দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

জলসিড়ি সেন্ট্রাল পার্ক
জলসিঁড়ি সেন্ট্রাল পার্ক (Jolshiri Central Park) নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১৩ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত। প্রায় ১৪.৩৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই পার্ক। ঢাকার কোলাহলপূর্ণ নগর জীবনের মাঝে একটু শান্তি আর প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়া সত্যিই দুর্লভ। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে অবস্থিত জলসিঁড়ি সেন্ট্রাল পার্ক এই অভাব পূরণ করতে পারে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই পার্কটি আধুনিক অবকাঠামো ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।

জোড় বাংলা মন্দির
পাবনা জেলা সদরের রাঘবপুর নামক স্থানে অবস্থিত জোড় বাংলা মন্দির ( Jor Bangla Mandir ) বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। কোন শিলালিপি না থাকায় জোড় বাংলা মন্দিরের নির্মাতা এবং নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। জনশ্রুতি আছে, ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রজমোহন ক্রোড়ী নামের মুর্শিদাবাদের নবাবের এক তহসিলদার এই জোড় বাংলা মন্দিরটি নির্মাণ করেন।

কানসাট আম বাজার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে বলা হয় আমের রাজধানী। আর সেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে বসে বাংলাদেশের বৃহত্তম আমের বাজার। শুধু দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি আমবাজারই নয়, কানসাট একই সঙ্গে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম আমবাজার হিসেবেও পরিচিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে শিবগঞ্জ উপজেলায় এর অবস্থান। প্রতি আমের মৌসুমে দেশের এই বৃহৎ আম বাজারে প্রায় শত কোটি টাকার উপরে আমের বেচাকেনা হয়। কোনো কোনো দিনে বাজারে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হয়। আমের সময়ে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমে থাকে এই আমবাজার। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনেক আমের বাজার থাকলেও কানসাট আমের বাজার পাইকারি বাজারের জন্যে সবচেয়ে বড় এবং বিখ্যাত। এ যেন এক আমের রাজ্য। আমবাজার ঘুরে দেখার সাথে সাথে আপনি চাইলে কিনে খেতে পারবেন নানা রকম তরতাজা পাকা আম। এছাড়া ঝুড়িভর্তি করে আম কিনে নিতে পারবেন নিজের জন্যে।

করমজল পর্যটন কেন্দ্র
করমজল ( Karamjal ) পর্যটন কেন্দ্রটি সুন্দরবনে পশুর নদীর তীরে অবস্থিত। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ৩০ হেক্টর জমির উপর পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে। যদি একদিনে সুন্দরবন ভ্রমণ স্বাদ নিতে চান তবে করমজল হচ্ছে সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা। প্রকৃতির শোভা বাড়াতে এখানে রয়েছে কুমির, হরিণ, রেসাস বানর সহ নানা প্রজাতির পশুপাখি। এছাড়াও নির্মিত হয়েছে কাঠের ট্রেইল, টাওয়ার এবং জেলেদের মাছ ধরার কর্মজজ্ঞ হচ্ছে অতিরিক্ত প্রাপ্তি। করমজলে বাংলাদেশের একমাত্র কুমিরের প্রাকৃতিক প্রজনন কেন্দ্র অবস্থিত।

ক্বীন ব্রীজ
বাংলাদেশের বিভাগীয় শহর সিলেটের কেন্দ্রস্থল দিয়ে বয়ে গেছে সুরমা নদী। আর সুরমা নদীর উপর লৌহ নির্মিত সেতুর নাম ক্বীন ব্রীজ (Keane Bridge) । সিলেট শহরের “প্রবেশদ্বার” খ্যাত এই স্থাপনাটি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে সকলের কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত। ১৯৩৬ সালে নির্মিত ক্বীন ব্রিজের দৈর্ঘ্য ৩৫০.৫২ মিটার এবং প্রস্থ ৫.৪ মিটার।

হনুমান গ্রাম – কেশবপুর
যশোরের কেশবপুরে রয়েছে ভবঘুরে প্রজাতির প্রায় ৪০০ কালোমুখী হনুমানের আবাস, আর তাই এলাকাটি কেশবপুরের হনুমান গ্রাম (Keshabpur Hanuman Gram) নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। ধারণা করা হয় কয়েকশ বছর ধরে কেশবপুরের ১০-১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলছে বিরল প্রজাতির হনুমানগুলোর বিচরণ।

খান জাহান আলীর মাজার
খান জাহান আলীর মাজার ( Khan Jahan Ali Mazar ) দেখতে হলে খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় যেতে হবে। হযরত খান জাহান আলী (র:) এর জন্ম ভারতে হলেও বাংলাদেশের যশোর, বাগেরহাট অঞ্চলে তিনি ধর্ম প্রচার করতে আসেন। তিনিই বাগেরহাটে বিখ্যাত ষাট গম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করেন। অনেকের মতে খান জাহান আলী আরব দেশ থেকে দিল্লী হয়ে বাংলাদেশে আসেন । যদিও তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি তবে গবেষকগণ ধারণা করেন খান জাহান আলী সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ্-এর সমসাময়িক ছিলেন। খান জাহান আলী তৎকালীন গৌড়ের সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সেনানায়ক ছিলেন। সুলতানের প্রতিনিধি হিসাবেই খান জাহান আলী বাগেরহাট অঞ্চলে জনপদ সৃষ্টি করে “খলিফাত-ই-আবাদ” নামকরণ করেন এবং ৩৬০ জন আউলিয়ার আগমনের সংখ্যার সাথে মিল রেখে তিনি ভাটি অঞ্চলে ৩৬০ টি মসজিদ নির্মাণ ও ৩৬০ টি দীঘি খনন করে ছিলেন।

খেরুয়া মসজিদ
বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খেরুয়া মসজিদ (Kherua Mosque) বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার খন্দকার টোলা এলাকায় অবস্থিত। ১৫৮২ সালে জওহর আলী কাকশালের পুত্র মির্জা মুরাদ খান কাকশাল খেরুয়া মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে মসজিদের নামকরণ নিয়ে সঠিক কোন ইতিহাস জানা যায়নি।

কমলা রাণী দিঘী
দুর্গাপুর উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে বিরিশিরি ইউনিয়ন পরিষদের কাছে ঐতিহ্যবাহী কমলা রাণী দিঘী (Komola Ranir Dighi) অবস্থিত। অনেকের কাছে এটি সাগর দিঘী নামেও সুপরিচিত। প্রচলিত আছে, পনের শতকের শেষ ভাগে সুসং দুর্গাপুরের রাজা জানকি নাথ কমলা দেবী নামে এক সুন্দরী রমনীকে বিয়ে করেন। প্রজা হিতৈষী রাজা জানকি নাথের ঘরে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। সন্তানের নাম রাখা হয় রঘুনাথ। প্রজাদের পানির অভাব দূরীকরণের জন্য রাজা জানকি নাথ একটি পুকুর খনন করেন। তবে পুকুরে পানি না উঠায় রাজা চিন্তায় পড়ে গেলেন।

কুমারীকুন্ড
চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এক পৌরাণিক অঞ্চলের নাম। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে লুকিয়ে রয়েছে প্রকৃতির অন্যোন্য বিস্ময় ছোট বড় অসংখ্য ছড়া ও ঝর্ণা। পাহাড়ের রহস্যময় আবহে পূর্ণ তেমনি এক ছড়ায় প্রাচীন এক মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়, যা কুমারীকুন্ড (Kumarikundo) নামে পরিচিত। প্রাচীনকালে হিন্দুরা উষ্ণ প্রস্রবণ বা হট স্প্রিং-কে খুবই পবিত্র মনে করতেন। সীতাকুন্ডে অবস্থিত লবণাক্ষকুন্ড ও অগ্নিকুন্ডের মত বুদবুদ আকারে নির্গত গ্যাসে জালানো অগ্নিকুন্ডকে ঘিরে নির্মিত মন্দিরের সাথে কুমারীকুন্ডের মিল রয়েছে। কালের আবহে মূল তীর্থ স্থান প্রায় ১০ কিলোমিটার সরে গেছে। আর মাটি চাপা পড়ে গেছে পুরনো ইটের তৈরী বিভিন্ন কাঠামো।

কুড়িখাই মেলা
একসময় গ্রামে গঞ্জে সারাবছরই ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন ধরণের গ্রামীন মেলা হতো। যুগের সাথে আমাদের মন মানসিকতা তাল মিলাতে গিয়ে এই গ্রামীন মেলা গুলো এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক এইরকম গ্রামীন মেলা এখন খুব কমই দেখা যায়। তবে কিছু কিছু জায়গায় এখনো অনেক ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন বহু পুরনো বছরের রেওয়াজ ধরে চলছে প্রতিবছরই।

কুসুম্বা মসজিদ
কুসুম্বা মসজিদ ( Kusumba Mosque ) নওগাঁ জেলায় অবস্থিত প্রায় সাড়ে চারশত বছর পুরনো একটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি। নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলাধীন ৮ নং কুসুম্বা ইউনিয়নের কুসুম্বা গ্রামে কুসুম্বা মসজিদের অবস্থান। নওগাঁ থেকে মসজিদটির দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং মান্দা উপজেলা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার।

লালদীঘি নয় গম্বুজ মসজিদ
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে গোপীনাথপুর ইউনিয়নের লালদীঘি এলাকায় ঐতিহাসিক লালদীঘি নয় গম্বুজ মসজিদ (Laldighi Nine Dome Mosque) অবস্থিত। ভারতীয় উপমহাদেশে থাকাকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে এই মসজিদটি আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসীন্দাগণ মসজিদটি পরিষ্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলে। মসজিদের গায়ে কোন শিলালিপি না থাকায় লালদীঘি মসজিদের নির্মাণকাল সম্পর্কে নিশ্চিত কোন তথ্য জানা যায়নি। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে ব্রিটিশ শাসনামলে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। আবার শেষ মোগল যুগের স্থাপত্যশৈলীর সাথে মিল থাকায় অনেকে মনে করেন লালদীঘি মসজিদটি ১২১২ সালে নির্মিত। স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রচলিত আছে, একরাতের মধ্যেই মসজিদ ও মসজিদের পুকুর খনন করা হয়েছে।

লামা
বান্দরবান জেলার লামা (Lama) উপজেলা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে স্বর্গ রাজ্য হিসাবে খ্যাত। প্রায় ১১ টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা ও নৈসর্গিক পরিবেশ লামা আসা ভ্রমণ পিপাসু মানুষের হৃদয়কে মোহিত করে। বিশেষ করে চকরিয়া থেকে লামা যাওয়ার রাস্তাটা যেন স্বর্গে প্রবেশের সংযোগ। এছাড়া কোয়ান্টাম শিশু কাননে অসাধারণ সূর্যাস্ত দেখতে পারেন। লামায় যাওয়ার পথে লামা থেকে ৭ কিলোমিটার দূরত্বে প্রায় ৩৩ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স। সমতল ভূমি থেকে প্রায় ২২০০ ফুট উচ্চতায় আবস্থিত এই পর্যটন কমপ্লেক্স থেকে পাহাড় আর মেঘের অপূর্ব লুকোচুরি খেলা দেখা যায়। মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সে জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা।

মহারাজার দিঘী
পঞ্চগড় জেলা সদর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অমরখানা ইউনিয়নে অবস্থিত এক ঐতিহাসিক পুকুরের নাম মহারাজার দীঘি (Maharajar Dighi)। ধারণা করা হয়, ভিতরগড় নামের ১৫০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক এক রাজ্যে মহারাজা পৃথু রাজত্ব করাকালীন এই দীঘিটি খনন করেন।

মান্দারবাড়ী সমুদ্র সৈকত
মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত (Mandarbaria Sea Beach) সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের এক নয়নাভিরাম বেলাভূমি। হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর তীরের এক পাশে সুন্দরবন এবং অন্য পাশে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত এর অপূর্ব প্রকৃতি যেন নেশা ধরিয়ে দেয়। বাংলাদেশের বেশীরভাগ মানুষের কাছে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত অজানা একটি স্থান। সাতক্ষীরা জেলার বুড়িগোয়ালিনীর নীলডুমুর নৌঘাট থেকে এই সৈকতের দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। সাতক্ষীরা থেকে নীলডুমুর পর্যন্ত গাড়ীতে এসে বাকি পথ ইঞ্জিন চালিত নৌকা বা স্পীড বোটে করে যেতে হয়। সুন্দরবনের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নদীগুলিই হচ্ছে ৭৫ কিলোমিটার যাত্রা পথের একমাত্র উৎস। তাই প্রায় ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মান্দারবাড়ীয়া সমুদ্র সৈকত শুধুমাত্র বিশেষ ভ্রমণকারীদের জন্য উপযুক্ত যারা কষ্ট স্বীকার করে বঙ্গোপসাগরের মায়াবী জলরাশির অবিশ্রান্ত গর্জন শুনতে রাজি আছেন।