দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

সারিঘাট
ঢাকা শহরের যান্ত্রিক কোলাহল থেকে দূরে, অপরূপ প্রকৃতির মাঝে একটি শান্ত বিকেল কাটাতে চাইলে বন্ধুবান্ধব বা পরিবার নিয়ে বেড়িয়ে আসতে পারেন কেরানীগঞ্জের সারিঘাট (Sarighat) থেকে। ঢাকার দক্ষিণ প্রান্তে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর অববাহিকায়, হাসনাবাদের বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রজেক্টের ঠিক পেছনে এই দর্শনীয় স্থানটির অবস্থান। আইন্তা ও আড়াকুল এই দুই গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি খালের পাড় ধরে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রোপণ করা হয়েছে সারি সারি করই গাছ। ছায়া সুনিবিড় এই করই গাছের চমৎকার সারির কারণেই স্থানটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে ‘সারিঘাট’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

সাত গম্বুজ মসজিদ
রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত সাত গম্বুজ মসজিদ (Sat Gambuj Mosque) মুঘল শাসনামলে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। মসজিদের ছাদে বড় ৩টি এবং চার কোণে অবস্থিত ৪টি মিনারের উপর অনুগম্বুজ সহ মোট সাতটি গম্বুজের কারণে মসজিদটি সহজেই সাত গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। মোগল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর পুত্র উমিদ খাঁ ১৬৮০ সালে এই সাত গম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করেন। সাত গম্বুজ মসজিদের সাথে লালবাগ দুর্গ মসজিদ এবং খাজা আম্বর মসজিদের অনেক মিল লক্ষ করা যায়।

সাতগ্রাম জমিদার বাড়ি
নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রামে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক সাতগ্রাম জমিদার বাড়ি (Satgram Zamindar Bari) অবস্থিত। এই জমিদার বাড়ী থেকেই জমিদাররা অত্র এলাকার শাসন কাজ পরিচালনা করতেন। সাতগ্রামের জমিদারেরা খুবই অত্যাচারী ছিলেন। তারা প্রজাদের খাজনার বিনিময়ে যে জমি বরাদ্দ দিতেন সেগুলোর খাজনা পরিশোধ না করতে পারলে প্রজাদের উপর নির্মম অত্যাচার করা হত। আর তাই অত্যাচারী জমিদারের নানা কাহিনী জড়িয়ে আছে সাতগ্রাম জমিদার বাড়ির প্রতিটি গাঁথুনিতে।

সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি
বরিশালের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা ঝালকাঠি থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে রাজাপুর উপজেলায় বাংলার বাঘ হিসেবে পরিচিত এ কে এম ফজলুল হকের জন্মস্থান সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি অবস্থিত। ১৭শ শতকে ফজলুল হকের মাতামহ শেখ শাহাবুদ্দিন সাতুরিয়ায় ১০০ একর জায়গার উপর এই জমিদার বাড়ী প্রতিষ্ঠা করেন। মুঘল স্থাপত্যে নির্মাণ করা জমিদার বাড়ীর কমপাউন্ডটি ৩টি ভবনের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। কমপাউন্ডে প্রবেশের জন্য রয়েছে কারুকার্য খচিত প্রধান ফটক। মূল বাড়ির ভিতরে ফুলের বাগান, পুকুর ও কারুকার্যখচিত মুঘল আমলের ভবনগুলো বাড়ীর সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।

সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি
কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলা থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে মসুয়া গ্রামে অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি রয়েছে। এক সময় এই বাড়িটিকে ‘পূর্ব বাংলার জোড়াসাঁকো’ বলে অভিহিত করা হতো। এই বাড়িতেই প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী ও সুকুমার রায় চৌধুরী জন্মেছেন। সত্যজিৎ রায় কোনোদিন পৈতৃক বাড়িতে না আসলেও পারিবারিক ঐতিহ্য তাকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছে তাই বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল তাঁর হৃদয়ের টান।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর
১৯৬৫ সালের ২৬ এপ্রিল, তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ঢাকায় জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর (National Museum of Science and Technology) প্রতিষ্ঠিত করে। প্রতিষ্ঠা সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাদুঘরটি ঢাকা গণগ্রন্থাগার ভবনে স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে, ১৯৭০ সালের এপ্রিল মাসে এটি চামেলীবাগে স্থানান্তর করা হয়, এবং পরের বছরের মে মাসে ধানমন্ডির ১নং সড়কে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭২ সালে, সরকার এটিকে জাতীয় জাদুঘরের মর্যাদা প্রদান করে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৮৭ সাল থেকে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর নিজস্ব ভবন থেকে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর রাজধানী ঢাকার আগারগাও বিএনপি বাজারে অবস্থিত।

মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধ মন্দির
পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটার প্রাচীন কুয়ার সামনে ঐতিহ্যবাহী মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধ মন্দির (Misripara Seema Buddha Temple) অবস্থিত। কুয়াকাটা সৈকত থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঐতিহাসিক ৩৭ মন ওজনের প্রাচীন অষ্টধাতুর তৈরি ধ্যানমগ্ন বুদ্ধ মূর্তিটি ধারণা করা হয় আকারে উপমাহাদেশের সবচেয়ে বড়। এছাড়া এই মন্দিরের কাছে রাখাইনদের সবচেয়ে গ্রাম অবস্থিত। যেখানে এই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শাহ জামালের মাজার
জামালপুর জেলা সদরের ব্রহ্মপুত্র নদী তীরে চাপাতলি ঘাটের কাছে অত্র অঞ্চলের বিখ্যাত সাধক পুরুষ পীর শাহ জামালের মাজার শরীফ (Shah Jamaler Mazar) অবস্থিত। ১৫৮৬ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে হযরত শাহ জামাল (রহঃ) ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্য ইয়েমেন থেকে এই অঞ্চলে আগমণ করেন। সুফি দরবেশ পীরে কামেল হযরত শাহ জামাল (রহঃ) এর আধ্যাত্মিক ক্ষমতার কথা মুঘল দরবার পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। তখন বাদশা আকবর হযরত শাহ জামাল (রহঃ) এর খানকা শরীফের সমস্ত ব্যয় বহন করার আগ্রহ পোষণ করেন। সেই সাথে হযরত শাহ জামাল (রহঃ) এর কাছে কয়েকটি পরগনা দানের সনদ পাঠান। কিন্তু হযরত শাহ জামাল (রহঃ) এই লোভনীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাণ করেন। হযরত শাহ জামাল (রহঃ)-এর কারণে এ অঞ্চল জামালপুর নামে পরিচিতি লাভ করে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
শহীদ মিনার বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জল ধারক স্মৃতিসৌধ। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পাশেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার (Central Shaheed Minar) অবস্থিত। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” দাবীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীদের একটি মিছিল ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় প্রবেশ করে, তখন তাদের উপর নির্বিচারে গুলি বর্ষন করা হয়। সে সময় গুলিতে সালাম, জব্বার, রফিক সহ নাম না জানা অনেকেই শহীদ হন। তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ২৩ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল কলেজের ছাত্র হোস্টেলের ১২ নম্বর শেডের পূর্ব প্রান্তে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়।

শহীদ সাগর
১৯৭১ সালের ৫ মে নাটোর জেলার গোপালপুরের আজিমপুর এলাকার নর্থ বেঙ্গল চিনি কারখানায় পাকবাহিনীর নির্মমতা ও গণহত্যার এক জ্বলন্ত সাক্ষী শহীদ সাগর (Shahid Sagar)। পাকিস্থানি সেনারা সুগার মিলের শতাধিক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সুগার মিলের অতিথি ভবনের সামনের পুকুর পাড়ে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। সেদিন গোপাল সাগর হিসেবে পরিচিত পুকুরের পানি শহীদদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে উঠেছিল। যদিও এই ঘটনায় কয়েকজন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হবার পর দুঃসহ স্মৃতিবিজরিত এই পুকুরটিকে শহীদ সাগর নামকরণ করা হয়। ১৯৭৩ সালের ৫ মে শহীদের স্মরণে শহীদ সাগর স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিস্তম্ভের পূর্ব দিকে একটি ফুলের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। ২০০০ সালের ৫ মে শহীদ সাগর চত্বরে একটি স্মৃতি যাদুঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিবছর ৫ মে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে গোপালপুরের শহীদের স্মরণে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল গনহত্যা দিবস পালন করা হয়।

শৈলকুপা শাহী মসজিদ
ঝিনাইদহ জেলার কুমার নদের উত্তর তীরে শৈলকুপা উপজেলার পৌর শহরের দরগাপাড়ায় বাংলাদেশের মধ্যযুগীয় পুরাকীর্তির অন্যতম নিদর্শন শৈলকুপা শাহী মসজিদ (Shailkupa Shahi Mosque) অবস্থিত। ধারণা করা হয়, ভারতে মোঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে ১৫২৩-২৪ সালের মধ্যে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পুত্র নাসির শাহ্র ওরফে নসরত শাহ্র এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, ১৫১৯ সালে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের মৃত্যুর পর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত নাসির উদ্দিন নুসরত শাহ্ রাজকর্মে গৌড় থেকে ঢাকা যাবার পথে কিছুদিন শৈলকুপায় অবস্থান করেছিলেন। সেই সময় দরবেশ আরব শাহ্ তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে ছিলেন। দরবেশ আরব শাহ্ শৈলকুপায় থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করলে সুলতান তার দুই শিস্যসহ শৈলকুপায় থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এছাড়াও তিনি এই মসজিদটি সংস্কার, সংরক্ষণ ও পরিচালনার জন্য কয়েকশ বিঘা জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন। যার ফলশ্রুতিতে মসজিদের মূল প্রবেশ পথ ও মিনারগুলো পরবর্তী সংস্কারের সময় সংযোজন করা হয়।

শৈলকুপা জমিদার বাড়ি
ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর গ্রামে ঐতিহাসিক শৈলকুপা জমিদার বাড়ি অবস্থিত। বাংলা ১২শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে অবিভক্ত ভারতবর্ষের যশোর জেলার জমিদার রামসুন্দর শিকদার প্রায় ৪০০ বিঘা জায়গার উপর শৈলকুপা জমিদার বাড়ী স্থাপন করেন। দ্বিতল জমিদার বাড়ির চারদিকে ঘুরানো দালানসহ প্রায় ৩৫০টি কক্ষ ছিল। পরবর্তীতে রামচন্দ্র এখানে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসসহ একটি বড় বাজার ও থিয়েটার হল স্থাপন করে তার জমিদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করেন, যা শিকদার স্ট্রীট হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

শৈলপ্রপাত ঝর্ণা
শৈলপ্রপাত ঝর্ণা বান্দরবান জেলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে বান্দরবান-থানচি রোডের পাশে অবস্থিত। বাংলাদেশে অতিপরিচিত ঝর্ণা গুলোর মধ্যে শৈলপ্রপাত অন্যতম। পর্যটন নগরী বান্দরবানের কাছে হওয়ায় সারা বছরই পর্যটক সমাগমে মুখরিত থাকে স্বচ্ছ ও ঠান্ডা পানির এই ঝর্ণাটি। এ ঝর্ণার বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে সবসময় বহমান হীম শীতল পানির ধারা, যা শৈলপ্রপাতকে বান্দরবানের একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান হিসাবে করে নিয়েছে। এছাড়া এই ঝর্ণার পাশে পিকনিক করার জন্য রয়েছে আদর্শ পরিবেশ। পাহাড়, ঝর্ণা এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার মিতালী দেখতে আপনাকে অবশ্যই শৈলপ্রপাতে যেতে হবে।

শালবাড়ি মসজিদ ও ইমামবাড়া
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে ভাউলারহাটের কাছে ঐতিহাসিক শালবাড়ি মসজিদ (Shalbari Mosque) অবস্থিত। শালবাড়ি মসজিদের থেকে প্রাপ্ত শিলালিপির তথ্যানুসারে, ১২১৫ বঙ্গাব্দে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে সংস্কারের ফলে মসজিদটির মূল নকশায় বিপুল পরিবর্তন সাধিত হয়। শালবাড়ি মসজিদ থেকে কিছুটা দূরে ভগ্নাবস্থায় একটি ইমামবাড়া (Imambara) রয়েছে। শালবাড়ি মসজিদ ও ইমামবাড়া এ দুটি স্থাপনাকে সমসাময়িক বলে ধারণা করা হয়। ইমামবাড়ার বাইরের অংশের দৈর্ঘ্য ১৯ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ১৩ ফুট। এছাড়া পূর্ব ও পশ্চিম দিকের দেয়ালে ২টি করে ৪টি এবং উত্তর ও দক্ষিণে ১ করে ২টি দরজা রয়েছে। ইমামবাড়াতে বিভিন্ন ধরণের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

শমসের গাজীর দিঘী
ফেনী জেলা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে চম্পকনগরে শমসের গাজীর দীঘি (Shamsher Gazi Pond) অবস্থিত। নবাব সিরাজদৌল্লার আমলে “ভাঁটির বাঘ” হিসেবে পরিচিত শমসের গাজী ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা, ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী নেতা ও ত্রিপুরার রোশনাবাদ পরগণার কৃষক বিদ্রোহের নায়ক। তৎকালীন সময়ে অত্র অঞ্চলে বসবাসরত জনগণের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার জন্য তিনি বেশকিছু দীঘি খনন করেন, যার মধ্যে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের শমসের গাজীর দীঘি অন্যতম।

শাহপরীর দ্বীপ
বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের সর্ব দক্ষিণে শাহপরীর দ্বীপ (Shapuree Island/Shah Porir Dwip) অবস্থিত। এটি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের একটি গ্রাম। টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। মাত্র ৪০ হাজার জনসংখ্যার এই দ্বীপের মানুষের মাছধরা ও লবণ চাষ হচ্ছে প্রধান পেশা। এই দ্বীপে হাট-বাজার, স্কুল-মাদ্রাসা, মসজিদ ইত্যাদি সবই রয়েছে। প্রচলিত আছে বর্তমানে মূল ভূ-খণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অতীতে এটি ছিল একটি দ্বীপ।