দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

হযরত শাহ পরাণ (রাঃ) এর মাজার
হযরত শাহ পরাণ (রঃ) এর মাজার (Hazrat Shah Paran (RA)) সিলেট শহরের অন্যতম একটি আধ্যাতিক স্থাপনা। হযরত শাহ পরাণ (রঃ) ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য হতে বাংলাদেশে আসা ইসলাম প্রচারক শাহ জালাল (রঃ) এর ভাগ্নে এবং প্রধান অনুসারী। হযরত শাহ জালাল (রঃ) এর দরগাহ থেকে শাহ পরাণ (রঃ) এর মাজারের দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার। সিলেট শহরের পূর্ব দিকে খাদিম নগর এলাকায় বড় একটি টিলার উপর হযরত শাহ পরাণ (রঃ) এর মাজারের অবস্থান।

সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি
নারায়ণগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে চলে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন উত্তর দিকে সোনারগাঁও এবং দক্ষিণ দিকে মোগড়াপাড়ার অবস্থান। মোগরাপাড়ার মেইনরোড ধরে ৪ কিলোমিটার দূরে সাচিলপুর গ্রামে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি (Tomb of Sultan Gias Uddin Azam Shah) অবস্থিত।

উলপুর জমিদার বাড়ি
গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে উলপুর গ্রামে প্রাচীন বাংলার জমিদারদের শৌর্যবীর্য এবং আভিজাত্যের সাক্ষী উলপুর জমিদার বাড়ি (Ulpur Zamindar Bari) অবস্থিত। জানা যায়, উলপুরের জমিদারেরা একশত ঘর শরীক ছিলেন। ১৯০০ শতকে জমিদার প্রীতীশচন্দ্র রায় চৌধুরী প্রায় ২০০ একর জায়গা জুড়ে উলপুর জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। কালের আবর্তে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলেও তৎকালীন জমিদার কতৃক নির্মিত ভবনগুলো ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসাবে স্বগর্বে টিকে আছে।

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রত্নতত্ত্ব সংগ্রহশালা। রাজশাহী শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই জাদুঘরটি ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এতে প্রায় ৯ হাজারেরও অধিক নিদর্শন রয়েছে।

পানি জাদুঘর
পানি জাদুঘর, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘর। এটি নদী ও পানিসম্পদ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে বাংলাদেশের নদী-কেন্দ্রিক মানুষের জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতি এবং নদীর ইতিহাস সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

২০১ গম্বুজ মসজিদ
২০১ গম্বুজ মসজিদ (201 Gombuj Masjid/The 201 Dome Mosque) টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে অবস্থিত, যা ইতিমধ্যেই পৃথিবীর সর্বাধিক সংখ্যক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের স্বীকৃতি পেয়েছে। আর মিনারের উচ্চতার দিক দিয়ে এই মসজিদটির অবস্থান দ্বিতীয়। মসজিদের ছাদে সর্বমোট ২০১ টি কারুকার্যময় গম্বুজ থাকার কারণে মসজিদটি ‘২০১ গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

শহীদ বরকত স্মৃতি জাদুঘর
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের আলোকচিত্র, প্রিয়জনকে লেখা চিঠি, ভাষা শহীদদের ছবি সহ নানান ঐতিহাসিক জিনিস নিয়ে ২০১২ সালের ২৫ মার্চ ভাষা শহীদ আবুল বরকত স্মৃতি জাদুঘর ও সংগ্রহশালা চালু (Language Martyr Abul Barakat Memory Museum and Library) করা হয়। সবুজ ঘাসে ঢাকা শহীদ বরকত জাদুঘর (Shaheed Barkat Museum) প্রাঙ্গণে শহীদ আবুল বরকতের একটি প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে।

আছরাঙ্গা দীঘি
জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নে প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন আছরাঙ্গা দীঘি (Achranga Dighi) অবস্থিত। স্থানীয়দের মতে, রাজশাহী জেলার তাহিরপুরের আদি রাজবংশের জমিদার মৌন ভট্টের আমলে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কারণে কৃষি জমিগুলো চাষের প্রায় অনুপযোগী হয়ে উঠে। মৌন ভট্ট কৃষি জমিগুলোকে চাষের উপযোগী করার লক্ষ্যে নবম শতকের মাঝামাঝি সময়ে (আনুমানিক ৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে) এই দীঘিটি খনন করেন। প্রায় ২৬ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত আছরাঙ্গা দীঘির দৈর্ঘ্য ১০০০ ফুট এবং প্রস্থ ১০৭০ ফুট। আছরাঙ্গা দীঘির পানি দিয়েই অগ্রহায়ন মাসে এই অঞ্চলে আমন ধানের চাষ করা হতো। পৌষের শুরুতে ধান পেকে লাল রং হওয়ার ক্ষেতগুলো দেখতে অদ্ভুত সুন্দর লাগত আর সেই কারণে এই উপজেলার নাম হয়ে যায় ক্ষেতলাল।

আদমজী জুট মিল
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়ায় অবস্থিত আদমজী জুট মিল (Adamjee Jute Mills) একসময় পূর্ব পাকিস্থানের ২য় বৃহত্তম পাট কল হিসেবে পরিচিত ছিল। অতীতে এই পাটকলকে প্রাচ্যের ডান্ডিও বলা হত। ১৯৫০ সালে তৎকালীন পাকিস্থানের ধনাঢ্য আদমজী পরিবারের তিন ভাইয়ের যৌথ উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে প্রায় ২৯৭ একর জায়গা জুড়ে আদমজী জুট মিলস প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পরের বছর অর্থাৎ ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর ১৭০০ হেসিয়ান ও ১০০০ সেকিং লুম দিয়ে পাটকলটি বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে। পরবর্তীতে আদমজী জুট মিলস লিমিটেড শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার পর এখানে প্রায় ৩,৩০০ টি তাঁতকল বসানো হয়।

আদম কাশ্মীর মাজার
আদম কাশ্মীর মাজার শরীফ টাঙ্গাইল জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত হযরত শাহান শাহ বাবা আদম কাশ্মিরির (রহ.) স্মৃতিবিজড়িত এক পুণ্যস্থান। শাহান শাহ বাবা আদম কশ্মেরী (রহ.) কাশ্মীর থেকে এখানে ধর্ম প্রচারের জন্য এসেছিলেন। যে স্থানটিতে মাজারটি স্থাপন করা হয়েছে সে স্থানে তিনি মূলত বসে বিশ্রাম নিতেন এবং কথাবার্তা বলতেন। বর্তমানে এই জায়গাটিকেই সংরক্ষণ করে একটি স্থাপনা নির্মান করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে আদম কাশ্মীর মাজার (Adom Kashmir Majar) হিসাবে পরিচিত।

আলমডাঙ্গা বধ্যভূমি
চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা বধ্যভূমি (Alamdanga Boddhovumi) ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর নৃশংস গণহত্যার নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙ্গালীদের নির্মমভাবে হত্যা করে এই বধ্যভূমিতে পুঁতে রাখা হত। দেশ স্বাধীন হবার পর এই বধ্যভূমিতে শত শত মানুষের মাথার খুলি ও হাড় পাওয়া যায়। ২০১২ সালে তরুণ প্রজন্মের কাছে পাকবাহিনীর নির্যাতনের ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে আলমডাঙ্গা বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ ও কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়।

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র
আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র (Alutila Tourist Center), খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় অবস্থিত। পর্যটন স্পট, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, রহস্যময় গুহা এবং পাহাড়ি পরিবেশের জন্য আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র বিশেষ পরিচিত।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক (Bangabandhu Safari Park) গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে অবস্থিত। ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত বাঘের বাজার থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে এগিয়ে গেলেই বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে প্রবেশ দ্বার দেখতে পাবেন। প্রায় ৩,৬৯০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক ছোট ছোট টিলা ও শালবন সমৃদ্ধ। থাইল্যান্ডের সাফারী ওয়ার্ল্ডের অনুকরণে তৈরি সাফারী পার্কটি ২০১৩ সালে চালু করা হয়। এই সাফারি পার্কের অন্যতম আকর্ষণ কোর সাফারি। চারপাশে উন্মুক্ত বাঘ, সিংহ, জিরাফ, জেব্রা, বন্য হরিণ ও অন্যান্য প্রাণী হেঁটে বেড়াচ্ছে আর তার মাঝ দিয়ে আপনি মিনিবাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। হয়তো হঠাৎ সামনে থেকে এক বাঘ রাস্তা আটকিয়ে দিলো কিংবা জানালার পাশে এসে সিংহ গর্জন দিয়ে উঠলো। এমন অভিজ্ঞতা পেতে ঢাকা ও আশপাশ থেকে সারাদিন পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়াবার জন্যে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক হতে পারে আদর্শ ঘুরে বেড়াবার জায়গা।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর
জাতীয় জাদুঘর বাংলাদেশের যুগ যুগ ধরে বেড়ে উঠার সমস্ত স্মৃতি চিহ্ন ধারাবাহিকতার সাথে আগলে রেখে চলেছে। ১৯১৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের একটি কক্ষে ঢাকা জাদুঘর নামে পথ চলা শুরু করে আজকের এই জাতীয় জাদুঘর। তৎকালীন বাংলার গভর্নর লর্ড কার মাইকেল ঢাকা যাদুঘরের উদ্বোধন করেন। ১৯৮৩ সালে ঢাকা জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর (Bangladesh National Museum)।

বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজার, পতেঙ্গা কিংবা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ছাড়াও বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি স্বল্প পরিচিত সমুদ্র সৈকত রয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা শহর থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত (Banshkhali Sea Beach) তেমনি এক অপ্রচলিত ভ্রমণ গন্তব্য। বালুময় বেলাভূমি ও ঝাউবনে ঘেরা বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের পর বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত। এটি ছনুয়া, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ উপকূল মিলিয়ে সর্বমোট ৩৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।

বার আউলিয়া মাজার
পঞ্চগড় জেলা সদর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুরে বার আউলিয়া মাজার (Bara Aulia Shrine) অবস্থিত। প্রচলিত আছে, ২টি বাঘ ও ২টি সাপ সবসময় এই মাজারটি পাহারা দিতো এবং কেউ খারাপ উদ্দেশ্যে মাজারে আসলে বাঘ দুটি বের হত। বার আউলিয়াদের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন ধরণের জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে।