দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ আবিষ্কার করুন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মিলনস্থল।

পরিকুন্ড জলপ্রপাত
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত পরিকুন্ড জলপ্রপাত (Parikunda Waterfall) অনেকের কাছেই অপরিচিত একটি নাম। অনন্য সুন্দর বিস্ময়কর এই জলপ্রপাত মাধবকুন্ড ঝর্ণা থেকে মাত্র ১০/১৫ মিনিটের পায়ে হাটা দূরত্বে অবস্থিত। গভীর বন ও প্রচারণার অভাবে ১৫০ ফুট উচু খাড়া পাহাড় হতে নেমে আসা পানির ধারা দেখতে খুব বেশি পর্যটকের চলাচল নেই। তবে অপ্রচলিত এই জলপ্রপাতের বুনো সৌন্দর্যের কোন কমতি নেই।

পাথারিয়া পাহাড়
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত পাথারিয়া পাহাড় স্থানীয়দের কাছে আদম আইল হিসেবে পরিচিত। বড়লেখা থেকে ভারতের পূর্ব সীমান্তবর্তী খাসিয়া-জয়ন্তীয়া উচ্চভূমির আসাম অংশের ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পাথারিয়া পাহাড়ি অঞ্চলের বিস্তৃতি। প্রায় ১০০০ বছর আগে এই অঞ্চলটি গভীর অরণ্যে পূর্ণ ছিল। সেসময় পাথরি নামক নাগা জনগোষ্ঠীর একটি উপশাখার অধিবাসীরা এখানে বসবাস করতো। এই জনগোষ্ঠীর সাথে মিল রেখে এই অরণ্য অঞ্চলের নামকরণ করা হয় পাথরিয়া।

পায়রা সমুদ্রবন্দর
পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে কলাপাড়া উপজেলার রাবনাবাদ নদী ও আন্ধারমানিক নদীর মোহনায় পায়রা সমুদ্র বন্দর (Payra Sea Port) অবস্থিত। ২০১৩ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই বন্দরটি বর্তমানে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে প্রায় ৬০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই সামুদ্রিক বন্দরটি দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদেশীয় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আপনি যদি শিল্পায়ন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধন দেখতে চান তবে পায়রা বন্দর হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণের আদর্শ গন্তব্য।

জলছত্র আনারস হাট
বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে আনারসের চাষ হলেও টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরের উৎপাদিত আনারসের রয়েছে বিশেষ খ্যাতি। সমগ্র মধুপুর জুড়েই প্রচুর আনারসের চাষ হয়। আনারস কেনাবেচার জন্য মধুপুরের জলছত্র এলাকায় ঢাকা মহাসড়কের দুই পাশে প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও মঙ্গলবার আনারসের বিশাল এক হাট বসে। প্রতিবছর বর্ষায় সারাদেশে যে আনারস পাওয়া যায় তার অধিকাংশই মধুপুর থেকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে যায়। এদের মধ্যে মধুপুরের অরুনখোলা, ষোলাকুঁড়ি, আউশনাড়া ইউনিয়নে উৎপাদিত জলডুগি ও জায়ান্টকিউ আনারস সবচেয়ে জনপ্রিয়।

পদ্মহেম ধাম
মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার দোসরপাড়া গ্রামে অবস্থিত পদ্মহেম ধাম (Padmahema Dham) ফকির লালন শাহের একটি আশ্রম। বাউল বাড়ি হিসেবে পরিচিত নৈসর্গিক এই স্থানে লালনের পদার্পণ না ঘটলেও প্রথম আলো পত্রিকার ফটো সাংবাদিক কবির হোসেন লালনের প্রতি ভক্তি প্রদর্শনপূর্বক এই আশ্রমটি গড়ে তুলেছেন। ছায়া সুনিবির স্নিগ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পাখ-পাখালির কলকাকলিতে পরিপূর্ণ পদ্মহেম ধামে প্রবেশ করতেই নজরে পড়বে লালনের অন্যতম নিদর্শন পাথরের তৈরি বিশাল একটি একতারা। মায়াময় প্রকৃতির মাঝে আরো নজরে পড়বে মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কাঠের দোতলা ঘর, বৈঠকখানা ও লালনগীতি বিদ্যালয়। আশ্রমের পাশ দিয়ে তিনদিকে বাক নিয়ে চমৎকার মোহনার সৃষ্টি হওয়া ইছামতী নদী বহমান। আর তাই আশ্রম থেকে নদীর পাড়ে দাড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার দৃশ্য অনেক বেশী উপভোগ্য। ইছামতী নদী দিয়ে অধিকাংশ সময় নৌকায় সংসার গড়ে তোলা বেদেদের দল যেতে দেখা যায়। পদ্মহেম ধামে ক্যাম্পিং করে রাত্রিযাপন করা যায়।

কবি চন্দ্রাবতী মন্দির
কবি চন্দ্রাবতী বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি হিসাবে স্বীকৃত। চন্দ্রাবতী ১৫৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা দ্বিজবংশী দাশ বিখ্যাত কাব্য ‘মনসা মঙ্গল’ এর রচয়িতা এবং কবির মায়ের নাম সুলোচনা। কিশোরগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে পাতোয়াইর গ্রামের ফুলেশ্বরী নদীর পাশে কারুকার্য মন্ডিত দুটি শিবমন্দির রয়েছে। এই মন্দিরই কবি চন্দ্রাবতী শিব মন্দির বা কবি চন্দ্রাবতী মন্দির হিসাবে খ্যাত। ধারণা করা হয় এই মন্দিরগুলোর সাথে কবির জীবনের বিভিন্ন ঘটনার অনেক সম্পৃক্ততা রয়েছে। মন্দিরের কাছেই দর্শনার্থীদের বসার জন্য ব্যবস্থা করা রয়েছে। প্রতিদিন বিকালবেলা ও বিভিন্ন ছুটির দিনে অনেক মানুষ কবি চন্দ্রাবতী মন্দির দেখতে আসেন। মন্দিরের পাশেই রয়েছে কবি চন্দ্রাবতীর প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি। চন্দ্রাবতী মন্দির নিয়ে ভিডিও চিত্র দেখতে এইখানে ক্লিক করুন।

পোলঘাটা সেতু
প্রাচীন বাংলার গৌরবোজ্জ্বল স্থান শ্রীবিক্রমপুর মহানগরের একাংশ বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মহিমায়পূর্ণ এক সমৃদ্ধ অঞ্চল। সমগ্র জেলা জুড়ে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন গৌরবময় উপাখ্যানের সাক্ষী অসংখ্য প্রাচীন নিদর্শন। এদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের পানাম পোলঘাটা গ্রামে অবস্থিত ইট ও সুরকি ব্যবহারে তৈরি মোগল আমলের পোলঘাটা সেতু (Polghata Bridge) এক অনন্য পুরার্কীতি। মুন্সিগঞ্জ জেলা শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে নির্মিত এই সেতু টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সাথে জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।

পলো বাইছ উৎসব
দলবেঁধে নদীতে মাছ ধরা গ্রাম বাংলার প্রাচীন এক ঐতিহ্য। শুষ্ক মৌসুমে অর্থাৎ প্রতি বছরের আশ্বিন মাস থেকে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং এবং বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস, দশঘর, দৌলতপুর, মাদাই প্রভৃতি বিল ও হাওরে পলো বাইছ উৎসব (Polo Bawa Utshob) আয়োজন করা হয়। বাঁশ দিয়ে তৈরি এক বিশেষ ধরণের ঝাঁপি বা মাছ ধরার ফাঁদকে “পলো” বলা হয়। গ্রামের মানুষ মাছ শিকার ছাড়াও বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজে পলো ব্যবহার করে থাকেন। সারাবছর ধরে শৌখিন শিকারিরা পলো বাইছ উৎসবের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন।

পরীর দালান
ঐতিহাসিক পরীর দালান (Porir Dalan) টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার হেমনগর গ্রামে অবস্থিত। হেমনগর জমিদার বাড়ি হিসাবেও সুপরিচিত পরীর দালানের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৬০ একর। এখানে পরীদের আবাস্থল বা পরীদের নির্মিত ভবনের দেখা পাওয়া না গেলেও দিল্লি ও কলকাতার কারিগর দ্বারা তৈরি সুন্দর কারুকার্যমণ্ডিত স্থাপনা আগত দর্শন্টার্থীদের মুগ্ধ করে। পরীর দালানের দেয়াল, পিলারে এবং দরজায় রঙ্গিন কাচে তৈরি ফুল, লতা, তারা, গাছের নকশা, দামি কড়ি ও পাথরে সুসজ্জিত দুইটি পরীর ভাস্কর্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাজবাড়ির উপর নির্মিত দুইটি রাজসিক পরীর ভাস্কর্যের কারণেই মূলত এই দালানের নাম হয় এঞ্জেল হাউজ বা পরীর দালান।

পুঠিয়া রাজবাড়ী
পুঠিয়া রাজবাড়ী (Puthia Rajbari) বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় অবস্থিত নজরকাড়া ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্যের একটি অনন্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। রাজশাহী বিভাগীয় শহর হতে মাত্র ৩০ কিলোমিটার এবং রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে পুঠিয়া রাজবাড়ীর অবস্থান। বহুকক্ষ বিশিষ্ট এই দৃষ্টিনন্দন দ্বিতল পুঠিয়া রাজবাড়ীতে প্রবেশের জন্য উত্তর দিকে একটি বিশাল ও রাজকীয় সিংহ দরজা রয়েছে। তৎকালীন লস্করপুর পরগনার জমিদার বা রাজারা এখান থেকে তাদের রাজকার্য ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। উনবিংশ শতাব্দীতে নির্মিত পুঠিয়া রাজবাড়িটি বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত রয়েছে, যা একসময় লস্করপুর ডিগ্রী কলেজ হিসেবেও সাময়িকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

রবি ঠাকুরের কুঠিবাড়ী
নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায় পতিসর গ্রামে নাগর নদীর তীরে অবস্থিত রবি ঠাকুরের কুঠিবাড়ী (Rabindra Kachari Bari) বাংলাদেশের একটি অন্যতম সংরক্ষিত পুরাকীর্তি। নওগাঁ শহর থেকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৩৬ কিলোমিটার। ১৮৩০ সালে রবি ঠাকুরের পিতামহ ও জোড়াঠাকুর পরিবারের অন্যতম সদস্য দ্বারকানাথ ঠাকুর এই অঞ্চলে আগমন করেন। পরবর্তীতে ১৮৯১ সালে সর্বপ্রথম কালিগ্রাম পরগনার জমিদারী দেখাশোনা করার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পতিসরে আসেন। প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত পতিসর রবি ঠাকুরের কুঠিবাড়ীর সামনে সিংহ দুয়ার, প্রশস্থ আঙ্গিনা, দোতালা কুঠিবাড়ি এবং কুঠিবাড়িকে ঘিরে থাকা বেশকিছু ভবনের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়। নান্দনিক প্রবেশ পথ দিয়ে সামনে আগালেই মূল ভবনের সামনে নজরে পড়ে কংক্রিটের তৈরী রবি ঠাকুরের একটি আবক্ষ মূর্তি ও মার্বেল পাথরে খোদিত রবীন্দ্র রচনার কিছু কথা। রবীন্দ্র কাচারি বাড়ির ভিতরে বিভিন্ন সংরক্ষিত নিদর্শনের মধ্যে আছে কবির ব্যবহৃত বিভিন্ন তৈজসপত্র, কবির স্বহস্তে লিখিত চিঠি, কবির বিভিন্ন বয়সের ছবি ও আসবাপত্র প্রভৃতি। এছাড়া কুঠিবাড়ির সামনে আছে রবীন্দ্র সরোবর, দীঘি ও কালিগ্রাম রবীন্দ্রনাথ ইন্সটিটিউট।

রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি
সিরাজগঞ্জ জেলা সদর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে শাহজাদপুর উপজেলায় অবস্থিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈত্রিক জমিদার বাড়িটি রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি (Rabindranath Tagore’s Kacharibari) নামে পরিচিত। অষ্টাদশ শতাব্দীতে এই বাড়ীটিকে নীলকুঠি হিসাবে ব্যবহার করা হত। ১৮৪২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ইংরেজদের কাছ থেকে নিলামে বাড়ীটি কিনে নেন। ১৮৯০ থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত মোট ৭ বছর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারির কাজের জন্য শাহজাদপুরের এই কাছারি বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বাড়ি থেকে চিত্রা, সোনার তরী, চৈতালি, গীতাঞ্জলী ও বিসর্জনের মতো বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম রচনা করেন। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে ১৯৬৯ সালে শিলাইদহ রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি গৌরবময় স্মৃতিরূপে সংরক্ষণ করার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে নেয়া হয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এই রবীন্দ্র কাছারি বাড়িকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি
ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার কুলিক নদীর তীরে রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি অবস্থিত। ঠাকুরগাঁও সদর হতে রাজা টংকনাথের রাজবাড়িটি (Raja Tonkonath’s Palace) ৪০ কিলোমিটার এবং রাণীশংকৈল উপজেলা হতে ১.৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কথিত আছে, রাজা টংকনাথের পিতা বুদ্ধিনাথ চৌধুরী ছিলেন মৈথিলি ব্রাহ্মণ। তিনি কাতিহারে ঘোষ বা গোয়ালা বংশীয় জমিদারের শ্যামরাইয়ের মন্দিরের সেবায়েতে নিযুক্ত ছিলেন। নিঃসন্তান গোয়ালা জমিদার কাশীবাসে যাওয়ার আগে তাম্রপাতে দলিল করে জমিদারি সেবায়েতের তত্ত্বাবধানে রেখে যান। জমিদার আর ফিরে না আসায় দলিল মোতাবেক বুদ্ধিনাথ চৌধুরী জমিদারি লাভ করেন। ঊনবিংশ শতাব্দীতে প্রায় ১০ একর জমির উপর বুদ্ধিনাথ চৌধুরী জমিদার বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করলেও রাজা টংকনাথের হাতে নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

রাজার পাহাড়
পাহাড়, নদী পরিবেষ্টিত শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলায় ঢেউফা নদীর তীরে অবস্থিত একটি অপূর্ব পর্যটন কেন্দ্র রাজার পাহাড় (Rajar Pahar)। রাজার পাহাড় নিয়ে বিভিন্ন কাহিনী প্রচলিত থাকলেও প্রাচীন রাজ বংশের সম্ভ্রান্ত কোন রাজার অবস্থানের কারণে যে এই রাজার পাহাড় নামের সৃষ্টি তা বুঝতে মোটেও অসুবিধা হয় না। গারো পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচু রাজার পাহাড়ের চূড়ায় শতাধিক হেক্টর সমতল ভূমি রয়েছে। আকাশ ছোঁয়া বিশাল রাজার পাহাড়ের নৈস্বর্গিক দৃশ্য মনকে আরও প্রাকৃতিপ্রেমী করে তোলে।

রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের লাল ভবন
রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের লাল ভবনের বয়স প্রায় দেড়শত বছর। প্রাচীন ঐতিহাসিক এই লাল ভবনটি রাজবাড়ী জেলার একটি অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন। গোয়ালন্দ মহকুমার বাণীবহ এস্টেটের বাণীবহের জমিদার গিরিজা শংকর মজুমদার ভবনটিকে কাঁচারী ঘর হিসেবে ব্যবহার করতেন। ১৮৯২ সালে জমিদার গিরিজা শংকর মজুমদার এই লাল ভবনে গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। আর রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে (Rajbari Government High School) বলা যায় শতাধিক বছরের পুরাতন গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুলের বর্তমান রূপ।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা
পদ্মার তীর ঘেঁষা এক সময়ের রেসকোর্স ময়দানের ৩২.৭৬ একর জায়গা জুড়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা গড়ে তোলা হয়েছে। রাজশাহী শহর থেকে চিড়িয়াখানার দূরত্ব মাত্র ৪.২ কিলোমিটার। ১৯৭২ সালে শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জাম সড়কের কাছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানার নির্মাণ কাজ শুরু হলে ১৯৭৪-৭৬ সালে রাজস্ব বিভাগের অনুমতিক্রমে এখানে চিড়িয়াখানার পাশাপাশি একটি শিশু পার্ক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। ফলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানাটি শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা (Shaheed A.H.M. Kamruzzaman Central Park & Zoo) হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।