দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

লেক্সাস গার্ডেন
সিলেট শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে পীরের বাজার হযরত শাহ সুন্দর রহঃ মাজার এর কাছে উঁচুনিচু টিলা বেষ্টিত ২৬ একর উপর জমির উপর ২০২১ সালে গড়ে উঠেছে লেক্সাস গার্ডেন (Lexus Garden)। লেক্সাস গার্ডেন সিলেটের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক উদ্যান। পাহাড়, লেক ও বৃহৎ আনারসের বাগান লেক্সাস গার্ডেন এর সৌন্দর্য হাজারগুণ বারিয়ে দিয়েছে। পরবর্তীতে এই পার্ক সহজেই পর্যটকদের দৃষ্টিআকর্ষণ করে।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর (Liberation War Museum) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বস্তুর এক দুর্লভ সংগ্রহশালা। ১৯৯৬ সালের ২২ শে মার্চ বেসরকারি উদ্যোগে ঢাকার সেগুনবাগিচার একটি ভাড়া বাসায় প্রথম মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর উদ্বোধন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অসংখ্য মানুষের সমর্থন ও সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বর্তমানে পনেরো হাজারেরও অধিক সংগ্রহ রয়েছে। ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আগারগাঁওয়ে নির্মিত নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয়।

লোকায়ন জীবন বৈচিত্র্য জাদুঘর
ঠাকুরগাঁও জেলার আকচা গ্রামে অবস্থিত একটি ব্যতিক্রমী দর্শনীয় স্থান লোকায়ন জীবন বৈচিত্র্য জাদুঘর (Lokayan Life Diversity Museum) । শ্রমজীবী মানুষ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনজীবনকে কেন্দ্র করে লোকজ সংস্কৃতি, শ্রমজীবী মানুষের ব্যবহৃত নানা উপকরন ও জীবন বৈচিত্রের নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই জাদুঘরে। হাজার বছরের বাঙ্গালীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে ড. মুহম্মদ শহীদ-উজ-জামান এই লোকায়ন জীবন বৈচিত্র্য জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন।

লক্ষনছড়া
লক্ষনছড়া (Lokkhonchora) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলাস্থ পান্থুমাই ঝর্ণার কাছে অবস্থিত একটি দর্শনীয় স্থান। আপনার ভ্রমণ তালিকায় যদি পান্থুমাই ঝর্ণা থাকে তবে পান্থুমাই হতে সহজেই লক্ষনছড়া ঘুরে আসতে পারেন। আপনি চাইলে বিছনাকান্দি , পান্থুমাই ঝর্ণা এবং লক্ষণছড়া একসাথে একদিনে ঘুরে বেড়াতে পারবেন।

লোভাছড়া
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ঘেঁষা খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে স্বচ্ছ পানির নদী হচ্ছে লোভাছড়া। সবুজ পাহাড় আর লোভাছড়ার স্বচ্ছ পানি এখানকার পরিবেশকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। সেই সাথে আছে ব্রিটিশ আমলে চালু হওয়া লোভাছড়া চা বাগান, ১৯২৫ সালে নির্মিত পুরনো ঝুলন্ত সেতু ও খাসিয়া গ্রাম। পাহাড়, নদী ও নীল আকাশের অপূর্ব মায়াজালে প্রাকৃতিকে এক নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য উপহার দিয়েছে রুপে অনন্যা লোভাছড়া।

মাধবপুর লেক
মাধবপুর লেক (Madhabpur Lake) বা হ্রদটি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। কমলগঞ্জ উপজেলা সদরে থেকে মাধবপুর লেকের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। ১৯৬৫ সালে চা বাগানের টিলায় বাঁধ দিয়ে পানি জমিয়ে এই লেক তৈরী করা হয়। প্রায় ৫০ একর আয়তনের মাধবপুর হ্রদের দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটার এবং স্থান বিশেষে প্রস্থ ৫০ থেকে ৩০০ মিটার পর্যন্ত।

মধুমতি নদী
মধুমতি নদী (Madhumati River) বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাগুরা, ফরিদপুর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাটের উপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদীর একটি শাখা। মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়নে প্রবহমান গড়াই নদী হতে সৃষ্টি হয়ে মাগুরা- ফরিদপুর জেলার সীমানা ঘেঁষে প্রবাহিত হয়ে মধুমতি নামে নড়াইল ও খুলনা জেলার আঠারবেকিতে বাগেরহাট জেলায় প্রবেশ করে বরিশালের হয়ে হরিণঘাটা মোহনার কাছে বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে।

মধুপুর জাতীয় উদ্যান
মধুপুর জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের অন্যতম আকর্ষণ। মধুপুর জাতীয় উদ্যান (Madhupur National Park) ঢাকা থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরত্বে টাঙ্গাইলে মধুপুর উপজেলায় অবস্থিত। টাঙ্গাইল জেলা থেকে মধুপুর উদ্যানের দূরত্ব প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। শাল গাছ এই বনের প্রধান আকর্ষণ এবং ধারণা করা হয় এই বনাঞ্চল কয়েক’শ বছরের পুরাতন। মধুপুর জাতীয় উদ্যানটি ১৯৬২ সালে বন বিভাগের আওতাধীন আসে এবং ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী আইনের অধীনে বাংলাদেশ সরকার ১৯৮২ সালে মধুপুর বনকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। জাতীয় মধুপুর উদ্যানের আয়তন প্রায় ৮৪,৩৬৬ হেক্টর। উদ্যানের পাশ দিয়ে প্রবাহমান বংশী নদী উদ্যানকে দিয়েছে ভিন্নমাত্র। জাতীয় এ উদ্যানের ভেতরে এবং বাইরে দেখা মিলে গারো, কোচ, বামনসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের।

মধুসূদন দত্তের বাড়ি মধুপল্লী
যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়িতে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, মধুসূদন জাদুঘর, লাইব্রেরি এবং সাগরদাঁড়ি পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করে মধুপল্লী (Modhupolli) নামকরণ করা হয়। মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রপিতামহ রাম কিশোর দত্ত খুলনা জেলার গোপালপুর গ্র্রামের বাস করতেন। পরবর্তীতে মাইকেল মধুসূদন দত্তের পিতামহ রামনিধি দত্ত যশোরের সাগরদাঁড়ি গ্রামে স্থানান্তরিত হয়ে জমিদারি ক্রয় করে দেবালয় স্থাপন করেন।

মাগুরার ভাতের ভিটা
মাগুরা সদর উপজেলা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে ফটকি নদীর উত্তর তীরবর্তী টিলা গ্রামে অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার নাম ভাতের ভিটা (Vater Vita)। ধারণা করা হয়, প্রায় ৩২১ খিস্টপূর্বে মৌর্য্য সাম্রাজ্যের তৃতীয় শতাব্দী থেকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়কাল পর্যন্ত টিলা গ্রামে একটি বৌদ্ধ সংঘ্যারাম প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। সেই সময় এই অঞ্চলের শাসনকার্য পরিচালনা করার লক্ষ্যে একটি বিচারালয় ও অপরাধীদের সাজা দেওয়ার লক্ষ্যে টিলা গ্রামের পশ্চিমে একটি উঁচু জায়গা নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়ভাবে এই স্থানটি ছোট টিলা বা ভাতের ভিটা নামে পরিচিতি পায়। বন্যায় সারাদেশের বিভিন্ন স্থান প্লাবিত হলেও টিলা গ্রামটি কখনো প্লাবিত হয় না। তবে স্থানীয়দের মতে, আধ্যাত্মিক এক দরবেশ এই ভিটা নির্মাণ করেছেন এবং সেই কারণে স্থানটি একটি পুণ্যস্থান হিসেবে বিবেচিত।

মাইসাহেবা জামে মসজিদ
শেরপুর জেলা শহরে প্রবেশের পর সর্বপ্রথম ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা জামে মসজিদ (Mai Saheba Jame Masjid) নজরে আসে। আনুমানিক ২৫০ বছর পূর্বে নির্মিত এই মসজিদেটি বিভিন্ন সময় সংস্কার করা হলেও তাতে ঐতিহ্যের ছাপ স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়। শেরপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র শেরপুর সরকারি কলেজের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত মাইসাহেবা মসজিদের দুইটি সুউচ্চ মিনার শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দৃষ্টিগোচর হয়।

মজিদবাড়িয়া শাহী মসজিদ
পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যশিল্পের এক অন্যতম নিদর্শন মজিদবাড়িয়া শাহী মসজিদ (Majidbaria Shahi Masjid)। আনুমানিক সাড়ে ৫শ বছর পূর্বে স্থাপিত এই শাহী মসজিদটি সুলতানি আমলের মুসলিম স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী। মসজিদের নামানুসারেই এই এলাকার নামকরণ করা হয়েছে। মজিদবাড়িয়া শাহী মসজিদের শিলালিপির থেকে জানা যায়, ১৪৬৫ সালে ইলিয়াস শাহী বংশের নবাব রুকনুদ্দিন বরবকের আমলে খান-ই-মোয়াজ্জেম উজিয়াল খান এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।

মালনীছড়া চা বাগান
বাংলাদেশের সিলেট জেলায় অবস্থিত মালনীছড়া চা বাগান (Malnicherra Tea Garden) উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় এবং সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত চা বাগান। ১৮৪৯ সালে লর্ড হার্ডসনের হাত ধরে ১৫০০ একর জায়গার উপর এই বাগানটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে চা বাগানটি বেসরকারী তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হলেও সুন্দর সময় কাটানোর জন্য পর্যটকদের কাছে পছন্দের স্থান হিসাবে সুপরিচিতি পেয়েছে।

মালঞ্চ মসজিদ
জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ শিশু ও চক্ষু হাসপাতালের কমপ্লেক্সে কারুকার্য মণ্ডিত দৃষ্টিনন্দন মালঞ্চ মসজিদ (Maloncho Jame Mosque) অবস্থিত। সাবেক সচিব ও ইউনাইটেড ট্রাস্টের সহযোগিতায় মাজার, মসজিদ, কামিল মাদ্রাসা, মহিলা মাদ্রাসা, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও ইসলামিক মিশনের সমন্বয়ে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে দৃষ্টিনন্দন এই মালঞ্চ কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হয়েছে। সবুজ গাছ-গাছালীতে ঘেরা এক গম্বুজ বিশিষ্ট মালঞ্চ মসজিদের সামনে একটি স্বচ্ছ পানির দীঘি রয়েছে। নান্দ্যনিক সৌন্দর্যের জন্য বর্তমানে মালঞ্চ কমপ্লেক্সটি জামালপুর জেলার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

মান্দারবাড়ী সমুদ্র সৈকত
মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত (Mandarbaria Sea Beach) সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের এক নয়নাভিরাম বেলাভূমি। হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর তীরের এক পাশে সুন্দরবন এবং অন্য পাশে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত এর অপূর্ব প্রকৃতি যেন নেশা ধরিয়ে দেয়। বাংলাদেশের বেশীরভাগ মানুষের কাছে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত অজানা একটি স্থান। সাতক্ষীরা জেলার বুড়িগোয়ালিনীর নীলডুমুর নৌঘাট থেকে এই সৈকতের দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। সাতক্ষীরা থেকে নীলডুমুর পর্যন্ত গাড়ীতে এসে বাকি পথ ইঞ্জিন চালিত নৌকা বা স্পীড বোটে করে যেতে হয়। সুন্দরবনের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নদীগুলিই হচ্ছে ৭৫ কিলোমিটার যাত্রা পথের একমাত্র উৎস। তাই প্রায় ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মান্দারবাড়ীয়া সমুদ্র সৈকত শুধুমাত্র বিশেষ ভ্রমণকারীদের জন্য উপযুক্ত যারা কষ্ট স্বীকার করে বঙ্গোপসাগরের মায়াবী জলরাশির অবিশ্রান্ত গর্জন শুনতে রাজি আছেন।

মণিপুরী রাজবাড়ি
সিলেট শহরের মির্জাজাঙ্গালে উনবিংশ শতাব্দীতে মণিপুরী রাজবাড়ি (Manipuri Rajbari) স্থাপিত হয়। প্রাচীন স্থাপত্য কীর্তির অন্যতম নিদর্শন এই মণিপুরী রাজবাড়ি। ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মণিপুরী রাজবাড়ি। ১৮২২-২৪ সালে সিলেট শহরের মির্জাজাঙ্গাল রোডে এই ঐতিহাসিক বাড়িটি নির্মাণ করেন মণিপুরের রাজা গম্ভীর সিং ও তার ভাইয়েরা। পরবর্তীতে চৌর্জিৎ সিং ও মার্জিত সিং ভানুগাছ এলাকায় এসে বসতি স্থাপন করলেও রাজা গম্ভীর সিং থেকে যান মির্জাজাঙ্গালে।