দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

মহারাজার দিঘী
পঞ্চগড় জেলা সদর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অমরখানা ইউনিয়নে অবস্থিত এক ঐতিহাসিক পুকুরের নাম মহারাজার দীঘি (Maharajar Dighi)। ধারণা করা হয়, ভিতরগড় নামের ১৫০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক এক রাজ্যে মহারাজা পৃথু রাজত্ব করাকালীন এই দীঘিটি খনন করেন।

ড্রিম হলিডে পার্ক
নরসিংদী জেলার পাঁচদোনার চৈতাবাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ড্রিম হলিডে পার্ক (Dream Holiday Park) অবস্থিত। প্রায় ৬০ একর জমির ওপর নির্মিত পার্কটিতে বিভিন্ন ধরনের ওয়াটার বাম্পার কার, রাইডার ট্রেন, বাইসাইকেল, রকিং বর্স, স্পিডবোট, সোয়ানবোট, জেড ফাইটার, নাগেট ক্যাসেল, এয়ার বাইসাইকেল রয়েছে।

মারায়ন তং
বান্দরবান জেলার আলীকদম থানার মিরিঞ্জা রেঞ্জে অবস্থিত একটি পাহাড়ের নাম মারায়ন তং (Marayan Dong)। এই পাহাড় আরও কয়েকটি নামে পরিচিত যেমন; মারায়ান তং, মারায়ং তং, মেরাই থং জাদি, মারাইং ডং ইত্যাদি। প্রায় ১৬৪০ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়ের চূড়ায় আছে একটি বৌদ্ধ উপাসনালয়। খোলা প্রকৃতির মাঝে বৌদ্ধের বিশাল মূর্তি এই জায়গাটিকে আরও গাম্ভির্যময় করে তোলেছে। দিগন্তজোড়া পাহাড় আর নিচে সাপের মতো বয়ে চলা মাতামুহুরী নদী, ফসলের ক্ষেত সবকিছু মিলিয়ে এ যেন এক কল্পনার রাজ্য।

শামলাপুর সমুদ্র সৈকত
শামলাপুর সমুদ্র সৈকত দেখতে হলে টেকনাফের কাছে বাহারছড়া ইউনিয়নে যেতে হবে। সবুজ ঝাউবন, মাছ ধরার নৌকা এবং জেলেদের ব্যস্ততা ছাড়া এখানে তেমন মানুষজনের দেখা মিলে না। আর এই নির্জনতাই ভ্রমণপ্রিয় মানুষকে শামলাপুর সমুদ্র সৈকতের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে। দৃষ্টিনন্দন এই সমুদ্র সৈকতটি বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত নামেও পরিচিত।

দর্শনা
চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরীর নাম দর্শনা (Darshana)। ১৮৬২ সালের ১৫ই নভেম্বর দেশের প্রথম রেললাইনের কাজ শুরু হয় এই দর্শনাতে। সীমান্তবর্তী আন্তর্জাতিক মানের দর্শনা রেলওয়ে ষ্টেশন এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এখান থেকেই মৈত্রী ট্রেন সরাসরি ভারতে যাতায়াত করে।

ডিসি পার্ক
২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ফৌজদার হাট বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এর কাছে একটি সরকারি জমি দখলমুক্ত করে করে সেখানে একটি বিশেষ বাগান তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ করে দুবাইয়ের মিরাকেল গার্ডেন এর আদলে তৈরি করা হয় ফুলের সাম্রাজ্য। যা বর্তমানে চট্টগ্রাম ডিসি পার্ক (DC Park Chittagong) নামে পরিচিতি।

মানিকছড়ি ডিসি পার্ক
খাগড়াছড়ি মানেই পাহাড় আর অরণ্যের হাতছানি। কিন্তু এই পরিচিত ছবির বাইরে এমন কিছু জায়গা আছে, যেগুলো নীরবে নিজেদের বৈশিষ্ট্য তৈরি করছে। মানিকছড়ি উপজেলার ডলু মৌজায় অবস্থিত মানিকছড়ি ডিসি পার্ক (Manikchari DC Park) ঠিক তেমনই এক উদাহরণ। যেখানে প্রকৃতি, পরিকল্পনা আর ভবিষ্যৎ পর্যটনের সম্ভাবনা একসঙ্গে মিলেছে।

দিব্যক জয়স্তম্ভ
নওগাঁ জেলা থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে পত্নীতলা উপজেলার দিবর দীঘির মাঝখানে বাঙ্গালী আভিজাত্যের প্রতীক দিব্যক জয়স্তম্ভ (Dibar Jayastambha) বা দিবর স্তম্ভ অবস্থিত। গোলাকৃতি দিবর দীঘিতে অবস্থিত আটকোণ বিশিষ্ট গ্রানাইড পাথরের এই জয়স্তম্ভটির মোট উচ্চতা ৩১ ফুট ৮ ইঞ্চি, যার ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি পানির নিচে এবং ২৫ ফুট ৫ ইঞ্চি পানির উপরে দৃশ্যমান। স্তম্ভতির প্রতিটি কোণের পরিধি ১ ফুট সাড়ে ৩ ইঞ্চি। দিব্যক জয়স্তম্ভের উপরের অংশটি খাঁজ কাটা মুকুটাকৃতির নানা কারুকার্যে সুশোভিত। চারপাশের মনোরম পরিবেশে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন এই জয়স্তম্ভটি স্থানীয়দের কাছে একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

ঢাকেশ্বরী মন্দির
ঢাকেশ্বরী মন্দির ( Dhakeshwari Temple ) বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি ঐতিহাসিক পুণ্যস্থান এবং জাতীয় মন্দির। ঢাকেশ্বরী শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘ঢাকার ঈশ্বরী’। আবার অনেকে মনে করেন, এই ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নাম থেকেই ঢাকার নামকরণ করা হয়েছে।

ধানমন্ডি লেক
রাজধানী ঢাকার নাগরিক কোলাহলের ভেতরে অবস্থিত ধানমন্ডি লেক ( Dhanmondi Lake ) যেন এক মুঠো প্রকৃতির স্পন্দন। ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থান বলেই লেকটি ধানমন্ডি লেক নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। সবুজ গাছ আর জলের অপূর্ব মিতালী ধানমন্ডি লেককে সব বয়সী মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তাইতো প্রিয়জনকে নিয়ে হোক কিংবা প্রাণবন্ত আড্ডার বিকেল ধানমন্ডি লেক মুখর থাকে দর্শনার্থীদের সরব পদচারনায়।

দিল্লির আখড়া
কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে প্রায় সাড়ে চারশত বছরের পুরনো দিল্লির আখড়া (Dhillir Akhra) অন্যতম। কিশোরগঞ্জের মনোরম একটি হাওরাঞ্চল মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নে দিল্লির আখড়ার অবস্থান। নাম দিল্লির আখড়া হলেও বাস্তবে ভারতে দিল্লির সাথে এই আখড়ার আলাদা কোন সম্পর্ক নেই। জানা যায়, দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে আধ্যাত্মিক সাধু নারায়ন গোস্বামী এই আখড়াটি স্থাপন করেন। আখড়ার ভেতরে ধর্মশালা, নাটমন্দির, অতিথিশালা, পাকশালা, বৈষ্ণবদেব থাকার ঘর, সাধক নারায়ন গোস্বামী এবং তাঁর অন্যতম শিষ্য গঙ্গারাম গোস্বামীর সমাধি রয়েছে।

ধুপপানি ঝর্ণা
রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ওড়াছড়িতে গেলে দেখা মিলে অনিন্দ্য সুন্দর ধুপপানি ঝর্ণা (Dhuppani Waterfall) । ২০০০ সালের দিকে এক বৌদ্ধ ধ্যান সন্ন্যাসী এখানে ধ্যান শুরু করেন, পরবর্তীতে স্থানীয় মানুষের মাধ্যমে এই ঝর্ণা সকলের কাছে পরিচিতি পায়।

সোনাবাড়িয়া মঠবাড়ি মন্দির
সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলায় অবস্থিত সোনাবাড়িয়া মঠবাড়ি মন্দির বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। সাতক্ষীরা থেকে ২৬ এবং কলারোয়া থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে সোনাবাড়ীয়া গ্রামে সোনাবাড়িয়া মঠবাড়ি মন্দিরটির অবস্থান। স্থনীয়দের কাছে সোনাবাড়ীয়া মঠ এবং শ্যাম সুন্দর মন্দির নামেও পরিচিত। তবে সোনাবাড়িয়া মঠবাড়ি মন্দিরের দেয়ালের শিলালিপিতে শ্যাম সুন্দর নবরত্ন মন্দির নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।

শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত
অথৈ সাগরের ঢেউ ও সবুজ ঝাউবনে ঘেরা বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়ায় অবস্থিত এক দৃষ্টিনন্দন সৈকতের নাম শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত (Shuvo Sondha Sea Beach)। পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মিলনস্থলের বৈচিত্র্য বাড়িয়ে তুলেছে প্রায় ৪ কিলোমিটার লম্বা বেলাভূমির শুভ সন্ধ্যা। সোনাকাটা ইকোপার্ক সংলগ্ন শুভ সন্ধ্যা মূলত নলবুনিয়া এলাকার একটি চর।

ডাইনো পার্ক
কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ির জামমূড়ায় লালমাই পাহাড়ের ১২ একর জায়গা নিয়ে ডাইনোসর পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। সমতল ভূমি থেকে ৪৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত পাখির কলকাকলিতে মুখরিত মনোমুগ্ধকর এই থিম পার্কে হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া ডাইনোসরেরা চলাফেরা করে। ডাইনোসর পার্ক নাম হলেও ডাইনো পার্ক (Dino Park) নামটি ছড়িয়ে গেছে সর্বত্র।

শেরে বাংলা স্মৃতি জাদুঘর
বরিশাল জেলা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের বসতভিটার ২৭ একর জায়গা জুড়ে শেরে বাংলা স্মৃতি জাদুঘর (Sher-e-Bangla Memorial Museum) গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এই জাদুঘরটি চাখার প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর হিসেবে পরিচিত। অবিভক্ত বাংলার প্রধান মুখ্যমন্ত্রী ও অবিস্মরণীয় নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক পিতার মৃত্যুর পর কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসার উদ্দেশ্যে ১৯০১ সালে বরিশাল আগমন করেন। আইন ব্যবসার পাশাপাশি তিনি চাখারের জমিদারিত্বের দেখাশুনা করতেন। ১৯৮৩ সালে সংস্কৃতি বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ইতিহাস ও স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এই জাদুঘর নির্মাণ করা হয়।