দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

নিউজিল্যান্ড পাড়া
খাগড়াছড়ি জেলা সদর হতে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পানখাইয়া পাড়া এবং পেরাছড়ার কিছু অংশ দেখতে নিউজিল্যান্ডের মত হওয়ায় এলাকাটি স্থানীয়দের নিকট নিউজিল্যান্ড পাড়া (Newzeland Para) হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। আর পানখাইয়া পাড়া হতে পেরাছড়া গ্রামের যাওয়ার পথটিকে নিউজিল্যান্ড সড়ক নামকরণ করা হয়।

নিঝুম দ্বীপ
নিঝুম দ্বীপ (Nijhum Dwip) নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় অবস্থিত বঙ্গপসাগরের ছোট্ট একটি দ্বীপ। প্রায় ১৪,০৫০ একর আয়তনের এই দ্বীপটি কামলার চর, বল্লার চর, চর ওসমান ও চর মুরি নামের চারটি দ্বীপ ও কয়েকটি চরের সমন্বয়ে গঠিত। শীতকালে নিঝুম দ্বীপে সরালি, জিরিয়া, লেনজা, পিয়ং, রাঙ্গামুড়ি, চখাচখি, ভূতিহাঁস, রাজহাঁস, কাদাখোঁচা, বাটান, জিরিয়া, গুলিন্দা, গাংচিল, কাস্তেচরা, পেলিক্যান ইত্যাদি হাজারো অতিথি পাখির আগমন ঘটে। স্থানীয় পাখির মধ্যে চোখে পড়ে সামুদ্রিক ঈগল, বক শঙ্খচিল। এছাড়া দ্বীপে রয়েছে হরিণ, বন্য শূকর, শেয়াল, বানর এবং নানা রকম সাপ।

নীলাদ্রি লেক
নীলাদ্রি লেক (Niladri Lake) খ্যাত পর্যটন স্থানটি চুনাপাথরের পরিত্যাক্ত খনির লাইম স্টোন লেক। সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের টেকেরঘাট (Tekerghat) নামক গ্রামে নীলাদ্রি লেকের অবস্থান। এই লেকের প্রকৃত নাম শহীদ সিরাজ লেক। কিন্তু ভ্রমণ কমিউনিটিতে এই লেক নীলাদ্রি নামেই অধিক পরিচিত। অবশ্য স্থানীয় লোকজন একে টেকেরঘাট পাথর কোয়ারি নামে চেনে। লেকের চমৎকার নীল পানি, ছোট বড় টিলা আর পাহাড়ের সমন্বয় নীলাদ্রি লেককে করেছে অপার্থিব সৌন্দর্য্যের অধিকারী। স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের জন্য নিলাদ্রি লেক দেখে অনেক পর্যটক একে বাংলার কাশ্মীর হিসাবে অভিহিত করেন।

নয় গম্বুজ মসজিদ
মসজিদের শহর বাগেরহাটের ঠাকুর দীঘির পশ্চিম পাড়ে এবং খানজাহান (রঃ) এর সমাধির দক্ষিণ-পূর্বে ঐতিহাসিক নয় গম্বুজ মসজিদ (Nine Dome Mosque) অবস্থিত। ১৫ শতাব্দীতে নির্মিত বর্গাকৃতির এই মসজিদের প্রতিটি দেয়ালের দৈর্ঘ্য ১৫.২৪ মিটার এবং পুরুত্ব ২.২৩ মিটার। মসজিদের ছাদে রয়েছে নয়টি অর্ধ বৃত্তাকার গম্বুজ। গম্বুজগুলোকে স্থায়িত্ব প্রদানের জন্য মসজিদের অভ্যন্তরে চারটি বিশেষ স্তম্ভ রয়েছে। মসজিদের পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ দিকের দেয়ালে ৩টি করে প্রবেশ পথ প্রত্যক্ষ করা যায়। আর পশ্চিম দিকের দেয়ালে আছে ৩টি সুদৃশ্য মিহরাব।

নিভৃতে নিসর্গ পার্ক
নিভৃতে নিসর্গ পার্ক (Nivrite Nishorgo Park) একসাথে নীল জলরাশি, সবুজ পাহাড় আর সাদা মেঘ মালার মিলনমেলায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন কক্সবাজারের ‘অচেনা দার্জিলিংয়ে’। নিভৃতে নিসর্গ পার্ক কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নে মাতামুহুরি নদীর কোলঘেঁষে অবস্থিত। কক্সবাজার থেকে এই পার্কের দূরত্ব প্রায় ৫৫ কিলোমিটার এবং চকরিয়া থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার। এর দক্ষিণে পার্বত্য বান্দরবানের লামা উপজেলা। পার্কটি প্রায় ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত।

নোয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
নোয়াখালী জেলা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ভাষা আন্দোলনের সাক্ষী নোয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার (Noakhali Central Shohid Minar) অবস্থিত। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী ভাষা আন্দোলনের শহীদের স্মরণে প্রথমে বেগমগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এই শহীদ মিনারটি স্থাপন করা হলেও পরবর্তীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কয়েকবার স্থান পরিবর্তন করে বর্তমানে জেলা জজ আদালতের পাশে স্থাপন করা হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ
নোয়াখালী জেলার প্রাণকেন্দ্রে শহরের অন্যতম প্রধান মসজিদ নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ (Noakhali Zilla Jame Mosque) অবস্থিত। অনন্য সুন্দর এই স্থাপনাটি স্থানীয়দের কাছে মাইজদী বড় মসজিদ নামে পরিচিত। ১৮৪১ সালে পুরাতন নোয়াখালী শহরে ইমাম উদ্দিন নামের এক সওদাগর নিজ জমিতে নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ স্থাপন করেন। মূল নোয়াখালী শহরের সাথে এই জামে মসজিদটিও মেঘনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে নোয়াখালী জেলার মূল শহর মাইজদীতে স্থানান্তর করার সময় ১৯৫০ সালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তিগত আর্থিক সহায়তায় নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ পুনঃনির্মাণ করা হয়।

নব শালবন বিহার
প্রাচীন সভ্যতায় সমৃদ্ধ কুমিল্লা জেলার ঐতিহাসিক স্থাপনায় নতুন এক সংযোজন কোটবাড়ি এলাকার নব শালবন বিহার (Nobo Shalbon Bihar) । প্রায় আড়াই একর জায়গার উপর ১৯৯৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নব শালবন বিহার ও বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট কালচারাল একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা হয়। শৈল্পিক এই বৌদ্ধ উপাসনালয় দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম “শান্তি বিহার” হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালে থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ ধর্মীয় ফাউন্ডেশনের উপহার হিসেবে পাওয়া ধাতব পদার্থে তৈরি প্রায় ৬ টন ওজনের ৩০ ফুট উচ্চতার বৌদ্ধ মূর্তি স্থাপন করা হয় বিহারে।

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট
যান্ত্রিক জীবনের জটিলতা থেকে একটু হাফছেড়ে নিঃশ্বাস নিতে ঢাকার অদূরে অবস্থিত শান্ত ও সুন্দর পরিবেশের নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট (Nokkhottrobari Resort) থেকে ঘুরে আসতে পারেন। নাট্য অভিনেতা, পরিচালক, স্থপতি তৌকির আহমেদ এবং অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে গাজীপুর (Gazipur) জেলার রাজেন্দ্রপুরে দৃষ্টিনন্দন নক্ষত্র বাড়ি রিসোর্ট প্রতিষ্ঠা করেন।

নভোথিয়েটার
অজানাকে জানার নেশা মানুষের চিরন্তন আগ্রহের একটি। আর সেটা যদি হয় বিনোদনের মাধ্যমে তবে তো কথাই নেই! অজানাকে জানানোর সুযোগের পাশাপাশি মানুষকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে রাজধানী ঢাকা র তেজগাঁও বিজয় সরণীর মোড়ে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার (Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman Novo Theatre)। পূর্বে এই নভোথিয়েটারটি ভাষানী নভোথিয়েটার নামে পরিচিত ছিল।

নভোথিয়েটার, রাজশাহী : যাওয়ার উপায়, সময়সূচী ও টিকেট মূল্য
রাজশাহী নভোথিয়েটার (Rajshahi Novo Theatre) প্রায় ২.৩০ একর জায়গায় সোলার-নির্ভর, আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ “রাজশাহী নভোথিয়েটার” নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকার পর এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নভোথিয়েটার। গণপূর্ত অধিদফতর ও নভোথিয়েটার কর্তৃপক্ষ বেসিস-ডিওআইসিটির সহযোগিতায় এই নভোথিয়েটার নির্মাণ করা হয়।

অঙ্গীকার ভাস্কর্য
চাঁদপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মুক্তিযোদ্ধা সড়কের পাশের লেকে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে অঙ্গীকার ভাস্কর্য (Ongikar Monument) নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের স্থপতি সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ এটি নির্মাণ করেন। চাঁদপুরের কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ হিসেবে খ্যাত ১৫ ফুট উচ্চতার অঙ্গীকার ভাস্কর্য তৈরিতে সিমেন্ট, পাথর এবং লোহা ব্যবহার করা হয়েছে।

পদ্মা গার্ডেন
ওডভার মুনক্সগার্ড পার্ক (Oddvar Munksgaard Park) রাজশাহী শহরের পদ্মা নদীর পারে অবস্থিত। পদ্মা নদীর পাশে অবস্থান হওয়ায় পার্কটি পদ্মা গার্ডেন (Padma Garden) নামেই বেশি পরিচিত। বড়কুটি এলাকার ফুতকিপাড়া থেকে দরগাপাড়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত পদ্মা পার্ক।

পাগলা দেওয়ান বধ্যভূমি
পাগলা দেওয়ান বধ্যভূমি (Pagla Dewan Boddhobhumi) ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জয়পুরহাট জেলার চকবরকত ইউনিয়নে সংঘটিত গণহত্যার এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। জয়পুরহাট থেকে পাগলা দেওয়ান বধ্যভূমির দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার। ১৯৭১ সালের মে মাসের শেষের দিকে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী ক্যাম্প ও বাঙ্কারসহ পাগলা দেওয়ানে ঘাঁটি গড়ে তুলে। সেসময় ভারতে আশ্রয় নেওয়ার উদ্দেশ্যে সীমান্ত দিয়ে গমনকারী বিভিন্ন এলাকার মানুষদের পাকিস্থানি বাহিনী ধরে লুটপাট ও হত্যা করে তাদের লাশ পাগলা দেওয়ান বধ্যভূমিতে পুঁতে রাখতো।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার (Paharpur Buddhist Bihar) বা সোমপুর মহাবিহার (Somapura Mahavihara) নামে পরিচিত বৌদ্ধ বিহারটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন স্থাপনা। বিহারটি নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলা থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিখ্যাত পালবংশের ২য় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব ৯ম শতকে এই বৌদ্ধ বিহার তৈরি করেন।

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি
পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি ( Pakutia Zamindar Bari ) টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। জমিদার বাড়ির তিনটি মহলের রয়েছে নিজস্ব বিশিষ্ট ও অপূর্ব লতাপাতার কারুকাজ। বর্তমানে এই জমিদার বাড়িতে বি.সি.আর.জি.ডিগ্রী কলেজ চালু আছে। পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি কাছেই আছে নাটমন্দির, কালীমন্দির এবং একটি বিশাল পুকুর।