপুর গ্রামে অবস্থিত একটি দৃষ্টিনন্দন ইকো পার্ক ও জনপ্রিয় পিকনিক স্পট। এই পার্কের মূল আকর্ষণ হলো ভারতের আগ্রার তাজমহলের আদলে তৈরি একটি চমৎকার স্থাপত্য, যা স্থানীয় ও পর্যটকদের কাছে ‘চন্দ্রমহল’ নামে পরিচিত। ২০০২ সালে সালাউদ্দিন আহমেদ সেলিম হুদা প্রায় ৩০ একর জায়গাজুড়ে এই ইকো পার্কটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার স্ত্রী নাসিমা হুদা চন্দ্রার নামানুসারে এর নামকরণ করেন ‘চন্দ্রমহল’।

রামসাগর দীঘি
রামসাগর দীঘি (Ramsagar Dighi) মানুষের খনন করা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দিঘী যা দিনাজপুর (Dinajpur) জেলার তেজপুর গ্রামে অবস্থিত। রামসাগর দীঘির আয়তন প্রায় ৪,৩৭,৪৯২ বর্গমিটার এবং গভীরতা গড়ে প্রায় ১০ মিটার। দীঘির পশ্চিম পাড়ে একটি ঘাট রয়েছে। দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে রামসাগর দীঘি অবস্থিত। রামসাগর দীঘি কেন্দ্র করে একটি মনোরম রামসাগর জাতীয় উদ্যান (Ramsagar National Park) গড়ে উঠেছে। এছাড়া পূর্ণ চাঁদের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে রামসাগরের পারে ক্যাম্পিং খুবই মোহনীয় একটি বিষয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, পলাশী যুদ্ধের কিছুকাল পূর্বে রাজা রামনাথ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর পানির চাহিদা পূরণের জন্য এই দীঘিটি খনন করান। রাজা রামনাথের নাম থেকেই দীঘিটি রামসাগর দীঘি (Ramsagar Dighi) নামে পরিচিতি লাভ করে। চারপাশে সবুজ বৃক্ষময় রামসাগর দীঘিটি বর্তমানে পর্যটন বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। রামসাগর দীঘির সৌন্দর্যবর্ধন এবং পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় করার লক্ষ্যে একটি আধুনিক রেস্ট হাউজ নির্মাণ করেছে।

ছোট সোনা মসজিদ
রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন হিসাবে আখ্যায়িত ছোট সোনা মসজিদ (Choto Sona Mosque) অবস্থিত। ছোট সোনা মসজিদের প্রধান প্রবেশ পথের উপরে স্থাপিত শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ সালের মধ্যে সুলতান হুসাইন শাহর শাসনকালে জনৈক মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী ছোট সোনা মসজিদটি নির্মাণ করেন। প্রচলিত আছে, একসময় মসজিদের গম্বুজগুলো সোনা দিয়ে মোড়ানো ছিল এবং সে কারণেই মসজিদটি সোনা মসজিদ হিসাবে পরিচিতি পায়। আর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছে ভারতে আয়তনে বড় আরেকটি সোনা মসজিদ থাকায় এই মসজিদটি সকলের কাছে ছোট সোনা মসজিদ নামে প্রসিদ্ধ হয়ে উঠে। মসজিদের সামনের আঙ্গিনা পশ্চিম থেকে পূর্বে ৪২ মিটার এবং দক্ষিণ থেকে উত্তরে ৪৩.৫ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

নীলকুঠি ও ডিসি ইকোপার্ক
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়নের ভাটপাড়ায় ঐতিহাসিক ভাটপাড়া নীলকুঠি ( Bhatpara Neelkuthi ) অবস্থিত। ১৮৫৯ সালে নির্মিত ভাটপাড়া নীলকুঠি তৈরীতে ইট, চুন-শুরকি, লোহার বীম এবং ইটের টালি ব্যবহার করা হয়েছে। কাজলা নদীর তীরে অবস্থিত ব্রিটিশ বেনিয়াদের নির্যাতনের সাক্ষী ভাটপাড়া নীলকুঠিরের দৈর্ঘ্য ৮০ ফুট এবং প্রস্থ ৭০ ফুট। কুঠিবাড়ির মূল ভবন ছাড়াও বর্বরতার ইতিহাস মনে করিয়ে দিতে আজো জরাজীর্ণ অবস্থায় টিকে আছে জেলখানা, মৃত্যুকূপ এবং ঘোড়ার আস্তাবল।

পুলিশ পার্ক
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে মাথাভাঙ্গা তীরে পুলিশ পার্ক (Police Park) অবস্থিত। পুলিশ সুপার রোডের এই বিনোদন কেন্দ্রটি ইতিমধ্যে চুয়াডাঙ্গা শহরের ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মনোরম ও নিরিবিলি পরিবেশের পুলিশ পার্কে বিনোদনের জন্য আছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইড, উন্মক্ত মঞ্চ, মিনি চিড়িয়াখানা সহ সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা।

আপসাইড ডাউন
আপসাইড ডাউন গ্যালারী ঢাকার লালমাটিয়ায় অবস্থিত একটি অনন্য ইলিউশনাল আর্ট গ্যালারী। এখানে প্রবেশ করলে মনে হবে আপনি উল্টো রাজ্যে চলে এসেছেন। গ্যালারীর প্রতিটি কক্ষের আসবাবপত্র সিলিং-এর সাথে যুক্ত, যা দর্শনার্থীদের জন্য একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

আদমপুর বন
আদমপুর বন (Adampur Forest Beat), যা কাউয়ারগলা বন নামেও পরিচিত। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের একটি বিট। প্রায় ১৩,০৮০ একর আয়তনের এই বনটি রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের চারটি বিটের মধ্যে সবচেয়ে বড়। কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমানা ঘেঁষে এই বনটির অবস্থান।

মুনলাই পাড়া
বান্দরবানের রুমা উপজেলার বগালেক বা কেওক্রাডং যাওয়ার পথে পাহাড়ি চূড়ায় অবস্থিত একটি গ্রাম মুনলাই পাড়া। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত বম জনগোষ্ঠীর এই গ্রামটি বর্তমানে বাংলাদেশের পর্যটনের এক অনন্য মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাইবান্ধা পৌর পার্ক
গাইবান্ধা পৌর পার্ক, গাইবান্ধা পৌরসভার নিয়ন্ত্রনাধীন সামাজিক বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে অতি সুপরিচিত একটি উন্মুক্ত স্থান। গাইবান্ধা জেলা শহরে বসবাসকারীদের চিত্তবিনোদনের কথা বিবেচনা করে ১৯২৭ সালে জমিদার গোবিন্দ লাল রায়ের দান করা ১ একর ৭ শতক জমিতে গাইবান্ধা পৌর পার্ক (Gaibandha Pouro Park) যাত্রা শুরু করে। একটি পুকুরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা পার্কে বিভিন্ন রকমের ফুল, ফল ও বনজ গাছ রয়েছে। আর পুকুরের মাঝখানে পানির ফোয়ারা এবং এক পাশে সান বাধানো ঘাট আছে। শান্ত সুন্দর এই পুকুরের পাড়ে বসে নিশ্চিন্তে একটি বিকেল কাটিয়ে দেয়া যায় তাই বেলা বাড়ার সাথে সাথে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

মায়াদ্বীপ
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বারদী ইউনিয়নে অবস্থিত মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠা ত্রিভুজ আকৃতির চরের নাম মায়াদ্বীপ (Maya Dwip)। সবুজে ঘেরা মায়াদ্বীপ আপনার মনকে এক অপার্থিব প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেবে। খোলা প্রান্তর, নদীর ঢেউয়ের সমান্তরালে বয়ে চলা বাতাস আর মাতাল করা একটি দুপুর সব মিলিয়ে এই চর যেন সত্যিই মায়ায় ঘেরা জাদুপুরী।

মণিপুরী পল্লী
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য উপজাতীয় নৃ-গোষ্ঠী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তেমনি মৌলভীবাজার শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে শ্রীমঙ্গলের কমলগঞ্জ উপজেলায় আদমপুর ইউনিয়নে মনিপুরী সম্প্রদায়ের কাপড়ের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মণিপুরী পল্লী (Monipuri Village)। স্থানীয় মনিপুরীরা এখানে নিজেরা কাপড়ের বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে। দেশ বিদেশে মণিপুরী পণ্য সমূহের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এছাড়া নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কারণেও মনিপুরীদের সুখ্যাতি ছড়িয়ে আছে বিশ্বব্যাপী।

সুখিয়া ভ্যালি
সুখিয়া ভ্যালি (Sukhiya Valley) পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলার একটি পর্যটন স্পট। যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। সুখিয়া ভ্যালি থেকে সকালের সূর্যোদয়, চারপাশে সবুজ পাহাড় ও মাতামুহুরি নদীর দৃশ্য ও বিকেলের সূর্যাস্ত, যেকোন সময় পর্যটককে মুগ্ধ করে।

দুবলার চর
দুবলার চর (Dublar Char) সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের দক্ষিণ দিকে, হিরণ পয়েন্ট থেকে দক্ষিণ-পূর্বে এবং কটকার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি ছোট্ট সুন্দর দ্বীপ। দুবলার চর হিন্দুধর্মালম্বীদের পূণ্যস্নান, রাসমেলা এবং হরিণের জন্য সর্বাধিক সুপরিচিত। কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝখানে জেগে উঠেছে বিচ্ছিন্ন এই দুবলার চর।

চা বাগান
চা-বাগানের জন্য বিখ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলকে বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী বলা যেতে পারে। মৌলভীবাজার জেলায় ৯২ টির মত চা বাগান রয়েছে। ৪৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের শ্রীমঙ্গলের চা বাগানের নজরকাড়া সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন অনেক পর্যটক আসেন। মাইলের পর মাইল পর্যন্ত চা বাগান দেখে পাহাড়ের ঢালে সবুজ গালিচা বলে মনে হয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নত মানের চা শ্রীমঙ্গলেই উৎপন্ন হয়ে।

ধরন্তি হাওর
হাওরের কথা আসলেই আমাদের মনে সুনামগঞ্জ, সিলেট কিংবা কিশোরগঞ্জের ছবি ভেসে উঠে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সৌরভ বিলিয়ে থাকা হাওর সম্পর্কে অনেকেরই তেমন জানাশুনা নেই। ধরন্তি হাওর (Dhoronti Haor) তেমনি এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধারণকারী জলাভূমির নাম। নৈসর্গিক ধরন্তি হাওরের পূর্ব দিকে তিতাস নদী এবং পশ্চিমে মেঘনা নদী সহ ছোট বড় আরও বেশকিছু খাল-বিল রয়েছে।