দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি
মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন স্থাপনা। ময়মনসিংহ থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে এই মুক্তাগাছা রাজবাড়ির অবস্থান। তৎকালীন মুক্তাগাছার জমিদার বৃটিশদের কাছ থকে প্রথমে রাজা এবং পরবর্তিতে মহারাজা উপাধি পেয়েছিলেন। তাই জমিদারের এই বাসভবনকে মুক্তাগাছা রাজবাড়ী বলা হয়। মুক্তাগাছা জমিদারির ১৬ টি অংশ ১৬ জন জমিদার শাসন করতেন। মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ির প্রবেশমুখে আছে বিশালাকার সিংহ দরজা। রাজবাড়ির ভেতরে আছে জমিদারের মায়ের ঘর, মন্দির, দরবার হল, কাচারিঘর, অতিথি ঘর, সিন্দুক ঘর এবং অন্যান্য ভবন। এছাড়াও এই রাজ বাড়িতে প্রায় ১০,০০০ বইয়ের একটি দূর্লভ লাইব্রেরি ছিল, যা বিভিন্ন সময়ে হুমকির সম্মুখীন হয়। বর্তমানে এর কিছু অংশ মুক্তাগাছা বাংলা একাডেমীতে রক্ষিত আছে। প্রায় ১০০ একর জায়গার ওপর নির্মিত মুক্তাগাছা রাজবাড়িটি প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শনের সাক্ষী হয়ে আছে। বর্তমানে রাজবাড়িটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

মুনলাই পাড়া
বান্দরবানের রুমা উপজেলার বগালেক বা কেওক্রাডং যাওয়ার পথে পাহাড়ি চূড়ায় অবস্থিত একটি গ্রাম মুনলাই পাড়া। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত বম জনগোষ্ঠীর এই গ্রামটি বর্তমানে বাংলাদেশের পর্যটনের এক অনন্য মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধি
রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে কাপ্তাই লেকের ছোট্ট এক দ্বীপে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন বাঙ্গালির অন্যতম এক বীর সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ (Birsrestha Munshi Abdur Rauf Monument)। অথৈ নীল জল পরিবেষ্টিত সমাধি স্থলে লেখা “তুমি দুর্জয়, নির্ভীক মৃত্যুহীন এক প্রাণ” কথাগুলো যেন তাঁর গৌরবজ্বল বীরত্বের এক অনন্য প্রকাশ।

মুসা খান মসজিদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের কাছে বাংলার বারো ভুঁইয়াদের স্মৃতি বিজড়িত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট প্রাচীন এক মসজিদের নাম মুসা খান মসজিদ (Musa Khan Masjid)। সপ্তদশ শতকের শেষের দিকে নির্মিত মসজিদটির নাম ঈশা খা’র পুত্র মুসা খানের নামনুসারে রাখা হলেও মুসা খানের পুত্র মাসুম খান কতৃক মসজিদটি নির্মিত হয়। মুসা খান মসজিদের কাছে চিরনিদ্রায় শায়িত আছে মুসা খান।

মুছাপুর ক্লোজার
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে বঙ্গোপসাগর ও ফেনী নদীর মোহনায় নির্মিত মুছাপুর ক্লোজার (Muchapura/Musapur Closure) মিনি কক্সবাজার বা মুছাপুর সমুদ্র সৈকত হিসেবে সুপরিচিত। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে মুছাপুর ক্লোজার অন্যতম প্রিয় গন্তব্য। নৈসর্গিক প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদীর বুকে সুর্যাস্থের দৃশ্য, জোয়ার-ভাটা এবং জেলেদের কর্মময় ব্যস্থতা আগত দর্শনার্থীদের বিনোদিত করে। মুছাপুর ক্লোজার এলাকায় ফেনী নদী পাড় দেখতে সাগর সৈকতের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাদুঘর
পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থিত রাঙ্গামাটি শুধু লেক আর পাহাড়ের জন্যই নয় এখানকার বহুমাত্রিক সংস্কৃতির জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানার সবচেয়ে সুন্দর জায়গাগুলোর একটি হলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাদুঘর (Museum of Ethnic Minorities), যা রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই সড়কের আসামবস্তি এলাকায় অবস্থিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট (Cultural Institute of Minority Ethnic Groups)-এর অভ্যন্তরে।

ঝিটকার সরিষা ক্ষেত
রাজধানী ঢাকার কাছে সরিষা ক্ষেতের সৌন্দর্যে বুঁদ হতে চাইলে ঘুরে আসুন মানিকগঞ্জ জেলার ঝিটকার (Jhitka) দিগন্ত বিস্তৃত সরিষা ক্ষেত থেকে। খেজুর গাছের সারি, হলুদ ফুলের মুগ্ধতা আবার কোথাও মধুচাষীদের মধু সংগ্রহের ধুম যেন প্রকৃতি নিরব উৎসবের আহ্বান জানাতে ব্যকুল। শীতের কুয়াশায় মোড়া হলুদ সরিষার ক্ষেত যেন রূপকথার রাজ্য থেকে তুলে আনা কোন জীবন্ত ছবি। আর খুব সকালে ঝিটকায় আসলে সরিষা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগের সাথে সাথে তাজা খেজুরের রস চেখে দেখার সুযোগ মিলবে অনায়াসেই।

নাগরপুর চৌধুরী বাড়ী
ঊনবিংশ শতাব্দীতে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় জমিদার যদুনাথ চৌধুরী কারুকার্যমণ্ডিত নাগরপুর জমিদার বাড়ী (Nagarpur Zamidar Bari) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ৫৪ একর জায়গার উপর নান্দনিক সৌন্দর্যে নির্মিত এই জমিদার বাড়ী থেকেই চৌধুরী বাড়ীর প্রথম পুরুষ যদুনাথ চৌধুরী ও তার বংশধর উপেদ্র মোহন চৌধুরী, জগদীন্দ্র মোহন চৌধুরী ও শশাঙ্ক মোহন চৌধুরী জমিদারীত্ব করতেন। নাগরপুর চৌধুরী বাড়ীর পূর্বে ধলেশ্বরী ও পশ্চিমে যমুনা নদী বয়ে চলেছে। কথিত আছে যদুনাথ চৌধুরী নাগরপুরকে কোলকাতার মতো করে সাজানোর পরিকল্পনা থেকেই নাগরপুর ও কোলকাতার নৌপথকে কেন্দ্র করে নাগরপুরে এই চৌধুরী বাড়ী নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে উপেদ্র মোহন চৌধুরীর বড় ছেলে জমিদার সতীশ চন্দ্র চৌধুরী নাগরপুরে স্কুল, কলেজ, মন্দির, দাতব্য চিকিৎসালয়, খেলার মাঠ ও হাট বাজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার সতীশ চন্দ্র চৌধুরীর জনহিতকর কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে “রায় বাহাদুর” খেতাবে ভূষিত করেন।

নাহার গার্ডেন পিকনিক স্পট
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের কামতা গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে নাহার গার্ডেন পিকনিক স্পট (Nahar Garden Picnic Spot)। ধলেশ্বরী নদীর কোল ঘেষে কোলাহল মুক্ত শান্ত গ্রামীন পরিবেশে সবুজের সমারোহ কিছুটা সময় কাটাতে নাহার গার্ডেন পিকনিক স্পট একটি আদর্শ জায়গা।

নলতা শরীফ, কালীগঞ্জ
নলতা শরীফ (Nalta Sharif) সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামে অবস্থিত। নলতা গ্রামে ১৮৭৩ সালের ডিসেম্বর মাসে জন্মগ্রহন করেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, শিক্ষা সংস্কারক ও সমাজহিতৈষী খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য এছাড়াও আউলিয়া হিসাবে তিনি ছিলে সমাদৃত। ১৯৬৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ-র মৃত্যুর পর তাঁকে নলতায় সমাহিত করা হয়। পরবর্তীকালে তাঁর সমাধিস্থলকে কেন্দ্র করে বর্তমানে খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ সমাধি কমপ্লেক্স বা নলতা শরীফ গড়ে উঠেছে।

নান্দাইল দিঘী
জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার নান্দাইল গ্রামে অবস্থিত এক ঐতিহাসিক দীঘির নাম নান্দাইল দিঘী (Nandail Dighi) । জয়পুরহাট শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার পূর্বে জেলার সবচেয়ে বড় এই দিঘীটির অবস্থান। প্রায় ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নান্দাইল দিঘী ৫৯.৪ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। প্রচলিত আছে, ১৬১০ সালে মৌর্য্য বংশের সম্রাট নন্দলাল শুকনো মৌসুমে চাষাবাদের সুবিধা এবং খাবার পানির অভাব পূরণের উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক নান্দাইল দিঘী খনন করেন। স্থানীয় জনগণ বিশ্বাস করেন, নান্দাইল দিঘী খনন করতে মাত্র এক রাত সময় লাগে। এক সময়ের উচুঁ নিচু টিলা ও ঘন বন সমৃদ্ধ দীঘির চারপাশে বর্তমানে বসতি গড়ে তোলা হয়েছে।

নন্দন পার্ক
নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততার ভীড়ে অল্প সময়ের অবসরে চিত্তবিনোদনের সুযোগ তৈরি করার উদ্দেশ্যে ২০০৩ সালে সাভারের নবীনগর-চন্দ্রা হাইওয়ের বাড়ইপাড়া এলাকায় নন্দন পার্ক (Nandan Park) গড়ে তোলা হয়। সবুজে ঢাকা প্রায় ৩৩ একর আয়তনের এই পার্কের রয়েছে নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন দেশি বিদেশি রাইড, ফাইভ-ডি মুভি থিয়েটার, ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট এবং সুপরিসর কার পার্কিং সুবিধা।

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ও ট্রেইল
অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের কাছে নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ( Napittachora Waterfall ) বর্তমানে বেশ পরিচিত একটি নাম। নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ের অবস্থিত একটি ঝর্ণা। ঝর্ণায় যাবার যে ঝিরিপথ আছে তা নাপিত্তাছড়া ট্রেইল নামে পরিচিত। এই ট্রেইলে আছে টিপরা খুম, কুপিটা খুম, বাঘবিয়ানী ঝর্না ও বান্দরখুম নামের আরও বেশ কিছু ঝর্ণা ও খুম। তুলনামূলক সহজ ট্রেইল হওয়ায় একটু কষ্ট করলে একদিনেই পুরো ট্রেইল হেঁটে উপভোগ করতে পারবেন।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা হাউজ
কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁও এলাকায় ঐতিহাসিক নওয়াব ফয়জুন্নেসা হাউজ (Nawab Faizunnesa House) নামের জমিদার বাড়ির অবস্থান। জমিদার গাজী চৌধুরীর সাথে বিয়ে হবার কিছুদিন পর বিবাহ বিচ্ছেদ হলে দেনমোহরের প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ১৮৭১ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী এই বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন।

নাজিমগড় গার্ডেন রিসোর্ট
সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগরের পাহাড়ের কোলে প্রায় ৬ একর জমির উপর অবস্থিত নাজিমগড় গার্ডেন রিসোর্ট (Nazimgarh Garden Resort) । ছবির মত সুন্দর এই রিসোর্টে অবকাশ যাপনের সাথে সাথে খাসিয়া পল্লী ও চা বাগানের মুগ্ধতা উপভোগ করা যায়।

নীল দিগন্ত
নীল দিগন্ত পর্যটন কেন্দ্র বান্দরবান জেলা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে থানচি উপজেলার জীবন নগর এলাকায় অবস্থিত। প্রায় সাড়ে ৩ একর জায়গা নিয়ে পাহাড়চূড়ায় গড়ে উঠা পর্যটন কেন্দ্র থেকে হাত বাড়িয়ে মেঘ ছোঁয়ার অপার্থিব আনন্দ উপভোগ করা যায়। সারি সারি সবুজ পাহাড়ের সাথে সাদা মেঘের খেলা নীল দিগন্তকে করেছে মোহনীয়।