দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর
জাতীয় জাদুঘর বাংলাদেশের যুগ যুগ ধরে বেড়ে উঠার সমস্ত স্মৃতি চিহ্ন ধারাবাহিকতার সাথে আগলে রেখে চলেছে। ১৯১৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের একটি কক্ষে ঢাকা জাদুঘর নামে পথ চলা শুরু করে আজকের এই জাতীয় জাদুঘর। তৎকালীন বাংলার গভর্নর লর্ড কার মাইকেল ঢাকা যাদুঘরের উদ্বোধন করেন। ১৯৮৩ সালে ঢাকা জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর (Bangladesh National Museum)।

রূপবান মুড়া
কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে কোটবাড়িতে অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার নাম রূপবান মুড়া (Rupban Mura)। ৯০ দশকে কুমিল্লা-কালিবাজার সড়কের কাছে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের এক অন্যতম এই নিদর্শনটি খনন করা হয়। কথিত আছে, রহিম ও রূপবানের ভালোবাসার এক অন্যতম নিদর্শন এই স্থান। তাদের অসম প্রেমের নানা ঘটনা ও কাহিনী রয়েছে সবুজ প্রকৃতির মাঝে গড়ে উঠা এই ঐতিহাসিক স্থানকে ঘিরে।

রুদ্রকর মঠ
শরীয়তপুর জেলায় অবস্থিত এক ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের নাম রুদ্রকর মঠ (Rudrakar Moth)। শরীয়তপুর জেলার একমাত্র মঠ রুদ্রকর মূলত একটি মন্দির। ধারণা করা হয়, নবাব আলীবর্দী খানের আমল অর্থাৎ ১৩০৫ থেকে ১৩১৫ বঙ্গাব্দে তৎকালীন জমিদার বাবু গুরুচরণ চক্রবর্তী মা রাশমণি দেবীর সমাধিকে অমর করে রাখার জন্য এই মন্দির নির্মাণ করেন। ১৮৯৮ সালে অনুপম স্থাপত্যশৈলীর এই মঠটি পূণনির্মাণ করা হয়।

গোলাপ গ্রাম সাদুল্লাহপুর
ঢাকার কাছে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে সাদুল্লাপুর গ্রাম অবস্থিত। তুরাগ নদীর তীরের সাদুল্লাপুর গ্রামটিই বর্তমানে গোলাপ গ্রাম হিসেবে পরিচিত। যান্ত্রিক জীবনে অল্প সময়ের অবসরে যদি ঢাকার আশেপাশে একদিনের জন্য কোথাও ঘুরতে চান তবে গোলাপ ফুলের রাজ্য থেকে ঘুরে আসতে পারেন। নানা রঙের গোলাপ ফুল দিয়ে ঘেরা সমস্ত সাদুল্লাহপুর গ্রামটিকে একটি বাগান মনে হয়। এখানে সাধারণত মিরান্ডি জাতের গোলাপের চাষ বেশি হয়। গ্রামের বুকের উপর দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তার দুপাশের বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান সারাক্ষণ মোহিত করে রাখবে। সাদুল্লাহপুর পুরো গ্রামে আপনি গোলাপের সৌরভ পাবেন।

বার্গি লেক ভ্যালি
বার্গি লেক ভ্যালি (Bargee Lake Valley) রাঙ্গামাটির আসামবস্তী-কাপ্তাই রোডে অবস্থিত। পাহাড়ের বিলুপ্ত একটি ঐতিহ্যবাহী পাখির নামে পর্যটনকেন্দ্রটির নামকরণ করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা থেকে বার্গি লেক ভ্যালি মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে। বার্গি লেক ভ্যালি রাঙ্গামাটির একটি জনপ্রিয় ইকো-রিসোর্ট এবং পর্যটন স্পট। এখানে পর্যটকেরা নয়নাভিরাম সবুজ প্রাকৃতিক দৃশ্য ও কাপ্তাই লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করে থাকে। পর্যটকদের জন্য এখানে ক্যাম্পিং ও কায়াকিং করার সুবিধা রয়েছে। এছারা রিসোর্টে রয়েছে রাত্রিযাপনের জন্য উন্নত কটেজ, হাউজবোট ও ক্যাম্পিং করার বেবস্থা। ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে থাকতে পারবেন তাঁবুতে। আপনি যদি পরিবার বা বন্ধু বান্ধব নিয়ে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চান তাহলে বার্গি লেক হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণ গন্তব্য।

রিসাং ঝর্ণা
খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার সাপমারা গ্রামে অপূর্ব সুন্দর রিসাং ঝর্ণার অবস্থান। স্থানীয়দের কাছে রিসাং ঝর্ণা (Risang Jorna) ‘সাপ মারা রিসাং ঝর্ণা’ নামে পরিচিত। মারমা শব্দ রিছাং-এর অর্থ কোন উঁচু স্থান হতে জলরাশি গড়িয়ে পড়া। রিছাং ঝর্ণার অপর নাম তেরাং তৈকালাই। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র হতে এই ঝর্ণার দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। আর খাগড়াছড়ি-ঢাকা সড়ক ধরে ১ কিলোমিটার এগিয়ে গিলেই রিসাং ঝর্ণা দেখতে পাওয়া যায়।

ঋজুক ঝর্ণা
বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৬৬ কিলোমিটার এবং রুমা বাজার থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে সাঙ্গু নদীর পাড়ে ঋজুক ঝর্ণা (Rijuk Waterfall) অবস্থিত। নদীপথে রুমা বাজার থেকে থানছি যাওয়ার সময় এই চির তরুণ ঋজুক ঝর্ণার দর্শন মিলে। মার্মা ভাষায় এই ঝর্ণার নাম রী স্বং স্বং। প্রায় ৩০০ ফুট উচু পাহাড় হতে সারা বছর জলধারা বয়ে চলে। আর বর্ষায় স্রোতের তোড় এত বৃদ্ধি পায় যে তখন জলপ্রপাতের কাছে ঘেঁষতে বড় ইঞ্জিনের নৌকা নিয়েও রীতিমত হিমশিম খেতে হয়। বছরজুড়ে বহমান জলের ধারা আর চারপাশের আদিম বুনো সবুজের সৌন্দর্য ঋজুক ঝর্ণাকে দিয়েছে প্রকৃতির এক অপার্থিব নির্মলতা।

রিভেরি হলিডে রিসোর্ট
ঢাকার কাছে নান্দ্যনিক রিসোর্টের জন্য গাজীপুর জেলার রয়েছে বিশেষ সুখ্যাতি। গাজীপুরের ভাওয়াল বনের চারপাশে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে বেশীরভাগ রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। আর এসব রিসোর্টের জনপ্রিয়তা যেকোন দর্শনীয় ভ্রমণ স্থানের চেয়ে কম নয়। গাজীপুরের সালনায় প্রায় ৩ একর জায়গা জুড়ে প্রকৃতি আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় নির্মিত তেমনি এক রিসোর্টের নাম রিভেরি হলিডে রিসোর্ট (Reverie Holiday Resort)। রিভেরি হলিডে রিসোর্টে ডে আউট, হানিমুন, পিকনিক এবং যেকোন কর্পোরেট বা পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সকল সুবিধা রয়েছে।

রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি
রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি (Rayerkathi Jomidar Bari) পিরোজপুর জেলার অন্যতম একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। জেলা সদর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত রায়েরকাঠী জমিদার বাড়িটি প্রায় তিনশত পঞ্চাশ বছরের পুরোনো। এখানে স্থান পেয়েছে রাজভবন, অতিথিশালা, নহবৎখানা, নাট্যশালা এবং মন্দির। এই জমিদার বাড়িতে ছোট বড় প্রায় দুইশত অট্টালিকা ছিলো। যার মধ্যে ৪০ থেকে ৫০টি বিশালাকৃতির অট্টালিকা শুধুমাত্র রাজবাড়ির শোভাবর্ধনের জন্য তৈরী করা হয়েছিল।

রাণী ভবানী নাটোর রাজবাড়ী
প্রাচীন জনপদ নাটোর জেলায় সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত রাণী ভবানী রাজবাড়ী (Rani Bhawani Rajbari) কে বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৬ সালে রাণী ভবানী কেন্দ্রীয় পার্ক হিসাবে ঘোষনা করে। রাণী ভবানী কেন্দ্রীয় পার্কে রয়েছে ৬ টি দীঘি এবং শ্যামসুন্দর, তারকেশ্বর শিব এবং আনন্দময়ী কালিবাড়ি নামের ৩ টি মন্দির, যেগুলাতে এককালে রাজকীয় ভাবে পূজা – আর্চনার আয়োজন করা হত। রা্ণী ভবানী রাজবাড়ি নাটোর রাজবাড়ি (Natore Rajbari) নামেই অধিক পরিচিত।

রায় বাহাদুর শ্রীনাথ রায়ের বাড়ি
মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার শেখের নগর গ্রামে প্রায় দুইশত বছরের পুরনো রায় বাহাদুর শ্রীনাথ রায়ের বাড়ি (Rai Bahadur Srinath Palace) অবস্থিত। ইছামতি নদীর কুল ঘেঁষা শেখেরনগর রায়বাহাদুর ইনস্টিটিউশনে কাছে ছায়া সুনিবির গ্রামে কালের সাক্ষী হয়ে রায় বাহাদুর শ্রীনাথ রায়ের বাড়িটি যেন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন অজানা কথা জানান দিয়ে যাচ্ছে। বর্গাকৃতির নকশার রায়ের বাড়ির দ্বিতল দালান ঘরের দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ২০ ফুট। দ্বিতল ভবনের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের একতলা বিশিষ্ট আরও ৩টি ভবন রয়েছে। রায় বাহাদুর শ্রীনাথ রায়ের বাড়ির পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে আছে দুইটি শানবাধানো ঘাটের পুকুর।

রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদ
রাজা সীতারামের রাজপ্রাসাদ (Raja Sitaram Rajprasad) মাগুরা শহর হতে ১০ মাইল দূরে মহম্মদপুর উপজেলায় অবস্থিত। তৎকালীন সময়ে মহম্মদপুর উপজেলা রাজা সীতারামের রাজধানী ছিল। ১৬৫৮ খ্রীষ্টাব্দে জন্মগ্রহণকারী সীতারামের আদিনিবাস বীরভূম জেলায় এবং তিনি উত্তর রাঢ়ীয় কায়স্থ ছিলেন। রাজা সীতারামের পিতা উদয় নারায়ণ কর্মদক্ষতায় ভূষণা পরগণায় তহশিলদার পদে নিযুক্ত হন। আর ধীরে ধীরে উদয় নারায়ণ তালুক বৃদ্ধি করে রাজায় পরিণত হন, যার কীর্তি মহম্মদপুরে এখনো বিদ্যমান।

বাওয়াছড়া লেক
চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর গ্রামে ছোট কমলদহ বাজারের কাছে বাওয়াছড়া লেক (Bawachhora Lake and Waterfalls) অবস্থিত। ছোট কমলদহ বাজার থেকে লেকে দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার। বারমাসি ছড়ার নিকট অবস্থানের কারণে লেকটিকে বাওয়াছড়া লেক নামে ডাকা হয়। লেকের চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর, যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোন নিখুঁত ছবি।

রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে রায়পুর উপজেলায় বাংলাদেশের বৃহত্তম ও এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (Raipur Fish Hatchery and Training Centre) অবস্থিত। ১৯৭৯ সালে দেশের প্রধান খালগুলোতে মাছের পোনা ও রেনু চাষ এবং সরবারহের লক্ষ্যে রায়পুরে এই মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে রায়পুর মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রে কৃত্রিম মৎস্য প্রজনন শুরু করা হয় এবং ১৯৯২ সাল থেকে কেন্দ্রটি বানিজ্যকভাবে মাছ উৎপাদন শুরু করে। ১৯৭৯-১৯৯২ সাল পর্যন্ত এই কেন্দ্রটি ড্যানিশ উন্নয়ন সংস্থা ড্যানিডা কর্তৃক নোয়াখালী আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে জেলার বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে মৎস্য বিভাগের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দেশের তিনটি মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের মধ্যে রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অন্যতম।

বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্ক
ইটের পর ইট গেঁথে তৈরি ঢাকা শহরে বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার মতো খোলা জায়গার অনেক অভাব। নাগরিক জীবনের এই ব্যস্ততা আর ক্লান্তি দূর করতে ঢাকার বুকে যে কয়েকটি মনোরম সবুজ চত্বর গড়ে উঠেছে, তার মধ্যে বর্তমানে বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্ক (Bashundhara Community Park) অন্যতম। ঢাকা শহরের অন্যতম সুপরিকল্পিত এবং অভিজাত আবাসিক এলাকা বসুন্ধরা আবাসিকের (Basundhara Residential Area) ভেতরে এই পার্কটি অবস্থিত। মূলত যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং দর্শনার্থীদের একটু প্রশান্তি ও সুস্থ বিনোদন দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে।

বিউটি বোর্ডিং
পুরান ঢাকার বিউটি বোর্ডিং (Beauty Boarding) বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অনন্য এক আড্ডার স্থান। বাংলাবাজারের বইয়ের মার্কেট ছাড়িয়ে কিছুটা এগিয়ে শ্রীশদাস লেনে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা। পুরান ঢাকার অন্যান্য আধুনিক ভবনের তুলনায় বিউটি বোর্ডিংকে কিছুটা জীর্ণ ও প্রাচীন মনে হলেও, এর প্রতিটি ইটে মিশে আছে ইতিহাসের পদচিহ্ন এবং বাঙালি বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার স্মৃতি।